2022 অ্যালোভেরা জেলের ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন | 2022 Aloe Vera Gel Manufacturing Business Idea in Bengali

Aloe Vera Gel Manufacturing Business Idea 2022 (অ্যালোভেরা জেলের ব্যবসা 2022): How to Start Aloe Vera Gel Manufacturing Business in India | Aloe Vera Gel Manufacturing Business Idea in Bengali | Aloe Vera Gel Manufacturing Business Plan 2022 in Bengali.

Aloe Vera Gel Manufacturing Business in Bengali 2022: অ্যালোভেরা অথবা ঘৃতকুমারী, যাকে সবাই কমবেশি চেনেন। ত্বকের যত্নে, চুলের যত্নে এবং অ্যালোভেরার জুস পর্যন্ত খাওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে অ্যালোভেরার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। আর সেই কারণে অ্যালোভেরার চাষ ও তার সাথে এর ব্যবসা ভীষণ লাভ দায়ক বলে মনে করা হয়।

অ্যালোভেরার ব্যবসা দু ধরনের হতে পারে, প্রথমত অ্যালোভেরা চাষ করে, আবার দ্বিতীয়তঃ অ্যালোভেরা জুস অথবা পাউডার এর জন্য মেশিন বসিয়ে ও ব্যবসা করতে পারেন।

অ্যালোভেরা ব্যবহৃত হয় হারবাল, কসমেটিকস জিনিস উৎপাদন করতে এবং বিভিন্ন রকমের ওষুধ কোম্পানি ইত্যাদি অ্যালোভেরা ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া অ্যালোভেরা উৎপাদন করতে অনেকটাই কম খরচ হয়।

তার সাথে সাথে লাভটা হয় অনেক বেশি। সেই কারণে আপনার কাছে যদি কোন জায়গা অথবা জমি থেকে থাকে সেই জায়গাতে আপনি অনায়াসেই অ্যালোভেরা চাষ করে ব্যবসা করতে পারেন।

Aloe Vera Gel Manufacturing Business in Bengali
Aloe Vera Gel Manufacturing Business in Bengali

তার ফলে আপনার বেকারত্ব অনেকটাই কেটে যাবে এবং আপনি একটা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারবেন, এই ব্যবসার মধ্যে দিয়ে। কারণ প্রতিনিয়ত অ্যালোভেরার চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

সারা পৃথিবীতে অ্যালোভেরার চাহিদা প্রচুর, অ্যালোভেরায় রয়েছে ভিটামিন এবং খনিজ একেবারে ভরপুর মাত্রায়। তার সাথে অ্যালোভেরা তে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক আর এন্টিফাঙ্গাল যা কিনা শরীর,  ত্বক, চুল ও ওষুধ প্রস্তুতির এর ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগী।

অ্যালোভেরা চাষ এবং এর ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের প্রজাতির অ্যালোভেরা:

অ্যালোভেরার বিভিন্ন রকমের প্রজাতি হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় অ্যালোভেরা হলো- চেন্সিস, লিত্তলারলিস, অ্যালো অব্যসসিনিকা। ভারতে পাওয়া যায় উচ্চ উৎপাদন প্রজাতি, সেগুলি হল- আইইসি 111271, এএএল 1, আইইসি 111 269.

অ্যালোভেরা চাষ করা খুবই সহজ, ১ হেক্টর জমিতে ৪০ থেকে ৫০ টন পর্যন্ত অ্যালোভেরা চাষ করতে পারেন। এই চাষের জন্য বর্ষা এবং মাটির নমনীয়তা থাকা প্রয়োজন।

তাছাড়া শুকনো জমিতেও এর চাষ হতে পারে, আবার একটু উঁচু জমিতে অ্যালোভেরা চাষ খুব ভালোভাবে হয়, যেখানে জল দাঁড়াতে পারে না, কারণ অ্যালোভেরাতে অধিক পরিমাণে জল এর প্রয়োজন হয় না,

১ হেক্টর জমিতে এই অ্যালোভেরা চাষ করার জন্য প্রথমে জমি থেকে ভালো করে চোষে ফেলতে হবে, তারপর গোবর সার, ১৫০ কিলোগ্রাম ফসফরাস, ৩৩ কিলোগ্রাম পটাশ, আর ১২০ কিলো গ্রাম ইউরিয়া, পুরো জমিতে ছড়িয়ে দিতে হবে আবার ওই জমি ভালো করে চোষে ফেলতে হবে, ওই সার দেওয়ার পর। এরপর অ্যালোভেরা রোপন করার জন্য জমিটাকে ভালো ভাবে তৈরি করতে হবে।

এলোভেরা চাষের জন্য জায়গার প্রয়োজনীয়তা:

যখন  তৈরি হওয়া জমিতে অ্যালোভেরা রোপন করবেন সে ক্ষেত্রে একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের মাঝখানে দূরত্ব ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত রাখাটা জরুরি আর সবচেয়ে বড় বিষয় অ্যালোভেরা গাছ লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময় February-March আর June-July মাসের মধ্যে। তাছাড়া এর চাষ আপনি সারা বছরও করতে পারেন। এক হেক্টর জমিতে প্রায় ১০ হাজার পর্যন্ত আপনি অ্যালোভেরা গাছ রোপণ করতে পারবেন।

গাছ রোপন করার পর হালকা জল সেচ দিতে পারেন আপনি জমিতে অ্যালোভেরা গাছ অথবা চারা রোপন করার পর। এর থেকে আপনি তিন বছর পর্যন্ত ফসল কাটতে পারবেন, অথবা অ্যালোভেরার ডাল কাটতে পারবেন।

আপনি গাছ লাগানোর পর আট থেকে দশ মাস এর ভিতর অ্যালোভেরা কাটার জন্য তৈরি হয়ে যায়। প্রথম বছর উৎপাদন প্রায় ৫০ টন, আবার দ্বিতীয় বছর এর উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়ে যেতে পারে। তাহলে ভাবুন একবার, রোপন করার পর আপনার অ্যালোভেরা প্রথম বছরের থেকে দ্বিতীয় বছর আরো বেশি উৎপাদন দেবে আপনাকে।

অ্যালোভেরা ব্যবসা করতে গেলে আপনার যা যা প্রয়োজন পড়তে পারে:

অ্যালোভেরার ব্যবসা করতে গেলে বিভিন্ন রকমের সামগ্রী এবং খরচা সম্পর্কে জানা যাক-

১) ২৭৫০০ টাকা পর্যন্ত আপনাকে এলোভেরার চারা কিনতে লাগতে পারে, যদি বড় ধরনের এবং বড় জায়গাতে চাষ করতে চান।

২) গোবর সার, কেমিক্যাল এবং গাছের সেচ দেওয়ার ক্ষেত্রে রোপণের পর, সেখানে খরচ হতে পারে ৮৭৫০ টাকা।

৩) উৎপাদনের পর ব্যবসায় ক্ষেত্রে প্যাকিং এবং পরিশ্রম অথবা মজুরের ক্ষেত্রে ১৪৫০০ টাকা খরচ হতে পারে।

অ্যালোভেরা চাষ ও ব্যবসায় লাভ:

অ্যালোভেরা চাষ করে অথবা ব্যবসা করে আপনি প্রায় ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত যদি ইনভেস্ট করেন সেক্ষেত্রে বছরে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আপনি লাভ পেতে পারেন।

অ্যালোভেরা জেল অথবা জুস এর ব্যবসা:

অ্যালোভেরা কেটে নেওয়ার পর তার ভিতরে যে জেল  থাকে তা সেটা মেশিন অথবা মিক্সচারে ভালো করে গ্রেড করে নিয়ে চাইলে তার সাথে আপনি জল মেশাতে পারেন এইভাবে আপনার অ্যালোভেরার জুস করেও বিক্রি করতে পারেন।

হয়তো একটু কষ্ট হবে আপনার, সেক্ষেত্রে আপনার লাভটাও কিন্তু অনেকটাই বেশি পাবেন। অ্যালোভেরা একেকটি গাছের পাতা থেকে প্রায় ৪০০ মিলি লিটার পর্যন্ত জেল আপনি পেতে পারেন।

যদি আপনি আপনার নিজের চাষ করা অ্যালোভেরা জুস অথবা জেল এর ব্যবসা করতে পারেন, তাহলে আপনার আমদানিটা হবে অনেক বেশি।

তাছাড়া আপনি এমন জায়গায় এই ব্যবসা শুরু করুন যেখান থেকে আপনি অ্যালোভেরা জুসের বিক্রি ভালোভাবে করতে পারবেন।

এই ব্যবসা করতে গেলে জায়গার প্রয়োজনীয়তা:

এই ব্যবসা সেখানে খুব ভালোভাবে চলবে, যেখানে বিদ্যুতের কানেকশন খুব সহজেই পাওয়া যায়। এই জায়গার সাথে সাথে ব্যবসার জন্য জুস অথবা জেল বানানো মেশিন লাগাতে পারেন আপনি।

সম্পূর্ণভাবে এই ব্যবসা একবার যদি সাজিয়ে নিতে পারেন এবং সাজাতে গেলে সে ক্ষেত্রে ১০০০ বর্গফুট এর একটি জায়গা অথবা ঘরের প্রয়োজনীয়তা পড়তে পারে আপনার।

অ্যালোভেরা জেল অথবা জুস তৈরি করার জন্য মেশিন:

এই মেশিন আপনি অনলাইনেও কিনতে পারেন, একটা হল অটোমেটিক আর একটা ম্যানুয়াল। যেকোনো মেশিন আপনার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী অনলাইনে https://www.indiamart.com এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি কিনতে পারেন।

এই ব্যবসায় লাইসেন্স এবং আইনি কাগজপত্র:

এই ব্যবসার জন্য আপনি যদি লাইসেন্স পেতে চান, সে ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসার জায়গার উপর নির্ভর করবে, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন এবং লাইসেন্স রাজ্য সরকার দ্বারা প্রাপ্ত হতে পারে।

সেক্ষেত্রে আপনি যদি কসমেটিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টরি তৈরি করেন অ্যালোভেরা জেলের, তো আপনার এই ব্যবসার জন্য বিশেষ লাইসেন্স থাকতে হবে।

১) সবার প্রথমে আপনি কি ধরনের ব্যবসা করছেন সেই বিষয়ের উপরে রেজিস্ট্রেশন করুন।

২) এম এস এম ই উদ্যোগ আধার রেজিস্ট্রেশন এর জন্য অনলাইনে আবেদন করুন।

৩) আপনার কোম্পানিতে অথবা ফ্যাক্টরি থেকে দূষণ প্রক্রিয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ের দিকটা খেয়াল রেখে প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এন ও সি এর জন্য আবেদন করুন।

৪) এছাড়াও আপনার কাছে প্যান কার্ড, বর্তমান ব্যাংক একাউন্ট, স্থায়ী ঠিকানা পত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

অ্যালোভেরা জেল তৈরি ব্যবসায় খরচ অথবা ইনভেস্টমেন্ট:

অ্যালোভেরা জুস অথবা জেল এর ব্যবসায় সরকার থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে, সেইসাথে এই ঋণ তিন বছর পর্যন্ত আপনি শোধ করতে পারবেন।

এছাড়াও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন সরকারের তরফ থেকে। তাছাড়া আপনার কোম্পানি কত বড় আকারে আপনি তৈরি করছেন সেই দিকটার উপরেও খেয়াল রেখে আপনার ইনভেস্টমেন্ট এর পরিমাণ কম অথবা বেশি হতে পারে।

অ্যালোভেরা জেল ব্যবসায় ইনকাম ও লাভ:

অ্যালোভেরা জেল তৈরির জন্য প্রসেসিং ইউনিট লাগাতে হবে আপনাকে। সে ক্ষেত্রে বড় আকারে ধরলে ৬ থেকে ৭ লাখ পর্যন্ত আপনার খরচ হতে পারে। মেশিনের মাধ্যমে আপনি ১৫০ লিটার পর্যন্ত জুস তৈরি করতে পারবেন। অথবা জেল তৈরি করতে পারবেন। ১ লিটার জুস বানাতে ৪০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়তে পারে আপনার।

তাছাড়া এই জুস অথবা জেলকে বাজারে বিক্রি করতে পারেন ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম দিয়ে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ৬ থেকে ৭ লাখ পর্যন্ত খরচ করে এই অ্যালোভেরা জেলের ব্যবসায় সব খরচ বাদ দিয়ে আপনি জেল বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন অথবা রোজগার করতে পারবেন প্রতিবছর।

দিনদিন অ্যালোভেরার প্রয়োজনীয়তা মানুষের মধ্যে ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রকমের কসমেটিকস, রূপচর্চা, চুলের যত্ন, এমনকি জুস হিসেবে খাওয়ার জন্য অ্যালোভেরা প্রচুর পরিমাণে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সেক্ষেত্রে ছোট আকারের থেকেও আপনি অ্যালোভেরার চাষ থেকে জেলের ব্যবসা করতে পারেন ধাপে ধাপে।

প্রথমে ছোট থেকে শুরু করে তারপরে বড় আকারে নিয়ে গেলে এই ব্যবসা অনেকটাই লাভ দায়ক হবে আপনার জন্য। আর ভবিষ্যতে এর প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব আরো বেশি বাড়তে থাকবে, সে ক্ষেত্রে এই ব্যবসা দিন দিন আরও উন্নতির শিখরে যাবে।

Leave a Comment