ফেসবুক প্রোফাইলের মাধ্যমেই হয়ে উঠুন অনুকরণীয়! দেখুন কিভাবে

0
(0)

ফেসবুক এখন আমাদের সময় কাটানো ও সৃষ্টিশীল কাজের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ইন্টারনেট এর এই যুগে আমরা মানুষকে যতটা না সামনা সামনি চিনি, তারচেয়ে বেশী স্যোশাল মিডিয়াতে খুঁজে পাই। ফেসবুকে একাউন্ট নেই এমন মানুষ বর্তমানে খুব কম।

একজন ব্যক্তি এমনিতে হয়ত খুবই সাদাসিধা থাকে, কিন্তু ফেসবুকে তার কার্যক্রম আলাদা, তার প্রোফাইল ছবি, বায়ো, ফ্রেন্ডস, পোস্ট এগুলো হতে পারে অনেক আকর্ষনীয়। হঠাৎ কোন গ্রুপে কারো কমেন্ট দেখে বা কারও প্রোফাইল ভিজিট করে একটি মানুষ সম্পর্কে আগ্রহ জন্মাতে পারে, কারন মানুষের প্রোফাইল হচ্ছে তার আয়নার মতই।

একটা মানুষ কিভাবে ছবি তুলতে পছন্দ করে, কি খেতে ভালবাসে, কি পছন্দ করে, কোন বিষয়ে খুশি হয়, কি তাকে দুঃখিত করে এইসব কিছুই আপনি তার প্রোফাইল থেকে জানতে পারবেন। একটি ভাল প্রোফাইল দেখলে আমরা সহজেই আকর্ষিত হয়ে থাকি। কারো ছবির চেয়ে বেশী এক্টিভিটিকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি আমরা। অনেক লেখকই নিজের ছবি না দিয়েও সাহিত্য পোস্ট করেন, এবং তাদের প্রচুর ফ্যান ফলোয়ার থাকে।

নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে প্রোফাইল করে তুলুন আকর্ষনীয় যাতে সবাই আপনাকে অনুকরন করে। সুপ্রিয় পাঠক, আজ আমাদের আয়োজন সাজিয়েছি এমনই চমৎকার একটি বিষয় নিয়ে, ফেসবুকে নিজেকে কিভাবে নিজের প্রোফাইলের মাধ্যমে নিজেকে সবার অনুকরণীয় করে তুলবেন। চলুন প্রিয় পাঠক, দেরী না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

 

১. নিজের আসল নাম

ফেসবুকে আমরা শুরুতেই একটি আইডির ব্যাপারে যে বিষয়টি লক্ষ্য করে থাকি তা হল, তার প্রোফাইল নাম। অনেকেই তার নিজের নাম বাদ দিয়ে নানান অদ্ভুত নাম প্রোফাইলে দিয়ে থাকেন, অথবা নামের শেষে বিভিন্ন বিশেষণ যোগ করে থাকেন যা যতটা না উপযুক্ত, তারচেয়ে বেশী হাস্যকর।

যেমন ধরার বাইরে দোয়েল, একা একটি চায়ের কাপ, একাকী বয়, একাকী রাজকন্যা, ইত্যাদি।  আমরা নিজেদেরকে রাজপুত্র বা রাজকন্যা ভাবতেই পারি, তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সেটা নিজেদের প্রোফাইল নাম দিয়ে দিলে মানুষ শুরুতেই নেতিবাচক ধারনা পোষন করবে, এটা ব্যক্তিত্বহানি করে৷ তাই নিজের আসল নামটি সুন্দর করে লিখুন। এ

ক্ষেত্রে পদবীটি যাতে শ্রুতিমধুর শোনায় এজন্য নামের আগে বা পরে পদবী লিখতে পারেন, পোশাকী নাম বা ডাকনাম ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু নিজের নাম ব্যবহার করুন প্রোফাইলে। সুন্দর ব্যক্তিত্বপূর্ন একটি প্রোফাইল নামের আইডি মানুষ ঘুরে দেখতে চাইবে, মানুষটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে। মানুষ আপনার নাম দেখে নিজেদের আসল নাম দিতে আগ্রহী হবে। আপনি হয়ে উঠবেন অনুকরণীয়।

 

২. রুচিশীল ছবি

একটি একাউন্টে অনেক সময় নামের আগে যে বিষয়টি সবার চোখে পড়ে তা হচ্ছে প্রোফাইল ছবি। একটি সুন্দর রুচিশীল ছবি আপনার প্রোফাইল ভিজিট করার আগ্রহ তৈরি করবে। ফ্রেন্ড সাজেশন বা কেউ রিকয়েস্ট পাঠালে তার প্রোফাইল ছবি যদি সুন্দর হয় আমরা একবার হলেও তার প্রোফাইল ভিজিট করি, এটা আমাদের সাধারন প্রবৃত্তি।

অনেকেই প্রোফাইলে নিজের ছবি না দিয়ে বিভিন্ন নায়ক নায়িকার বা কার্টুন বা অন্যকিছুর ছবি দিয়ে রাখেন। এতে আইডিটি ফেক বলে সবার ধারনা হবে। এরকম আইডির মালিক যে ই হোকনা কেন কেউ তার সাথে বন্ধুত্ব করতে বা পরিচিত হতে আগ্রহ দেখাবে না। তাই কাউকে আকৃষ্ট করতে চাইলে নিজের প্রোফাইল ছবি দিন, এবং সেটা যেন সুন্দর হয়। এরপর যে কাউকে রিকয়েস্ট দিন, কোন গ্রুপে এড হওয়ার রিকয়েস্ট পাঠান। সেটা অবশ্যই এপ্রুভ হবে।

অনেকের মাঝেই উল্টাপাল্টা ছবি দিয়ে আইডি খোলার প্রবনতা আছে। আপনি যখন নিজের সুন্দর রুচিশীল ছবি দিয়ে আইডি ব্যবহার করবেন, তখন তা অন্যদের কাছে অনুকরণীয় হবে। কারন আপনি এরজন্য সবার কাছেই সাধুবাদ পাবেন।

 

৩. ভেবে চিন্তে সৃষ্টিশীল পোস্ট দিন

অনেকেই ভাবেন আইডি হচ্ছে ডায়েরীর মত। তাই নিজের আইডিতে বিভিন্ন অশ্লীল, অর্থহীন পোস্ট এবং স্ট্যাটাস দিয়ে থাকেন।  এগুলো আপনাকে সবার সামনে ছোট করে দেয়। যতই স্যোশাল মিডিয়া হোক, আইডিটি কিন্তু আপনার। তাই আপনি আইডিতে কি দিচ্ছেন, কি লিখছেন তার উপর নির্ভর করে আপনার মানসিকতা যাচাই করবে সবাই।

অনেকেই বলে থাকে ভার্চুয়ালি কি শেয়ার করছি তা তো আমার আসল জীবন নয়, ভেবে দেখুন আপনি কি আজ যেখানে যান নি, সেটা কি পোস্ট করেন? যে মানুষটিকে পছন্দ করেন না, তার জন্মদিনে উইশ করে পোস্ট দেন? যা আপনার কখনোই মনে হয়না তাই কি স্ট্যাটাস দেন? না, এটা কেউই করেনা৷ তার নিজের উন্নত মানসিকতা নিজের পোস্টে প্রকাশ করুন।

আপনার মানসিকতা আপনার পোস্টে ফুটে উঠবে। সবাই যখন আপনার উপকারী, সাবলীল, সংযত পোস্ট দেখবে, আপনার অনুসরনকারী বেড়ে যাবে। আপনাকে সবাই এ ব্যাপারে অনুসরন করবে।

 

৪. অযথা লাইক কমেন্ট বন্ধ করুন

আপনার লাইক লিস্ট, এবং কমেন্ট অন্য ফ্রেন্ডদের হোমপেজে প্রদর্শিত হয়।

আপনি কোন পেজে লাইক দিচ্ছেন, কোথায় কমেন্ট করছেন তা আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। আপনি যদি বিভিন্ন গ্রুপে গিয়ে কমেন্ট করেন, আপনার বন্ধু হতে চাই, অ্যাড মি, কল দিন! তাহলে আপনার পরিচিত মানুষরা এসব দেখে আপনাকে এড়িয়ে চলবেন। তাই এগুলো করবেন না।

কমেন্ট করার ব্যাপারে গঠনমূলক রুচিশীল কমেন্ট করুন যাতে তা দেখে মানুষ আপনার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারনা পোষন করেন। এতে করে অন্যরাও আপনার মত রুচিশীল কমেন্ট করতে আগ্রহী হবে। বন্ধুদের মধ্যে আপনার অন্যরকম ইমেজ সৃষ্টি হবে

 

৫. উপকারী পোস্ট শেয়ার দিন

অনেকেই অকারনে ফালতু বিষয় শেয়ার করেন, এতে তার নিম্নরুচি ফুটে ওঠে। যেমন কোন নায়ক বা নায়িকার বিতর্কিত ছবি, কারো ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস, কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস। নিজের প্রোফাইলে কি শেয়ার করছেন তার ব্যাপারে সতর্ক হোন।

আমরা অনেক সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে বিভিন্ন সাহায্যের পোস্ট বাছ বিচার না করেই শেয়ার করে থাকি, এছাড়া বিভিন্ন হাস্যকর, অর্থহীন,  রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ও বর্নবাদমূলক পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। কারন যারা অর্থহীন পোস্ট শেয়ার করেন তাদের সবাই নেতিবাচক চোখে দেখেন।

আপনি ইতিবাচক ও যথার্থ পোস্ট শেয়ার করুন, সবাই আপনার প্রতি ভাল ধারনা পোষন করবে৷ পোস্ট দেখে উপকৃত হবে। এবং তারাও আপনার পোস্ট শেয়ার দেবে। আপনাকে ইতিবাচকভাবে অনুকরণ করবে।

 

৬. ভাল মূহুর্ত, ভাল কাজ, প্রতিভা পোস্ট করুন

অন্যদের সমালোচনা, অন্যদের নিয়ে বিতর্ক না করে নিজের ভাল কাজ, গুন, প্রতিদিনের কোন বিশেষ ঘটনা সুন্দর ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করুন। এতে সবাই আপনি কি করেন, আপনার জীবন যাপন বিষয়ে জানতে পারবেন।

আর আমরা তখনই একটি মানুষ সম্পর্কে আকৃষ্ট হই, যখন তার ব্যাপারে ভাল এবং সত্যকিছু জানতে পারি। তাই নিজের জীবন তুলে ধরুন। তবে খেয়াল রাখবেন সেটা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। প্রতিদিন অনেক বেশী পোস্ট, বা নিজের অতিরিক্ত বর্ননায় সবাই বিরক্ত হয়। আপনার জীবন সম্পর্কে অনেকেই জানতে আগ্রহী। তারা আপনার ডে অথবা স্টোরি দেখে সেটা জানতে পারবে। আপনার দেখাদেখি অনেকেই এ ব্যাপারে আগ্রহী হবে।

৭. স্টোরি দিন

প্রতিদিনকার জীবনযাপন প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে স্টোরি, তাই স্টোরিতে নিজের মতামত বা প্রতিদিনকার কর্মকান্ড অর্জন এগুলো প্রকাশ করুন। আজকের দিনে অনেকসময়ই সামনে এসে কারো সম্পর্কে জানা অসম্ভব হয়ে যায়, বা লজ্জায় আমরা তা করতে পারিনা।

কিন্তু যদি কারো আইডি অনুসরন করে তার বিষয়ে জানা যায় তাহলে মন্দ কি! এভাবে অনেকেই অনেকের সম্পর্কে জেনে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এমন কিছু করুন যা সকলের কাছেই ভাল লাগে, তারা নিজেদের হাস্যকর পোস্ট, এক্টিভিটি বাদ দিয়ে আপনাকে অনুসরন করবে তাহলে।

 

৮. ভাল গ্রুপে জয়েন করুন

ফেসবুকের যেমন ভাল এবং খারাপ উভয় দিকই রয়েছে তেমনি গ্রুপেরও দুইটি ধরন রয়েছে। ফেসবুকে যেমন অর্থহীন অশ্লীল গ্রুপের ছড়াছড়ি, তেমনি চমৎকার,  শিক্ষনীয়, সৃজনশীল গ্রুপেরও অভাব নেই। এরকম চমৎকার গ্রুপগুলোতে এড হয়ে নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটান। এখানে পোস্ট দিন, কমেন্ট করুন। যাতে সবাই আপনার প্রতিভা এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারে। এবং আপনার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

এরকম গ্রপে কমেন্ট করতে গিয়ে পরিচিত হয়ে এখন ভাল বন্ধু বা জীবনসংগী পাওয়ার বিষয়টি অনেকেই বেলাতেই ঘটেছে। এভাবেই অন্যদের কাছে নিজের ইমেজ তুলে ধরুন। অন্যদেরকে ইনবক্সে না জ্বালিয়েও এভাবে নিজের ইমপ্রেশন গড়ে তোলা যায়। যাতে অন্যরা আপনাকে অনুকরন করে।

 

উপসংহার

নিজেদের ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিজীবন,  কর্মকান্ড, অর্জন প্রকাশে ফেসবুক একটি দারুন মাধ্যম। আমরা বাহ্যিকভাবে নিজেদের যতটা না প্রকাশ করতে পারি, তারচেয়ে বেশী স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে করা সম্ভব। তাই নিজের প্রোফাইল করে তুলুন আকর্ষনীয় যাতে সবাই আপনার প্রতি আকৃষ্ট হয়। এভাবে কারো কাছে সরাসরি নিজেকে প্রকাশ না করেও সবার কাছে নিজের প্রোফাইলের মাধ্যমে অনুকরণীয় হয়ে উঠবেন।

পোস্ট ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক ও কমেন্ট করে মতামত জানাবেন। যেকোন প্রশ্ন ও মতামত জানতে কমেন্ট করুন, আমরা   অবশ্যই দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment