Court Marriage Laws in India | ভারতে অনলাইন কোর্ট ম্যারেজ প্রক্রিয়া

0
(0)

প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। বিবাহের মত তুলনামূলক জটিল প্রক্রিয়া এখন অনলাইনেই সম্পন্ন করা যাবে। ভারতে অনলাইন কোর্ট ম্যারেজ পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে সহজ।

এই ব্লগে আমরা কীভাবে ভারতে কোর্ট ম্যারেজ করতে পারি তা সম্পর্কে সহজ পদক্ষেপে কোর্ট ম্যারেজের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনানুগ আনুষ্ঠানিকতা, প্রয়োজনীয় দলিল ও সাক্ষী, ভারতে বিদেশী নাগরিককে বিবাহ করার প্রক্রিয়া, আদালতে বিবাহ সম্পর্কিত ইস্যু, কোর্ট ম্যারেজের সুবিধা এবং আরও অনেক কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

Online Court Marriage in India
Online Court Marriage in India

আশা করি অনলাইনে কোর্ট ম্যারেজের প্রক্রিয়া আপনাদের উপকারে আসবে। চলুন দেরী না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। অনলাইনে কোর্ট ম্যারেজ প্রক্রিয়া:-

কোর্ট ম্যারেজ কী?

প্রথাগত বিবাহের ঐতিহ্য অনুসরণ না করে আদালতে বিবাহ অফিসারের উপস্থিতিতে আদালতে বিয়ে হওয়াকে কোর্ট ম্যারেজ বলা হয়। ভারতে কোর্ট ম্যারেজ ঐতিহ্যবাহী বিবাহের চেয়ে আলাদা। কোর্ট ম্যারেজ হল আদালতে একজন বিবাহ অফিসার এবং তিন জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে আদালতে রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে বিবাহের কাজ সম্পন্ন করা।

একজন বিবাহ অফিসার এবং তিনজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একজন পুরুষ ও মহিলা তাদের বর্ণ, ধর্ম, বা ধর্মীয় কোনও বাধা ছাড়াই বিবাহ করতে পারবেন তবে অবশ্যই তাদেরকে প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।

ভারতে  দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াই খুবই সহজ পদ্ধতিতে তাদেরকে বিবাহ করায় উৎসাহিত করে। ভারতে কোর্ট ম্যারেজের ক্ষেত্রে আপনার বিবাহকে পবিত্র করতে প্রথাগত উদযাপনের প্রয়োজন হয়না।

১৯৫৪ সালের বিশেষ বিবাহ আইন অনুযায়ী কোর্ট ম্যারেজের জন্য উভয় পক্ষ অর্থাৎ পাত্র-পাত্রী দুজনেরই ভারতীয় হওয়ার প্রয়োজন নেই। চাইলে বিদেশী নাগরিককেও বিবাহ করা যাবে। তবে পাত্র-পাত্রী উভয়কেই প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে, জন্ম সনদ, আইডি কার্ড, এগুলোর কপি অবশ্যই কোর্টে জমা দিতে হবে।

পাত্র-পাত্রী দুজনকেই একই ধর্মের অনুসারী হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। পাত্র-পাত্রী দুইজন ভিন্ন লিঙ্গের অধিকারী হতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে একমত হতে হবে যে তারা বিবাহ করে একসাথে জীবন কাটাতে চায়। কোন ধরনের জোর জবরদস্তিমূলক বিবাহ কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে করা যাবেনা।

কোর্ট ম্যারেজের আইনগত প্রক্রিয়া

কোর্ট ম্যারেজ বিশেষ বিবাহ আইন ১৯৫৪ অনুযায়ী বৈবাহিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হয়। কোর্ট ম্যারেজের প্রক্রিয়া অনুসরণ করার  আগে কোর্ট ম্যারেজের কিছু পূর্বশর্ত মেনে তারপর বিবাহের কার্য সম্পাদন করতে হবে ।

কোর্ট ম্যারেজের বিধিগুলি বিশেষ বিবাহ আইনের ৪ ধারায় উল্লেখ করা আছে। পাত্র-পাত্রী নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহ করার পূর্বে তাদেরকে অবশ্যই কিছু শর্তাবলি মেনে তারপর কোর্ট ম্যারেজ করতে হবে।

শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে পূর্বের বিবাহ না থাকা অথবা বিবাহিত থাকা অবস্থায় কোর্ট ম্যারেজ করা যাবেনা৷ ডিভোর্সের সকল নিয়ম মেনে তারপর নতুন বিবাহ করা যাবে।

পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মতি থাকতে হবে,,যেকোন একজনের সম্মতি থাকলে, আর একজনের সম্মতি যদি না থাকে তাহলে কিছুতেই কোর্ট ম্যারেজ করা যাবে না। পাত্র-পাত্রী উভয়কেই প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।

ভারতীয় আইন অনুযায়ী পাত্রের বয়স সর্বনিম্ন ২১ এবং পাত্রীর বয়স সর্বনিম্ন ১৮ হতে হবে। বয়সের প্রমাণস্বরুপ আইডি কার্ড অথবা জন্ম নিবন্ধনের কপি প্রয়োজন হবে।

পাত্র-পাত্রী কেউ যদি ভারতীয় আইন অনুযায়ী কোন মামলায় অভিযুক্ত থাকেন এবং বিচারকার্য শেষ না হয়ে থাকে তবে এমতাবস্থায় বিবাহ করা যাবেনা। পাত্র অথবা পাত্রী যদি ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয়ে থাকেন তাহলেও কোন সমস্যা নেই।

তারা কোর্ট ম্যারেজ করতে পারবেন। পাত্র-পাত্রীর কোন একজন যদি বিদেশী নাগরিক হয়ে থাকেন, তাতেও কোর্ট ম্যারেজ করতে কোন অসুবিধা হবেনা।

কোর্ট ম্যারেজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

কোর্ট ম্যারেজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে কোর্ট ম্যারেজের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আপনার কয়েকটি কাগজের প্রয়োজন হবে। এই কাগজগুলি ছাড়া ভারতে কোর্ট ম্যারেজ করা সম্ভব নয়।

আদালতে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করার জন্য সম্ভাব্য বর ও কনে উভয়ের কাছ থেকে নিম্নলিখিত নথিগুলির প্রয়োজন হবে- বিবাহের আবেদন ফর্ম যথাযথভাবে বর এবং কনে উভয় দ্বারা স্বাক্ষরিত হতে হবে। আবেদন ফর্মের সাথে প্রদত্ত ফি প্রদান করতে হবে।

বর ও কনে উভয়ের বয়সের প্রমাণস্বরুপ (দশম শ্রেণির প্রশংসাপত্র / পাসপোর্ট / জন্ম নিবন্ধন সনদ) আবাসিক ঠিকানার প্রমাণ (আধার কার্ড / ভোটার কার্ড / রেশন কার্ড / ড্রাইভিং লাইসেন্স) ইত্যাদির কপি প্রয়োজন হবে।

কনে ও বর উভয়ের কাছ থেকে একটি করে করে হলফনামা কোওরটে জমা দিতে হবে। কোর্ট ম্যারেজের সম্পর্কিত হলফনামায় অবশ্যই নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ থাকতে হবে- পাত্র এবং পাত্রী অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা, বিপত্নীক যেটাই হোক না কেন, তার বৈবাহিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন তা হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে।

বিবাহ বহির্ভূত কোন অবৈধ সম্পর্কে জড়িত থাকা যাবেনা। কনে এবং বর উভয়ের পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি হলফনামায় সংযুক্ত করতে হবে। ডিভোর্সী এবং বিধবা বিবাহের ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজের কপি, এবং স্বামীর মৃত্যুর ডেথ সার্টিফিকেটের কপি জমা দিতে হবে।

অনুরুপভাবে বর বা পাত্রের ক্ষেত্রে ডিভোর্সী হলে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজের কপি, এবং বিপত্নীক হলে স্ত্রীর মৃত্যুর ডেথ সার্টিফিকেট কোর্টে জমা দিতে হবে। কোনভাবেই একপক্ষ অন্য পক্ষকে ঠকিয়ে বিবাহ করতে পারবে না।

কোনরুপ যৌতুক বা জবরদস্তি করে অর্থ নিতে পারবে না। পূর্ণ শান্তি বজায় রেখে দুইপক্ষের সম্মতিক্রমে কোর্ট ম্যারেজ করতে হবে।

শেষ কথা

পাত্র-পাত্রী পূর্ণবয়স্ক হলে তাদেরকে তাদের মতের বিরুদ্ধে বিবাহ দেওয়া আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। বিবাহ পাত্র-পাত্রীর সম্মতিক্রমে হতে হবে। তারা নিজেরা উপস্থিত হয়ে তিনজন সাক্ষী রেখে কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ করতে পারবে।

বিভিন্ন ধর্মে বিবাহের অনেক আনুষ্ঠানিকতা ও খরচ রয়েছে। কেউ যদি অনুষ্ঠান করতে বা খরচ বহনে অপারগ হয় তবে তাদের জন্য কোর্ট ম্যারেজ আদর্শ বিবাহ। দুইজনকে একই ধর্মের বা একই দেশের নাগরিক হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা না থাকায় এটা খুবই ঝামেলামুক্ত বিবাহ প্রক্রিয়া।

তবে সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী পণপ্রথা, যৌতুক, ডিভোর্স না দিয়ে পুনরায় বিবাহের মত কোন কাজ কোর্ট ম্যারেজ করা যাবেনা। এজন্য কোর্ট ম্যারেজ পাত্র-পাত্রীদের সম্মতিক্রমে নিজেদের বৈবাহিক জীবন শুরু করার এক আদর্শ উপায়।

জোর করে বিবাহের আশঙ্কা থাকলে এভাবে বিবাহের নজির বেশী দেখা যায়। আশা করি ভারতে কোর্ট ম্যারেজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস সফল হয়েছে।

সুপ্রিয় পাঠক পোস্টটি পড়ে আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না। এরপর কোন বিষয় নিয়ে জানতে চান তা আমাদের কমেন্ট করে জানান। আমরা পরবর্তীতে সে বিষয়ে তথ্য নিয়ে হাজির হব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment