লটকন চাষের সঠিক ও সরল পদ্ধতি | Burmese Grape Cultivation Method in Bangla

0
(0)

“লটকন বা নটকোন” যার বৈজ্ঞানিক নাম (Baccaurea motleyang) এর আরও অনেক নাম রয়েছে Rambai, Rambi, Mafia Farang, Lamkhae, Ramai. এটি দক্ষিন এশিয়ায় বুনো গাছ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে এর বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ হচ্ছে।

ভারত, বাংলাদেশ, মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড সহ আরও বিভিন্ন দেশে এর চাষ হচ্ছে। এ ফল খেতে হালকা টক-মিষ্টি স্বাদের হয় এবং এটী একটি কষযুক্ত সুস্বাদু ফল।এ ফল আকারে ২-৫ সেমি. হয়ে থাকে। রঙ পাকলে হালকা হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। জাত ভেদে টক মিষ্টি হয়।

আজ আমরা আপনাদের সাথে লটকন চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। এতে করে আপনারা সহজেই লটকন চাষের বিস্তারিত জানতে পারবেন।

Burmese Grape Cultivation Method in Bangla
Burmese Grape Cultivation Method in Bangla

আমাদের সাইটে নিয়মিত আমরা আপনাদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। এর ফলে আপনারা কৃষি জমি, শিক্ষা, অর্থনীতি এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজেনে আপনারা এ সকল তথ্য থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন।

লটকন চাষের বিস্তারিত

লটকন গাছের ছাল থেকে রঙ তৈরি করা যায় ,যা রেশমের সুতোয় ব্যবহার করা হয়। যদিও আমরা জানি লটকন শুধুমাত্র একটি ফল কিন্তু এর ঔষধি গুনও রয়েছে।

এ ফল ডায়বেটিক রোগের জন্য মহৌষধ এছাড়াও এ ফল রক্তশূন্যতা, ওজন কমানো, শরীরে জলের ঘাটতি অপসারণ, খাবারে রুচি বৃদ্ধি এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

এ ফল যদিও এক সময় পাহাড়ি ফল নামেই পরিচিত ছিল এবং প্রায় অপ্রচলিত একটি ফল ছিল’ কিন্তু বর্তমানে এর পুষ্টিগুণ ও স্বাদের জন্য এটি একটি “সফল ফল” হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

আর এ জন্যেই এর বানিজ্যক গুরুত্ব অনেকাংশে বেড়ে গেছে। আমদের দেশে রথযাত্রার দিন এবং উল্টো রথের দিন লটকন কেনার প্রচলন রয়েছে।

১৯৪৭ এবং১৯৭১ সালের বাংলা ভাগের পর পূর্ববঙ্গীয় প্রথা গুলো এখনও প্রচলিত রয়ে গেছেএ দেশে। সে ভাবেই পূর্ববঙ্গীয় অধ্যুষিত অঞ্চলে লটকনের প্রভাব আছে। ভারতের কোচবিহার, নবদ্বীপ এলাকায় লটকন বিক্রি করা হয়।

চাষ পদ্ধতি

লটকন চাষে বেলে দো-আঁশ, পাহাড়ি লাল মাটি অথবা সাধারন মাটিও ব্যবহার করা যায়। জল নিষ্কাশন পদ্ধতি ভালো হতে হবে। জমি উঁচু হলে ভালো, তবে আলো বাতাস যুক্ত জায়গায় ফলন ভাল হয়।

গর্ত তৈরি ও চারা রোপন পদ্ধতি

যে জায়গায় চারা রোপন করা হবে সেখানে আগে থেকে গোবর সার ১০-১৫ কেজি, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, পটাস ৫০০ গ্রাম দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ১৫ দিন রেখে দিতে হবে, তবে কিছু চাষিরা সার না দিয়েও গাছ লাগিয়ে থাকে, আর পরবর্তী সময়ে সার দিয়ে থাকে।

গাছ লাগানোর উত্তম সময় হচ্ছে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে, তবে বর্ষার শেষের দিকেও গাছ লাগানো যায়। প্রতিটি গাছ ৫-৬ মিটার দুরত্বে রোপন করতে হবে।

যেন আলো বাতাস পায় এমন স্থান। এ গাছের চারা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভালো মানের কলমের চারা নির্বাচন করতে হবে। কলম চারা থেকে ফলন ভাল পাওয়া যায়।

অর্ন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা

চারা রোপনের পর গাছটি যখন ৪/৫ বছর হয়ে যাবে, তখনই গাছে ফুল আসা শুরু করবে। তত দিন গাছটিকে খুঁটি ও বেড়া দিয়ে রক্ষনাবেক্ষন করতে হবে।

এবং গাছে জল সেচ দিতে হবে পরিমান মত, ঝড়-বৃষ্টিতে যেন গাছের গোড়ায় জল না জমে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যখন লটকন গাছে ফল আসবে তখন আশ-পাশের মরা ডাল,পাতা ছেঁটে দিতে হবে।

সার প্রয়োগ

এ গাছে তেমন সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয়না , তবে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়। তাহলে গাছের ফল ঝরে পড়বে না। এক্ষেত্রে যদি গাছের প্রাথমিক পর্যায়ে হরমোনাল ছত্রাক প্রয়োগ করা যায়, তাহলেই গাছে আর তেমন কোন সারের প্রয়োজন হয় না।

শুধু ফল আসা শুরু করলে মটি স্যাঁত স্যাঁতে রাখতে হবে। বেশি ভেজাও না আবার শুষ্ক্ও না। শুষ্ক মৌসুমে খেয়াল রাখতে হবে, গাছের গোঁড়া যেন অতিরিক্ত শুকিয়ে না যায়, আবার প্রয়োজন হলে ফলের উপরেও জলের স্প্রে করতে হবে। এতে করে ফলে জলের ঘাটতি হবেনা।

বর্ষা মৌসুমে যদি গাছের গোড়ায় জল জমে সেক্ষত্রে নালা তৈরি করে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অতিরিক্ত জল জমে গেলে গাছের ফল ঝড়ে পড়বে।

কলম/চারা পদ্ধতি

মাতৃগাছ গুলো থেকে ভালো বীজ নিয়ে চারা উৎপাদন করা যায়, আবার কলম পদ্ধতির সাহায্যে চারা তৈরি করে লাগালেও ফলন ভালো হয়।

এতে করে ফলের মিষ্টতা বাড়ে, আকৃতিও ভালো হয়। লটকনের চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে পুরুষ গাছে ফল আসে না তাই কলম পদ্ধতিতে গাছ লাগাতে হবে।

প্রতিবছর গাছে ফলের মৌসুম শেষ হলে লটকনের বাগান কোঁদাল দিয়া ভালো করে কুপিয়ে গাছ প্রতি ১৫-২০ কেজি গোবর সার ,ফসফেট, ইউরিয়া, পটাস সার অথবা মিশ্র সার মিশিয়ে মাটি ভালো করে উলোট-পালট করে বাগান তৈরি করে নিতে হবে। তবে সারের এ মিশ্রনটি অবশ্যই গাছ থেকে ৩-৪ মিটার দূরে হতে হবে।

আজকের দিনে অন্য ফসলের সাথে লটকনও একটি বানিজ্যিক ফসল হিসেবে পরিচিত।কারন এ ফল চাষে তেমন কন খরচ নেই বললেই চলে। অল্প কিছু সার ও রক্ষনাবেক্ষনের মাধ্যমে এর থেকে বছরে গাছ প্রতি ২০ কেজি থেকে ১০ মণ ফলন পাওয়া সম্ভব।

গাছ যদি ৫/৭ বছরের হয় তবে ১০-২০ কেজি ফলন আসবে, আর ১৫-২০ বছরের গাছ হলে ১০ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। এ গাছ চাষে মাটি মসৃণ হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বেশ ভাল ফলন পাওয়া সম্ভব।

১০০-২০০ প্রাপ্তবয়স্ক গাছ থেকে বছরে ৬-১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তাই লটকন চাষ হতে পারে রপ্তানীমূলক বানিজ্যিক ফসল।

আজ আমরা লটকন চাষ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। কৃষি নিয়ে আরো অনেক লেখা পেতে আমাদের সাইটের অন্য লেখাগুলো দেখুন। আমাদের লেখা গুলো ভালো লাগলে বা যেকোন মন্তব্য আমাদের ফেসবুক পাতায় লিখুন। আমরা আপনার মতামতের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিব।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment