আখ চাষের সঠিক ও সহজ পদ্ধতি | Sugarcane Cultivation Method in Bangla

0
(0)

আখ একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। এর পাতা অনেকটা ভুট্টার পাতার মতো হয় তবে কিনারা ধার যুক্ত হয়ে থাকে। আখ থেকে চিনি উৎপাদন করা হয়। আখের রস খুবই উপাদেয় এক ধরনের পানীয়।

আমাদের সাইটে নিয়মিত আমরা আপনাদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। এর ফলে আপনারা কৃষি জমি, শিক্ষা, অর এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনারা এ সকল তথ্য থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন।

Sugarcane Cultivation Method in Bangla
Sugarcane Cultivation Method in Bangla

আজ আমরা আপনাদের সাথে আখ  চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। এতে করে আপনারা সহজেই আখ চাষের বিস্তারিত জানতে পারবেন। চলুন দেখে নি আখ চাষের বিস্তারিতঃ

মাটি ও জলবায়ু ঃ

আখ চাষে জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ হতে হবে। অতি গরম আবহাওয়া ও অতি ঠান্ডা আবহাওয়া কোনটাতেই আখ ভালো হয় না।

আখ চাষের জমি উচু হতে হবে। মাটি সমতল হতে হবে। জল নিকাশের ভালো ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিচু জমি আখ চাষের জন্য উপযুক্ত নয়।

সাধারনত এটেল, দোআঁশ ও এটেল দোআঁশ মাটি আখ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তবে পলিমাটিতে ও আখ ভালো জন্মে। মাটি যদি বেলে হয় বা মাটিতে যদি কাকড় যুক্ত থাকে তাহলে সে মাটিতে আখ ভালো হয় না।

চাষের সময় ঃ

সাধারনত অক্টোবর মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আখের চারা রোপন করা যায়। ফসল আগাম রোপন করা উচিত তাহলে ফসলের ফলন ভালো হয় ও বৃদ্ধি ও ভালো হয়ে থাকে।

জমি তৈরি ঃ

জমি ভালো ভাবে চাষ ও মই দিয়ে তৈরি করে নিতে হবে। মাটি খুব মিহি ভাবে তৈরি করে নিতে হবে। জমিতে জল নিকাশের ভালো ব্যবস্থার জন্য নালা তৈরি করে দিতে হবে। আখ চাষ করার জন্য জমি দুই ভাবে তৈরি করা যাবে।

সমতল পদ্ধতি ঃ

জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে তারপর তাতে বীজ বপন করা হয়ে থাকে। তবে এ পদ্ধতিতে বীজ বপন করলে বীজ মাটির প্রায় উপরেই ভেসে থাকে।

মাটির গভীরে যায় না। বীজ মাটির গভীরে যায় না বলে শুকনা মৌসুমে যখন মাটির উপরের রস কমে যায় তখন বীজ পর্যাপ্ত রস পায় না তাই অঙ্কুরোদগম হতে পারে না।

আর তাই চারা ও গজাতে পারে না। আবার বৃষ্টির জল বেশি হলে সে জলে পড়ে চারা নেতিয়ে যায়।

নালা পদ্ধতি ঃ

আখ চাষে জমিতে নালা পদ্ধতি বিশেষ উপযোগী। এ পদ্ধতিতে জমিতে ১ মিটার দূরে দূরে নালা তৈরি করতে হবে। এ পদ্ধতিতে জমিতে বীজ বপন করলে কোন সমস্যা হয় না।

নালা তৈরি করে দেয়া হয় বলে নালা তে প্রয়োজনীয় জল থাকে তাই মাটি শুকিয়ে যাবার কোন ভয় থাকে না এবং চারা ও প্রয়োজনীয় জল পেয়ে থাকে তাই বৃদ্ধি ভালো হয়।

প্রতিটি নালার দৈর্ঘ্য হবে ৩১-৬২ মিটার। উপরের মুখ হবে ৩১ মিটার প্রশস্ত এবং নিচের দিকে মুখ হবে ২৩ মিটার প্রশস্ত।

নালা মাটি দ্বারা ভরাট করে দেয়ার ফলে চারার গোড়া মাটিতে ভালো ভাবে শক্ত হয়ে আটকে থাকে।

বীজ শোধনঃ

আখের ছোট ছোট টুকরা হলো আখের বীজ। জমিতে বীজ বপন করার আগে শোধন করে নিতে হবে। তাহলে রোগ  থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়।

বর্তমানে ব্যাভিস্টিন নামক এক ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করে বীজ শোধন করা যায়।

বীজ বপন ঃ

বীজ বপন করার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে থাকে। বীজ মাথায় মাথায় বপন করা যায় আবার আকাবাকা পদ্ধতিতে বপন করা যায়। সমান্তরাল পদ্ধতিতেও বীজ বপন করা যায়।

যে পদ্ধতিতেই বীজ বপন করা হোক না কেন খেয়াল রাখতে হবে বীজের অঙ্কুরোদগম যেন ঠিক হয়। নালার মাটিতে বীজ বপন করার পর বীজের চোখ যেন মাটি স্পর্শ করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বীজের হার ঃ

সাধারনত এক একর জমিতে ২০-৪০ টন বীজের প্রয়োজন হতে পারে।

সার প্রয়োগ ঃ

উন্নত ফলন পেতে হলে জমিতে সার প্রয়োগ করতে হবে। এক হেক্টর জমিতে ইউরিয়া সার দিতে হবে ১২০-১৫০ কেজি,

টিএসপি দিতে হবে ৮০-১১০ কেজি,

এমওপি দিতে হবে ১১০-১৪০ কেজি,

জিপসাম দিতে হবে ৫০-৬০ কেজি।

এছাড়া জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে ২-৩ টন। ইউরিয়া ও এমপি সার ছাড়া বাকি সব সার জমি চাষ করার সময় মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

এমওপি সার ও ইউরিয়া সারের অর্ধেক নালায় প্রয়োগ করতে হবে বাকি টুকু প্রয়োগ করতে হবে কুশি বের হবার পর। সার প্রয়োগ করার পর প্রয়োজনে জল সেচ দিতে হবে।

সেচ ব্যবস্থাপনা ঃ

উত্তম ফলনের জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে হবে। বীজ বপন করার পর যদি অঙ্কুরোদগম হতে সময় লাগে তাহলে জমিতে একবার হালকা সেচ দিতে হবে।

জমিতে জলের অভাব দেখা দিলেই সেচ দিতে হবে। তবে জমিতে যেন জল জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

অন্যান্যা পরিচর্যাঃ

জমিতে আগাছা জমলে তা পরিষ্কার করে দিতে হবে। গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হবে। গাছ যেন হেলে না পড়ে সেজন্য গোড়ার মাটি ভালো করে চেপে দিতে হবে।

রোগ ও পোকা দমন ব্যবস্থাপনা ঃ

আখের সাধারনত মাজরা পোকা, উইপোকা, লাল পচা রোগ ইত্যাদি রোগ দেখা দিতে পারে। এসব রোগ দমনে প্রয়োজনীয় বালাই নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ ঃ

বীজ বপন করার পর আখ পরিপক্ক হতে সাধারনত ১২-১৫ মাস সময় লাগে। পরিপক্ক হবার পর তা সংগ্রহ করতে হবে।

ফলনঃ

সঠিক উপায়ে চাষ করতে পারলে এক হেক্টর জমিতে গড়ে ৪৫-৭৫ টন ফলন পাওয়া যেতে পারে।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment