মাল্টা লেবু চাষের সহজ পদ্ধতি – Malta Orange Cultivation Method in Bangla

মাল্টা লেবু সাইট্রাস জাতীয় একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি রয়েছে। মাল্টা লেবু অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল।

প্রায় সব স্থানে এর চাষাবাদ করা যায় বলে কমলার চেয়ে এর চাহিদা বেশি।

Malta Orange Cultivation Method in Bangla
Malta Orange Cultivation Method in Bangla

আজ আমরা আপনাদের সাথে মাল্টা লেবু চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। এতে করে আপনারা সহজেই মাল্টা লেবু চাষের বিস্তারিত জানতে পারবেন।

 

চলুন দেখে নিন মাল্টা লেবু চাষের বিস্তারিতঃ

জলবায়ু ও মাটিঃ

মাল্টা লেবু চাষের জন্য উষ্ণ জলবায়ু বিশেষ উপযোগী। বৃষ্টিপাতের পরিমান যখন কম থাকে তখন মাল্টা লেবু চাষ ভালো হয়।

বেশি বৃষ্টির ফলে মাল্টা লেবুর ফলের গুনগত মান কমে যায়। এর ফলে মাল্টা লেবুর খোসা পাতলা হয় এবং ফল নিম্ন মানের হয়ে থাকে।

আবহাওয়া শুষ্ক হলে ফলের গুনগত মান ভালো হয়। আলো বাতাস পূর্ণ স্থান মাল্টা লেবু চাষে বিশেষ উপযোগী।

প্রায় সব ধরনের মাটিতেই মাল্টা লেবু চাষ করা যায়। তবে জমি সুনিষ্কাশিত হতে হবে এবং মাটি উর্বর হতে হবে। মাল্টা লেবু চাষে মাটি কিছুটা ক্ষারীয় হতে হয়।

 

বংশবিস্তারঃ

মাল্টা লেবু গাছ সাধারনত বীজ ও কলমের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে থাকে। তবে কলম থেকে তৈরি করা চারার গুনগত মান ভালো হয়।

বীজ থেকে চারা তৈরি করলে অনেক সময় আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না।

গাছ বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। কলম থেকে তৈরি করা চারায় মাতৃগাছের গুনাগুন বজায় থাকে।

গাছ বড় হয় দ্রুত ও ফল ও ভালো হয়। রোগ প্রতিরোধী কলম তৈরি করা হয় বলে এই চারার জীবন কাল ও বেশি হয়।

 

জমি নির্বাচন ও তৈরিঃ

মাল্টা লেবু সাধারনত রোদের আলো পছন্দ করে তাই জমিতে রোদ থাকে এমন জমি বাছাই করতে হবে।

জমি উঁচু বা মাঝারি উঁচু হতে হবে এবং জমিতে যেন জল জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

রোপন পদ্ধতিঃ

চারা বা কলম রোপন করার সময় জমিতে ষড়ভূজ বা বর্গাকার পদ্ধতিতে রোপন করতে হবে।

 

সময়ঃ

বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাল্টা লেবুর চারা রোপন করার উপযুক্ত সময়।

তবে জমিতে জল নিকাশের সুব্যবস্থা থাকলে সারা বছর ই চারা রোপন করা যায়।

 

মাদা তৈরিঃ

চারা রোপন করার ১৫-২০ দিন পর চারা বা কলম গর্তে রোপন করতে হবে। রোপন করার সময় খেয়াল রাখতে হবে চারা যেন গর্তের মাঝখানে থাকে।

চারা রোপন করার পর খুটি দিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে।

 

সার ব্যবস্থাপনাঃ

উন্নত ফলন পেতে হলে জমিতে নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হবে। চারার বৃদ্ধি যেন ঠিকমত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে তাই ঠিকমত সার প্রয়োগ করতে হবে।

১-২ বছর বয়সী গাছে ১০-১২ কেজি গোবর সার, ইউরিয়া ২০০-৩০০ গ্রাম, টিএসপি ১০০-১৫০ গ্রাম,এমওপি ১০০-১৫০ গ্রাম দিতে হবে।

৩-৪ বছর বয়সী গাছে ১২-১৫ কেজি সার, ইউরিয়া ৩০০-৪৫০ গ্রাম, টিএসপি ১৫০-২০০ গ্রাম, এমওপি ১৫০-২০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে।

গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সারের পরিমান বাড়বে। সার মোট তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।

বর্ষার শুরুতে দুই বার এবং বর্ষার পরে এক বার সার প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগ করার পর জমিতে সেচ দিতে হবে।

Malta Orange Cultivation
Malta Orange Cultivation

সেচ প্রয়োগঃ

ভালো ফলনের জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে হবে। শুকনা মৌসুমে নিয়মিত সেচ দিতে হবে।

বর্ষা মৌসুমে গাছের গোড়ায় যেন জল জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জমিতে জল জমে থাকলে তা দ্রুত বের করার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রয়োজনে নালা তৈরি করে দিতে হবে যেন অতিরিক্ত জল বের হয়ে যায়।

 

আগাছা দমনঃ

জমিতে নিয়মিত নিড়ানি দিতে হবে। জমি যেন আগাছা মুক্ত থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সাধারনত বর্ষাকালের পর জমিতে মালচিং করে দিলে জমির আগাছা দমন হয় এবং মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ও বজায় থাকে।

 

ডাল ছাটাইঃ

মাল্টা লেবু চাষে জমিতে অবশ্যই ডাল ছাটাই করতে হবে। চারা লাগানোর পর থেকে ফল ধরার আগ পর্যন্ত গাছের ডাল ছাটাই করে দিতে হবে।

এতে গাছের আকৃতি ঠিক থাকে। গাছ যাতে বেশি উঁচু না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

গাছ লম্বা হওয়ার চেয়ে ঝোপালো হলে বেশি ভালো। তাহলে গাছে ফল বেশি পাওয়া যাবে। মরা, শুকনা ডাল ছাটাই করে দিতে হবে।

রোগ ও পোকা দমন ব্যবস্থাপনাঃ

মাল্টা লেবু গাছে আগা মরা রোগ দেখা যায়। এ রোগে গাছের ডাল আগা থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে নিচের দিকে মরা শুরু হয়।

এর জন্য আক্রান্ত ডাল পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

এছাড়া মাল্টা লেবু গাছে সাইলিড পোকা, পাতা সুড়ঙ্গকারি পোকা, মাকড় ইত্যাদি পোকা আক্রমন করে থাকে।

গাছে রোগ ও পোকা আক্রমন করলে প্রয়োজনীয় বালাইনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।

 

ফসল সংগ্রহঃ

ফল পরিপক্ক হলে তা সংগ্রহ করতে হবে। ফলের রঙ যখন গাঢ় সবুজ বর্ণ থেকে হালকা সবুজ বর্ণ ধারন করবে তখন বুঝতে হবে ফল সংগ্রহ করার সময় হয়েছে।

ফল সংগ্রহ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে ফল যেন আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।

 

ফলনঃ

সঠিক উপায়ে চাষ করতে পারলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ৩০০-৪০০ টি ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন হয় প্রায় ২০ টন।

Leave a Comment