2022 রান্নায় মশলার ব্যবসা করে উপার্জন করবেন কিভাবে? | 2022 Cooking Masala Business Idea in Bengali

Cooking Masala Business Idea 2022 or Cooking Spice Business Idea 2022 (রান্নায় মশলার ব্যবসা 2022): How to Start Cooking Masala or Spice Business in India | Cooking Masala Business Idea in Bengali | Masala Business Plan in Bengali.

রান্নার মশলা যা কিনা প্রতিটি ঘরে প্রতিদিনই ব্যবহার করা হয়। যেকোনো সুস্বাদু খাবার বানানোর জন্য সঠিক মাত্রায় সঠিক মশলার প্রয়োজন হয়। দেশের প্রতিটি ঘরে বিভিন্ন রকমের মশলা পাওয়া যায়।

কেননা এই সমস্ত মশলা ছাড়া রান্না একেবারেই অসম্পূর্ণ। এই সমস্ত মশলা গুলিকে সব সময় বাড়িতে তৈরি করা যায় না। এগুলি বিভিন্ন রকমের ব্যবসার মাধ্যমে এবং মেশিনের মধ্যে দিয়ে তৈরি করে প্যাকেট করা হয়।

Cooking Masala or Spice Business Idea in Bengali
Cooking Masala or Spice Business Idea in Bengali

আর আপনি চাইলে এই ব্যবসাটি অনায়াসেই শুরু করে অধিক পরিমাণে উপার্জন করতে পারেন। আপনিও কিন্তু হোম মেড মশলার ব্যবসা (Homemade Cooking Masala Business) করে সেগুলি মার্কেটে বিক্রি করে ভালোমতো একটা ইনকাম করতে পারেন। চলুন তাহলে জানা যাক এই ব্যবসা সম্পর্কে। কিভাবে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

মশলা বানানোর জন্য ম্যাটেরিয়ালস অথবা কাঁচামাল:

এই ব্যবসার জন্য র ম্যাটেরিয়ালস অথবা কাঁচামাল হিসেবে সেই সমস্ত মশলা গুলি দরকার যেগুলি আপনি পাউডার করবেন। যেমন ধরুন হলদি, শুকনো লঙ্কা, গোল মরিচ, জিরা, ধনিয়া এবং আরো অন্যান্য রকমের গোটা মসলা।

মশলা বানানোর জন্য কাঁচামালের দাম:

শুকনো হলুদ : ১৪০-১৬০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম

গোলমরিচ : ৪৫০-৬০০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম

শুকনো লঙ্কা : ১২০-১৫০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম

জিরে : ১৮০-২৫০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম

ধনে : ১৪০-১৮০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম

(জায়গা অনুসারে দামে পরিবর্তন হতে পারে, আগে নিজের এলাকার হোলসেল মার্কেট থেকে দাম জেনে নেবেন।)

রান্নার মশলা তৈরি করার জন্য বিভিন্ন রকমের মেশিন:

এই উদ্যোগ এর জন্য বিশেষ রকমের মেশিনের প্রয়োজন হবে আপনার। যার সাহায্যে খুব সহজেই আপনি মশলার কোয়ালিটি মেইনটেইন করতে পারবেন। কাস্টমারদের পছন্দ হবে এই সমস্ত মসলা গুলি।

#১) ক্লিনার মেশিন: এই মেশিনের সাহায্যে মশলা তৈরি করার র ম্যাটেরিয়ালস থেকে কাঁকর, পাথর পরিষ্কার করে নেওয়া হয়।

#২) ড্রায়ার মেশিন:  ড্রায়ার মেশিনের সাহায্যে মশলা গুলিকে শুকানো যায় খুব সহজে।

#৩) গ্রাইন্ডিং মেশিন: এই মেশিনের সাহায্য নিয়ে খুবই কম সময়ে এবং কম পরিশ্রম করে মশলা গুলিকে পেশাই করতে পারবেন।

#৪) পাওয়ার গ্রেডার: এই মেশিনের সাহায্য নিয়ে একেবারে মিহি পাউডার কে নিচে এবং মোটা দানা যেগুলো রয়ে যায় সেগুলি উপরে করার কাজ করতে পারবেন।

#৫) ব্যাগ সিলিং মেশিন: মশলাগুলো যখন প্যাক করবেন তখন এই মেশিনের প্রয়োজন হবে আপনার। এই মেশিনের সাহায্য নিয়ে প্যাকেটে মশলা ভরে সেগুলিকে একেবারে প্যাক করে দেয়া হয়।

মসলা বানানোর মেশিনের দাম:

শুধুমাত্র একটি মেশিনের দাম নয় সম্পূর্ণ মেশিনের সেট আপ করতে গেলে আপনার প্রায় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

কোথায় থেকে কিনবেন: মার্কেটেও এমন মেশিন সেট পেয়ে যেতে পারেন। আবার হোলসেল অনলাইন এর মাধ্যমে মশলা তৈরি করার এই মেশিনগুলো অর্ডার করতে পারেন, নিচে দেওয়া এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

Masala or Spice Making Machine Click here

ঘর থেকে হাতে রান্নার মশলা তৈরি করার প্রক্রিয়া:

বর্তমানে যে সমস্ত মসলা গুলি রান্নাতে ব্যবহার করা হয় পাউডার হিসেবে সেগুলি মেশিন দিয়ে তৈরি করা হয়। মেশিন দিয়ে বানানোর পরিবর্তে আপনি হাতে এই মশাগুলো তৈরি করতে পারেন। তাহলে ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেকটাই উন্নতি করতে পারবেন।

কেননা বর্তমানে হাতে তৈরি করা মশলার চাহিদা প্রচুর পরিমাণে বাড়ছে। এর সবচেয়ে বড় লাভ হলো হাত দিয়ে তৈরি করা মশলা গুলি দিয়ে রান্না করা খাবার অথবা তরকারি ভীষণ স্বাদের হয়ে থাকে। আর তার সাথে সাথে হাতে তৈরি মশলার পুষ্টিগুণ বজায় থাকে ভরপুর মাত্রায়।

#১) সবার প্রথমে আপনাকে ঐ সমস্ত মশলা গুলি হোলসেল দামে কিনে আনতে হবে। যার ব্যবহার আপনি আপনার ব্যবসাতে করতে চলেছেন।

#২) এই সমস্ত মশলা গুলি কে ভালো করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

#৩) এরপর জাতা অথবা মিক্সার মেশিনের সাহায্যে এগুলিকে পাউডার আকারে পেশায় করতে হবে।

মসলা ব্যবসা করার জন্য ইনভেস্টমেন্ট:

হাতে বানানো মসলার ব্যবসা (Handmade Cooking Masala Business) শুরু করতে গেলে অধিক পরিমাণে পুঁজির প্রয়োজন পড়ে না। সব থেকে ভালো বিষয় হলো, মেশিন কেনার জন্য আপনার টাকা খরচ করতে হচ্ছে না। মেশিন না কেনার জন্য আপনার একটা ভালো এমাউন্টের টাকা বেঁচে যাবে।

এই ব্যবসাটি আরম্ভ করার জন্য শুধুমাত্র র ম্যাটেরিয়ালস অথবা কাঁচামালের উপরে বেশি পরিমাণে খরচ করতে হবে আপনাকে। এছাড়াও মশলা প্যাকেজিং এর এবং ব্যবসার রেজিস্ট্রেশনের জন্য খরচ করতে হবে।

এমন ভাবে এই ব্যবসাটি কে আগে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তবে এটা নির্ভর করবে আপনার উপর যে আপনি কত টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন। সাধারণত এই ব্যবসাটি ঘর থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে শুরু করতে পারেন।

রান্নার মসলা তৈরির ব্যবসা থেকে লাভ:

রান্নার মসলা আপনি প্রতি প্যাকেট ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন। যেখানে প্রতি প্যাকেট থেকে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন। যদি পাইকারি দরে বিক্রি করেন তাহলেও ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা আপনি প্রতি মাসে ইনকাম করতে পারবেন।

তাছাড়া এই ব্যবসা থেকে আপনি কতটা লাভ করতে পারবেন আপনার মসলার কোয়ালিটির উপরেই নির্ভর করবে। যদি মানুষের এই মসলা গুলি ভীষণ পছন্দ হয় তাহলে নিজের একটি ব্র্যান্ড বানিয়ে এই ব্যবসাটিকে ভালোভাবে চালিয়ে নিয়ে লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন প্রতিমাসে।

এই ব্যবসার জন্য জায়গার প্রয়োজনীয়তা:

যেহেতু এই ব্যবসা ঘর থেকেও শুরু করা যেতে পারে। তবুও আপনার কাছে যদি ভালো জায়গা থেকে থাকে মসলা গুলোকে শুকানোর জন্য, পেশাই করার জন্য, প্যাকেজিং এর জন্য, একটি জায়গা তো প্রয়োজন। সমস্ত প্রক্রিয়া করার জন্য কম করে ১২০ থেকে ১৫০ বর্গমিটার জায়গার প্রয়োজন হবে।

মসলা প্যাকেজিং:

মশলা গুলি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর সেগুলিকে ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে সাথে সাথে যেন প্যাকেট করে নেওয়া হয়। আপনি চাইলে আপনার বানানো মশলার জন্য প্যাকেট অথবা কৌটো ব্যবহার করতে পারে, এবং এই মশলার প্যাকেট এর উপরে নিজস্ব ব্র্যান্ড এর স্টিকার লাগিয়ে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।

প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক প্যাকেট বাজার থেকে পেয়ে যাবেন তার সাথে সাথে প্লাস্টিকের কৌটা অনায়াসেই পাবেন।

রান্নার মসলার ব্যবসার মার্কেটিং:

এই ব্যবসার মার্কেটিং বিভিন্ন রকম ভাবে করা যেতে পারে। আপনি চাইলে হোলসেলার অথবা খুচরা বিক্রেতা কে নিজের তৈরি মসলা দিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। বাজারের মুদিখানার দোকানে কথা বলে সেখানেও নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন।

সেখানে হোলসেল দামে খুব সহজেই বিক্রি করতে পারবেন। আপনি যদি মশলার ছোট ছোট প্যাকেট বানিয়ে থাকেন তাহলে খুব সহজেই বিভিন্ন মুদিখানা দোকানে বিক্রি করতে পারবেন।

এই ব্যবসার জন্য রেজিস্ট্রেশন এর প্রয়োজনীয়তা:

রান্নার মশলা যদিও একটি খাদ্যবস্তু। সেই কারণে এই ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন অবশ্যই করাতে হবে। আপনাকে সবার প্রথমে ফর্ম উদ্যোগ আধার অথবা এম এস এম ই এর অন্তর্গত করাতে হবে ব্যবসাটিকে।

এরপর সরকারের খাদ্য বিভাগ থেকে এফ এস এস এ আই (FSSAI) লাইসেন্স করাতে হবে। এই লাইসেন্স গুলি করে নেওয়ার পর আপনার তৈরি মসলা গুলির শুদ্ধতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উঠবে না।

যদি এই ব্যবসাটি একটু বড় আকারে করতে চান তাহলে ব্যবসাটিকে পার্টনারশিপ এর অন্তর্গত করতে হবে। তার সাথে সাথে ট্রেড মার্ক এর আই এস আই লাইসেন্স নিতে হবে। আপনার ফর্ম এর নামের উপর কোন ব্যাংক এর একটি কারেন্ট একাউন্ট বানিয়ে নিতে হবে। তার সাথে সাথে ব্যবসা সম্পর্কিত প্যান কার্ডও।

এই ব্যবসার ক্ষেত্রে ঝুঁকি:

ঘরে তৈরি মশলার ব্যবসা তে একটু ঝুঁকি থাকে। কারণ মশলা এক সময় এর পর খারাপ হতে শুরু করে। যদি খুব তাড়াতাড়ি বিক্রি হয়ে না যায় তাহলে এই ঝুঁকিটা আপনাকে পোহাতে হবে। এইজন্য মশাগুলো কে যখন স্টক করে রাখবেন তখন এই বিষয়ের উপরে বিশেষ খেয়াল রাখবেন।

এছাড়া আর কোনো ঝুঁকি নেই বললেই চলে। আর খুব সহজভাবেই আপনি এই ব্যবসাটি শুরু করে তা থেকে অধিক পরিমাণে উপার্জন করতে পারেন।

এই ব্যবসাটির জনপ্রিয়তা কোনদিনও কমবে না। চাহিদা দিন দিন বাড়বে কারণ প্রতিদিন সুস্বাদু খাবার বানানোর জন্য বিভিন্ন রকমের মসলা ব্যবহার করতেই হয়। তাই দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় এবং নিত্যদিনের দরকারি জিনিসপত্র বলতে পারেন।

Leave a Comment