ধান চাষের সঠিক ও সহজ পদ্ধতি | Rice Cultivation Method in Bangla

ধান আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। ধান থেকে চাল হয়, চাল থেকে হয় ভাত। ভাত আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যদ্রব্য।

আমাদের বাংলাভূমি সাইটে নিয়মিত আমরা আপনাদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। এর ফলে আপনারা কৃষি জমি, শিক্ষা, অর্থনীতি এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনারা এ সকল  তথ্য থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন।

Rice Cultivation Method in Bangla
Rice Cultivation Method in Bangla

আজ আমরা আপনাদের সাথে ধান  চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। এতে করে আপনারা সহজেই ধান চাষের বিস্তারিত জানতে পারবেন। চলুন দেখে নিই ধান চাষের বিস্তারিত ঃ

মাটিঃ

প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ধান চাষ ভালো হয়। বেলে মাটি ও কাকড় যুক্ত মাটি ছাড়া সব ধরনের মাটিতেই ধান ভালো হয়। সাধারনত এটেল ও এটেল দোআঁশ মাটি ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।

তবে পলিমাটিতে ধান ভালো জন্মে থাকে। উচু , মাঝারি উচু, মাঝারি নিচু ও নিচু প্রায় সব ধরনের জমিতেই ধান চাষ করা যায়।

বীজ বাছাই ঃ

বীজ বপন করার জন্য রোগমুক্ত, পরিষ্কার ও পুষ্ট বীজ বাছাই করতে হবে। ভালো বীজ বাছাই না করলে চারার গুনগত মান ভালো হয় না। ভালো বীজ বাছাই করার জন্য ৪০ লিটার জলে  ১.৫ কেজি পরিমান ইউরিয়া মিশিয়ে নিতে হবে ।

এরপর এই বীজ তার মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে । অপেক্ষাকৃত ভালো বীজ গুলো নিচে জমা হবে। তখন সেখান থেকে ভালো মানের বীজ বাছাই করতে হবে।

বীজতলা তৈরি ঃ

বিভিন্ন জাতের ধানের বীজ বপন করার জন্য আলাদা আলাদা বীজতলার প্রয়োজন হয়ে থাকে। বীজতলা সাধারনত শুকনা, কাদাময়, ভাসমান ও ডাপোগ জাতীয় হয়ে থাকে।

শুকনা বীজতলা ঃ

জমি ভালো ভাবে চাষ ও মই দিয়ে তৈরি করতে হবে। ৫-৬ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে দিতে হবে। তারপর নালা তৈরি করতে হবে ২৫-৩০ সেমি চওড়া।

বেডের মাটি সমান ভাবে মিশিয়ে দিয়ে তারপর বীজ ছিটিয়ে দিতে হবে। মাটিতে প্রয়োজনীয় রসের অভাব যেন না থাকে সেজন্য সেচ দিতে হবে।

কাদাময় বীজতলাঃ

এ ধরনের বীজতলা তৈরির জন্য দো আuশ ও এটেল মাটি উপযোগী। জমি ভালো ভাবে চাষ ও মই দিয়ে জল দিতে হবে।

জমিকে থকথকে কাদা যুক্ত করে তৈরি করতে হবে। তারপর পাশে চওড়া বেড তৈরি করতে হবে। বেডের দুই পাশে মাটি দিয়ে বাশ বা কাঠ দিয়ে মাটি সমান করে দিতে হবে।

ভাসমান বীজতলা ঃ

যেসব এলাকায় বন্যা বেশি হয় সেসব এলাকায় এই ধরনের বীজতলা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।  এই বীজতলা তৈরি হয়ে থাকে কলাগাছের ভেলা বা মাচার উপর। এই ধরনের বীজতলায় সেচে দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

ডাপোগ বীজতলা ঃ

এই ধরনের বীজতলা তৈরি হয় শুকনা স্থানে। মাটি ,কাঠ, ইট বা কলাপাতা বা পলিথিন বিছিয়ে তার উপর আচ্ছাদন দিয়ে এই ধরনের বীজতলা তৈরি করা হয়ে থাকে।

বীজতলায় বীজ বপনঃ

বীজতলায় সাধারনত ৮০-১০০ গ্রাম বীজ বপন করা হয়ে থাকে।

বীজতলা পরিচর্যা ঃ

বীজতলার যত্ন করতে হবে। বীজতলার নালা সব সময় জল ভর্তি রাখতে হবে। বীজতলায় আগাছা দমন করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। চারা গাছ বড় হবার সময় বীজ তলায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।

বীজতলায় গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে ২ কেজি। তাছাড়া এক বগ©মিটার জমিতে ৪ গ্রাম টিএসপি, ৭ গ্রাম এমপি প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

চারা উঠানোঃ

চারা বড় হবার আগে বীজতলায় বেশি করে জল সেচ দিতে হবে।

চারা রোপন ঃ

চারা রোপন করার সময় জমিতে হালকা জল থাকা ভালো। বীজ সাধারনত ২-৩ সেমি গভীরে রোপন করতে হবে। তাহলে চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চারা সারি করে রোপন করতে হবে।

সাধারনত একটি গোছা থেকে ১-২ টি সুস্থ সবল চারা রোপন করতে হবে। এক সারি থেকে আরেক সারির দূরত্ব হবে ২০ সেমি। একটি চারা থেকে আরেকটি চারার দূরত্ব হবে ১৫ সেমি।

চারা রোপন করার ৩-৫ দিনের মধ্যে যদি চারাগাছ মারা যায় তাহলে সেখানে আবার নতুন করে চারা লাগাতে হবে। জমিতে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করতে হবে তাহলে চারার বৃদ্ধি ভালো হয় ও জমিতে ফলন ভালো হয়।

সার প্রয়োগঃ

সঠিক ফলন পেতে হলে জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে প্রয়োজনীয় গোবর সার, ইউরিয়া, টিএসপি, এমপি ইত্যাদি সার প্রয়োগ করতে হবে।

সার প্রয়োগ করার পর প্রয়োজনে জমিতে সেচ দিতে হবে। সার যেন মাটির সাথে ঠিক ভাবে মিশে যায় তার  জন্যই সেচ দিতে হবে।

সেচ প্রয়োগঃ

ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী সেচ দিতে হবে।

চারা রোপন করার পর জমিতে ২-৩ ইঞ্চি জল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনীয় জল না থাকলে ধানের জমিতে চিটা হবার আশঙ্কা থাকে।

আগাছা দমনঃ

জমির আগাছা দমন করতে হবে। সার প্রয়োগ করার আগেই জমির আগাছা দমন করে নিতে হবে। প্রয়োজনে আগাছা দমন করার জন্য আগাছা নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ ও পোকা দমন ব্যবস্থাপনাঃ

জমিতে রোগ ও পোকা আক্রমন করলে প্রয়োজনীয় ছত্রাকনাশক ও বালাই নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ ঃ

ধান গাছের ছড়া যখন শতকরা ৮০ ভাগ পেকে যায় তখন ধান সংগ্রহ করতে হবে। গাছ পরিপক্ক হলেই ফসল সংগ্রহ করতে হবে।

ফলনঃ

সঠিক উপায়ে চাষ করতে পারলে আর ভালো মানের বীজ ব্যবহার করতে পারলে  এক বিঘা থেকে সাধারনত ৩০-৪০ মন ধান পাওয়া যেতে পারে।

Leave a Comment