জীবনে ৬টি কৌশল মেনে চললে কখনো ব্যর্থ হবেন না – 6 Amazing Strategies to Win

6 Amazing Strategies to Rebound From Failure in Bangla – Amazing Strategies to Win

ব্যর্থতা এমন একটি শব্দ, যা শুনতে কেউই পছন্দ করেনা। কিন্তু আমাদের জীবনে বেশিরভাগ মানুষেরই সফল হওয়ার চেয়ে ব্যর্থ হওয়ারই রেকর্ড বেশী।

কিন্তু এটা কেন? তা ভেবে দেখেছেন কি? এর কারণ আমরা আগে থেকেই নির্ধারণ করে ফেলি কোন কাজ আমাদের দিয়ে হবে, আর কোনটা হবেনা!

এজন্য কাজের ফলাফলের আগেই আমরা হাল ছেড়ে দেই, বা কাজ হবেনা ভেবে নিজের পুরোটা দিয়ে চেষ্টাই করিনা।

আমাদের ভিতর দুইটা সত্ত্বা কাজ করে, আমরা নিজেরাও জানি আমরা পরিপূর্ন চেষ্টা করিনি বা আমরা সংশয়ে ভুগেছি, কিন্তু আমাদের মনের একটি অংশ আমাদের বোঝাতে থাকে যে, আমরা আসলে সব ধরনের চেষ্টাই করেছি, এবং আসলে যত চেষ্টাই করা হোক না কেন আমরা আসলে কিছুই করতে পারতাম না।

6 Amazing Strategies to Rebound From Failure in Bangla
6 Amazing Strategies to Rebound From Failure in Bangla

ব্যাস, আমাদের হারের এটাই কারণ। যতক্ষন আপনার মস্তিষ্ক বিজয়ী হওয়ার জন্য আপনাকে যোগ্য হিসেবে মেনে নিতে না পারবে ততক্ষন পর্যন্ত আপনি কাজে ব্যর্থই হতে থাকবেন।

কারণ সফলতার জন্য যা করা দরকার তা আপনি করছেন না, বিধায় আপনার মন আপনাকে বিজয়ী ভাবছে না।

সুপ্রিয় পাঠক আজ আমরা আলোচনা করব, কিভাবে ৬ টি কৌশল প্রয়োগ করে ব্যর্থতাকে জয় করবেন।

এই কৌশলগুলি সত্যিকারভাবে কাজে লাগালে ব্যর্থতা আপনাকে আর কাবু করতে পারবে না। চলুন দেরী না করে জেনে নেয়া যাক।

 

যে ৬ টি কৌশল মেনে চললে কোন কাজেই ব্যর্থ হবেন না

 

১. নিজেকে যোগ্য ভাবুন

আপনি যোগ্যতায় যেমনই হোন না কেন, নিজেকে অযোগ্য ভাববেন না। পৃথিবীতে সব অসম্ভবই কেউ না কেউ প্রথমে সম্ভব করেছে।

আর সেই ব্যক্তিবর্গরা কখনোই অন্যের উদাহরণ দেখে দেখে কাজ করেনি, তারা নিজেরাই নিজেদের ইতিহাস রচনা করেছে।

আপনি চাইলে আপনার ইতিহাসও আপনিই রচনা করতে পারবেন। আপনার যোগ্যতার কেউ আগে একটি কাজ পারেনি বলেই আপনি পারবেন না, এমন নয়, তবে শুধু ভাবলেই হবেনা।

নিজের দূর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে।

 

২. সমালোচনাকে কাজের সহায়ক ভাবুন

অনেক সময় নিজের কমতি নিজে বোঝা যায়না। কিন্তু অন্য কেউ যখন আপনার সম্পর্কে রিভিউ দেবে তখন আপনার শক্তিশালী দিক এবং দূর্বল দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আর যখন আপনি নিজের সমালোচনা শুনলেন তখন যদি রেগে যান, বা মেনে নিতে না পারেন, তার মানে কিন্তু হেরে গেলেন।

সমালোচনাকে কাজের সহায়ক ভাবুন। কারণ এর ফলে আপনি জানতে পারছেন আপনার কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নতি করা প্রয়োজন।

এ দুনিয়ায় তারাই বড় হয়েছেন যারা সমালোচনাকে গ্রহণ করে সেটা নিয়ে কাজ করেছেন।

 

৩. কাজের বিকল্প কর্মপন্থা ভাবুন

একটি কাজ করাই যখন আপনার উদ্দেশ্য তখন কাজটি করার কিছু উপায় ভাবুন। কারণ শুধু যে এক উপায়েই কাজটি করা যাবে এমন নাও হতে পারে।

আপনি যদি কলকাতা থেকে দিল্লি যেতে চান, তাহলে প্লেনেই যেতে হবে এমন কোন কথা নেই, আপনি চাইলে ট্রেন বা অধ্যবসায় থাকলে সাইকেলেও যেতে পারেন।

মোটকথা লক্ষ্য ঠিক রেখে সম্ভব অসম্ভব, সব রকম কর্মপন্থা সম্পর্কে ভেবে রাখুন। মানুষ যা সাধারণভাবে চিন্তা করেনা, তাও আপনাকে বিকল্প হিসেবে ভাবতে হবে, তাহলেই ব্যর্থতা এড়াতে পারবেন।

 

৪. কোন কিছুতেই দমে যাবেন না

বেশিরভাগ কাজের ক্ষেত্র এবং কি কি কাজ করা যাবে, তা নিজেরাই ঠিক করে নেয়। ফলে তারা আসলে পুরো চেষ্টার আগেই হাল ছেড়ে দেয়, আর পরে নিজের ভাগ্যকে দোষ দেয়।

যেমন কেউ হয়ত ধনী হতে চান, কিন্তু ব্যবসায়ে কয়েকবার লসের পরই হাল ছেড়ে দিয়ে সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যান।

কিন্তু আরও কতভাবে যে, ধনী হওয়া যায়, সেদিকে উনি ইচ্ছা করেই চেষ্টা করেন না। আর এভাবেই নিজে থেকেই ব্যর্থতা বরণ করে নিতে হয়।

অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষিত নন, কিন্তু সামাজিক কাজের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন, সবাই তাদের একনামে চেনে।

এনারা যদি শিক্ষিত হতেন এবং ভাল চাকরি করতেন কজন মানুষ চিনত এনাদের? তাই বলা হয়ে থাকে সফল হওয়ার কোন নির্দিষ্ট কাজ বা ক্ষেত্র নেই।

যেকোন ক্ষেত্রেই মনোযোগ ও চেষ্টাই আসল শক্তি।

 

৫. কোন চেষ্টাই বাকি রাখবেন না

আমরা নিজেদের ইগো বজায় রাখতে একটি কাজ করার যতগুলো উপায় থাকতে পারে তারমধ্যে অনেকগুলোই বাদ দেই।

আর নিজেদেরকে এই বলে সান্ত্বনা দেই যে, আমি নিজেকে ছোট করতে পারবনা, বা এটা করা আমাকে মানায় না। এ জাতীয় ভুল কখনোই করবেন না।

চেষ্টা কখনো মানুষকে ছোট করেনা। আর আপনি যদি নীতি মেনে চলেন, ভাল কাজে মন থেকে চেষ্টা করেন, অতি বড় পাষন্ডও আপনাকে মন থেকে ছোট ভাবতে পারবেনা।

একটি কাজ করার সব চেষ্টাই করে দেখুন। আপনার এই অদম্য নীতিই আপনাকে সাফল্য এনে দেবে।

৬. নিজেকে পরিবর্তন করুন

আপনি যে কাজ করতে চাইছেন তারজন্য নিজেকে পরিবর্তন করার মানসিকতা রাখুন। অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা থাকে যে, নিজেকে পরিবর্তন করা অসম্মানের।

কিন্তু এটা সঠিক নয়। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, আপনার চাকরির ইন্টারভিউতে যাবার আগে রাস্তায় পোশাকে কাদা মেখে গেছে, আপনি কি সে অবস্থাতেই যাবেন? পরিষ্কার না হয়ে? অবশ্যই না।

আপনি সিনেমায় এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন, যে ঘোড়ায় চড়তে জানে, আপনি জানেন না। তাহলে না শিখেই কি অভিনয় করবেন? তেমনি সংসার শুরু করতে ভাল চাকরি প্রয়োজন, পরিণত মানসিকতা প্রয়োজন।

সেসব ছাড়াই কি সংসার শুরু করবেন? এজন্যই নিজের প্রয়োজনে সব রকম পরিবর্তনের মানসিকতাই থাকতে হবে৷ এতে নিজেকে ছোট ভাবা যাবেনা।

পরিবর্তন যদি সঠিক হয় আর আপনার আত্নবিশ্বাস থাকে, ব্যর্থতা নামক শব্দটি বেশীদিন আপনাকে পোড়াতে পারবেনা। সফলতা আসবেই।

 

উপসংহার

সুপ্রিয় পাঠক, ব্যর্থতা শব্দটার মাঝে অনেক কান্না আর হতাশা লুকিয়ে থাকে, লুকিয়ে থাকে কান্না চেপে হাসি মুখের অভিনয়, নিজেকে ব্যর্থ ভেবে রাতের পর রাত বিনিদ্র রজনী যাপনের ইতিহাস বাইরের মানুষ না জানলেও আপনি তো জানেন৷

তাই এ ইতিহাস বদলানোর দায়ও আপনার একার। আজই নেমে পড়ুন কার্যক্ষেত্রে, কৌশলী হয়ে জয় নিশ্চিত। ব্যর্থতা শব্দটা অভিধানেই থাক, আপনার জীবনে না আসুক।

চেষ্টা চালিয়ে যান, জয় আসবেই। সুপ্রিয় পাঠক, আশা করি উপরিউক্ত ৬ টি কৌশলের সাহায্যে জীবন থেকে ব্যর্থতা দূর করতে অবশ্যই সমর্থ হবেন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার অথবা কোন মতামত দেওয়ার থাকলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment