Lakshmi Puja 2023: চঞ্চলা লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করুন লক্ষ্মী পূজায় এই ভোগ নিবেদন করে

বাঙালীদের আরো একটি জনপ্রিয় এবং প্রাণের পুজো হল কোজাগরি লক্ষ্মী পূজা, যা প্রায় বাড়িতেই সম্পন্ন করা হয়। আর এই পূজাতে আরো অন্যান্য নিয়ম পালন করার পাশাপাশি নৈবেদ্য অর্পণ যেমন করা হয়, তেমনি ভোগ অর্পণ করতেও বিশেষ নিয়ম পালন করতে হয়।

বাংলার বড় উৎসব এই বাংলাতে যেমন ভোগের মধ্যে অন্ন ভোগের আয়োজনের রীতি রয়েছে, ঠিক তেমনি পূর্ববঙ্গে রয়েছে ইলিশ মাছ দিয়ে ভোগ নিবেদন করার রীতি প্রচলিত, অর্থাৎ বলা যেতে পারে যে লক্ষ্মীপূজার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ভোগ নিবেদন করা যেতে পারে সেটা আঞ্চলিক এবং জায়গা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

চঞ্চলা লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করুন লক্ষ্মী পূজায় এই ভোগ নিবেদন করে
চঞ্চলা লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করুন লক্ষ্মী পূজায় এই ভোগ নিবেদন করে

কোথাও বা আমিষ, কোথাও বা নিরামিষ বিভিন্ন ধরনের ভোগের মধ্যে দিয়ে দেবী লক্ষীকে সন্তুষ্ট করতে ভোলেন না সকল ভক্তগণ। শারদ পূর্ণিমার কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা বাংলার একটি বড় উৎসব বলা যেতে পারে। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ্মী পূজার বিভিন্ন ভোগের বিভিন্ন রকমের রীতি প্রচলিত রয়েছে।

শুভ কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা শুভেচ্ছা বার্তা ও স্ট্যাটাস

প্রাচীন শাস্ত্র এবং পুরান ঘেঁটে জানা যায় যে, আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ্মী পূজার সনাতন ধর্ম ভারতবর্ষের একটি বহু প্রাচীন উৎসব। আশ্বিন মাসের শারদ পূর্ণিমার কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা বাড়ির অর্থ সম্পদ বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, জায়গা ভেদে দেবী লক্ষ্মী কে প্রসন্ন করতে কেমন ধরনের ভোগ নিবেদন করা হয়, সেই সম্পর্কে:

পদ্মফুল, শাপলা ফুল, মুড়কি, বাতাসা:

লক্ষ্মী পূজায় বিভিন্ন ধরনের ফল, ফুল যেমন নৈবেদ্য অর্পণ করা হয় তেমনি ভোগের জন্য আয়োজন করা হয় আলাদাভাবে। লক্ষ্মীপূজায় দেবীকে গুড়ের মুড়কি, নারকেল নাড়ু ও বাতাসা দেওয়া হয়।

চিনি দিয়ে তৈরি কিছু চলে না বলেই এর কোন বিধি-বিধান নেই। ফলের মধ্যে রয়েছে আখ আর আতা, এই ফল দেবী লক্ষ্মীর খুবই পছন্দের তাই সাধারণ আর অতি প্রয়োজনীয় ফল দেবীর পূজার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে, প্রচলিত নিয়ম অনুসারে পদ্মফুল আর লাল শাপলা ফুলে পূজা করা হয় দেবীকে।

দেবীকে দেওয়া হয় ধানের ছড়া অথবা ধানের শীষ, কোথাও কোথাও ধানের শীষ সমেত ধান গাছটাই দেবীকে অর্পণ করা হয়।

কোজাগরী পূর্ণিমায় এভাবে রাত জাগলেই লক্ষ্মী লাভ করতে পারবেন

বিভিন্ন ধরনের নাড়ু:

দেবী লক্ষ্মী বিভিন্ন ধরনের বাড়িতে তৈরি করা নাড়ু খুবই পছন্দ করেন অথবা যাঁরা বাড়িতে তৈরি করতে পারেন না তাঁরা বাজার থেকে তৈরি করা এই নাড়ু কিনে এনে দেবীকে অর্পণ করেন সেটাও করা যেতে পারে। নানা রকমের নাড়ু তৈরি করা হয় যার মধ্যে রয়েছে নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ু, গুড়ের নাড়ু, ক্ষীরের নাড়ু বেশ জনপ্রিয়।

এছাড়া এই নাড়ুর সাথে থাকে খই, খই এর মুড়কি, চিড়ে মাখা, এই চিড়ে মাখা তে নারকেলের জল দিয়ে ধুয়ে নারকেল কোরা, এলাচ গুঁড়ো, কর্পূর, মধু, ঘি আর চিনি দিয়ে মাখতে হয়। আর এটি খুবই সুস্বাদু এবং দেবী লক্ষ্মীর খুবই পছন্দের একটি ভোগ।

বিভিন্ন জায়গা ভেদে বিভিন্ন ভোগ:

নদীয়া তে মা লক্ষ্মীর ভোগ:

বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ্মী পূজার বিভিন্ন ভোগের বিভিন্ন রকমের রীতি প্রচলিত রয়েছে। যেমন নদীয়াতে দেবী লক্ষ্মীকে দেওয়া হয় মুড়ি, মুড়ি মুড়কি, ছোলা, মটর, তিল। তার সঙ্গে থাকে বিভিন্ন ধরনের ফল ও মিষ্টান্ন।

লক্ষ্মী পূজায় ঘন্টা বাজাতে নেই কেন? জানুন কারণটা

হাওড়া, হুগলি এবং বর্ধমানে মা লক্ষ্মীর ভোগ:

এই তিন জেলায় লক্ষ্মী পূজার প্রসাদ হিসেবে চিড়ে, মুড়কি, নারকেল, বাতাসা, তালের ফোঁপর (পাকা তালের আঁটির মধ্যে হওয়া নরম সাদা অংশ) ইত্যাদি দেওয়া হয়।

আর এই অতি প্রয়োজনীয় ভোগ গুলি দেবী লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করতে অবশ্যই অবশ্যই নিবেদন করতে হয়।

মুর্শিদাবাদে মা লক্ষ্মীর ভোগ:

এর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের বহু জায়গায় পুজোর উপাচার হিসেবে পঞ্চ অঙ্কুররীয় উৎসর্গ করা হয় দেবীকে। পঞ্চ অঙ্কুরীয় বলতে বোঝায় পাঁচ রকমের অঙ্কুরিত খাদ্যশস্য।

পঞ্চ অঙ্কুরীয় হলো:- মুগ ডাল, ছোলা, মটর, মসুর ডাল ও কলাই। এর পাশাপাশি থাকে নারকেল, তিল, ঝুরি, ছোলা ও ক্ষীরের নাড়ু।

অর্থ কষ্ট দূর করতে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজায় এই কাজগুলি করুন

পশ্চিমবঙ্গে মা লক্ষ্মীর ভোগ:

এই জায়গায় লক্ষ্মী পূজাতে বিশেষ করে অন্ন ভোগের আয়োজন করা হয়। বেশিরভাগ বাড়ির পূজো এবং বারোয়ারি পূজোতে অন্ন ভোগের আয়োজন করা হয় খুবই ধুমধাম ভাবে।

যেমন ধরুন খিচুড়ি, বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে চচ্চড়ি, ভাজা, শাক, চাটনি এসবের গুরুত্ব দেওয়া হয় মূলত। কেউ কেউ অন্ন ভোগের জায়গায় লুচি ভোগ দিয়ে থাকেন। আর লুচির সঙ্গে থাকে আলুর তরকারি, বিভিন্ন ধরনের ভাজা, সুজির হালুয়া ইত্যাদি।

পূর্ববঙ্গে মা লক্ষ্মীর ভোগ:

এই জায়গায় লক্ষ্মী পূজাতে আমিষ দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। পূর্ববঙ্গে অনেক পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজায় মাছ ভোগ দেওয়ার প্রচলন আছে বলে জানা যায়। বিশেষত ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল অঞ্চলে দেবীকে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়।

সেই কারণে পূর্ববঙ্গের জনপ্রিয় পদ ইলিশ মাছকে ভোগ হিসেবে দেওয়ার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে এই কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায়। এছাড়া অন্ন ভোগে খিচুড়ি, ভাজা, শাক, চাটনি, ডাবের জল ইত্যাদি দেওয়া হয়। আবার কেউ কেউ অন্ন ভোগের জায়গায় দেন লুচি ভোগ, সঙ্গে থাকে তরকারি, ভাজা, সুজির পায়ে যা পশ্চিমবঙ্গের অনুকরণে করা হয়।

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজায় এই পদ্ধতি মানলে হবে মা লক্ষ্মীর প্রচুর কৃপা

⭐ জায়গা ভেদে ভোগের আয়োজন যতই আলাদা হোক না কেন, দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় তাঁকে প্রসন্ন করতে অন্ন ভোগের কোন তুলনা নেই অর্থাৎ বেশিরভাগ জায়গায় খিচুড়ি ভোগের আয়োজন করা হয় বেশ বড় আকারে।

তাছাড়া অনেকেই আবার লুচি ভোগ দিয়ে থাকেন লুচির সাথে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি থাকে, সুজির হালুয়া থাকে যা প্রাচীনকাল থেকেই এই প্রথা চলে আসছে। বাড়িতে লক্ষ্মী পূজার আয়োজন করলে আপনি অবশ্যই আপনার সাধ্যমত ভোগের আয়োজন করতে পারেন।

আমরা আগেই জেনেছি দেবী লক্ষ্মী চঞ্চলা হলেও খুবই অল্প আয়োজনে সন্তুষ্ট হন আর শুধুমাত্র দেখে থাকেন যে ভক্তের ভক্তি কতখানি। তাই ভক্তি সহকারে পবিত্র মনে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেবীকে আরাধনা করুন। যতটুকু পারবেন নিয়ম সহকারে ভোগ ও নৈবেদ্য অর্পণ করার চেষ্টা করুন।

তাছাড়া যেহেতু আপনি নিজেই যদি পুজো করে থাকেন পুরোহিত ছাড়া তাহলে সমস্ত রকম নিয়ম ভালোভাবে জেনে তবেই দেবীকে প্রসন্ন করার জন্য উপকরণ জোগাড় করুন নৈবেদ্য ও ভোগের আয়োজন করুন। এই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজায় আপনার ঘরে বসত করুক দেবী লক্ষ্মী, সংসার সমৃদ্ধময় হয়ে উঠুক, ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাক, সকলের মঙ্গল হোক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *