রমজান 2022: ইতিহাস ও কেন পালন করা হয়? | Ramadan 2022: History and Significance

রমজান 2022 (Ramadan 2022 Date Time and Significance) 2022 রমজান ইতিহাস এবং জানুন রমজান কেন পালন করা হয়? রমজান তাৎপর্য কি? ভারতীয়দের জন্য রমজান গুরুত্ব কতটা? জানুন সবকিছু এখানে।

কোন উৎসবের জন্য নির্দিষ্ট কোন তিথি অথবা মাস থাকে। তেমনি ইসলাম ধর্মাবলম্বী দের কাছে রমজান মাস হল একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস। যে মাসে কুরআন শরীফ নাজিল হয়েছিল। মানবজাতির জন্য কোরআন শরীফ একটি হেদায়েত এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং মানদন্ড। রমজান মাসে ২৯ দিন অথবা ৩০ দিন রোজা রাখা হয় এবং একমাস রমজান পালন করার পর খুশির ঈদ উৎসবটি আসে। রমজান হল ইসলামী বর্ষ পঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস।

রমজান ইতিহাস ও তাৎপর্য - Ramadan History and Significance
রমজান ইতিহাস ও তাৎপর্য – Ramadan History and Significance

যে মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলমান রা রোজা পালন করে থাকেন, রমজান মাসে রোজা পালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় তম। রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৯ টি রোজা অথবা ৩০ টি রোজা হয়ে থাকে, সেটা সম্পূর্ন ভাবে নির্ভরযোগ্য হয়  চাঁদের উপরে।

রমজান সম্পর্কে একটু ধারণা:

  • আনুষ্ঠানিক নাম: রমজান
  • পালনকারী: বিশ্বের সমস্ত মুসলিমগণ
  • ধরন: ধর্মীয়
  • উদযাপন: ইফতার এবং সেহরি
  • পালন করা হয়: রোজা রাখা, যাকাত অথবা সাদকা বা দান করা, তারাবিহ এর নামাজ পড়া, মহা পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠ করা, সমস্ত খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ধীর স্থির ভাবে রমজান মাসের নিয়ম গুলি পালন করা।
  • রমজান মাসের শুরু: শাবান মাসের শেষ রাত থেকে।
  • রমজানের সমাপ্তি: ২৯ টি রোজা অথবা ৩০ টি রোজা অর্থাৎ ২৯/৩০ রমজান
  • তারিখ: রমজান এবং ঈদের তারিখ পরিবর্তনশীল, কেননা ইসলামে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে এর তারিখ নির্ণয় করা হয়।
  • সংগঠন: প্রতিবছর অর্থাৎ বার্ষিক
  • সম্পর্কিত: ঈদ- উল -ফিতর (ঈদ), শবে কদর।

এই মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির উপরে ইসলামের সমস্ত রকম নিয়মকানুন বর্তায়। কিন্তু অসুস্থ ও গর্ভবতী মহিলা, ডায়াবেটিক রোগী, ঋতুবতি নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্ত নিয়ম গুলি তে ছাড় দেওয়া হয়।

রোজা এবং রমজান মাসের নিয়ম অনুসারে ভোর বেলার সেহরি খাওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার জল আহার এবং পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা সমস্ত রকম পাপ কাজ ও স্বামী স্ত্রীর ক্ষেত্রে যৌনসঙ্গম থেকে বিরত থাকা, এই মাসে সমস্ত মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কেননা অন্যান্য মাসের তুলনায় এই মাসে ইবাদতের সওয়াব অনেক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া এই মাসের লাইলাতুল কদর নামে একটি রাত রয়েছে, সেই রাতে কোরআন নাজিল হয়েছিল যে রাতে আল্লাহ তাআলা সকলের জন্য আশীর্বাদ প্রদান করে থাকেন। আর সেই আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য সকলে এই রাতে বেশি পরিমাণে নামাজ পড়া ও ইবাদত করা থেকে বিরত থাকেন না।

রমজান মাস খুবই পবিত্র একটি মাস:

মুসলমানদের জন্য রমজান এমন একটি মাস, যেখানে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনের প্রথম শ্লোক হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই এই মাসে মুসলমানরা ফজরের নামাজের মাধ্যমে রোজা শুরু করেন এবং সূর্যাস্তের পর উপবাস / রোজা ভঙ্গ করেন ইফতারের মধ্য দিয়ে।

এই মাসে নামাজ পড়া, দান ধ্যান করা, বিশ্বাস করা হয় যে মক্কায় হজ্বযাত্রা করা এবং সেই সঙ্গে রোজা রাখাও ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক মুসলমানদের রমজান মাসে কাজের সময় কমিয়ে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ জায়গায় রোজার সময় রেস্তোরাঁ গুলি বন্ধ থাকে।

পবিত্র রমজান মাসের সকলে একে অপরকে রমজানের মোবারক জানিয়ে থাকেন এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকেন, তাছাড়া অনেক জায়গায় দেখা যায় যে, অফিস এবং কর্মক্ষেত্রে রোজাদার ব্যক্তিদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়।

রমজানের ইতিহাস: 

রমজানের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে গেলে জানা যায় যে, রমজান মাস হচ্ছে সেই মাস, যে মাসে কোরআন শরীফ নাজিল হয়েছিল। মানবজাতির জন্য কোরআন শরীফ একটি হেদায়েত এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং মানদন্ড।

তোমাদের মধ্যে যদি কেউ বেঁচে থাকে তবে এই মাসে রোজা রাখো এবং আর যে সমস্ত মানুষ অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে এই রোজা রাখার চেষ্টা করতে পারেন।

রমজানের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, মুসলমানদের ধারণা অনুযায়ী যে সমস্ত ধর্মগ্রন্থ রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছিল, কোরআন শরীফ এর লিখিত গ্রন্থ গুলি প্রথম ষষ্ঠ, দ্বাদশ, ত্রোদশকে হস্তান্তর করা হয়েছে। রমজানের শেষ ১০ দিনের যে পাঁচটি বিজোড় সংখ্যা যুক্ত রাত আছে, তার মধ্যে একটি রাত হল শবে কদর।

রহমত, বরকত আর মাগফিরাতের সওকাত নিয়ে আবার ফিরে ফিরে আসে পবিত্র মাহে রমজান। মোবারক মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার রহমতের দরজা গুলি খুলে দেন। এটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই মাসের রোজা আল্লাহ তা’আলা তাদের উপরে ফরজ করেছেন।

এই মাসে আকাশের দরজার গুলি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর জাহান্নামের দরজা গুলো করে দেওয়া হয় বন্ধ। এই মাসে বড় বড় শয়তান গুলোকে আটক করে রাখা হয়। এমনটাই ধারণা পাওয়া যায়।

রমজান মাসে রহমত বর্ষিত হয় সকল রোজাদার ব্যক্তিদের উপর:

রমজান মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রোজা রাখা, রমজানের প্রথম দশকে প্রতিটি ব্যক্তির প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালার যে রহমত গুলি বর্ষণ করেন, সেগুলি নিচে দেওয়া হল:-

  • যে সমস্ত ব্যক্তিরা রোজা রাখেন, তাদের উপরে আল্লাহ তায়ালা ধন-সম্পত্তি এবং স্বচ্ছতা প্রদান করে থাকেন। তাদের সম্পদ বৃদ্ধি করে দেন বহুগুনে।
  • সেহেরী এবং ইফতার গ্রহণ করার পর প্রকৃত সওয়াব দান করা হয়।
  • ভালো কাজের প্রতিদান বহুগুনে বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
  • অগণিত ফেরেশতা রোজাদার মানুষদের জন্য মাগফিরাত এর কামনা করেন।
  • শয়তানকে বন্দী করে রাখার কারণে রোজাদার ব্যক্তি কুমন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকেন।
  • জান্নাতের সমস্ত দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের সমস্ত দরজা গুলি বন্ধ রাখা হয়।
  • প্রতি রাতে অগণিত জাহান্নামি কে মুক্তি ও নিষ্কৃতি দেওয়া হয়, এই মাসে রমজানের প্রত্যেক জুম্মার রাতে অর্থাৎ প্রতিটি শুক্রবারে রাতে ওই পরিমাণ জাহান্নামি কে মুক্তি দেওয়া হয়, যে পরিমাণ গোটা সপ্তাহে মুক্তি লাভ করেছে।
  • রমজানের শেষ রাতে রোজাদারের পাপ কাজ গুলির জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
  • রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন জান্নাত সুসজ্জিত করা হয়,
  • রোজাদার মানুষদের যে কোন দোয়া অথবা প্রার্থনা গ্রহণ করা হয় অথবা কবুল করা হয়।
  • যে সমস্ত ব্যক্তিরা রোজা রাখেন, তাদের উপরে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন।
  • রোজাদারের দেহকে সকল পাপ থেকে মুক্ত ও পবিত্র করা হয়।
  • প্রতিটির নফল ইবাদতের বিনিময়ে রোজা বিহীন মাসের ফরজ সমতুল্য পূণ্য দান করা হয়।

রমজান মাসে রোজার গুরুত্ব:

রমজান মাসে সব থেকে যেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোজা রাখা। ৮ টি জান্নাতের মধ্যে রাইয়ান” নামক একটি বিশেষ জান্নাত রয়েছে, শুধুমাত্র রোজাদার ব্যক্তিদের জন্যই সেই জান্নাতটি তৈরি করা হয়েছে। এতে অন্য কারো প্রবেশের অধিকার থাকবে না।

এছাড়া রমজান মাসের প্রতিটি আমলের সওয়াব বৃদ্ধি করা হয়। প্রতিটি নফলকে একটি ফরজ ও প্রতিটি ফরজকে ৭০ টি ফরজের সমতুল্য করে প্রদান করা হয়। সারা বছর ধরে রমজান মাসের জন্য সেই জান্নাতটি সুন্দরভাবে সুসজ্জিত করা হয়।

রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করলেও সেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি জান্নাতবাসি হয় বলে ধারণা করা হয়। আর তাই এত সব কিছু দিক থেকে বিবেচনা করে দেখা যায় যে, রমজান মাস ইসলাম অনুসারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আরো অন্যান্য মাসের তুলনায়। রমজান মাস পাওয়া খুবই ভাগ্যের বিষয় সমস্ত মুসলমান দের জন্য।

Leave a Comment