গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

গ্যাস্ট্রিক খুবই যন্ত্রনাদায়ক একটি রোগের নাম। এটা প্রাণঘাতি না হলেও শান্তি বিনষ্টকারী একটি রোগ। এই রোগের জন্য আপনি সব ধরনের খাবার খেতে পারবেন না। গ্যাস্ট্রিক কম হলে মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়বেন, কিছু কিছু খাবার যেমন অতিরিক্ত মশলা দেয়া মাংস, ফাস্টফুড, তেলেভাজা খাবার, দুধ চা ইত্যাদি।

কিন্তু গ্যাস্ট্রিকের মাত্রা বেশী হলে অনেক ধরনের খাবার খেলেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেবে। এমনকি নির্ণয় করাও কঠিন হবে যে ঠিক কোন খাবার খেয়ে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিয়েছে। গ্যাস্ট্রিক হলে পাকস্থলিতে খাদ্য হজমকারী এসিডের মাত্রা কমে যায়, এজন্য খাদ্য হজম হতে বিলম্ব হয়, পেট ভার হয়ে থাকে, ঢেকুর ওঠে, বমি বমি ভাব হয়।

এটা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন যে কতটা বিরক্তিকর সমস্যা। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা যতটা না ঔষধে সারে তার চেয়ে বেশী কমানো যায় কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে। আমাদের কিছু অভ্যাসের জন্যই মূলত আমরা গ্যাষ্ট্রিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি।

সুপ্রিয় পাঠক  আজ আমরা আলোচনা করব কিভাবে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কোন কোন নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরী সেটা নিয়ে। চলুন পাঠক, দেরী না করে জেনে নেওয়া যাক।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যে নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরী

 

১. সময়মত খাবার খান

প্রতিবেলার খাবারের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই নির্দিষ সময় পার হলে তারপরে খেলে পাকস্থলিতে খাবার হজম হতে সমস্যা হয়।

মনে করুন সকালের নাস্তা যদি দুপুর ১২ টায় করেন, আর দুপুরের খাবার খান বিকাল ৪ টায়, আর এভাবে চলতেই থাকে, আপনি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আক্রান্ত হবেন। এজন্য সময়ের খাবার সময়ে গ্রহণ করুন। না হলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা স্থায়ী রোগে পরিণত হবে।

২. ঠিকমত জলপান করুন

জল আমাদের শরীরের পরিপাকক্রিয়া ও উষ্ণতার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই খাবারের পর এবং সারাদিনে ঠিকমত জল পান করেন না, যার কারণে তাদের খাবার সঠিকভাবে হজম হয়না।

ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। এরফলে গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস জল পান করুন। এটা আপনার হজমক্রিয়া ভাল রাখবে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করবে।

৩. ভাজাপোড়া কম খাওয়া

আমাদের সবারই রাস্তার পাশের খাবার, ভাজাপোড়া খাবার, ফাস্টফুড খেতে ভাল লাগে। কিন্তু এসব খাবারের কারণে আমাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়।

তাই অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া বন্ধ করুন। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দুরে থাকবে।

৪. প্রচুর সবজি ও ফল খান

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে সবজি ও ফল রাখুন। সবজি ও ফল ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভাল তেমনি সহজেই এগুলো হজম হয়।

আর এসব খাবার হজমশক্তি বাড়িয়ে তোলে। তাই গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পেতে ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৫. আদা ও লবঙ্গ

আদাতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। আদা কুচি কুচি করে তার সাথে লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন খাওয়ার একঘন্টা আগে।

এছাড়াও আদা কুচি রোদে শুকিয়ে রেখে দিতে পারেন। গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যায় লবঙ্গও খুবই কার্যকরী উপাদান। খাওয়ার আগে এবং পরে কয়েকদানা লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে হজমশক্তি বাড়ে।

৬. টকদই

প্রতিদিন একবাটি টকদই খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটা শরীর ঠান্ডা রাখবে এবং দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া আপনার হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।

৭. খালিপেটে চা না খাওয়া

অনেকেরই এই অভ্যাস রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার না খেয়ে খালিপেটে চা বা কফি খেয়ে থাকে। এতে প্রচুর গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাকে। এই সমস্যা থেকে বাচতে খালিপেটে চা বা কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

উপসংহার

গ্যাস্ট্রিকে সমস্যায় ঔষধ কোন কার্যকর সমাধান নয়। কারণ আপনি যদি অনিয়ম করেন এবং প্রতিদিন যা তা খাবার খান তাহলে ঔষধ কোন কাজেই আসবে না। তাই নিয়মমত খাবার খান, প্রতিদিন ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন। গ্যাস্ট্রিক কমাতে ঘরোয়া ভেষজ উপাদান গ্রহণ করুন, আশা করা যায় এতে ঔষধ ছাড়াই সমস্যামুক্ত থাকবেন আপনি।

সুপ্রিয় পাঠক আশা করি গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা কমাতে পোস্টটি আপনার উপকারে আসবে। এ বিষয়ে কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট করতে পারেন। আমরা অবশ্যই তথ্য জানিয়ে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment