জীবনে পরিপক্ক হওয়ার ৭টি সঠিক উপায় – 7 Best Ways to Mature in Life

5
(1)

বয়সের সাথে সাথে মানুষের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বাড়ে বলে আমরা ধারণা করি। কিন্তু সবসময় সেটা নাও হতে পারে।

কারণ কোন পরিস্থিতিতে কোন কথাটা বলা উচিত, কোন পরিস্থিতিতে কোন কাজ করা উচিত, কোন কথার উত্তরে কি বলা উচিত এগুলোই হচ্ছে ম্যাচিউরিটির (পরিপক্কতা)  বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম।

7 Best Ways to Mature in Life
7 Best Ways to Mature in Life – Bangla Tips & Guide

আপনার মনের ভিতর যা আছে, সবসময়ই তার প্রকাশ ঘটানো উচিত নয়, যার উপরে আপনার অনেক রাগ, কিন্তু আপনাকে এখন তার সাথে একটি মিটিং করতে হচ্ছে, সেখানে কোনভাবেই নিজের রাগ প্রকাশ করা যাবেনা।

সেখানে আপনাকে হাসিমুখে কাজের কথা সেরে নিতে হবে। এটাই ম্যাচিউরিটি বা পরিপক্কতা।

 

ম্যাচিউর হওয়ার ৭ টি কার্যকারী উপায়ঃ

 

১. পরিবেশ ও পরিস্থিতি বুঝতে পারা

আপনি বর্তমানে কোন পরিবেশে আছেন, এখানে থেকে কি বলা যাবে, আর কি বলা যাবেনা, সেটা বুঝতে হবে। আপনি হয়ত ক্লাসে আছেন, স্যার ক্লাস নিচ্ছেন।

এর মধ্যে পাশের বন্ধু হাচি দিল, মুখে হাত দেওয়া ছাড়াই। আপনি চেচিয়ে উঠলেন, স্যারকে নালিশ করলেন। এটা ইমম্যাচিউরিটি বা অপরিপক্কতা।

কারণ হাচির জীবাণু নালিশ করায় দূর হবেনা। ক্লাসে আপনাকেও সবাই খারাপ ভাববে, বন্ধুটিকেও। এরচেয়ে ভাল সমাধান হচ্ছে নিজেদের মধ্যে ভালভাবে কথা বলে নেয়া, যে মুখে হাত দিয়ে ছাড়া হাচি দেওয়া ঠিক নয়।

 

২. নিজের ভুল স্বীকার করা

কিছু মানুষ কখনোই নিজের ভুল বুঝতে পারেনা। তারা যদি কোন কাজ ভুল করেও ফেলে তাহলেও ভাবে, যে এটা ঠিক ছিল। এটা এক ধরনের ইগো সমস্যা।

তাদের কাছে মনে হয় নিজের ভুল মেনে নেয়া মানে নিজেকে ছোট করা, কিন্তু এর ফলে যে তাদের ভুলগুলো ভুলই থেকে যায়, সেটা তারা বুঝতে পারেনা।

এই ভুল স্বীকার না করাটা হচ্ছে ইমম্যাচিউরিটি। কারণ বাচ্চারাও নিজের ভুলগুলোতেই আনন্দ পায়, এবং সেগুলোকে ভুল মনে করেনা।

তাই কোন কাজে যদি ভুল হয়ে যায়, আর আপনি সেটা বুঝতে পারেন, সেটা স্বীকার করে নিন। এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের কাজগুলোতে ভুল না করার চেষ্টা করুন।

 

৩. নিজেকে খুব বেশী প্রচার না করা

নিজের সাফল্য সম্পর্কে বলতে সবাই ই ভালবাসে। সেটা কখনো কখনো বলাটা অবশ্যই উচিত। কারণ সাফল্য অর্জনের গল্প শুনে যাতে অন্যরাও উৎসাহিত হয় সেইভাবে কাজ করতে।

কিন্তু আপনি যদি সবসময় নিজের সাফল্য দেখাতে এবং প্রচার করতেই থাকেন,নিজেকে বড় এবং অন্যদের ছোট ভাবেন তাহলে সেটা অপরিপক্কতা বা ইমম্যাচিউরিটি।

কারণ ম্যাচিউর মানুষ কখনোই নিজেকে খুব বেশী বড় করে প্রচার করে না। বরং অন্যরাই তার কাজে মুগ্ধ হয়ে তার সম্পর্কে প্রশংসা করে থাকে।

তাই নিজের অর্জনগুলো অকারণ প্রচার করবেন না। সঠিক সময় এবং পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ে কথা বলুন।

 

৪. অন্যের নিন্দা না করা

কিছু মানুষ রয়েছে যারা সবসময় অন্যকে ছোট করে কথা বলে, অন্যদের সমালোচনা করে এটা বোঝাতে চায় যে, সে নিজে ভাল। এ ধরনের মানুষ চায় যে, অন্য কেউ তার চেয়ে ভাল কাজ করতে না পারুক।

কিন্তু সেটা হওয়া সম্ভব নয়। কেউ না কেউ অবশ্যই কাজে ভাল হবে। তখন এরা মানুষের নিন্দা করে, তাদের কাজকে ছোট করে দেখাতে চায়।

যে আসলে তারা কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু যা করছে তার কিছুই ঠিক নয়, এক্ষেত্রে সে নিজে করলে এর চেয়ে ভাল কাজ আর কিছুই হতনা।

এভাবেই তারা অপরের নিন্দা করে নিজেরা বড় হতে চায়, যা ইমম্যাচিউরিটি (অপরিপক্কতা)। নিজে বড় হতে চাইলে নিজেকেই কাজ করতে হবে, কাউকে ছোট করে কখনোই বড় হওয়া যায়না।

 

৫. বাস্তবতা বুঝতে পারা

অনেক সময় আমরা যা চাই, তা করার মত পরিবেশ বা পরিস্থিতি আমাদের থাকেনা। তখন নিজের অবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটাই হচ্ছে ম্যাচিউরিটি।

মনে করুন আপনার খুব ইচ্ছা মার্সিডিজ গাড়ি কেনার। কিন্তু আপনার এই মুহুর্তে গাড়িটি কেনার সামর্থ্য নেই। এজন্য সবসময় আপনি মন খারাপ করে থাকেন।

এটা কখনোই করবেন না। বরং আপনার ইচ্ছাটাকে লক্ষ্য হিসেবে নিন, আর পুরোদমে চেষ্টা চালিয়ে যান, যাতে ইচ্ছাটাকে বাস্তবে রুপ দিতে পারেন।

পরিপক্ক মানুষ আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা দিয়ে পরিস্থিতি বিচার করে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়।

 

৬. আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা

আবেগ মানুষকে মস্তিষ্ক দ্বারা ভাবতে সবসময়ই বাধা দেয়, আবেগ না থাকলে মানুষ যন্ত্রে পরিণত হয়। কিন্তু অতি আবেগ মানুষকে সঠিকভাবে ভাবতে দেয়না।

যা করা উচিত, যা করলে সব দিকেই মঙ্গল তা করতে হলে অনেক সময় আবেগের উর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হয়।

যেমন আপনি পড়াশুনা শেষ করার আগেই আবেগের বশে নিজের ভালবাসার মানুষকে বিয়ে করে ফেললেন, কিন্তু আপনার কাছে নিজেরা সংসার করার মত কোন অর্থ-সম্পদ নেই।

এভাবে কষ্ট করে সংসার করতে গিয়ে আপনার পড়াশুনা ও ঠিকভাবে করা হল না, ক্যারিয়ারও গড়ে তোলা হলনা। আপনার আবেগের বশে নেওয়া একটা সিদ্ধান্ত আপনাকে জীবনের দৌড়ে পেছনে ফেলে দিল।

তাই নিজেকে বাস্তবতার নিরিখে পরিচালিত করুন। আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা দিয়ে পরিস্থিতি ও করণীয় ঠিক করুন।

৭. সবার সাথে মানিয়ে চলা

আপনি জীবনে সবসময় একই পরিবেশে থাকবেন না। বিভিন্ন সময়ে আপনাকে নিজের অবস্থান, কর্মক্ষেত্র বা আবাসস্থল পরিবর্তন করতে হবে।

আর তখন আপনার প্রয়োজন হবে, অন্যদের সাথে খুব দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার। সবাই অবশ্যই আপনার মনের মত হবেনা, কিন্তু আপনাকে তাদের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে হবে।

তা নাহলে সকল পরিস্থিতিতে টিকে থাকা মুশকিল হবে আপনার জন্য। আর সব পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াটাই ম্যাচিউরিটি।

 

অন্তিম কথা

অনেকেই বুঝতে পারেন না, তাদেরকে কেন ইমম্যাচিউরড বলে সবাই। আশা করি পোস্টটি পড়ার পর ইমম্যাচিউরড আচরণ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন, এবং কিভাবে ম্যাচিউরড (পরিপক্ক) আচরণ করবেন তাও বুঝতে পেরেছেন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার অথবা কোন মতামত দেওয়ার থাকলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা আপনার মতামত গুরুত্বসহকারে নিয়ে অবশ্যই দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment