গম চাষের সঠিক ও সহজ পদ্ধতি | Wheat Cultivation Method in Bangla

0
(0)

গম অতি পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত একটি খাদ্য শস্য। ধানের পরেই এর স্থান। গম থেকে তৈরি আটায় রুটি তৈরি হয়। ভাতের পরেই রুটি খাদ্যদ্রব্য হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আমাদের বাংলাভূমি সাইটে নিয়মিত আমরা আপনাদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। এর ফলে আপনারা কৃষি জমি, শিক্ষা, অর্থনীতি এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনারা এ সকল তথ্য থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন।

Wheat Cultivation Method in Bangla
Wheat Cultivation Method in Bangla

এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা আপনাদের সাথে গম চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। এতে করে আপনারা সহজেই গম চাষের বিস্তারিত জানতে পারবেন। চলুন দেখে নেই গম চাষের বিস্তারিতঃ

মাটিঃ

গম চাষে সাধারনত উচু ও মাঝারি উচু জমি বিশেষ উপযোগী। দোআঁশ মাটি বা বেলে দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। তবে এটেল দোআঁশ মাটিতে গম চাষ করা যায়। জমি সুনিষ্কাশিত হতে হবে।

বীজ বপনের সময় ঃ

সাধারনত অগ্রহায়ন মাসের ১ম সপ্তাহ থেকে ২য় সপ্তাহ পর্যন্ত গম চাষ করার উপযুক্ত সময়। তবে তাপমাত্রা সহ্য করতে পারবে এমন জাত চাষ করতে চাইলে ডিসেম্বর মাসে বপন করা যায়।

বীজের হার ঃ

এক হেক্টর জমিতে সাধারনত ১২০ কেজি বীজ বপন করা যেতে পারে। ভালো বীজ বাছাই করতে হবে যেন বীজ অঙ্কুরোদগমের ক্ষমতা ৮০ ভাগের বেশি হয়।

বীজ শোধনঃ

বীজ বপন করার আগে বীজ শোধন করে নেওয়া উচিত। তাহলে বীজ বাহিত রোগ দ্বারা আক্রান্ত হবার ভয় থাকে না।

সাধারনত প্রোভেক্স বা ভিটাভেক্স ২০০ মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। এক কেজি বীজের জন্য ৩ গ্রাম ভিটাভেক্স প্রয়োজন হয়ে থাকে। বীজ শোধন করে বপন করলে চারা গাছ সতেজ ও সবল হয়ে থাকে। এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।

জমি তৈরি ঃ

জমি ভালো ভাবে চাষ ও মই দিয়ে তৈরি করে নিতে হবে। ৩-৪ টি চাষ দিতে হবে। মাটি ঝুরঝুরা করে দিতে হবে।

বপন পদ্ধতি ঃ

বীজ সারিতে বপন করা যায়। আবার ছিটিয়ে ও বপন করা যায়। সারিতে বপন করতে হলে নালা তৈরি করতে হবে।

এক সারি থেকে আরেক সারির দূরত্ব হবে ২০ সেমি । ৪-৫ সেমি গভীর করে বীজ বপন করতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনাঃ

উন্নত ফলন পেতে হলে জমিতে সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সারের তিন ভাগের এক ভাগ, টিএসপি, এমপি ও জিপসাম সার জমি শেষ বার চাষ করার আগে জমির সাথে ভালো ভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

বাকি সার প্রথম বার সেচ দেওয়ার সময় প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে ইউরিয়া সার জমিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

এক হেক্টর জমিতে সাধারনত…

ইউরিয়া দিতে হবে ১৮০-২২০ কেজি,

টিএসপি দিতে হবে ১৪০-১৮০ কেজি,

এমপি দিতে হবে ৪০-৫০ কেজি,

জিপসাম দিতে হবে ১১০-১২০ কেজি,

গোবর সার দিতে হবে ৭-১০ টন।

জমিতে যদি বোরন সারের ঘাটতি থাকে তাহলে বরিক এসিড প্রয়োগ করতে হবে।

এছাড়া মাটির অম্লত্ব যদি ঠিক না থাকে তাহলে জমিতে ডলোচুন প্রয়োগ করতে হবে। সাধারনত ৩ বছর পর পর জমিতে ডলোচুন প্রয়োগ করা উচিত।

সেচ ব্যবস্থাপনাঃ

ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। মাটির প্রকৃতি অনুসারে জমিতে সেচ দিতে হবে। গম চাষে জমিতে সাধারনত ২-৩ টি সেচ প্রদান করতে হয়ে থাকে।

বীজ বপন করার ১৭-২১ দিন পর প্রথম সেচ দিতে হবে। তারপর যখন শীষ বের হবে তখন একবার জমিতে সেচ দিতে হবে। শেষ বার সেচ দিতে হবে যখন দানা তৈরি হবে।

তবে জমি যদি বেশি শুকনা থাকে তাহলে প্রয়োজনে আরো দু এক বার সেচ দিতে হবে। সেচ দেয়ার সময় প্রথম সেচ হালকা দিতে হবে। জমিতে অতিরিক্ত জল জমা যাবে না।

অতিরিক্ত জল থাকলে চারার পাতা হলুদ হয়ে যেতে পারে বা চারা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তা্ই জমিতে নালা তৈরি করে দিতে হবে যেন অতিরিক্ত জল বের হয়ে যায়।

আগাছা দমন ঃ

জমিতে নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে। বীজ বপন করার ২৫-৩০ দিন পর মাটিতে জো থাকা অবস্থায় আগাছা দমন করে দিতে হবে।

জমিতে নিড়ানি দিতে হবে। মাটিতে নিড়ানি দিলে মাটি আলগা হয় তার ফলে মাটিতে বাতাস চলাচলে সুবিধা হয়। এছাড়া জমিতে আগাছা দমন কারি ওষুধ ও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

অন্যান্য পরিচর্যা ঃ

বীজ বপন করার ১০-১২ দিন পর পর্যন্ত জমিতে যেন পাখি না বসে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। গম চাষে জমিতে যেন চিটা না থাকে সে জন্য জমিতে বোরাক্স প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ ও পোকা দমন ব্যবস্থাপনা ঃ

গম চাষে জমিতে সাধারনত ছত্রাক আক্রমন করে থাকে। পাতায় মরিচা রোগ ও দাগ রোগ দেখা দেয়। এসব রোগ দমনে বীজ শোধন করে নিতে হবে।

তাছাড়া জমিতে টিল্ট নামক ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া গমের জমিতে গোড়া পচা রোগ দেখা দিতে পারে। তার জন্য ভিটাভেক্স প্রয়োগ করতে হবে।

এছাড়া জমিতে রোগ ও পোকা আক্রমন করে থাকলে প্রয়োজনীয় বালাইনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ ঃ

গম পাকার পর হলুদ রঙ ধারন করে । সাধারনত চৈত্র মাসের প্রথম দিকে থেকে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে গম পরিপক্ক হয়ে থাকে। তখন ফসল সংগ্রহ করতে হবে।

ফলনঃ

উপযুক্ত উপায়ে চাষ করলে ও সঠিক যত্ন নিতে পারলে এক একর জমিতে প্রায় ১৫০০-২০০০ কেজি পর্যন্ত গম পাওয়া যেতে পারে।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment