বরবটি চাষের সহজ পদ্ধতি – Yardlong Bean Cultivation Method in Bangla

বরবটি আমিষ সমৃদ্ধ একটি সবজি। প্রায় সারা বছরই এটি ফলানো যায়। তবে গ্রীষ্মকালে এটি ভালো হয়। খুব বেশি শীতে ভালো হয় না। বরবটি ভর্তা, ভাজি, তরকারি সব কিছুতেই সমান উপযোগী।


পুষ্টি গুনেও সমৃদ্ধ। খাবারে স্বাদ বাড়ানো পাশাপাশি চমৎকার কিছু পুষ্টির উৎস এটি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি থাকে। এটি চর্বি কমাতে ও সাহায্য করে থাকে।

How To Cultivate Barbati Know Method
Yardlong Bean Cultivation Method in Bangla

আমাদের বাংলাভূমি সাইটে নিয়মিত আমরা আপনাদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। এর ফলে আপনারা কৃষি জমি, শিক্ষা, অর্থনীতি এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজেনে আপনারা এ সকল তথ্য থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা আপনাদের সাথে বরবটি চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। এতে করে আপনারা সহজেই বরবটি চাষের বিস্তারিত জানতে পারবেন। চলুন দেখে নিন বরবটি চাষের পদ্ধতি বিস্তারিতঃ 

 

বরবটির জাতঃ 

বরবটি চাষ করলে ভালো জাত দেখে চাষ করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের বরবটির জাত রয়েছে। যেমন: বিএইউ বরবটি ১, কেগর নাইটি, চীনা বরবটি, ফেলন, লাল বেনী, ঘৃত কুমারি, গ্রীন লং, তকি, বনলতা ইত্যাদি।

তবে কেগর নাটকী নামে একটি উন্নত জাতের বরবটি অনেক চাষ হয়ে থাকে। কেগর নাটকী জাতটি পৌষ এবং মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। বরবটির উল্লেখ্য যোগ্য জাতের মধ্যে কেগর নাটকী ও লাল বেণী জাতের ফলণ বেশি হয় সবচেয়ে।

 

প্রয়োজনীয় জলবায়ু ও মাটি নির্বাচনঃ 

অপেক্ষাকৃত উচ্চ তাপমাত্রায় বরবটি ভালো জন্মে। তবে খুব বেশি শীত পড়লে বরবটি চাষ ভালো হয় না । কারণ শীতকালে বরবটি গাছের বৃদ্ধি কম হয় ও ফল কম ধরে। বরবটি উষ্ণ ও অবউষ্ণ অঞ্চলের ফসল।

কিন্তু বরবটি এখন সারা বছরই চাষ করা হয়। প্রায় সব ধরনের মাটিতে বরবটি সবসময় চাষ করা যায়। তবে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে বরবটির চাষের জন্য বেশি উপযোগী।

 

চাষের সময়ঃ

বরবটির বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হলো ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাস। শীতকালে বরবটির বীজ বোনা উচিত নয়।

 

বীজের পরিমাণঃ 

প্রতি শতকে ১০০-১২৫ গ্রাম এবং প্রতি হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি।

 

জমি তৈরি ও বীজ বপনঃ 

বরবটি চাষের জন্য জমি হতে হবে আগাছা মুক্ত ও ঝুরঝুরে মাটি। এর জন্য জমি ভালোভাবে কয়েক বার চাষ দিতে হবে। জমি পরিষ্কার করে ৪ থেকে ৫ টি চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করে নিতে হবে।

তারপর মাটির উপরে বেড ও মাদা তৈরি করে প্রত্যেক মাদায় ৪-৫ টি বীজ বপন করতে হবে। বীজ বপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ২-৩ হাত এবং মাদা হতে মাদার দূরত্ব হতে হবে ১ থেকে ২ হাত।

একই সময় পলি ব্যাগে কিছু চারা তৈরি করে রাখলে যেসব জায়গায় বীজ গজাবে না সেসব ফাকা জায়গায় পলি ব্যাগে চারা রোপণ করে পূরণ করা যাবে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ কেজি বা প্রতি শতকে ৪০ গ্রাম বীজ লাগে।

 

সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ 

জৈব সার বরবটি গাছের জন্য খুবই ভালো সার। অল্প সময়ে অধিক ফলন পেতে হলে অন্যান্য সার ও দিতে হবে পরিমান মতো। যেমন টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া। এসব সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে।

তবে মনে রাখতে হবে বরবটি চাষে ইউরিয়া সার কম লাগে। এছাড়া ও গোবর সার, জিপসাম সার, জিংক সালফেট সার ও বোরক্স সার দিতে হবে। ইউরিয়া সার বেশি দিলে গাছ ঝোপালো হয় ও ফলন কম হয়।

 

সেচ ব্যবস্থাপনাঃ 

জমিতে জলের যাতে অভাব না হয় সেজন্য প্রয়োজন অনুসারে শুকনার সময় জল সেচ দিতে হবে। নালার মধ্যে জল ঢুকিয়ে সেচ দিলে গাছের শিকড় সে জল টেনে নিতে পারে। এই জন্য জমিতে নালা তৈরি করে দিতে হবে।

 

আগাছা ও নিড়ানিঃ 

বৃষ্টির জল যাতে আটকে না থাকে সেজন্য নালার আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে। এবং জমি সবসময় আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে।

বিশেষ করে গাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে। বরবটির গাছ বড় হলে মাচা তৈরি করে দিতে হবে। জমিতে মাটির অবস্থা বুঝে মাঝে মাঝে সেচ দিতে হবে। জমিতে জল জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

 

রোগ বালাই দমনঃ 

বরবটি গাছে বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা যায়। যেমন জাব পোকা, বিছা পোকা, মাজরা পোকা ইত্যাদি। এ সকল পোকা বরবটি গাছের কচিপাতা, কান্ড, ফুল ও ফলের ক্ষতি করে থাকে। তাই এই সব পোকা কঠোরভাবে দমন করতে হবে ।

এ পোকা গুলো দমন করার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের কীটনাশক ঔষধ পাওয়া যায়। এছাড়াও বরবটি গাছের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে।

যেমন এনথ্রাকনোজ রোগ, পাতায় দাগ রোগ, গাছের শিকড় ও গোড়া পচা রোগ ইত্যাদি। এসব রোগ দমন করার জন্য ও বাজারে বিভিন্ন ছত্রাক নাশক পাওয়া যায়।

 

ফসল সংগ্রহ ও ফলনঃ 

বীজ বোনার ৫০-৬০ দিন পর থেকেই বরবটি সংগ্রহ করা যায়। কচি অবস্থাতেই বরবটি তোলা যায়। কারণ বেশি পুষ্ট হলে সবজি হিসেবে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায়। আর বীজের জন্য শুটি সম্পূর্ণ পেকে গেলে সংগ্রহ করতেহবে। তবে সব শুটি এক সাথে পাকে না। কয়েক বারে সংগ্রহ করতে হয়ে থাকে।

 

শতক প্রতি ফলন ৩০-৬০ কেজি, প্রতি হেক্টরে ফলন ১০-১২ টন।

 

আজ আমরা বরবটি  চাষ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আগামীতে আপনাদের সাথে বরবটি চাষ নিয়ে আরো কিছু আলোচনা করবো, তাই আমাদের পেজে নিয়মিত চোখ রাখুন। এই লেখাটি অনেকের কাজে লাগতে পারে তাই লেখাটি যতটুকু সম্ভব শেয়ার করুন। যাতে করে এই লেখা থেকে শিক্ষা নিয়ে বরবটি  চাষ করে অনেকেই আয় করার ব্যবস্থা করতে পারে।

Leave a Comment