Kojagori Puja 2023: পুরোহিত ছাড়াই ঘরে করুন কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা এই ভাবে

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা এমন একটি পূজা যা শরতের শেষে পূর্ণিমায় প্রতিটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। বাড়িতে এই দিন তোড় জোড় চলে দেবী লক্ষ্মীকে ঘরে আহবান জানানোর। কোন কিছুরই কমতি থাকে না তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে নিজে থেকেই এই লক্ষ্মী পূজার আয়োজন করা হয় এবং পূজা সম্পন্ন করা হয়।

আবার অনেকেই পুরোহিত দিয়ে এই লক্ষ্মী পূজা সম্পন্ন করেন। অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন যে, পুরোহিত ছাড়া কি এই লক্ষ্মী পূজা করা যেতে পারে ? অবশ্যই করা যেতে পারে, সমস্ত রকম নিয়ম মেনে বিভিন্ন রীতি প্রথা গুলি পালন করে অবশ্যই ভক্তি ভরে পুজো করতে পারলেই আপনি নিজে থেকেই এই লক্ষ্মী পূজা ঘরে করতে পারবেন পুরোহিত ছাড়াই।

পুরোহিত ছাড়াই ঘরে করুন কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা এই ভাবে
পুরোহিত ছাড়াই ঘরে করুন কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা এই ভাবে

এই পূজা পুরোহিত ছাড়াই করতে পারেন তাতে একই শুভ লাভ পাওয়া যায়। শুধু মাথায় রাখতে হবে এই নিয়মগুলি, মা লক্ষ্মীর কৃপা বজায় থাকবে আজীবন। দুর্গাপূজার শেষ পর্যায়ে মন খারাপ ঘুঁচিয়ে ৩/৪ দিনের মধ্যেই দেবী লক্ষ্মী সকালের বাড়িতেই চলে আসেন সকলের মন ভালো করতে।

শুভ কোজাগরি লক্ষ্মী পূজা শুভেচ্ছা বার্তা ও স্ট্যাটাস

এখন প্রস্তুতি চলে লক্ষ্মীপূজার, ইতিমধ্যে বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়ে গিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মী পূজাতে মা লক্ষ্মী কে বরণ করার প্রক্রিয়া। অনেকে আবার কালী পূজার দিন মহালক্ষ্মীর পুজো করে থাকেন, তবে মা লক্ষ্মীর পূজা সারা বছর করা হয়, সেটা অতি সাধারণ হলেও এই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজাটা বেশ বড় আকারে করে থাকেন সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

মা লক্ষ্মী ধন, দৌলত, অর্থ, শৌর্য, সুখ, সমৃদ্ধির দেবী। এমনিতে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে মা লক্ষ্মী পূজিত হয়ে আসছেন, তবে আশ্বিনের শেষে পূর্ণিমাতেও পূজীতা হন মা লক্ষ্মী, তবে আশ্বিনের শেষ পূর্ণিমাতেও পূজিতা হন মা লক্ষ্মী, যা কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার নামে পরিচিত।

এমনকি সব পূজার মতো পুরোহিত দিয়ে লক্ষ্মী পূজা করা যেতে পারে তবে লক্ষ্মী পূজা এমন একটি পূজা যাতে গৃহস্থ বাড়ির মালিক অথবা মালকিন বা গৃহিণী যিনি রয়েছেন তিনি নিজেও কিন্তু এই পূজা সম্পন্ন করতে পারবেন।

লক্ষ্মী পূজায় ঘন্টা বাজাতে নেই কেন? জানুন কারণটা

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার সাথে বাড়িতে মা লক্ষ্মীর আগমনের সম্পর্ক:

“কে জেগে আছে” এই কথা থেকেই কোজাগরী শব্দের উৎপত্তি বলে জানা যায়। যার অর্থ হল এই রাতে কে দেবী লক্ষ্মীকে আহবান করার জন্য, বরণ করার জন্য জেগে আছে।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার দিন মা মর্ত্যে আসেন গৃহস্থের বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদ দেন। কিন্তু যে বাড়ির দরজা বন্ধ থাকে এবং কোন আলোর চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায় না সেই বাড়িতে দেবী প্রবেশ করেন না।

সেই জন্য রাত জেগে মা লক্ষ্মীর পূজা করা এবং তাঁর আসার অপেক্ষা করাটাও এই পূজার বিশেষ একটি আকর্ষণ অথবা রীতি বলা যায়। রাত জাগার সময় আগে পাশা খেলার প্রচলন ছিল, এছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে রাত জেগে থাকার নিয়মটা আজও বিদ্যমান।

লক্ষ্মী পূজায় পুরোহিত ছাড়াই পূজা করা সম্ভব, তবে চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে নিজেই করবেন এই লক্ষ্মী পূজা:

১) স্নান করে শুদ্ধ হয়ে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করুন:

প্রথমত আপনাকে স্নান করে, শুদ্ধ হয়ে, শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে হবে এবং শুদ্ধ আসনে বসতে হবে। আচমন থেকে শুরু করে পঞ্চ দেবতার পূজা করা পর্যন্ত আপনাকে শুদ্ধ মনে সংকল্প নিয়ে এই পূজায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

কার্তিক মাসে এভাবে মা লক্ষ্মীর পূজা করলে আয় বৃদ্ধি হবে সারবে অসুখ-বিসুখও

২) পূজার উপকরণ এর সাথে ভক্তি ভরে পুষ্পাঞ্জলি দিন:

এরপর মা লক্ষ্মীর ধ্যান করে বিভিন্ন পূজার উপকরণ দিয়ে দেবী লক্ষ্মীকে অর্পণ করুন আর ভক্তি ভরে প্রণাম করুন। যারা ব্রত পালন করছেন তাঁদেরকেও এই একই ভাবে দেবী লক্ষ্মীর প্রণাম করার কথা বলতে হবে, আর পুষ্পাঞ্জলির মধ্যে দিয়ে ভক্তি নিবেদন করতে হবে।

৩) বিভিন্ন উপাচারে লক্ষ্মী পূজা:

লক্ষ্মী পূজা পঞ্চ উপাচার, দশ উপাচার, ষোলো উপাচারে করা হয়। পূজার রীতি হিসেবে মা লক্ষ্মীর ধ্যান করতে হবে, পুজো মন্ত্র পাঠ, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও প্রণাম মন্ত্র পাঠ করতে হয় এবং অবশেষে বিসর্জন দিতে হয়।

এইসব নিয়ম গুলি পালন করার মধ্য দিয়ে আপনি নিজে থেকেই বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা সম্পন্ন করতে পারেন।

৪) গায়ত্রী মন্ত্র জপ:

স্নান করে শুদ্ধ হয়ে লক্ষ্মী পূজায় গায়ত্রী মন্ত্র ১০৮ বার জপ করতে পারেন, পূজার আরো অন্যান্য নিয়ম পালন করার পাশাপাশি এই গায়ত্রী মন্ত্র জপ করাটাও বিশেষ শুভ ফলদায়ী বলে মনে করা হয়, এর ফলে মা লক্ষ্মী অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।

৫) ঘি এর প্রদীপ, শ্বেত পদ্ম, নারকেল:

মা লক্ষ্মীর প্রতিমা অথবা পটের সামনে দুটি ঘি এর প্রদীপ জ্বালাতে পারেন, এছাড়া নয়-মুখী প্রদীপ জ্বালিয়ে দিতে পারেন। তার সাথে সাথে শ্বেত পদ্ম, নারকেল ও ক্ষীরের নৈবেদ্য অর্পণ করুন যা দেবী লক্ষ্মী কে সন্তুষ্ট করতে এবং খুশি করতে খুবই শুভ উপকরণ।

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা: আর্থিক সমস্যা দূর করতে এই কাজগুলি করুন

৬) নৈবেদ্য অর্পণ:

নৈবেদ্য হিসেবে ফল, ফুল এবং আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ অর্পণ করতে হবে। তাছাড়া মৌসুমী ফল, আঁখ, আতা এগুলি মা লক্ষ্মীর খুবই পছন্দের তাই প্রসাদে এগুলি দিতে ভুলবেন না। নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ু, গুড়ের নাড়ু নারকেল, ক্ষীর এগুলি প্রসাদে অবশ্যই রাখতে হবে।

৭) ভোগ নিবেদন:

ভোগ নিবেদনের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় লুচি ভোগ দেওয়া হয়, তার সাথে থাকে বিভিন্ন ভাজা, আলুর তরকারি এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, সুজির হালুয়া ইত্যাদি। আবার দেখা যায় কোথাও অন্ন ভোগ অর্থাৎ খিচুড়ি, তরকারি, ভাজা, চাটনি ইত্যাদি থেকে থাকে।

৮) আলপনা তে মায়ের পায়ের চিহ্ন:

আল্পনায় দেবীর পায়ের চিহ্ন আঁকলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় বলে জানা যায়। দেবীর পায়ের আলপনা হবে বাড়ির অন্দরমুখী অর্থাৎ বাইরে থেকে দেবী লক্ষ্মী বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করছে এমন ভাবে আঁকতে হবে।

বাইরের দিকে ভুলেও পায়ের আলপনা দেওয়া চলবে না, এতে কিন্তু আপনার ঘরে থাকা লক্ষ্মীও বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, তাই ঘরের মধ্যে আলপনা দেওয়ার সময় এই বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা বিধি: অভাব অনটন দূর হবে এই নিয়ম মেনে পূজা করলে

৯) লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ:

পূজা সম্পন্ন করে ভক্তি ভরে প্রণাম করুন, ব্রতকথা পাঠ করুন, লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়ুন এবং যাঁরা রয়েছেন তাঁরা কিন্তু এই লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ করতে পারেন অথবা শ্রবণ করতে পারেন।

বাড়ির যে মহিলা এই পূজায় অংশগ্রহণ করেছেন, ব্রত পালন করে, উপবাস করে, তিনি সুন্দর করে এই লক্ষ্মীর পাঁচালী মধুর কন্ঠে পাঠ করতে পারেন। যা আশেপাশের সকলের কাছে শ্রুতি মধুর হয়।

১০) প্রসাদ বিতরণ ও রাত জাগরণ:

পূজা সম্পন্ন হয়ে গেলে সকলের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করুন এবং রাত জেগে থাকার কথাটা একেবারেই ভুলে গেলে চলবে না। যে কোন কাজ হোক, গল্প গুজব হোক অথবা কোন খেলার মধ্যে দিয়ে এই রাত্রে মা লক্ষ্মী কে নিজের ঘরে বন্দী করে রাখার জন্য অবশ্যই আপনাকে ঘি এর প্রদীপ জ্বালিয়ে জেগে থাকতে হবে।

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজায় এই পদ্ধতি মানলে হবে মা লক্ষ্মীর প্রচুর কৃপা

⭐ তো এইভাবে বেশ কিছু সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি এই পূজার সকল নিয়ম মেনে নিজে থেকেই পূজা সম্পন্ন করতে পারেন। তাছাড়া বাড়ির যাঁরা বয়োজ্যেষ্ঠ রয়েছেন যাঁরা আগে থেকেই এই পূজা পালন করে আসছেন নিজেরাই, তাঁদের কাছ থেকেও আপনি কিছু নির্দেশিকা পালন করতে পারেন।

সকল নিয়ম পালন করার মধ্য দিয়ে রীতি মেনে, প্রথা অনুযায়ী নৈবেদ্য ও ভোগ অর্পণ করার সাথে সাথে আরো যা নিয়ম পালন করতে হয় সবগুলি পালন করতে পারলেই আপনার আর পুরোহিতের প্রয়োজন পড়বে না। নিজে থেকেই এই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা অনায়াসেই সম্পন্ন করতে পারবেন, মা লক্ষ্মী কে সন্তুষ্ট করার পাশাপাশি আপনার ঘরে বিরাজ করবে মা লক্ষ্মী সবসময়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *