কলকাতার কাছে ৬টি অফবিট সমুদ্র সৈকত – Offbeat Beaches Near Kolkata

এই গ্রীষ্মের দাবদাহে অনেকেই ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কেউ সময় বাঁচাতে ঘুরতে যেতে চান কলকাতার খুব কাছেই আবার করোনার পরিস্থিতির পর থেকে সবাই ভিড় এড়িয়ে ঘুরতে পছন্দ করছেন।

আজ বলব এমনি কিছু সমুদ্র সৈকতের কথা যা ঘরের কাছে আবার ভিড় জমজমাট ও সেরকম নেই। সোলো ট্রিপ/ফ্যামিলি ট্রিপ যে কোনো প্ল্যান কিন্তু অসম্ভব সুন্দর হবে এই স্থানগুলোতে।

Offbeat Beaches Near Kolkata
Offbeat Beaches Near Kolkata in Bangla

কলকাতার কাছে ঘোরার মতো জায়গাগুলির কথা বলতে গেলে সবার প্রথমেই বলতে হয় সমুদ্র সৈকতগুলোর কথা।

চারিদিকে ঝাউবন,নৌকার সারি,বালুকারাশি ও একরাশ নির্জনতা নিয়ে দীঘা পুরী মন্দারমনি ছাড়িয়ে কয়েকটি অফবিট জায়গা নিয়ে আজকের প্রতিবেদনে আলোচনা করব।

১.চাঁদিপু্র:

কলকাতা থেকে চাঁদিপুরের দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার।

চাঁদিপুর সমুদ্র সৈকতটি উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলায় অবস্থিত। সৈকতটি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং বালেশ্বর রেলস্টেশন থেকে প্রায় 16 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ধীরে ধীরে গ্রেডিয়েন্টের কারণে, সমুদ্রের জল অন্যান্য সমুদ্র সৈকতের তুলনায় ধীর গতিতে প্রবাহিত হয় যেখানে জল প্রচুর পরিমাণে ছুটে আসে।

জোয়ারে জল ছুটে এলে জেলেরা মাছ ধরতে যান আর প্রচুর লাল কাঁকড়া দেখা যায় এই সৈকতে। চাঁদের আলোয় বালুকারাশি এত চকচক করে যে চাঁদের শহর বলে চাঁদিপুরকে। এই সমুদ্রের শান্ত জলরাশি পর্যটকদের জলের ঢেউয়ের সাথে খেলতে উৎসাহ দেয় প্রবল।

এখানের কাছেই রয়েছে চন্ডীপুর এবং আশেপাশের স্থানগুলির উচ্চ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। চন্ডী মন্দির, নীলগিরির জগন্নাথ মন্দির এবং কুলদিহা অভয়ারণ্যটি চন্ডীপুরে ঘুরে দেখা যায়। নীলগিরি পাহাড়ে অবস্থিত এই পঞ্চলিঙ্গেশ্বর।

চাঁদিপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় ঘোরার জায়গা এই পঞ্চলিঙ্গেশ্বর। ভগবান শিবের পাঁচটি মূর্তির জন্য পঞ্চলিঙ্গেশ্বর জনপ্রিয়।

কীভাবে যাবেন:

কলকাতা থেকে চাঁদিপুর যাওয়ার জন্য সরাসরি কোনো ট্রেন নেই। কলকাতা থেকে চাঁদিপুর যাওয়ার জন্য আপনাকে বালেশ্বর রেলস্টেশন এ নামতে হবে।

হাওড়া থেকে পুরী শতাব্দী এক্সপ্রেস, হাওড়া ভুবনেশ্বর এক্সপ্রেস, ফলকনামা এক্সপ্রেস,ধৌলি এক্সপ্রেস ইত্যাদি।

 নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চাঁদিপুরের দূরত্ব ২৭০ কিমি। বিজু পট্টনয়ক এয়ারোর্ট(ভুবনেশ্বর) চাঁদিপুর থেকে এর দুরত্ব ২২৫ কিলোমিটার।

২.শঙ্করপুর:

তাজপুর হল পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় একটি পর্যটন কেন্দ্র। মন্দারমনি ও তাজপুরের কাছে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি নির্জন সমুদ্র সৈকত।

দীঘা থেকে তাজপুর ১৩ কিমি দূরে অবস্থিত। তাজপুরের সমুদ্র সৈকতে ভোরবেলার সূর্যদয় অত্যন্ত মনোরম। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে শঙ্করপুরের উন্নয়নের ফলে এর সৌন্দর্য অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।

ফলে আগে খুব একটা পর্যটক না গেলেও এখন বেশ জনপ্রিয় শঙ্করপুর। যারা নির্জন নিরিবিলি সমুদ্রের সৈকত পছন্দ করেন তাদের জন্য আদর্শ।

কীভাবে যাবেন:

ট্রেনে করে যেতে চাইলে হাওড়া থেকে দীঘা গামী যেকোনো ট্রেনে করে দীঘায় নেমে দীঘা থেকে শঙ্করপুর যেতে পারেন।

বাসে করে যেতে চাইলে আপনাকে ধর্মতলা থেকে শঙ্করপুরের বাস ধরতে হবে।

৩.বাঁকিপুট:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি আদিম স্বর্ণের বালির সমুদ্র সৈকত। এই অনাবিষ্কৃত সমুদ্র সৈকতের সীমানা ঘন ক্যাসুয়ারিনা গাছ দ্বারা আব

আপনার প্রিয়জনের সাথে একটি দুর্দান্ত এবং রোমান্টিক সময় কাটাতে পারেন এই সৈকতে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত বাঁকিপুট।

এখানে গেলেই দেখতে পাবেন সেই কপালকুণ্ডলার মন্দির। মন্দিরের সামনেই রয়েছে দরিয়াপুর লাইট হাউস। লাইট হাউসে উঠে পাখির চোখে বাঁকিপুট দেখার সুযোগ রয়েছে।

এ এক অসামান্য অভিজ্ঞতা। কোলাহল হীন একটি শান্ত সমুদ্র। দূরে ভেসে যায় বিশাল লঞ্চ জাহাজ।

কীভাবে যাবেন:

ওই একই ভাবে হাওড়া থেকে দীঘার ট্রেন ধরে কাঁথি স্টেশনে নামতে হবে। কাঁথি রেলস্টেশন থেকে ভাড়া করা গাড়িতে সহজে বাঁকিপুট যাওয়া যায়। হরিপুর সাগর সৈকতের বিপরীত পাশে বাঁকিপুট সৈকত।

৪.সাগরদ্বীপ:

সাগরদ্বীপ পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবনের কাছে অবস্থিত একটি দ্বীপ। তীর্থযাত্রা এবং মজাদার ভ্রমণের সংমিশ্রণে একটি সুন্দর গন্তব্য। গঙ্গার মোহনায় সম্পূর্ণ অব্যক্ত সৈকতের আকর্ষণকে ধারণ করেছে এই দ্বীপ।

সাগর দ্বীপে সন্ধ্যা 6 টা থেকে 9 টা পর্যন্ত কেবল কয়েক ঘন্টা বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা রয়েছে – কিন্তু গঙ্গা সাগর মেলা চলাকালীন, 24 ঘন্টা পর্যাপ্ত বিদ্যুতের সরবরাহ হয়।

এই দ্বীপে প্রচুর সাপের উৎপাত রয়েছে তাই সাপ থেকে সতর্ক হওয়া উচিত।

কীভাবে যাবেন:

শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে কাকদ্বীপ বা নামখানা স্টেশনে নামতে হবে। তারপর টোটোতে করে ফেরি ঘাট। সেখান থেকে ফেরি পেরিয়ে গঙ্গাসাগরে।

৫.উদয়পুর বিচ্:

এটি দিঘার অন্যতম বিখ্যাত সৈকত। এই আকর্ষণীয় সৈকতের সবচেয়ে স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্যটি হ’ল এর অর্ধেকটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এবং বাকী অর্ধেকটি উড়িষ্যা রাজ্যে অবস্থিত।

এই জনহীন সমুদ্র সৈকতটি প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এবং নিউ দিঘা ও তালসারীর মধ্যে অবস্থিত। তবে এই সৈকত এখন ভীষণ জনপ্রিয়। এখানে এসে আপনি সমুদ্রের ধারে চেয়ার টেবিলে বসে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্র উপভোগ করতে পারবেন।

বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি নিজেদের মত রান্না করিয়ে নিয়ে খেতে পারবেন। এখানে গিয়ে আপনি সমুদ্রের ধারে বাইক রাইডিং করতে পারবেন এই সুযোগ ও রয়েছে এই সমুদ্র সৈকতে।

কীভাবে যাবেন:

এখন দীঘায় গেলে সব পর্যটকরা একবার হলেও উদয়পুর ঘুরে আসেন। যদিও উদয়পুরে থাকার সেরকম কোনো ভালো জায়গা নেই। সকালে থেকে গিয়ে বিকেল পর্যন্ত সময় কাটিয়ে ফিরে আসতে পারবেন।

উদয়পুর আপনি দীঘা থেকে গাড়ি নিয়ে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। দীঘা থেকে খুব কাছেই এই সমুদ্র সৈকত।

৬.তালসারি:

তালাসারি ওড়িশার অন্যতম প্রশান্ত ও অপ্রচলিত একটি সৈকত। তালাসারি নামের আক্ষরিক অর্থ (ওড়িয়ায় যার অর্থ খেজুর পাতার সারি)। বঙ্গোপসাগরের তীরে এই সৈকতের জলরাশি খুব শান্ত, অর্থাৎ এটি নিরাপদ সৈকতগুলির মধ্যে একটি।

এখানে তাল গাছের সারিগুলি সৈকতের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলেছে, এবং সুবর্ণরেখা নদীর তীর্যক দৃশ্যটি সৈকতের দৃশ্যকে আরো আকর্ষণ করে।

বালির খাঁজগুলি, বালির টিলা এবং সামান্য লাল কাঁকড়া সমুদ্র সৈকতে একটি আলাদাই আমেজকে ধরে রাখে, বিচিত্রাপুরের নিকটবর্তী এই সমুদ্রের ধারে ম্যানগ্রোভের বনাঞ্চল গড়ে উঠেছে।

যদি কেউ একটি নির্মল শান্ত ছুটির সন্ধান করেন তবে এখানে অবশ্যই যেতে পারেন। কলকাতা থেকে দূরত্ব মাত্র ১৯১ কিমি।

কীভাবে যাবেন:

সোজা তালসারি যাওয়ার জন্য কোনও বাস বা ট্রেন নেই। আপনাকে তালসারি যেতে গেলে দীঘা হয়েই যেতে হবে। দীঘা থেকে মোটরভ্যান, টোটো বা গাড়ি ভাড়া করে চলে যেতে পারেন তালসারি। কলকাতা থেকে যেতে হলে বাস বা ট্রেনে চেপে সোজা দীঘা যেতে হবে। দীঘা থেকে তালসারি যেতে হবে।

Leave a Comment