sundarbanaffairswb.in 2022 Sundarban Affairs Department of West Bengal

West Bengal Sundarban Affairs Department: সুন্দরবন নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক অসীম সৌন্দর্য। এখানে অন্ততপক্ষে একবার ঘুরতে না গেলে যেন মন কেমন করে। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্ত বরাবর উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার পঞ্চায়েত সমিতির এলাকা নিয়ে সুন্দরবন অঞ্চল।

সুন্দরবনের ভৌগোলিক আয়তন ৯৬৩০০ বর্গ কিলোমিটার ৪২৬৫ বর্গকিলোমিটার সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বাকি অংশে মানুষের বসবাস, সুন্দরবন বলতে একসময় অনুন্নত অভাবি মানুষের বাসস্থানের ছবি ভেসে উঠত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়ে গেছে।

Sundarban Affairs Department of West Bengal - sundarbanaffairswb.in
Sundarban Affairs Department of West Bengal – sundarbanaffairswb.in

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ঘটেছে আমূল পরিবর্তন। উন্নয়ন, অগ্রগতির পথে শামিল হয়েছে সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড, দ্বীপাঞ্চল, গণমুখী উন্নয়নের জোয়ারে সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তর সুন্দরবন অঞ্চল কে আরো বেশি উন্নত করে চলেছে।

উন্নয়নমূলক কর্মসূচী গুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য রাজ্য সরকার উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগ সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করে ১৯৭৩ সালে।

সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তর (Sundarban Affairs Department) এর কাজ:

এই দপ্তর সুন্দরবনকে আরো বেশি উন্নত করার জন্য বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

#১) উন্নত কৃষি প্রযুক্তি: Advanced agricultural technology

এক ফসলি জমিকে একাধিক ফসল চাষের আওতায় আনার জন্য পর্ষদ সুন্দরবনের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক বর্গাদার ও পাট্টাদার কৃষকদের মধ্যে সুন্দরবনের উপযোগী ফসলের জন্য উন্নত বীজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বিতরণ শুরু করে।

কৃষকরা এই প্রকল্পের সুফল পান এবং রবি মৌসুমের লঙ্কা, তরমুজ ও অন্যান্য সবজি চাষের এলাকা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী সময়ে সেচ নির্ভর ফসল যেমন ডাল, তৈলবীজ, সাবু, তুলা ইত্যাদি চাষে বিশেষ জোর দেয়া হয়।

এর সাথে সাথে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করার লক্ষ্যে, স্থানীয়ভাবে কৃষক প্রশিক্ষণ শিবির, আলোচনা সভা, ইত্যাদি সংঘটিত হয়।

#২) বিশ্বব্যাংকের সাহায্য: World Bank assistance

বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে সুন্দরবন এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে অনেক স্লুইসমাস্টার স্লুইস নির্মাণ করা হয়। এর ফলে বর্ষাকালে জমিতে অতিরিক্ত জমা জল খুব তাড়াতাড়ি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেছে।

#৩) জল সংরক্ষণ: Water conservation

সুন্দরবন এলাকায় বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৮০০ মিমি, যার বেশিরভাগটাই নদী ও সমুদ্রে অপচয় হয়। সেই অতিরিক্ত জল সংরক্ষণ ও ভূমি উন্নয়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু উদ্দেশ্য মূলক প্রকল্পের কাজ এই বিভাগ হাতে নিয়েছে।

কৃষকের জমির অংশে পুকুর কেটে জল ধারনের ব্যবস্থা করা ও সন্নিহিত জমিকে উন্নত করার মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ পরিকাঠামো নির্মাণ এর একটি প্রকল্প ব্যাপকভাবে রূপায়িত করার কাজ চলছে।

এই ক্ষুদ্র সেচ ব্যবস্থা যেমন সুন্দরবনের কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে, তেমনি অন্যদিকে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

পরিকাঠামো উন্নয়ন: Infrastructure development

#১) যোগাযোগ ব্যবস্থা: Communication system

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানোর জন্য চার ধরনের রাস্তা নির্মাণ করে আসছে, যেমন ইট পাতা রাস্তা, মোরামের রাস্তা, কংক্রিটের রাস্তা এবং পিচের রাস্তা। দ্বীপাঞ্চল যেখানে ভারী যানবাহন চলাচল করে না, সেই সমস্ত এলাকায় সব ঋতুতে ব্যবহার উপযোগী তিন ধরনের রাস্তা হওয়ার কাজ চলছে। স্থানীয় শ্রমিকদের সাহায্যে এগুলি নির্মাণ ও সংস্কার করা যায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের যাতায়াত ও মালপত্র আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা হয়েছে। নদী পথের যাত্রী সাধারণের যাতায়াত ও মালপত্র ওঠানো-নামানোর জন্য পর্ষদ ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ টি জেটিঘাট নির্মাণ করেছে।

#২) সেতু নির্মাণ: Bridge construction

সুন্দরবন অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নির্মীয়মান সেতু হলো রায়দিঘি-কঙ্কন দিঘী সেতু, গঙ্গাধরপুর – আঢ্য বাজার, এবং ক্যানিং – বাসন্তী সংযোগকারী মাতলা নদীর উপর সেতু। এগুলো ছাড়াও ছোট মজা নদী ও খালের উপর অনেকগুলি কালভার্ট ও সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

#৩) পানীয় জলের ব্যবস্থা: Drinking water system

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানীয় জল টা অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। পানীয় জল সরবরাহ সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা। ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ৮৫০ থেকে ১৪৫০ ফুট নিচে। জল তোলার জন্য খরচ টা হয় বেশি।

সেজন্য পানীয় জলের নলকূপ স্থাপন প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে সরকারের হাতে ন্যস্ত। সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ ২০০০ থেকে ২০০১ সালের আর্থিক বছর থেকে নলকূপ বসানোর কাজ হাতে নিয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০০৬ আর্থিক বছর পর্যন্ত ৯৭৫ টি নলকূপ বসানো হয়েছে।

আরো নলকূপ খননের কাজ চলছে। সুন্দরবনের মানুষের অভিজ্ঞতায় এই নলকূপ গুলির জল পানীয় হিসেবে নির্ভরযোগ্য এবং এগুলির স্থায়িত্বও অপেক্ষাকৃত বেশি। পানীয় জলের এই সুবিধার জন্য সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষজন ভীষণ ভাবে উপকৃত এবং খুশি।

#৪) বিদ্যুৎ: Electrical system

বিদ্যুৎ সম্পসারণের জন্য সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তর ওয়েবরেডা’র সঙ্গে যৌথভাবে অনেক কাজ করেছে। যেসব অঞ্চলে প্রচলিত বিদ্যুৎ পৌঁছানো অদূর ভবিষ্যতে সম্ভব হবে না, সেখানে অপ্রচলিত বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপায়ণ হয়েছে।

বিদ্যালয়, হোস্টেলে, ৩০০ টি ও অপ্রচলিত আলোর সংস্থান করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের জেটিঘাট, গুরুত্বপূর্ণ বাজার, গঞ্জ, হাসপাতাল, পবিত্র স্থানে, ২৫০ টিরও বেশি সৌর আলো অর্থাৎ সোলার সিস্টেম বসানো হচ্ছে।

Sundarban Affairs Department এর ওয়েবসাইট:

এই ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটটি হল: www.sundarbanaffairs.wb.in ওয়েবসাইটের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন রকমের সুন্দরবনের উন্নয়নের কাজকর্ম প্রকল্প সম্পর্কে অবগত থাকা যায়।

Sundarban Affairs Department এর ওয়েবসাইটের কাজ:

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের এই ডিপার্টমেন্ট এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের জন্য বিভিন্ন রকমের প্রকল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, স্কুল, সমস্ত রকম সুযোগ-সুবিধা, প্রদান করার মাধ্যমে যেভাবে উন্নতি সাধন করে চলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য www.sundarbanaffairs.wb.in এই ওয়েবসাইটের মধ্যে দিয়ে সার্চের মাধ্যমে জানা যায়।

Sundarban Affairs Department of West Bengal
Sundarban Affairs Department of West Bengal

এই সমস্ত কর্মসূচি প্রণয়ন ও রূপায়নে অন্যান্য সরকারি বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সমন্বয় ও সহযোগিতায় গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই এলাকার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও সুসংহত করার জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের উন্নয়নের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করা ও সচেতন করার কাজ পুরোদমে চলছে।

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ, অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক এবং সামাজিক অবস্থাকে আরো নিম্নমুখী করে তুলেছিল। ফলে অন্নসংস্থান এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মানুষেরা এসে ভিড় জমিয়েছিল শহরের ফুটপাতে। সুন্দরবনের মধ্যে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আর্থসামাজিক অবস্থার পার্থক্য বৃদ্ধি পাচ্ছিল দ্রুত।

এছাড়াও সাক্ষরতার হার রাজ্যের গড়ের কাছাকাছি থাকলেও কোন কোন ব্লকে এই হার অনেক বেশি। তবে নারী সাক্ষরতার হার এ কোন কোন ব্লগ অনেক পিছিয়ে। মাথাপিছু আয় রাজ্যের গড় মাথাপিছু আয়ের চেয়ে অনেক কম। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানকারী জনসংখ্যার হার উপরের দিকে।

এই মত অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তর (Department of Sundarbans Affairs) সুন্দরবনকে আরো বেশি উন্নত করার জন্য একের পর এক প্রকল্প, আর্থিক সহযোগিতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার ফলে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ আজ অনেকটাই উন্নত।

Sundarban Affairs Department এর কিছু তথ্য:

এই ডিপার্টমেন্টের Minister-in-Charge:

শ্রী বঙ্কিম চন্দ্র হাজরা

ঠিকানা: ময়ূখ ভবন, (Top Floor), সল্ট লেক সিটি, কলকাতা 700091

ফোন নাম্বার: 2321 8238

ফ্যাক্স: 2337 3544

ইমেইল এড্রেস: [email protected]

এই ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, (Additional Charge)

ঠিকানা: ময়ূখ ভবন, ( 1st Floor), সল্ট লেক সিটি, কলকাতা 700091

ফোন নাম্বার: 2334 97 69/ 2321 8238

ফ্যাক্স: 2334 97 69

ইমেইল এড্রেস: [email protected]

এই ডিপার্টমেন্টের Nodal অফিসার:

NA

ঠিকানা: ময়ূখ ভবন, Ground floor, DF Block, Salt Lake City, Kolkata- 700091

ফোন নাম্বার: 2359 84 72, 2334 9770

ফ্যাক্স: 23 5984 72

ইমেইল এড্রেস: [email protected]

Official WebsiteClick here
HomeClick here

Leave a Comment