মৌসুনি আইল্যান্ড ও অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ

Mousuni Island Adventure Travel in West Bengal. দীঘা-পুরী তো অনেক হলো। এই সমুদ্র সৈকত এর বাইরেও কয়েকটি নিরিবিলি শান্ত সমুদ্র সৈকত আছে আমাদের কলকাতার কাছেই! সকলেই নাম শুনেছেন আমাদের অতি পরিচিত বকখালির সমুদ্র সৈকত।

কিন্তু এখন বকখালির পাশাপাশি আরও একটি স্থান খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মৌসুনি আইল্যান্ড। এছাড়াও শেষে আরও কয়েকটি নিরিবিলি শান্ত সমুদ্র সৈকত দ্বীপের উল্লেখ করা হয়েছে।

কলকাতা থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নামখানা ব্লকের অন্তর্ভুক্ত এই আইল্যান্ড। খুব ভিড় জমজমাট নয় তবে শান্ত মনোরম পরিবেশ আর যা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে তা সমুদ্রের ধারে ও ঝাউবনের মধ্যে কয়েকটি ক্যাম্প।

ভীষণ সুন্দর ভাবে এই আইল্যান্ড টিকে সাজিয়ে তুলেছে এই ক্যাম্পগুলি। তিনদিকে চিনাই নদী ও একদিকে সাগরের মোহনা ও গঙ্গা সাগরের সবুজ প্রান্তর ছুঁয়ে যাওয়া এই দ্বীপে বসে সমুদ্র দেখতে দেখতেই কেটে যাবে সারাদিন।

 

১. কীভাবে যাবেন মৌসুনি আইল্যান্ড:

ট্রেনে যেতে চাইলে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নামখানা স্টেশনে নেমে টোটো করে যেতে হবে নামখানা বাসস্ট্যান্ড সেখান থেকে
ম্যাজিক ভ্যানে করে দুর্গাপুর-বাগডাঙ্গা ঘাট কিম্বা হুজ্জুতি ঘাট এসে চিনাই নদী পেরিয়ে টোটো সহযোগে মৌসুনি দ্বীপে পৌঁছানো যায়।

শিয়ালদহ থেকে নামখানা লোকাল ধরে পৌঁছে যেতে পারেন। ট্রেনের ভাড়া জন প্রতি ৩০/২৫ টাকা। সারাদিন ধরে নামখানা যাওয়ার অনেক ট্রেন রয়েছে তবে খুব সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়ুন। তবে ক্যাম্প অনুযায়ী ঠিকানা অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে রাখবেন।

বাসে যাওয়ার জন্য আপনাকে ধর্মতলা আসতে হবে সেখান থেকে বকখালি যাওয়ার বাস পাবেন ৯৪/-টাকা জন প্রতি।সময় প্রায় তিন ঘন্টা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগতে পারে।

 

২. কোথায় থাকবেন ও খাওয়া দাওয়া করবেন:

এখন আপনাকে টেন্টে থাকার জন্য দূরে কোথাও যেতে হবে না। সমুদ্রের ধারে প্রচুর ছোট বড় ক্যাম্প মাড হাউস তৈরি করা হয়েছে।এই টেন্ট বলতে ছোট ছোট কটেজ মতো করে পর পর এক একটি টেন্ট টানানো হয়েছে।

Tent Camp at Mousuni Island in West Bengal

সেখানে বসেই খুব কাছ থেকে সমুদ্র উপভোগ করতে পারবেন।টেন্ট গুলো তে উপযুক্ত বিছানা,চাদর ও ওখানেই খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

মৌসুনি আইল্যান্ড এ এরকম বহু টেন্ট এখন তৈরি হচ্ছে ফলে নিজেদের সুবিধা মতো টেন্ট নির্বাচন করুন।ঝিনুক ক্যাম্প,ব্যাকপাকার্স ক্যাম্প, ডলফিন বেস ক্যাম্প নামে কয়েকটি ক্যাম্প রয়েছে এই বছরে জোয়ার ভাঁটা ক্যাম্প নামেও একটি নতুন ক্যাম্প হয়েছে।

তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আপনি টেন্ট বুকিং করে যেতে পারেন। এছাড়াও কয়েকটি ক্যাম্পের ফেসবুক পেজ থেকে ও যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার প্রতিদিনের ব্যস্ততা কাটানোর জন্য উপযুক্ত অ্যাডভেঞ্চার পয়েন্ট এই আইল্যান্ড।

ওখানেই খাবারের সুব্যবস্থা রয়েছে। ওখানে গিয়ে প্রথমেই ওরা আপনাকে ওয়েলকাম ড্রিংকস দেবে।

সকালের জলখাবার লুচি ঘুগনি ডিম সেদ্ধ ও দুপুরের খাবারে আপনি পাবেন ভাত ডাল মাছের ঝোল আলুভাজা তারকারি মাংস, চিংড়ি মাছ চাটনী পাঁপড় পাবেন।

সন্ধ্যা বেলায় চা মুরি সঙ্গে পকোড়া চাইলে বোন ফায়ার করতে পারেন, বার্বিকিউ পাবেন। সন্ধ্যায় ক্যাম্প সেজে ওঠে ছোট ছোট আলোর রোশনাই দিয়ে। রাতে খাবারে রুটি মাংস। টেন্টে থাকা খাওয়া নিয়ে জন প্রতি ১০০০/১২০০ থেকে শুরু করে অনেক রেঞ্জের ক্যাম্প পাবেন।

 

৩.মৌসুনি আইল্যান্ডের সৌন্দর্য:

গঙ্গা সাগরের নিকটবর্তী মোহনা বদ্বীপ অঞ্চল এখানে জোয়ারে সেরকম ঢেউয়ের তীব্রতা নেই ফলে খুব আরাম করে সমুদ্র স্নান উপভোগ করতে পারেন আর উপরি পাওনা ভিড় জমজমাট ডিজে নেই। লাঞ্চ করে অথবা স্নান সেরে দোলনায় শরীর এলিয়ে দিতে পারেন।

Beautiful Beach of Mousuni Island West Bengal

একটু দূরেই রয়েছে ম্যানগ্রোভ মোহনা। সমুদ্রের ধার ধরে হেঁটে গেলেই দেখতে পাওয়া যায়। সবুজের ছোঁয়া রয়েছে এখানে সঙ্গে আপনি চাইলে নৌকা করে ঘুরেও দেখতে পারেন।এই দ্বীপ সমতল ফলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম।

নৌকা করে ঘুরতে গেলে পাতিবুনিয়া ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ঘুরে দেখাবে আপনাকে। মৌসুনি আইল্যান্ডে সকালে ১০টা ও বিকেল ৩টে নাগাদ টুরিস্ট লঞ্চ ছাড়ে যা আপনাকে গঙ্গাসাগর ও জম্মু দ্বীপের পাশ থেকে ঘুরিয়ে দেখাবে।

ঘুরে আসতে পারেন বকখালি ইকো ট্যুরিজম পার্কে:

এই দ্বীপ থেকে বকখালি যেতে ৩০ মিনিট কম বেশি লাগবে। ওখানে গিয়ে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের ইকো ট্যুরিজম পার্কে ভিজিট করতে পারেন। তারপর ওখান থেকে টোটো করে ফ্রেজার গঞ্জ।ইংরেজ গভর্নর ফ্রেজার সাহেবের নাম অনুসারে এই স্থানের নামকরণ।খুব শান্ত এবং নিরিবিলি জায়গা।

বকখালি থেকে ফ্রেজার গঞ্জ টোটো ৩০/- টাকা। কাছাকাছি রয়েছে বকখালি ওয়াচ টাওয়ার, লক্ষীপুর সমুদ্রতট, কুমির প্রকল্প, নামখানা বাজার,বেনফিশ হারবার, কার্গিল বীচ। পুরো জেলাটি গঙ্গা ডেল্টায় অবস্থিত।

ডেল্টার দক্ষিণ অংশে হেনরি দ্বীপ, সাগর দ্বীপ, ফ্রেডরিক দ্বীপ এবং ফ্রেজারগঞ্জ দ্বীপের মতো অসংখ্য চ্যানেল এবং দ্বীপ রয়েছে।

যদি চান তবে এতটুকু ভ্রমণ করেই ফিরে আসতে পারেন তবে হাতে যদি সময় থাকে অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন হেনরি আইল্যান্ড থেকে।মৌসুনি আইল্যান্ডের কাছেই রয়েছে হেনরি আইল্যান্ড।

হেনরি আইল্যান্ড এ গেলে বিভিন্ন রকম মাছের পদ চেখে দেখতে পারবেন।

বকখালি থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আইল্যান্ড ম্যানগ্রোভ সবুজে ঘেরাও একটি নিরিবিলি দ্বীপ। হেনরি আইল্যান্ড জুড়ে রয়েছে মৎস্য প্রকল্প। প্রচুর মাছ চাষের ভেড়ী দেখতে পাবেন।

রয়েছে লাল কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক এর সমাহার।দেখে আসতে পারেন ম্যানগ্রোভ রেসর্ট গার্ডেন।যদি মন করে তবে এইখানে ও আপনি থাকতে পারবেন তার সুযোগ সুবিধা রয়েছে। কয়েকটি রেসর্ট ও হোটেল রয়েছে যেখানে আপনি স্টে করতে পারেন চাইলে।

কোভিড বিধি মেনে স্যানিটাইজেশনেরও ব্যবস্থা রয়েছে। বকখালি অনেক পরিচিত বলে জমজমাট ভিড় বেশি সেই তুলনায় মৌসুনি আইল্যান্ড, হেনরি আইল্যান্ড এর মত জায়গা নির্জন তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কল্যাণে আর ক্যাম্প গঠন করায় এই নিরিবিলি উপকূলবর্তী এলাকা উন্নয়ন এর আওতায় এসেছে ফলে ধীরে ধীরে মানুষের ভিড় জমছে।

ভ্রমণ প্রিয় বাঙালিরা এই অ্যাডভেঞ্চার এর মজা মিস করবেন না। সঙ্গে ঝকঝকে পরিবেশে ফটো সেশন ও দারুণ জমবে।

চারিদিকে শান্ত হাওয়া, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, জলের তরঙ্গ খেলছে চারিদিকে আর ঝিরিঝিরি বালুরাশি আপনার মন করবে শহরের কোলাহল ছেড়ে এই নির্জন দ্বীপে কাটিয়ে দিতে।মাথাপিছু তিন হাজার টাকায় একদিনে ঘুরে আসতে পারেন হেনরি আইল্যান্ড।

1 thought on “মৌসুনি আইল্যান্ড ও অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ”

Leave a Comment