তিল চাষের সঠিক ও সহজ পদ্ধতি | Sesame Cultivation Method in Bangla

0
(0)

তিল একটি একবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি প্রধানত তেল জাতীয় উদ্ভিদ। এর বীজ থেকে তেল তৈরি করা হয়ে থাকে। খাবার তেল হিসেবে এটি স্বাস্থ্যকর।

তিল থেকে খাজা তৈরি হয় যা খুবই মুখরোচক ও সুস্বাদু একটি খাবার। এছাড়া তিল থেকে নাড়ু তৈরি করা হয়ে থাকে। প্রসাধনী শিল্পে ও এখন তিল তেলের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আজ আমরা আপনাদের সাথে তিল চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। এতে করে আপনারা সহজেই তিল চাষের বিস্তারিত জানতে পারবেন।

Sesame Cultivation Method in Bangla
Sesame Cultivation Method in Bangla

আমাদের বাংলাভূমি সাইটে নিয়মিত আমরা আপনাদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। এর ফলে আপনারা কৃষি জমি, শিক্ষা, অর্থনীতি এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনারা এ সকল তথ্য থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন। চলুন দেখে নিন তিল চাষের বিস্তারিত তথ্য ও পদ্ধতি

জমি ও মাটিঃ

তিল চাষের জন্য জমি একটু উচু হতে হবে। তিল গাছ জলাবদ্ধতা একদম সহ্য করতে পারে না তাই জমিতে যেন জল জমে না থাকে এমন জমি বাছাই করতে হবে।

সাধারনত বেলে দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি তিল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।

সময়ঃ

সব মৌসুমেই তিল চাষ করা যেতে পারে। মাঘ মাসের মাঝামাঝি থেকে ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চাষ করা যায়।

আবার  ভাদ্র মাসে ও বীজ বপন করা যায়।  তবে মাঘ মাসের ফলন পেতে হলে আগাম চাষ করা জরুরি। কারন বৃষ্টিতে তিল ফসলের ক্ষতি হয়ে থাকে।

বীজ বপন পদ্ধতি ঃ

বীজ বপন করার আগে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকতে হবে তাহলে বীজ বপন করার পর বীজ পচে যাবে না।

জমিতে রস বেশি থাকলে অল্প গভীরে বীজ বপন করা যায় তাহলে বীজ পচে যায় না। কিন্তু জমি যদি শুকনা থাকে তাহলে বীজ বপন করার আগে জমিতে হালকা সেচ দিতে হবে।

বীজ দুই ভাবে বপন করা যায়। ছিটিয়ে বা সারিতে বপন করে। বীজ ছিটিয়ে ফেলার সময় বীজ ও শুকনা বালু একত্রে মিশিয়ে নিতে হবে।

তাহলে বীজ ফেললে সমান দূরত্বে বীজ পড়ে। সারিতে বপন করলে এক সারি থেকে আরেক সারির দূরত্ব হবে ২০-২৫ সেমি। আর এক গাছ থেকে  আরেক গাছের দূরত্ব হবে ৫-১০ সেমি।

বীজের হারঃ

বীজ ছিটিয়ে বপন করার ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে ৭-৮ কেজি বপন করা যাবে। আর সারিতে বপন করার ক্ষেত্রে ৬-৭ কেজি বপন করা যাবে।

সার প্রয়োগঃ

উন্নত ফলন পেতে হলে জমিতে সার প্রয়োগ করতে হবে।

প্রতি একরে সাধারনত ৪০-৫০ কেজি ইউরিয়া,

৩০-৪০ কেজি টিএসপি,

২৫-৩০ কেজি এমপি ও

৩০-৪০ কেজি জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে।

জমি প্রস্তুত করার পর শেষ বার চাষ দেওয়ার সময় অর্ধেক ইউরিয়া দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া দিতে হবে বীজ বপন করার ২৫-৩০ দিন পর।

গাছে ফুল আসলে জমিতে সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পর প্রয়োজনে জল সেচ দিতে হবে।

আগাছা দমনঃ

উন্নত ও অধিক ফলন পেতে হলে জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। চারা অবস্থায় কিছুদিন গাছের বৃদ্ধি আস্তে আস্তে হয়। তাই এ সময় আগাছা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তিল গাছ যেন আগাছায় ভরে না যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। জমিতে নিড়ানি দিতে হবে। বীজ বপন করার আগেই জমি থেকে আগাছা তুলে ফেলতে হবে।

সেচ ব্যবস্থাপনাঃ

ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে প্রয়োজন মতো সেচ দিতে হবে। তিল চাষে তেমন সেচ দেওয়ার দরকার হয় না। তবে বীজ বপন করার সময় জমির মাটিতে রসের ঘাটতি থাকলে তখন হালকা ভাবে সেচ দিতে হবে।

তাহলে বীজ তাড়াতাড়ি গজায়। বীজ বপন করার ২৫-৩০ দিন পর ফুল আসার সময় হলে জমি শুকনা হয়ে যেতে পারে তখন সেচ দিতে হবে। শুকনা মৌসুমে ৫৫-৬০ দিন পর ফল ধরার সময় সেচ দিতে হবে।

তিল গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই জমিতে যেন জল জমে না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে জমিতে নালা তৈরি করে দিতে হবে অতিরিক্ত জল বের হয়ে যাওয়ার জন্য।

রোগ দমন ব্যবস্থাপনা ঃ

তিল ফসলে বিছা পোকা, মথ পোকা আক্রমন করে থাকে। এ ধরনের পোকা আক্রমন করলে জমিতে কেরোসিন মিশ্রিত জল ছিটিয়ে দিতে হবে।

আবার হাত দিয়ে ধরে ও পোকা দমন করা যায়। তাছাড়া ক্ষেতে বাশ বা কাঠি পুতে দিতে হবে সেখানে পাখি বসলে পাখি এইসব পোকা খেয়ে দমন করতে পারে।

আক্রমন খুব বেশি হলে প্রয়োজনীয় বালাই নাশক স্প্রে করতে হবে।

তিল গাছে কান্ড পচা রোগ দেখা দেয়। এই রোগ দমনে বেভিস্টিন ৫০ দুই গ্রাম নিয়ে এক লিটার জলের সাথে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর দুপুরে প্রয়োগ করতে হবে তিন বার করে।

ফসল সংগ্রহঃ

সাধারনত তিল গাছের সব শুটি একত্রে পাকে না। নিচ দিকে থেকে পাকা শুরু হয়ে থাকে তারপর আস্তে আস্তে উপরের দিকে যায়। সব শুটি এক সাথে পাকার জন্য অপেক্ষা করা যাবে না।

উপরের শুটি পাকার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলে নিচের দিকের গুলি ফেটে যাবে এবং বীজ মাটিতে পড়ে যাবে। তখন অপচয় হবে এবং ফলন কম হবে।

তাই যখন শুটি পাকা শুরু করবে তখন সংগ্রহ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত পরিপক্ক হওয়ার কারণে বীজ যেন অপচয় না হয়।

ফসল কেটে উঠানে পলিথিন বিছিয়ে স্তুপ করে রাখতে হবে এবং গাছ রোদে শুকানোর পর লাঠির সাহায্যে পিটিয়ে মাড়াই করতে হবে।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment