হযরত আলীর জন্মদিন 2022: জীবনী ও কেন পালন করা হয়? | Hazrat Ali Birthday 2022: History and Significance

হযরত আলী 2022 (Hazrat Ali Birthday 2022 Date Time and Significance) 2022 হযরত আলী ইতিহাস এবং জানুন হযরত আলী কেন পালন করা হয়? হযরত আলী তাৎপর্য কি? ভারতীয়দের জন্য হযরত আলী গুরুত্ব কতটা? জানুন সবকিছু এখানে।

হযরত আলী (সাঃ) মুসলমানদের চতুর্থ খলিফা, যার সম্পূর্ণ নাম হলো আলি ইবনে আবু তালিব। ইসলাম অনুসারে বিশ্বাস করা হয় যে, তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তার পিতার নাম আবু তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এবং মায়ের নাম ছিল ফাতিমা বিনতে আসাদ।

হযরত আলী ইতিহাস ও তাৎপর্য - Hazrat Ali Birthday History and Significance
হযরত আলী ইতিহাস ও তাৎপর্য – Hazrat Ali Birthday History and Significance

হযরত আলী (সাঃ) এমন একজন মুসলিম ধর্মীয় গৌরবময় ব্যক্তি, যাকে সমগ্র ভারত বর্ষ এবং এর বাইরেও ইসলাম সম্প্রদায় এর মানুষ উচ্চ সম্মানের সঙ্গে শ্রদ্ধা করা হয়। তিনি ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই এবং জামাই

তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি মক্কা শহরের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবা শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি খুব উদার ব্যাক্তি ছিলেন, হযরত আলী তার কর্ম, বিশ্বাস, সাহস এবং সংকল্পের জন্য মুসলিম সংস্কৃতিতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পরিচিত একটি ব্যক্তিত্ব।

হযরত আলীর জীবনী:

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, হযরত আলীর (সাঃ) জীবনী সম্পর্কে কিছু ইতিহাস:

হযরত আলী, যার জন্মদিন পালনের পেছনে রয়েছে কিছু কাহিনী। যেমন ধরুন হযরত আলীর জন্ম ইসলামিক পঞ্জিকা অনুসারে রজব মাসের ১৩ তারিখে হয়েছিল। হযরত আলী সর্বপ্রথম হযরত মুহাম্মদ এর সাথে নামাজ পড়তেন।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাকে মৃত্যুর পূর্বেও তার উত্তরসূরী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন এবং খলিফা হিসেবে তার পাঁচ বছরের শাসনকালে তিনি বহু যুদ্ধ-বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন কুপ্রথা কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তার রাজত্বকালে তিনি জনগণকে আরো বেশি অধিকার দিয়ে সকল প্রকার কর থেকে মুক্তি প্রদান করেছিলেন।

যেমন তৃতীয় খলিফা কিছু বিশেষ ব্যক্তিকে জনসাধারণের সম্পদ দিয়েছিলেন। হযরত আলী সেগুলি ফিরিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের উন্নতির জন্য ব্যবহার করেছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্ম কর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করলেন এবং তার জায়গায় সমস্ত সৎ ব্যাক্তিদের নিয়োগ করেছিলেন।

ইতিহাস অনুসারে জানা যায় যে, হযরত আলী কোষাগারটির বিশেষ যত্ন নিতেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে, কোষাগার জনসাধারণের সম্পত্তি এবং এটি কেবলমাত্র জনসাধারণ উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা উচিত। এর কারণে তিনি অনেক ক্ষমতাবান শক্তিশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন।

কাহিনী অনুসারে জানা যায় যে, ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুসারে রমজান মাসের ১৯ তারিখে যখন তিনি সকাল বেলা নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন, সেজদা দেওয়ার সময় একজন ব্যক্তি তাকে তরোয়াল দিয়ে আক্রমণ করে এবং আহত করে এবং ঘটনার দুদিন পরে অর্থাৎ রমজানের ২১ তারিখে তার মৃত্যু হয়। তার দেহ গোপন করার জন্য কবরস্থ করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন পরে লোকেরা জানতে পারে তার কবরের বিষয়টি।

সমাজ এবং দরিদ্র মানুষদের জন্য এই পদক্ষেপের কারণে হযরত আলী সাধারণ জনগণের মধ্যে অত্যন্ত বিখ্যাত একজন ব্যক্তি হয়ে গিয়েছিলেন, আর সেই কারণেই তাকে স্মরণ করতে প্রতিবছর রজব মাসের ১৩ তারিখে তার জন্ম উৎসব পালন করা হয়।

হযরত আলীর জন্মদিন:

হযরত আলীর (সাঃ) জন্মদিন কেন পালন করা হয়? সেই সম্পর্কে চলুন একটু জানা যাক:

মোহাম্মদ এর মৃত্যুর পর ইসলামী গোষ্ঠী দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যারা আবু বকরকে তাদের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছিল, তাদেরকে সুন্নি মুসলমান বলা হত এবং যারা হযরত আলীকে তাদের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছিল তাদেরকে শিয়া মুসলমান বলা হত। হযরত আলী হলেন নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফার চাচাতো ভাই এবং জামাই। শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশ্বাস করেন যে, নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর পর হযরত আলীকে খলিফা নিয়োগ করা প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু এর পরেও হযরত মুহাম্মদকে তোয়াক্কা না করেই তিন টি ব্যক্তির পরে তাকে চতুর্থ খলিফা করা হয়েছিল। এছাড়া আমরা আগেই জানলাম যে ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে তিনিই ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম পুরুষ ছিলেন। হযরত আলী (সাঃ) অত্যন্ত উদার এবং দয়ালু মনোভাবের ব্যাক্তি ছিলেন। তার সাহস, দীর্ঘ সংকল্প এবং বিশ্বাস এই সমস্ত বিষয়ের জন্য তিনি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে খুবই সম্মানিত একজন ব্যক্তি ছিলেন।

হযরত আলী (সাঃ) যখন ইসলামী সাম্রাজ্যের চতুর্থ খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হন, তখন তিনি জনসাধারণের সুবিধার জন্য অনেক কিছু অবদান রেখে দিয়েছেন। যার কারণে তাকে সাধারণ মানুষ খুবই পছন্দ করতেন এবং ভালোবাসতেন।

এই কারণে সমাজের উন্নয়নের জন্য তার যে কর্মসূচি গুলি ছিল, প্রচেষ্টা গুলি ছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর তাকে সম্মান জানাতে তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশে ধুমধাম ভাবে পালিত হয় এই জন্ম উৎসব।

হযরত আলীর (সাঃ) জন্মদিন উদযাপন:

যখন কোন ব্যক্তিকে খুবই ভালোবাসা যায়, তার মৃত্যুর পরেও তাকে স্মরণ করার জন্য তার জন্মতিথি উপলক্ষে জন্মোৎসব পালন করা হয়। হযরত আলীর জন্মদিন উদযাপন বিশ্বের অনেক দেশেই খুবই জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে উদযাপিত হয়ে থাকে।

বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের লোকেরা হযরত আলীর জন্মদিনকে নম্রতার সাথে, উৎসাহের সাথে, উৎসবের মধ্যে দিয়ে উদযাপন করে থাকে। এই দিনটি ভারতে, বিশেষত উত্তরপ্রদেশে খুবই ব্যাপকভাবে পালিত হয়। এই দিবসটি ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে উদযাপিত করা হয়।

হযরত আলীর (সাঃ) জন্মদিনের তাৎপর্য:

প্রতিটি জন্মতিথির তাৎপর্য অনেকখানি। হযরত আলীর জন্মদিন উৎসবটি আমাদের সকলের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এটি একটি পবিত্র দিন। কারণ এই দিবসটি তে হযরত আলীর মত একজন মহান ব্যক্তির জন্ম হয়েছিল। তাঁর মতো একজন প্রতিভাবান এবং সুচারিত্রিক ব্যক্তি খুবই কম রয়েছেন আমাদের পৃথিবীতে।

একজন দক্ষ যোদ্ধা এবং ধার্মিক ব্যাক্তি ছাড়াও তিনি অত্যন্ত দয়ালু মনের ব্যাক্তি ছিলেন। তার বৈশিষ্ট্য এবং কর্ম মানুষের মধ্যে প্রচার করতে সাহায্য করেছিল ইসলাম ধর্মকে। প্রতিবছর অনেক উৎসাহের সাথে এবং আনন্দের সাথে ধুমধাম ভাবে পালন করা হয় এই দিনটি।

এছাড়া ভারতের শিয়া সম্প্রদায়ের সবথেকে বড় কেন্দ্র লখনৌ তে এই দিনটি উদযাপিত হয়। এই দিনে লখনৌ তে বিভিন্ন মসজিদ গুলি খুবই সুন্দর ভাবে সেজে ওঠে। এই দিন শহরে বিভিন্ন মিছিল বের হয় এবং ধর্মীয় সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তাছাড়া যে কোনো উৎসবে মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি সুন্দর করে পরিস্কার পরিছন্ন করে গুছিয়ে সাজিয়ে। সেই কারণে এই দিনটি উপলক্ষে সমস্ত মুসলিম মানুষেরা তাদের ঘরগুলি ভালোভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলেন।

এরপর সেখানে নামাজ, প্রার্থনা / দোয়া সভার আয়োজন করা হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করেন এবং তাদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে থাকেন। তাছাড়া অনেকেই আবার বাড়িতে খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন।

এই দিন উপলক্ষে অনেকেই আবার দূরের কোন আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করতে ছুটে যান। তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে যান, এবং কিছু মানুষ এই দিনে পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন। হযরত আলীর স্মরণ করে তাদের পরিবারের জন্য দোয়া করেন এবং উৎসাহের সাথে এই দিনটি সকলে মিলে খুবই আনন্দের সাথে উপভোগ করেন।

শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়, বিশ্বের মানুষের কাছে হযরত আলী একজন গৌরবময় ব্যক্তিত্ব। তিনি মুসলমান দের জন্য অনেক যুদ্ধ করে গিয়েছেন। তাই তাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানাতে এই দিনটি খুবই নমনীয়তার সাথে পালন করা হয়। যেখানে পরিবার-পরিজন এবং নিজের জন্য দোয়া ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

Leave a Comment