মাসকলাই ডাল চাষের সঠিক ও সহজ পদ্ধতি | Vigna Mungo Cultivation Method in Bangla

0
(0)

মাসকলাই ডাল একটি বহুল পরিচিত ডাল। এটি সাধারনত মাছ দিয়ে রান্ন করা হয়ে থাকে। বাজারে এর চাহিদা প্রচুর। ডাল ছাড়া ও এটি কাচা অবস্থায় পশু খাদ্য হিসেবে এবং সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Vigna Mungo Cultivation Method in Bangla
Vigna Mungo Cultivation Method in Bangla

আমাদের বাংলাভূমি সাইটে নিয়মিত আমরা আপনাদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। এর ফলে আপনারা কৃষি জমি, শিক্ষা, অর্থনীতি এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনারা এ সকল তথ্য থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা আপনাদের সাথে মাসকলাই চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। এতে করে আপনারা সহজেই মাসকলাই চাষের বিস্তারিত জানতে পারবেন।

জমি ও মাটি ঃ

মাসকলাই চাষে জমি সুনিষ্কাশিত হতে হবে। সাধারনত দোআঁশ, বেলে দোআঁশ বা পলি দোআঁশ মাটি মাসকলাই চাষে বিশেষ উপযোগী।

উচু ও নিচু প্রায় সব জমিতেই মাসকলাই চাষ করা সম্ভব তবে জমি সুনিষ্কাশিত হতে হবে। জমিতে জল জমে থাকা যাবে না। উষ্ণ ও শুকনা মৌসুমে মাসকলাই ভালো ফলন দেয়।

জমি তৈরি ঃ

মাসকলাই চাষের জন্য জমি খুব ভালোভাবে তৈরি করতে হয়। জমির মাটি ভালো ভাবে চাষ দিয়ে মিহি করে নিতে হয়।

মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী জমিতে ২-৩ টি আড়াআড়ি চাষ দিতে হবে ও মাই দিয়ে মাটি সমান করে নিতে হবে।

বীজ বপনের সময়ঃ

সাধারনত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি পয©ন্ত মাসকলাই বীজ বপন করা হয়ে থাকে।

বীজের হার ঃ

ছিটিয়ে বপন করলে প্রতি হেক্টরে ৩৫-৪০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়ে থাকে। সারিতে বপন করলে প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়ে থাকে।

বীজ বপন পদ্ধতি ঃ

মাসকলাই এর বীজ সাধারনত ছিটিয়ে বা সারিতে বপন করা যায়। তবে ছিটিয়ে বপন করার চেয়ে সারিতে বপন করা ভালো। এতে বীজের অপচয় কম হয়।

সারিতে বপন করার ক্ষেত্রে এক সারি থেকে আরেক সারির দূরত্ব ৩০ সেমি হতে হবে। বীজ ২-৩ সেমি গভীরে বপন করতে হবে।

ছিটিয়ে বীজ বপন করার ক্ষেত্রে বীজ বপনের পর জমিতে মই দিয়ে বীজ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

বীজ শোধন ঃ

বীজ বপন করার আগে বীজ শোধন করে নেয়া ভালো তাহলে বীজে রোগের আক্রমন কম হয়ে থাকে। এবং চারা মারা যাওয়ার হার কম হয়।

সার ব্যবস্থাপনা ঃ

উন্নত ফলন পেতে হলে জমিতে নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হবে।

প্রতি হেক্টর জমিতে ইউরিয়া দিতে হবে ৪০-৪৫ কেজি,

টিএসপি দিতে হবে ৮৫-৯৫ কেজি,

এমপি দিতে হবে ৩০-৪০ কেজি ও অনুবীজ সার দিতে হবে ৪-৫ কেজি।

সার প্রয়োগের নিয়ম ঃ

জমি তৈরি করার পর শেষ চাষ দেওয়ার সময় জমিতে সার প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে জীবাণুসার প্রয়োগ করা হয়ে থাকলে ইউরিয়া সার দেওয়ার দরকার হয় না।

তবে এক কেজি বীজের জন্য অনুবীজ সার দিতে হবে ৮০ গ্রাম। সার প্রয়োগ করার পর প্রয়োজনে জল সেচ দিতে হবে।

সেচ প্রয়োগ ঃ

মাটিতে রসের ঘাটতি হলে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। বীজ বপন করার সময় মাটিতে যদি রস কম থাকে তাহলে হালকা সেচ দিতে হবে। এতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হবে।

জমিতে সেচ দেয়ার পর জো আসলে জমির উপরের মাটি ভেঙে দিতে হবে। তবে জমিতে যেন জল জমে না থাকে সে দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

মাসকলাই গাছ খুব বেশি খরা আবার খুব বেশি জলাবদ্ধতা কোনটাই সহ্য করতে পারে না। তাই জমিতে জল জমে থাকলে তা নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রয়োজনে নালা তৈরি করে দিতে হবে অতিরিক্ত জল বের হয়ে যাওয়ার জন্য।

আগাছা দমন ঃ

জমিতে নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে। বীজ বপন করার ২০ দিন পর একবার আগাছা দমন করতে হয় । প্রয়োজনে নিড়ানি দিতে হবে।

ফসল যখন বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করবে তখন একবার আগাছা দমন করে দিতে হবে।

রোগ ও পোকা দমন ব্যবস্থাপনাঃ

মাসকলাই পাতার দাগ রোগ দেখা যায়। এই রোগ দেখা দিলে পাতার উপর ছিদ্র দেখা যায়। এ রোগ দমনে ব্যাভিস্টিন নামক ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়া মাসকলাই গাছে পাউডার মিলডিউ নামক এক ধরনের রোগ আক্রমন হয়ে থাকে। এই রোগ সাধারনত শুষ্ক মৌসুমে বেশি হয়ে থাকে।

সাধারনত অশোধিত বীজ , পরিত্যক্ত গাছের অংশ বা বাতাসের মাধ্যমে এই রোগ হয়ে থাকে। এই রোগ দমনে জমিতে টিল্ট ব্যবহার করতে হবে।

মাসকলাই এর হলদে মোজাইক রোগ হয়ে থাকে। এসব রোগ হলে আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

ফসল সংগ্রহঃ

একবার সংগ্রহ করা হয় মে মাসের শেষ দিকে আর  আরেক বার ফসল সংগ্রহ করা হয় অক্টোবর মাসের শেষ দিকে। ফসল পরিপক্ক হবার পর তা সংগ্রহ করতে হবে ।

সাধারনত সকালের দিকে ফসল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। জাতের ভিন্নতা অনুযায়ী কোন কোন জাতে ১ বার বা কোন কোন জাতে ২-৩ বার ফসল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

পরিপক্ক ফল হাত দিয়ে সংগ্রহ করা যায়। আবার গাছের গোড়া কাচি দিয়ে কেটে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

ফসল সংগ্রহ করার পর গাছ গুলো রোদে শুকাতে হয় তারপর লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ডাল আলাদা করা হয়ে থাকে। গরু দিয়ে মাড়াই করে ও ফসল আলাদা করা যায়। বীজ ভালো ভাবে রোদে শুকিয়ে তারপর সংরক্ষণ করতে হবে।

ফলনঃ

সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারলে জাত ভেদে গড়ে প্রতি হেক্টরে ১.৫-২ টন ফসলের ফলন হয়ে থাকে ।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment