অনলাইনে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের ৫ টি সেরা কাজ

প্রযুক্তি আমাদেরকে শুধু অলস আর অকর্মন্যই করে তোলে নি, সেই সাথে কাজের ক্ষেত্রে এনেছে পরিবর্তন। এখন আর শুধুমাত্র টিউশনই হাত খরচ চালানোর একমাত্র উপায় নয়। করোনাকালীন সময়ে যাদের হাত খরচের একমাত্র উৎস টিউশনও বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাদের জন্য অর্থ আয়ের সুবর্ন সুযোগ হতে পারে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং।

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং দুটোকেই অনেকে একই কাজ মনে করে থাকেন। কিন্তু আসলে কাজ দুইটি আলাদা। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে নিজে স্বাধীনভাবে কোন কাজ করে অর্থ আয়, আর আউটসোর্সিং হচ্ছে অন্য কারো বা কোম্পানির অধীনে থেকে কোন কাজ করা।

যেটা সরাসরি কোম্পানিতে বসে করা হয়না, ফ্রিল্যান্সিং এর মত যেকোন জায়গা থেকে কাজের সুযোগ থাকে, এবং ধরাবাধা কোন কর্মঘন্টা থাকেনা। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং  এর ক্ষেত্রে নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য কিছু কাজ করা অবশ্যই কঠিন মনে হবে। তবে এমন অনেক কাজই রয়েছে যা করতে তেমন কোন অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দক্ষতা প্রয়োজন হয়না।

অল্প সময়ে কাজ শিখেই আপনি নিজের হাত খরচ চালানোর মত বা তারচেয়ে বেশী অর্থ আয় করতে পারবেন। আজ আমরা এমন কিছু কাজ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। চলুন প্রিয় পাঠক আর দেরী না করে মূল আলোচনায় প্রবেশ করা যাক।

 

নতুনদের জন্য স্মার্টফোনের মাধ্যমে করা যায় এমন ৫ টি কাজ

 

১. আর্টিকেল রাইটার

বর্তমানে অনলাইন নিউজপেপারগুলোর প্রসার বেড়েই চলেছে। আমরা এখন আর দৈনিক নিউজপেপারের জন্য বসে থাকিনা। কোন খবর জানার হলে অনলাইন নিউজপেপার থেকেই জেনে নেই। এসব পত্রিকা এবং ব্লগে লেখার জন্য প্রচুর সাম্প্রতিক এবং বিষয়ভিত্তিক লেখার প্রয়োজন হয়।

আপনি যদি গুছিয়ে বিষয়ভিত্তিক বা সাম্প্রতিক বিষয়ে লেখা লিখতে পারেন এবং মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের কাজ জানা থাকে, তবে খুব সহজেই আর্টিকেল রাইটিং এর কাজ করতে পারেন। এজন্য আপনার ভাষা সংক্রান্ত দক্ষতা, বানান, বাক্য গঠন, সুন্দর এডিটিং এবং বিষবস্তু অনুসন্ধানের মত প্রাথমিক পর্যায়ের জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা আবশ্যক।

এই কাজের জন্য আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হলেও সমস্যা নেই৷ আপনি বিভিন্ন অনলাইন নিউজ আর্টিকেল পড়ার সময় বা সার্চ দিলে এ ধরনের নিউজপেপার এ লেখার সার্কুলার এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এ কাজে মাসিক ৫০০০-৮০০০ টাকা প্রাথমিকভাবে আয় করতে পারবেন। দক্ষতা অর্জন সাপেক্ষে পরবর্তীতে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস এ একাউন্ট খুলে আর্টিকেল  লিখতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রতিটি আর্টিকেল এ ১০-১৫ ডলার আয় করতে পারবেন। তবে এর জন্য ইংরেজি দক্ষতা এবং লিখনশৈলী অনেক ভাল হতে হবে, যা লিখতে লিখতে আপনি অর্জন করতে পারবেন।

 

২. সার্ভের কাজ করা

বিভিন্ন পণ্য বা সেবা কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য বা সেবার সুনাম ও বাজারের অবস্থান যাচাইয়ের জন্য অন্য কোম্পানির মাধ্যমে সার্ভে করিয়ে থাকে। সার্ভে অর্থ জরিপ। এর মাধ্যমে মূলত জানা হয়, কারা পণ্যটি ব্যবহার করে, ব্যবহার করে সন্তুষ্ট কিনা, কোন বয়সের মানুষ বেশী ব্যবহার করে, তাদের পেশা, বয়স, পছন্দ ইত্যাদি।  

এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে কোম্পানি তাদের পণ্য ও সেবার মানে পরিবর্তন আনে, এবং লাভজনক করে তোলে। এই কাজগুলি কোম্পানি আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার দিয়ে করিয়ে নেয়। আপনি চাইলে আমেরিকান আইপি কিনে, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে একাউন্ট করে নিজেই সার্ভে কাজ করতে পারেন।

এ কাজে তেমন কোন অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবেনা, তবে ইংরেজি জানা আবশ্যক। এছাড়া একাউন্ট খোলা, প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ, রাত জাগার অভ্যাস থাকতে হবে। এ কাজে প্রাথমিকভাবে ৮-১০ হাজার টাকা মাসিক আয় করতে পারবেন। দক্ষতা এবং কাজের মান বুঝে এ আয়ের পরিমান আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

৩. অনুবাদের কাজ করা

বিভিন্ন ইংরেজি অথবা অন্য ভাষার আর্টিকেল অথবা বই অন্য ভাষায় রুপান্তরের কাজকে বলা হয় অনুবাদ করা। আপনি ভাষায় দক্ষ হলে, সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখতে পারলে অনুবাদকের কাজ করতে পারেন। মূলত ইংরেজি থেকে বাংলা করতে হবে আপনাকে।

এমনভাবে সেক্ষেত্রে লিখবেন যেন পাঠক বুঝতে না পারে এটা অন্য ভাষার লেখা, মনে হয় এটা বাংলা কাহিনি বা লেখা। কঠিন এবং অপ্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা পরিহার করে লিখুন। এই কাজ করছেন অনেক লেখক, এবং তাদের মাসিক আয় অনেক ভাল।

প্রাথমিকভাবে ৫-১০ হাজার টাকা অনায়াসে আয় করতে পারবেন।  দক্ষতা এবং অনুবাদের মানের উপর নির্ভর করে পরবর্তীতে আপনি বড় বড় বই অনুবাদের সুযোগ পেতে পারেন, যা থেকে অনেক বেশী আয় করতে পারবেন।

 

৪. ইউটিউব ভিডিও তৈরি

এখন সবার হাতেই রয়েছে স্মার্টফোন। আর ইউটিউবে চ্যানেল খোলাও খুব সহজ। একটি ইমেইল আইডি থাকলেই খোলা যায়। মোবাইলে ভিডিও ধারন করে ইউটিউবে আপলোড করেই আপনি অনেক টাকা আয় করতে পারবেন। তবে এরজন্য ভাল কন্টেন্ট হতে হবে, ভিউ হতে হবে প্রচুর।

ভিউ বেশী হলে, অর্থ্যাৎ সাবস্ক্রাইবার ৩০০০০ এবং প্রতিটি ভিডিও ৩ মিনিটের বেশী দেখা হলে ইউটিউব আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রচার করবে, যা থেকে অর্থ আয় করতে পারবেন। বর্তমানে প্র‍্যাংক, ফানি, মুভি রিভিউ, মোটিভেশনাল, পশুপাখিদের মজার ভিডিও প্রচুর ভিউ পায়।

চাইলে এগুলো বানানোর ট্রাই করতে পারেন। এগুলো আপলোড দিলে প্রচুর ভিউ পাবেন, সেই সাথে ভাল পরিমান অর্থ আয় করতে পারবেন।

৫. ফটোগ্রাফির মাধ্যমে উপার্জন

মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে বিভিন্ন সাইটে বিক্রয় করতে পারেন। ওয়েবসাইট, পেজ, মিমস, ভিডিও, কন্টেন্ট, আর্টিকেল, পেজ, প্রভৃতিতে প্রচুর ছবি দরকার হয়। আর এই ছবিগুলো গুগলে সার্চ দিয়ে আমরা পাই। এখানে আপলোড করে কিছু ওয়েবসাইট,  যারা ছবিগুলো অন্যদের কাছ থেকে কিনে থাকে।

যেমন istock photo এবং Art Storefronts, এই দুইটি সাইটে একাউন্ট করে আপনি নিজের তোলা ছবি বিক্রিয় করতে পারবেন। প্রতি ছবির জন্য পাবেন ১-৩ ডলার। চাইলে আজ থেকেই এই কাজটি করার চেষ্টা করতে পারেন।

 

উপসংহার

এখানে খুবই সহজ এবং প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন এমন যে কেউ করতে পারবেন। এরজন্য খুব বেশী দক্ষতা, অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হবেনা। আপনি যখন অভিজ্ঞ হয়ে যাবেন তখন আরও বেশী অর্থ আয় করতে পারবেন।

তবে কাজগুলো করার জন্য প্রচুর ধৈর্য,  কাজের প্রতি আগ্রহ, এবং প্রাথমিক পর্যায়ের জ্ঞান এবং বিশেষত ইংরেজি বোঝার মত জ্ঞান থাকতে হবে। এখন থেকে আশা করি কাজহীন বেকার জীবন আর কাটাতে হবেনা আপনাদের। সহজেই যেকোন দিন থেকে এই কাজগুলি শুরু করে দিন, আর অর্থ আয় করে নিজের স্বপ্ন পূরনের দিকে এগিয়ে যান।

পোস্টটি কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন, পোস্টটির বিষয়ে কোন তথ্য জানানোর হলে বা কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করুন। আমরা অবশ্যই তথ্য জানিয়ে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment