Swasthya Sathi Card 2022: Registration and Apply | স্বাস্থ্য সাথী কার্ড 2022 আবেদন পদ্ধতি

Swasthya Sathi Card 2022 – SSD (স্বাস্থ্য সাথী কার্ড2022), স্বাস্থ্য সাথী কার্ড কি? এই প্রকল্পের লাভ কি? স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর জন্য কিভাবে আবেদন করবেন? এবং এই স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আরও তথ্য এখানে দেখুন।

বর্তমান সময়ে রাজ্য সরকারের যে প্রকল্প গুলি রয়েছে, তার মধ্যে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প (Swasthya Sathi Scheme) হচ্ছে একটি অন্যতম প্রকল্প। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প অথবা স্বাস্থ্য সাথী স্মার্ট কার্ড (Swasthya Sathi Card)। ২০১৬ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

swasthyasathi.gov.in Swasthya Sathi Card Apply Online
swasthyasathi.gov.in Swasthya Sathi Card Apply Online

সাধারণত কোনো ব্যাক্তি যদি কোনো বড় শারীরিক রোগের শিকার হন, সেক্ষেত্রে এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড তার হাসপাতাল অথবা নার্সিংহোমের বেশ কিছু খরচ বহন করবে। আপনার যদি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থেকে থাকে আপনি কোন বড় রোগে আক্রান্ত হলে এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর অধীনে থাকা হাসপাতাল গুলি ও নার্সিংহোম গুলিতে ভর্তি হলে আপনার রোগের চিকিৎসার মোট খরচার একটি বড় অংশ এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর মাধ্যমে প্রদান করা হবে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর কিছু বৈশিষ্ট্য:

১) প্রতিবছর একটি পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসার খরচ হিসেবে প্রদান করা হবে।

২) যতদিন কোনো রোগী কোন হাসপাতাল অথবা নার্সিংহোমে থাকবে ততদিন পর্যন্ত সমস্ত খরচ বহন করবে এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড (Swasthya Sathi Card)

৩) এই কার্ডে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে কোন বয়স সীমা থাকে না।

৪) হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ওই রোগীর গাড়ি ভাড়া বাবদ ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।

৫) এই কার্ডের মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত। প্রতিবছর নতুন করে আবার স্বাস্থ্য সাথী কার্ড রেনু করতে হবে। অথবা নবীকরণ করতে হবে।

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর আবেদন পদ্ধতি:

১) স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর জন্য আপনাকে অফলাইনে আবেদন করতে হবে।

২) স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাওয়ার জন্য ফর্ম বি (Form-B) পূরণ করতে হবে।

৩) আবেদনকারী এবং পরিবারের সকল সদস্যের নাম, ঠিকানাা, ফর্মে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

৪) আপনার বৈধ মোবাইল নম্বরটি ফর্মে লিখতে হবে।

৫) খাদ্যসাথী অথবা আধার কার্ডের জেরক্স কপি  আপনাকে জমা করতে হবে।

৬) খাদ্যসাথী অথবা আধার কার্ড যদি আপনার না থাকে, সে ক্ষেত্রে সরকারি যেকোনো পরিচয় পত্র আপনাকে জমা দিতে হবে, তবে সেখানে যেন আপনার ফটো থাকে।

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর জন্য কারা কারা আবেদন করতে পারবেন:

১) প্রথমত যে সমস্ত পরিবারের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নেই।

২) পরিবারের কোন সদস্য যদি রাজ্য সরকার কিংবা কেন্দ্র সরকারের কোন হেলথ স্কিম এ অন্তর্ভুক্ত না থাকে অথবা  ই এস আই অথবা সরকার পরিচালিত কোন হেলথ ইন্স্যুরেন্সে নাম নথিভুক্ত না থাকে, তাহলে তারা এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

৩) সরকার অথবা সরকারি সংস্থা থেকে বেতন পান অনেকে, অথচ চিকিৎসা ভাতা পান না। এমন পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর উদ্দেশ্য:

১) স্বাস্থ্যসাথী এই প্রকল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো- উন্নত মানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অথবা স্বাস্থ্যপরিসেবা সমস্ত রাজ্যবাসীর দরজায় পৌঁছে দেওয়া।

২) যে সমস্ত পরিবারের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকবে তারা কিন্তু বিনামূল্যে চিকিৎসা করার সুযোগ পাবেন।

৩) স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর পরিবার পিছুু রয়েছে ৫ লক্ষ করে টাকা।

৪) এই টাকা দিয়ে সরকারি অথবা বেসরকারি হাসপাতালে অথবা নার্সিংহোমে চিকিৎসা করানো যায়।

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ও চিকিৎসার জন্য কোন অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা:

এই ক্ষেত্রে কোন উপভোক্তার যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে-

১) জেলা সদর দপ্তরে যোগাযোগ করুন অথবা এই প্রকল্পের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট:

https://swasthyasathi.gov.in এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারেন।

২) অথবা এই প্রকল্পের কল সেন্টারে কল করতে পারেন: 1800-345-5384 (toll free) এই নাম্বারে কল করেও আপনার অভিযোগ জানাতে পারেন।

৩) তাছাড়া আরো বিশদে জানার জন্য আপনি যোগাযোগ করতে পারেন জেলা নাদাল অফিসার (DNO) ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক ও গ্রামপঞ্চায়েতে।

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড সম্পর্কে বিশেষ কিছু তথ্য:

১) হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ সরাসরি হাসপাতালকে বীমা কোম্পানিগুলো দেবে পূর্বনির্ধারিত ব্যয়ের হার অনুযায়ী।

২) স্বাস্থ্য সাথীর এই স্মার্ট কার্ড (Swasthya Sathi Card) পাওয়া যাবে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত/ ব্লক অফিস/ মিউনিসিপাল অফিস থেকে।

Swasthya Sathi Card Registration
Swasthya Sathi Card Registration

৩) স্বাস্থ্যসাথী মোবাইল অ্যাপ (Swasthya Sathi Mobile App) থেকেও নিকটবর্তী হাসপাতালের তালিকা দেখতে পারবেন অথবা ওয়েবসাইটে গিয়েও দেখতে পারেন।

৪) GPRS এর মাধ্যমে আপনি আপনার নিকটবর্তী হাসপাতালের নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করতে পারবেন।

৫) URN নাম্বার দিয়ে আপনি নিজের কার্ডের ব্যালেন্সTransaction সম্বন্ধে বিশদ তথ্য জানতে পারবেন। হাসপাতাল, ডাক্তার ও এম্বুলেন্স সম্পর্কিত তথ্য।

৬) নতুন এম্বুলেন্স নথিভুক্তকরণ এর সুবিধা পাওয়া যায়।

৭) আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন, সে সুবিধাও আছে।

৮) হাসপাতালের তালিকা বই যত্নসহকারে হাতের কাছে রাখুন।

৯) কোন অবস্থাতেই স্বাস্থ্য সাথীর এই স্মার্ট কার্ড টি পরিবারে নথিভূক্ত সদস্য ছাড়া অপর কোন ব্যক্তিকে দেবেন না, বা হস্তান্তর করবেন না।

১০) অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকলে তখনও পর্যন্ত হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার এই স্মার্ট কার্ড টি কখনোই দেবেন না।

১১) হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় আপনার মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই নথিভুক্ত করতে ভুলবেন না।

১২) হাসপাতাল থেকে ছুটি হওয়ার সময় যাতায়াতের খরচ হিসাবে টাকা চেয়ে নিন সংশ্লিষ্ট ভাউচার অথবা রেজিস্টার খাতায় সই করুন অথবা টিপ ছাপ দিয়ে দিন।

১৩) আপনার চিকিৎসা শেষে ছুটির সময় সর্বপ্রথম আপনারা স্মার্ট কার্ড টি সংগ্রহ করতে কিন্তু ভুলবেন না।

এই কার্ডের আরো অনেক রকম সুবিধা রয়েছে। যেগুলি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা প্রদান করবে। এখনো যদি আপনি স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য আবেদন করে না থাকেন তাহলে শীঘ্রই আবেদন করে দিন।

তবে একটা কথা মনে রাখবেন, এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর উপর ভিত্তি করেই কিন্তু লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প এর সুবিধা আপনি নিতে পারবেন। অথবা আপনার পরিবারের মহিলা প্রধান লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

HomeClick here
Official WebsiteClick here

Leave a Comment