পড়াশোনায় মন বসানোর সেরা উপায়সমূহ | Best way to focus on the study

পড়াশোনা তো সকল ছেলে মেয়েরাই করে, কি তাইতো পাঠকগণ? কিন্তু বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ছেলেমেয়েই পড়াশোনায় মন বসাতে পারছেনা, কারণ কি জানেন? কারণ তো অনেক রয়েছে, কয়টা আর বলে শেষ করা যাবে।

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, মেসেঞ্জার, ফেসবুক, টিভি, ফ্রি ফায়ার, পাবজি থাকতে পড়াশোনায় মন বসানো আসলেই খুব কঠিন ব্যাপার।

যখন আমরা পড়তে বসি, তখন আমাদের শক্তির লেভেল থাকে ১০০। ভাবি যে প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা তো পড়বই। কিন্তু ১০ মিনিট পড়ার পরই আমাদের শক্তির লেভেল নেমে আসে ১০% এ। আর তখনি মনে হয়, আজকে আর না, কাল থেকে ধুমিয়ে পড়াশোনা করবো।

এখন যাই, ফেসবুকে আমার পোস্টে কয়টা লাইক কমেন্ট পড়লো দেখে আসি। বা হয়তো ফ্রি ফায়ার গেমের নোটিফিকেশন আসবে আর আপনি পড়ার কথা ভুলে গিয়ে গেমে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

আর এভাবেই দিনের পর দিন কেটে যায় কিন্তু পড়াশোনা আর আগায় না। আর তখন পরীক্ষার আগের দিন গিয়ে একসাথে সবকিছু পড়ার প্রেসার নিতে হয় আর রেজাল্ট খারাপ হয়ে যায়।

তবে আজকে আমি আপনাদের এমন কিছু টিপস সম্বন্ধে জানাবো, যেগুলো অনুসরণ করলে পড়াশোনা আপনার কাছে মজার খেলা বলে মনে হবে।

আর আপনি খুব সহজেই আপনার পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবেন। তো চলুন আর দেরি না করে মূল আলোচনা শুরু করা যাক।

দেখুন যে কিভাবে আমাদের ইয়াং জেনারেশন এর ছেলেমেয়েরা কিভাবে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারবে:

পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ৬ টি সেরা উপায়:

১. পড়তে বসার সময় অবশ্যই আপনার ফোন দূরে রাখুন

পড়ায় মনোযোগী হওয়ার জন্য সবচেয়ে দরকারী কাজ হলো ফোন দূরে রাখা বা সম্ভব হলে বন্ধ করে রাখা।

কারণ ফোন কাছে থাকলেই কোনো নোটিফিকেশন বা মেসেজ আসার কারণে পড়ার উপর মনোযোগ নষ্ট হয় এবং ব্যস, ওইদিনের মতো পড়া শেষ এবং প্রতিনিয়ত এটাই ঘটতে থাকে। তাই চেষ্টা করবেন অবশ্যই পড়তে বসার সময় ফোন দূরে রাখতে ও সম্ভব হলে বন্ধ রাখতে।

২. পড়ার নির্দিষ্ট সময় বাছাই করুন

পড়াশোনা যে করতে হবে, এর কিন্তু কোনো বিকল্প নেই। এরজন্য প্রথমে আপনার পছন্দের সময় বাছাই করবেন।

আপনার যে সময়ে পড়াশোনা করতে ভালো লাগে, ঠিক সেই সময়েই পড়তে বসবেন। কিন্তু অবশ্যই চেষ্টা করবেন, অল্প অল্প করে পড়াশোনা শুরু করতে, অর্থাৎ প্রথম দিনেই অনেক পড়ব, ৮ ঘন্টা পড়বো, ১০ ঘন্টা পড়বো, এমন লক্ষ্য সেট করবেন না।

প্রথম দিন ২-৩ ঘন্টা পড়া দিয়ে শুরু করুন এবং ২০-৩০ মিনিট পড়ার পর ১০ মিনিটের ব্রেক নিবেন।

এরপরের দিন থেকে আপনার কাজ হবে ব্রেকের সময় আস্তে আস্তে কমানো এবং ব্রেকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়া।

এতে আপনার পড়াশোনার উপর একটা আকর্ষণ চলে আসবে এবং অভ্যাসে পরিণত হবে। ফলে নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারবেন।

৩. বিছানায় পড়তে বসা থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন

আমরা সবাই জানি যে আমাদের অনেক সময়েই রাতে ঘুম আসেনা। কিন্তু যখনি আমরা পড়তে বসি, তখনি ঘুম চলে আসাটা একদম চিরন্তন সত্য।

এজন্য অবশ্যই আপনারা পড়তে বসলে পড়ার টেবিলে বসবেন। আর নিজের পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় খাতা, কলম, ক্যালকুলেটর, ও অন্যান্য সকল উপাদান হাতের কাছে নিয়ে বসবেন যাতে বারবার কোনো কিছু আনতে যাওয়ার জন্য ওঠার দরকার না পড়ে।

কারণ পড়তে পড়তে উঠলে মনোযোগ বারংবার ব্যাহত হয়। এজন্য পড়ার সময়ের যাবতীয় উপাদান গুছিয়ে নিয়ে বসবেন ও বিছানায় পড়তে বসবেন না।

৪. কখনো পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না

দুশ্চিন্তা মানুষের প্রধান শত্রু। দুশ্চিন্তা করলে আপনি কখনোই পড়ায় মনোযোগ দিতে পারবেন না।

আপনার ক্রমশই হয়তো মনে হবে, পরীক্ষার আর মাত্র ৭ দিন বাকি আছে, আমার তো কিছুই পড়া হয়নি, এবার নিশ্চিত ফেল করবো, বা হয়তো মনে হবে, বন্ধুরা তো পড়ে ফাটিয়ে ফেলছে আমি কি করলাম।

আপনি যতই এসব দুশ্চিন্তায় মগ্ন হবেন, তখন আপনার আর পড়তে মন চাইবে না বরং আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন আর বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকলেও আপনার কোনো পড়া মাথায় ঢুকবে না।

তাই পড়তে বসার সময়ে অবশ্যই আপনার মন ফ্রেশ রাখুন এবং সকল দুশ্চিন্তা মন থেকে মুছে ফেলে পড়ার টেবিলে বসুন।

৫. হোয়াইট নয়েজ চালিয়ে পড়াশোনা করুন

পড়াশোনার সময়ে বিভিন্ন বিরক্তিকর ঘটনা ঘটা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। পাশের বাসার ঝগড়া, বাসায় জোরে টিভি চলা, হোস্টেলে বন্ধুর গারল্ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলার আওয়াজ, ইত্যাদি কারণে পড়ায় বিঘ্ন ঘটে থাকে।

এসময় উপায় হলো হোয়াইট নয়েজ মিউজিক চালিয়ে পড়াশোনা করা। হোয়াইট নয়েজ হলো এমন মিউজিক যেখানে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় একইরকম মিউজিক প্লে হয় আর আপনার মনোযোগ একদিকে আটকে রাখে।

আপনি ইউটিউবে অনুসন্ধান করলে এরকম অনেক মিউজিক পেয়ে যাবেন। চাইলে আজই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে দেখতে পারেন।

৬. “Gamification” কৌশল অবলম্বন করুন

Gamification টেকনিক হলো পড়াশোনাকে গেমের মতো বানিয়ে নেয়া। অর্থাৎ গেমে যেমন বিভিন্ন লেভেল বা মিশন থাকে, ঠিক তেমনি পড়াশোনার মাত্রা বা চ্যাপটারগুলোকে চাইলে বিভিন্ন লেভেল বা মিশনে রুপান্তর করে পড়তে পারেন।

হয়তো প্রথমে আপনার এখানে ইন্টারেস্ট আসবে না কিন্তু আস্তে আস্তে যখন আপনার পড়ার অগ্রগতি হতে থাকবে, তখন আপনি এমনিতেই এই কৌশলে অভ্যস্ত হতে থাকবেন।

যদি তবুও কাজ না হয়, তাহলে নিজেকে নিজে পুরস্কৃত করতে পারেন, যেমন পড়ার এক লেভেল পার হলে নিজেকে পছন্দের খাবার উপহার দিলেন, বা গারল্ফ্রেন্ড এর সাথে ৩০ মিনিট কথা বলতে পারেন।

এভাবে নিশ্চয় আপনি এই টেকনিকটি কাজে লাগাতে পারবেন।

উপসংহার

তো এই ছিল পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর জন্য ৬ টি সেরা কৌশল নিয়ে আমাদের আজকের পোস্ট।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের সবার ভাল লাগবে এবং কাজেও লাগবে। আপনাদের আজকের পোস্ট সম্বন্ধীয় যেকোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে আমাকে জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে। আমি যত দ্রুত সম্ভব উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। সবাইকে শুভকামনা জানিয়ে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি!

Leave a Comment