কাস্ট সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধা | Importance of Cast Certificate

0
(0)

Importance and Benefits of Cast Certificate | কাস্ট সার্টিফিকেট কেন বানাবেন? কাস্ট সার্টিফিকেট কি কাজে লাগে? জানুন কাস্ট সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধাগুলি।

প্রতিটি মানুষের জাতিগত প্রমান পত্রের জন্য কাস্ট সার্টিফিকেট (West Bengal Cast Certificate) এর প্রয়োজনীয়তা আছে। তফসিলি শ্রেণীভূক্ত মানুষ বিশেষ করে স্কুলের ছাত্র ছাত্রী এবং সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কাস্ট সার্টিফিকেট তথা তপশিলি জাতি শংসাপত্র একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র।

Cast Certificate
Cast Certificate

বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে এবং চাকরি ক্ষেত্রে এই কাস্ট সার্টিফিকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সময়ে। তাছাড়া আমাদের এই কাস্ট সার্টিফিকেট এর আবেদনের জন্য বিভিন্ন রকম সমস্যায় পড়তে হয়।

কাস্ট সার্টিফিকেট এর প্রয়োজনীয়তা:

অন্যান্য কাগজপত্রের মত অথবা দরকারি ডকুমেন্টস এর মত কাস্ট সার্টিফিকেট একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট যার ফলে আপনি সমস্ত রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে কাজকর্ম এবং নিজের জাতিগত প্রমাণপত্র হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি।

একটি ব্যক্তি কোন জাতির অন্তর্গত এবং কোনো সুযোগ-সুবিধার জন্য সেই ব্যক্তিটি উপযুক্ত কিনা বা তার ক্ষেত্রে সেই কাজটি আছে কিনা সেটাও কিন্তু নির্ভর করে কাস্ট সার্টিফিকেট এর উপর। আবার অনেক সময় বিভিন্ন রকম ফি এর ছাড় এর ক্ষেত্রে কাস্ট সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হয়।

সাধারণ ক্যাটাগরির মানুষ যখন কোনো সুযোগ-সুবিধার অর্থাৎ কোনো কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম সমস্যায় পড়েন সেক্ষেত্রে কাস্ট সার্টিফিকেট থাকার ফলে অনেক সময় এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গে সবার কাস্ট সার্টিফিকেট থাকাটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি বিভিন্ন রকম প্রকল্প স্কিম এসবের ক্ষেত্রে আবেদন করার জন্য কাস্ট সার্টিফিকেট (Cast Certificate) থাকলে অনেকটাই সুবিধা পাওয়া যায়। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হিসেবে আপনার কাস্ট সার্টিফিকেট অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রতিটি মানুষের কাস্ট সার্টিফিকেট থাকাটা প্রয়োজনীয় তাই এখন অনেক সহজে অনলাইনে আপনি আপনার কাস্ট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতেই পারেন। সেখেত্রে খুব সহজ পদ্ধতিতে আপনি আপনার কার্ড সার্টিফিকেট কিছুদিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন।

কাস্ট সার্টিফিকেট এর সুবিধা ও লাভ :

আপনি সিডিউল ট্রাইব, সিডিউল কাস্ট, ওবিসি সার্টিফিকেট যদি করিয়ে নিয়ে থাকেন তাহলে সমস্ত রকম সুবিধা আপনি পেতে পারেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে।

স্কুল পড়ুয়াদের জন্য অথবা সমস্ত রকম ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কাস্ট সার্টিফিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন ধরুন পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো ছাড়, ভর্তি-পরীক্ষার ফি সবকিছুতে ছাড় পাওয়া যায় অনেকটাই।

শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয় পশ্চিমবঙ্গের বাহিরেও আপনি কোন সংস্থায় কাজ করার ক্ষেত্রে অথবা কোন অফিসে বিভিন্ন রকম কাজে আপনাদের কাস্ট সার্টিফিকেট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কোন কাজের ক্ষেত্রে আপনি আবেদন করতে যাচ্ছেন সেক্ষেত্রেও কিন্তু আপনার কাস্ট সার্টিফিকেট সেই কাজের প্রয়োজনে লাগতে পারে।

তাছাড়া কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি প্রকল্প চালু করেছেন সেটা নিশ্চয় আপনারা সবাই জানেন, লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প সে ক্ষেত্রে কিন্তু প্রত্যেক পরিবারের মহিলা প্রধানরা ১০০০ এবং ৫০০ টাকা করে প্রতিমাসে পাবেন।

সেক্ষেত্রে যাদের কাস্ট সার্টিফিকেট আছে তারাই কেবল মাত্র ১০০০ টাকা করে প্রতিমাসে পাবেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন কাস্ট সার্টিফিকেট থাকার ফলে আপনি কতটা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সরকারি যেকোনো কাজে এবং প্রকল্পে আপনার কাস্ট সার্টিফিকেট লাগবেই লাগবে। এবং আপনার কাছে এটা থাকাটা বিশেষ জরুরী।

বিভিন্ন রকম পড়াশোনার সুযোগ সুবিধা, পরীক্ষার সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য কাস্ট সার্টিফিকেট কিছুটা ভূমিকা পালন করে। ছাত্র-ছাত্রীদের স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য কাস্ট সার্টিফিকেট কাজে লাগে। SC/ST/OBC ক্যাটাগরির ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ এর সুবিধা।

এই কাস্ট সার্টিফিকেট এর সাহায্যে আপনি অনেক সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বিশেষ করে SC/ST সার্টিফিকেট বিবাহিত মহিলাদের করে রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রকম প্রকল্পের জন্য বিবাহিত মহিলাদের এই কাস্ট সার্টিফিকেট কাজে লাগবে।

তাছাড়া দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে এক লক্ষ বাসিন্দা পেলেন কাস্ট সার্টিফিকেট।

কাস্ট সার্টিফিকেট এর কিছু শর্ত সম্পর্কে জানা যাক:

১) আপনাকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।

২) তার সাথে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

৩) তপশিলি জাতি (SC), তপশিলী উপজাতি (ST) ওবিসি (OBC) দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র থাকতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করার জন্য এই ওয়েবসাইটে যেতে পারেন: https://www.castcertificate.wb.gov.in

অনলাইনে আবেদন (West Bengal Cast Certificate Online Application) করে আবেদন পত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট বের করে আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে জমা করতে হবে ব্লক অফিসে অথবা মহকুমাশাসক দপ্তরে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যেই কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

সেটা আপনি সংগ্রহ করে নিতে পারেন। আর আপনি যদি অনলাইনে আবেদন করতে না পারেন নিজের মোবাইল অথবা কম্পিউটার থেকে, তাহলে আপনার নিকটবর্তী ব্লক অফিস বা বি ডি ও অথবা মহাকুমা শাসক দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন।

যেকোনো ব্লক অফিসে পরিদর্শন অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ এর কাছে অথবা প্রথম প্রজন্মের ক্ষেত্রে অঞ্চল অফিসে (ব্লক এলাকার ক্ষেত্রে) যোগাযোগ করতে পারেন।আবার sub-division এলাকার ক্ষেত্রে মহকুমা শাসক দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন।

স্টেট কাস্ট সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে আপনি সমস্ত সুযোগ সুবিধা নাও পেতে পারেন। তার জন্য সেন্ট্রাল কাস্ট সার্টিফিকেট আপনার প্রয়োজন। তার জন্য আপনি অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।

কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে সমস্ত রকম সুবিধা পেতে আবেদনকারীর কাছে National Commission for Backward Classes অথবা NCBC এর ফরমেট নির্ধারিত সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক।

সুতরাং রাজ্যের ওবিসি তালিকাভুক্ত কারো কাস্ট কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় থাকলেই কেন্দ্রীয় চাকরিতে সুবিধা পাবেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন কাস্ট সার্টিফিকেট থাকাটা কতটা জরুরি।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment