Dussehra 2022: History and Significance | 2022 দশেরা ইতিহাস ও তাৎপর্য

2022 Dussehra History and significance, 2022 দশেরার ইতিহাস ও তাৎপর্য এবং জানুন দশেরা কেন পালন করা হয়? বিধি কি? কিভাবে শুরু হয়েছিল।

দশেরা (Dussehra) ইতিহাস ও তাৎপর্য: দূর্গা পূজার আনন্দ শুরু হয়ে যায় মহালয়ার সূচনার মধ্য দিয়েই। মহালয়ার (Mahalaya) মধ্যে দিয়েই অবসান হয়েছে পিতৃপক্ষের এবং সূচনা হয়েছে দেবীপক্ষের। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার (Durga Puja) চূড়ান্ত তোড়জোড়। পড়েছে ঢাকে কাঠি, ঘুরে আবারও মা আসছে তার বাপের বাড়িতে।

আর এই সময় যখন হিন্দু বাঙালিরা দুর্গাপুজো পালন করেন তখন ভারতের কোথাও কোথাও পালিত হয় দশেরা (Dussehra) বা নবরাত্রি দশেরাা। কোথাও কোথাও পরিচিত দশহরা অথবা দশাইন নামে। আবার কোন কোন জায়গায় একে বিজয়াদশমী (Vijaya Dashami) ও বলা হয়।

দশেরার ইতিহাস:

দশেরার ইতিহাস নিয়ে নানান মতামত শোনা যায়। হিন্দু মতে বিশ্বাস করা হয় লঙ্কার রাজা দশানন রাবন কে হারিয়ে রামচন্দ্র রাবণকে বধ করেছিলেন।

Dussehra History and Significance
Dussehra History and Significance

দশহরা শব্দের অর্থ: দশ মানে দশানন রাবণ, আর হরা মানে হার। দশেরার দিনে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় রাবন দহনের মাধ্যমে এই দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবে পালন করা হয়। সংস্কৃতির এই গুরুত্বপূর্ণ দশহরা বা দশেরা উৎসব আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে উদযাপিত হয়।

আরো শোনা যায় যে, দশ রাত্রে দশ দিন ধরে অবিরাম লড়াইয়ের পর দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন সুতরাং এই দিনে বিজয়ের দিন বিজয়াদশমী। মা দুর্গা মহিষাসুরের পরাজয় কেও ব্যাক্ত করে। মহিষাসুর হোক অথবা রাবণ এই দিনটি আসলে অশুভ শক্তির পরাজয় কে মনে করায়। অর্থাৎ অশুভকে বিনাশ করে শুভশক্তির সূচনা শক্তির আরাধনাও শেষ হয় এই দিনে।

দশহরা 2022 তারিখ (Dussehra 2022 Date)

এই বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে দশেরা বিজয় দশমী পড়েছে ৫ ই অক্টোবর, বুধবার (১৮ আশ্বিন ১৪২৯, বুধবার)।

মাইসোর দশেরার ইতিহাস:

মাইসোরের ৪০০ বছরের পুরনো এই উৎসবের সূচনার নেপথ্যে রয়েছে এক বিরাট কাহিনী। রাজা ছিলেন এক মহিষাসুর। মহিশাসুুর থাকাকালীন যারা মায়ের ভগবানকে পুজো করতেন তাদের শাস্তি দিতেন তিনি।

মহিষাসুরের হাত থেকে বাঁচতে সেখানকার মানুষ সাহায্য চান দুর্গার কাছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চামুন্ডি পর্বতে মহিষাসুরের বিনাশ করেন মা দুর্গাা। এরপর থেকেই চামুন্ডি পর্বতে প্রতিষ্ঠিত হয় মা দুর্গার মন্দির। এই ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর এখানে মহাসমারোহে পালন করা হয় দশেরা উৎসব (Dussehra Festival)।

তাছাড়া ঐতিহাসিক মতে ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে অদুরে শ্রীরঙ্গপত্তমের দশেরা উৎসব শুরু করেন ওয়াদিয়ার রাজা। জানা যায় যে, দশেরার দিন হাতির পিঠে বসে রাজা শোভাযাত্রা সহকারে নগর ভ্রমণ করতেন।

সেই প্রাচীন উৎসবের ঐতিহ্য বজায় আছে এখনো। সেই বিশেষ দশেরা শোভাযাত্রা জাম্বু সাভারি নামে পরিচিত। বর্তমানে এই শোভাযাত্রায় রাজার বদলে হাতির পিঠে সোনার সিংহাসনে চামুণ্ডেশ্বরী দেবীকে বসিয়ে নগর ভ্রমণ করানো হয়।

দশেরা উৎসব ঘিরে রাজপ্রাসাদ আর শহর সেজে উঠে আলোকমালায়। অনুষ্ঠিত হয় মেলা, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নানা বর্ণময় অনুষ্ঠান। রাজপ্রাসাদে দিনভর নগরবাসী আর উৎসবে শামিল পর্যটকদের ভিড়, চোখে পড়ার মতো। শহরের নানান উৎসব উদযাপিত হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীরা আসে মাইসোরের এই বিখ্যাত দশেরার উৎসব দেখতে।

কর্নাটকে মাইসোরের এই রাজকীয় উৎসব নদাহাব্বা নামে পরিচিত। হাতির পিঠে শোভাযাত্রা শেষ হয় বন্নিমন্টাপাতে। এখানে বান গাছ অথবা বটগাছ এর কাছে এসে থেমে যায় এই শোভাযাত্রা। কথিত আছে যে, এই বটগাছে অজ্ঞাতবাসের সময়ে অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন পাণ্ডবরা।

তবে সে যাইহোক শোভাযাত্রা শেষে আতসবাজির রোশনাই হয় দশমীর দিন জাম্বু সাভারি দশরা শোভাযাত্রা দিয়েই শেষ হয় বর্ণময় মহীশূর দশেরা উৎসব।

দশেরার তাৎপর্য:

দশেরা অথবা বিজয়া দশমীর তাৎপর্য মানুষকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। মহান বিজয়া দশমী পর্যন্ত চলে মায়ের আরাধনা। শুভ বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা অর্থাৎ হিন্দুরীতি অনুযায়ী পৃথিবীর সকল নারীর যেন সারা বছর শাঁখা-সিঁদুর থাকে নিরন্তর, তার আশীর্বাদ প্রার্থনা করা।

দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন। সত্যের জয় মন্দের উপরে ভালোর জয় ইত্যাদি নানাভাবে এই বিজয়া দশমী কিংবা দশেরা দিনটি পালিত হয় সারা ভারতে। কিন্তু আসল ব্যাপারটা হলো সেই ২ অসুর পরাজিত হয়েছিল এই দিনটিতে রামায়ণের কাহিনী অনুসরণে দশানন রাবণ এবং পুরাণের কাহিনী অনুসরণে মহিষাসুর।

নয় দিন টানা যুদ্ধের পর দশম দিনটিতে দশানন রাবণের মৃত্যু হল রামের হাতে লঙ্কায়। দশ মানে দশটি মাথা এবং হর মানে পরাজিত। তাই দুইয়ে মিলে দশহরা, লোকমুখে যা হয়েছে দশেরা।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের সকল রাজ্যের মানুষ দশেরা পালন করে থাকেন। দশেরা উৎসব রাম, সীতা এবং লক্ষণ গল্পের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। দশেরার দিন রাবণ, কুম্ভকর্ণ, মহিষাসুর এদের প্রতীকী গুলোকে অগ্নিকাণ্ডে পড়ানো হয়। যার অর্থ মন্দের অথবা দুষ্টের ধ্বংসকে বোঝানো হয়। এই দিনে অনেকে শ্রীরাম চন্দ্রের পূজাও করে থাকেন।

বেশ কিছু গল্পের মাধ্যমে জানা যাক দশেরা সম্পর্কে:

#১) রাবণ দহন এবং সেইসঙ্গে দহন নানা বিষয়ের:

রাবণ দহন মানে হলো এই যে সারাদেশে দশরার দিন বিভিন্ন জায়গায় রাবণের কত্ত বড় বড় মূর্তি তৈরি করে তা পোড়ানো হয়। যার পোশাকি নাম রামলীলা (Ramlila) সেই অনুষ্ঠানের মানে শুধুই কি  রামের জয় সেলিব্রেট করাা! নাকি অন্যকিছু আছে!

আসলে রাবণের দশটি মাথা, মানে আসলে দশটি রিপু বা দোষ:-  কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য, স্বার্থ, অন্যায়, অমানবতা ও অহংকার। এই দশটি রিপুর উপর জয়লাভ করার জন্যই দশেরার দিন পুড়িয়ে  দেওয়া হয় এই দশ রিপুর আধার দশানন রাবণকে (Ravan)।

#২) দশেরার দিনে পার্বতীর ঘরে ফেরার পালা:

দেবী দুর্গার দক্ষকন্যা সতি হয়ে জন্মগ্রহণ এবং স্বামী নিন্দা সইতে না পেরে মৃত্যুবরণের গল্প আমাদের সকলের অজানা নয়। একান্নটি অংশে সতীর মৃতদেহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পর শিব তাণ্ডব থামালেন। তখন বৃষ্ণু তাকে অনুরোধ করেছিলেন দক্ষরাজ কে ক্ষমা করে দিতে। অনুরোধ ফেলতে পারেন নি।

উপরন্তু সন্তানহারা বাবার জন্য তিনি বলেন এর পরের জন্মে সতী জন্ম নেবেন হিমালয় রাজ হিমাবত কন্যা পার্বতী রূপে। তখন প্রতিবছর বিজয়া দশমীর দিন পার্বতী আসবেন বাবা-মায়ের সঙ্গে একটি দিনের জন্য দেখা করতে। তাই দশেরার দিন পার্বতীর ঘরে ফেরার দিনও বটে।

#৩) শুধুমাত্র রামচন্দ্রই নন, দশেরার সঙ্গে যোগ আছে পান্ডবদেরও:

শুধুমাত্র রামচন্দ্রই নন, দশেরার দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন পঞ্চপান্ডবরাও। পাশা খেলায় পরাজিত হয়ে পাণ্ডবরা ১২ বছর বনবাস, একবছরের অজ্ঞাতবাস, মেনে নিয়েছিলেন। বনবাসের পর অজ্ঞাতবাস শুরু করার প্রাক্কালে তারা বিরাট রাজ্যে প্রবেশ করার আগে একটি শমী বৃক্ষের কোটরে তাদের অস্ত্র-গুলি লুকিয়ে রেখেছিলেন।

আবার এক বছর পরে এই বিজয়াদশমীর দিনটিতে অথবা দশেরার দিনটিতে ওই গাছের কোটর থেকে অস্ত্র বের করে নিজেদের আসল পরিচয় দিয়েছিলেন তারা। সেই কারণে তারপর থেকে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে দশেরার দিনটিতে অস্ত্রের পূজা প্রচলিত আছে।

#৪) রামচন্দ্রের জন্মের আগেই রঘুকুলে পালিত হতো দশেরা:

পৌরাণিক কাহিনী অনুসরণে জানা যায় যে, রামের জন্মের বহু আগে থেকেই নাকি রঘুকুল এ পালিত হতো দশেরা প্রথা। শোনা যায় যে রামের পূর্বপুরুষ রাজা রঘুর আমলের একটি ঘটনা এর জন্য দায়ী। রঘুর রাজ্যে ছিলেন দেবদূত নামের এক ঋষি।  তার পুত্র শিক্ষা লাভ করতে গিয়েছিলেন ঋষি বরতনুর কাছে।

গুরুকে গুরুদক্ষিণা দেওয়ার জন্য নাছোড়বান্দা হয়ে ওঠেন দেবদূত ঋষির পুত্র। এদিকে বাধ্য হয়েই একটি অসম্ভব ইচ্ছা প্রকাশ করেন তার গুরুদেব। তিনি বলেন ১৪ টি বিষয়ে শিক্ষার দক্ষিণা হিসেবে তিনি ১৪০ লক্ষ্য স্বর্ণমুদ্রা পেতে চান।

গুরুর এই ইচ্ছা পূর্ণ করতে তিনি যান অযোধ্যায় দানবীর রাজা রঘুর কাছে। কিন্তু ঘটনাচক্রে সেইদিনই ব্রাহ্মণদের দানে সব সোনা দিয়ে দেওয়ার কারণে রঘু সেই শিক্ষার্থীকে তিন দিন সময় ভিক্ষা দিতে বলেন। তারপর রাজা রঘু সোজা চলে যান ইন্দ্রের কাছে।

সব শুনে ইন্দ্র ডেকে পাঠান ধনদেবতা কুবের কে। ইন্দ্রের কথামতো কুবের অযোধ্যা রাজ্যে সেদিন ধন বৃষ্টি শুরু করেন। শোনু এবং আপটি গাছের পাতাগুলো থেকে ঝরতে থাকে সোনার মোহর। মোহর একত্রিত করে সেই শিক্ষার্থীকে দিয়ে দেন রাজা রঘু। কিন্তু ছাত্রের কাছ থেকে শুধু মাত্র ১৪০ লক্ষ্য স্বর্ণমুদ্রা চেয়ে ছিলেন তার গুরু। বাকিটা তিনি ফিরিয়ে দেন তার ছাত্রকে। আবার সেই ছাত্র সেই বাকি সোনার মুদ্রা ফিরিয়ে দেন রাজা রঘু কে।

এদিকে দানবীর রঘু সেই স্বর্ণমুদ্রাগুলো বিলিয়ে দেন তার প্রজাদের মধ্যে। আর ঘটনাচক্রে সেই দিনটি ছিল বিজয়া দশমীর দিন। আর সেদিন থেকে বিজয়া দশমীর দিনে শোনু এবং আপতি বৃক্ষের পাতা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেয়ার প্রচলন আছে।

Durga Puja 2022: History and Significance | 2022 দুর্গা পুজা ইতিহাস ও তাৎপর্য 0 (0)

Leave a Comment