হজম শক্তি বাড়ানোর সেরা ৫ টি উপায়

শরীরের সমস্ত ক্রিয়া নির্ভর করে হজমশক্তির উপর। কারণ খাবার ঠিকমত হজম হচ্ছে কিনা, তার উপর শরীরের পুষ্টি, টক্সিনের পরিমাণ, ওজন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা, ইউরিক এসিডের পরিমাণের মাত্রা নির্ভর করে। সকলের হজম শক্তি সমান নয়।

একেক জনের হজম শক্তি একেক রকম। খাবারভেদে হজমশক্তির তারতম্য হতে পারে। তবে হজমশক্তি যদি দূর্বল হয়, তাহলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের অসুখ দেখা দিতে পারে। হজমশক্তি দূর্বল হলে তা সুস্থ শরীরের লক্ষণ প্রকাশ করেনা।

বিষয়টি এমন নয় যে, খুব দ্রুত হজম সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ প্রকাশ করে। কিন্তু কোন কিছুই যদি সহজে হজম না হয় তাহলে তা পুরো শরীরের কার্যক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সুপ্রিয় পাঠক,  এই সমস্যা এড়াতে আজ আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে হজমশক্তি বাড়ানোর ৫ টি কার্যকর উপায়।হজমশক্তি ভাল হলে শরীর সুস্থ থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশী থাকে।

আশা করি পোস্টটি পড়ার পর হজমশক্তি বাড়ানোর বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন। চলুন জেনে নেয়া যাক, হজমশক্তি বাড়ানোর ৫ টি কার্যকর উপায় সম্পর্কে।

হজমশক্তি বাড়ানোর ৫ টি কার্যকর উপায়

১. শারীরিক পরিশ্রম

গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব মানুষ শারীরিক পরিশ্রম করেন তাদের হজমশক্তি অন্যান্যদের তুলনায় বেশী ভাল। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অনুশীলন ও রয়েছে যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

আপনি যদি নিজের কাজ নিজে করেন, বা প্রতিদিন নিয়ম করে জিম করেন, বা দৌড়ান, হাটার অভ্যাস থাকে, তাহলে আপনার হজমশক্তি ভাল হবে। ওয়েট লিফটিং, পুশআপ, সিড়ি দিয়ে ওঠানামা, ইত্যাদি অনুশীলনের মাধ্যমে আপনার হজমশক্তি ভাল হবে।

খেয়েই ঘুমাতে যাবেন না। কিছুটা হাটাহাটি করুন। এটা খাবার দ্রুত হজমে সাহায্য করবে।

২. খাবারের তালিকা করুন

সকলের হজমশক্তি যেমন সমান নয়, তেমনি সকল খাবার সবাই একই সময়ে হজম করতে পারেন না। কারো মাংস হজমে বেশী সময় লাগে, কারো দুগ্ধজাতীয় খাবার হজমে বেশী সময় লাগে। তাই কোন কোন খাবার খাওয়ার পর হজমে সমস্যা হচ্ছে তা খেয়াল করুন। আর সেই সেই খাবারগুলো পরিমাণে কম করে গ্রহণ করুন। আস্তে আস্তে খাবারের পরিমাণ বাড়ান।  

এতে হজমের সমস্যা দূর হবে। যেহেতু ওইসব খাবার হজম করতে আপনার সময় লাগছে সেহেতু সেগুলো পরিমাণে অল্প খেলে হজম শক্তি ধীরে ধীরে বেড়ে যাবে।

৩. হজমে সহায়ক খাবার গ্রহণ করুন

প্রতি বেলার খাদ্যগ্রহনের পর এমন কিছু খাবার খান, যেগুলো খাবার হজমে সাহায্য করে। যেমন হজমী, লেবু পানি, সফট ড্রিংক, বোরহানী ইত্যাদি। মাংস বা বিরিয়ানি খাবার পর অবশ্যই লেবু পানি খান। বা স্লাইস করা লেবু রাখুন খাবারে।

এছাড়া দই, মিষ্টি, ফলের সালাদ ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস করুন, এগুলো যেকোন খাবার হজম করতে সহায়তা করবে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম

ঘুমের সমস্যার কারণে শরীরে নানান সমস্যা দেখা দেয়। ঘুম কম হলে শরীর দুর্বল থাকে, আর শরীরের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কম কাজ করে। ফলে হজম ক্রিয়ারও সমস্যা দেখা দেয়।

এছাড়া ঘুমের সময় শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ হয়না, এ সময় শরীরের সব অঙ্গ কাজ করেনা বিধায় কেবল খাবার হজমের কাজটা ভালভাবে হয়। কিন্ত রাত জাগার ফলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই প্রতিদিন খাওয়ার পর একটু হাটাহাটি করে ঘুমাতে যান এবং কমপক্ষে ৬ ঘন্টা টানা ঘুমান।  ঘুমের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮ ঘন্টা হতে পারে, তবে এর বেশী ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

৫. সঠিক সময়ে খাদ্যগ্রহন

যারা খাবারে অনিয়ম করেন, একেকদিন একেক সময়ে খাবার খান, তাদের এসিডিটির পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে খাবার হজম হতে চায়না।

এভাবে চলতে থাকলে এসিডিটির জন্য হজমশক্তি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এর ফলে মাথাব্যথা, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি, দূর্বলতা, ওজন বৃদ্ধি, ইউরিন ইনফেকশন ইত্যাদি অনেক সমস্যা দেখা দেয়।

তাই সঠিক সময়ে খাদ্যগ্রহন করুন। তাহলে এসিডিটি থেকে মুক্তি পাবেন। আর এসিডিটি না থাকলে হজমশক্তিও ভাল থাকবে।

উপসংহার

শরীর সুস্থ রাখতে হজমশক্তি ভাল হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এতে করে শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ, টক্সিনের পরিমাণ,ওজন ও কর্মক্ষমতা সবকিছুই ঠিক থাকবে। শরীরে খাদ্য প্রবেশের পর হজমের উপরই নির্ভর করে কতটুকু পুষ্টি শরীর গ্রহণ করতে পারবে।

নির্দিষ্ট সময় পর হজম হলে খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। আশা করি হজমশক্তি বাড়াতে পোস্টটি আপনাদের উপকারে আসবে।

এ বিষয়ে কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট করতে পারেন। আমরা অবশ্যই তথ্য জানিয়ে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment