ভ্যালেন্টাইনস ডে 2023: ইতিহাস ও কেন পালন করা হয়? | Valentine’s Day 2023: History and Significance

ভ্যালেন্টাইনস ডে 2022 (Valentine’s Day 2022 Date Time and Significance) 2022 ভ্যালেন্টাইনস ডে ইতিহাস এবং জানুন ভ্যালেন্টাইনস ডে কেন পালন করা হয়? ভ্যালেন্টাইনস ডে তাৎপর্য কি? ভারতীয়দের জন্য ভ্যালেন্টাইনস ডে গুরুত্ব কতটা? জানুন সবকিছু এখানে।

Valentines day অর্থাৎ ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে সকলেই কম বেশি জানেন, তবে এর পিছনে লুকিয়ে আছে এক লম্বা ইতিহাস। ফেব্রুয়ারি মাস পড়ে গেলেই আমরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকি। এক সপ্তাহ ধরে চলে ভালোবাসার সপ্তাহ এবং লাস্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে দিয়ে এই এক সপ্তাহ সম্পূর্ণ হয়।

ভ্যালেন্টাইনস ডে ইতিহাস ও তাৎপর্য - Valentine's Day History and Significance
ভ্যালেন্টাইনস ডে ইতিহাস ও তাৎপর্য – Valentine’s Day History and Significance

এটি একটি বার্ষিক উৎসব যা কিনা ১৪ ই ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়। ভালোবাসা এবং অনুরাগের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে। প্রথমদিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক একজন খ্রিস্টান শহীদকে সম্মান জানাতে খ্রিস্ট ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল।

ফেব্রুয়ারি মাস মানেই প্রেমের মাস। হাতে লাল গোলাপ, মনে অফুরন্ত ভালোবাসা ও আনন্দ এই সবকে সঙ্গে করে শুরু হয়ে যায় বছরের প্রেম পার্বণ অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন। রোজ ডে দিয়ে শুরু হয় এই ভ্যালেন্টাইনস ডের উৎসবটি। এরপর আসে প্রপোজ ডে, চকলেট ডে, প্রমিস ডে, হাগ ডে, কিস ডে, এবং সবার শেষে আসে ভ্যালেন্টাইনস ডে।

তবে পরবর্তীতে সবাই ঐতিহ্যের ছোঁয়ার মধ্যে দিয়ে এটি বিভিন্ন দেশে আস্তে আস্তে প্রেম ও ভালোবাসার সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং বাণিজ্যিক একটি আনুষ্ঠানিক দিবসে পরিণত করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়ে থাকলেও অধিকাংশ দেশেই কিন্তু দিনটি ছুটির দিন নয়।

প্রতি বছর ১৪ ই ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে কিছু দেশ বাদে পালিত হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে। এই দিনটিতে প্রত্যেকেই তাদের প্রিয়জনের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে থাকেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ এটা মনে করেন যে, এই দিনটি কেবলমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকা ও দম্পতিদের জন্য, এটা কিন্তু একেবারেই সত্য নয়।

এই দিনে আপনি আপনার পরিবারের আরো অন্যান্য সদস্যদের শুভেচ্ছা জানাতেই পারেন। সে যে কেউ হতে পারে, আপনার বন্ধু-বান্ধব ভাই-বোন এবং আরো অন্যান্য ব্যক্তি যারা আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভ্যালেন্টাইনস ডে এর ইতিহাস:

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ভ্যালেন্টাইনস ডে এর ইতিহাস সম্পর্কে: 

২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন, তৎকালীন রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্রডিয়াস তাকে বন্দী করে দেন, কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করা নিষিদ্ধ ছিল।

তবে বন্দি অবস্থায় তিনি কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এর ফলে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন এর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। আর তাই তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিনটি ছিল ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, তাই দিনটি ভ্যালেন্টাইনস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আরো একটি কাহিনী অনুসারে জানা যায় যে, দ্বিতীয় ক্লডিয়াস একজন রোমান সম্রাট যিনি বিশ্বাস করতেন যে, অবিবাহিত সৈন্যরা বিবাহিতদের থেকে বেশি দক্ষ এবং শক্তিশালী। তাই তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তিনি একটি আইন তৈরি করেন, যাতে বলা ছিল সেনাবাহিনীতে চাকরি করা যুবকেরা বিয়ে করতে পারবে না।

এর ফলে ধর্মযাজক সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন যখন এই আইন সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই আইনটি একেবারেই অন্যায় ভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাই যে সকল সৈন্যরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চান তাদের জন্য গোপনে বিবাহের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

এর পাশাপাশি তিনি অন্যান্য মানুষদের মধ্যেও ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছিলেন। খুব তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় ক্লডিয়াস সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের এই কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং valentine কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশ দেন।

যিনি প্রেমের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন সেই  ভ্যালেন্টাইন এর আত্মত্যাগকে স্বীকার করে সেখানকার স্থানীয় মানুষজনেরা তার উদ্দেশ্যে একটি দিন উৎসর্গ করার কথা ভেবেছিলেন। আর সেই অনুসারে তার মৃত্যু দিন অর্থাৎ ১৪ ই ফেব্রুয়ারি এই দিনটি তাকে উৎসর্গ করা হয় ভ্যালেন্টাইন ডে অথবা ভালোবাসা দিবস হিসাবে।

এছাড়া খ্রিস্টান জগতে পাদ্রি, সাধু সন্তাদের জন্য এই ধরনের অনেক দিবস রয়েছে। যেমন ধরুন ২৩ এপ্রিল সেন্ট জজ দিবস, ১১ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন দিবস, ১ লা নভেম্বর আল সেন্টম দিবস, ২৪ শে আগস্ট সেন্ট ব্যর্থলোমিসম দিবস ইত্যাদি। পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্মদিনের উৎসব, ধর্ম উৎসব, সব ক্ষেত্রেই কিন্তু ভোগের বিষয়টি মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

সেই কারণে গির্জা তেও মদ্যপানের বিষয়টি তাদের কাছে কোন ব্যাপারই নয়। দিবসের চেতনা বিনষ্ট হওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার দ্বারা ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ইংল্যান্ডের ক্ষমতাশীল পিওরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এই দিবস উদযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে দিবস প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে পাকিস্তানও কিন্তু ২০১৭ সালে ইসলাম বিরোধী হওয়ার জন্য ভ্যালেন্টাইন উৎসব দিবসকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল সেই দেশের আদালত। তবে বর্তমান কালে পাশ্চাত্যে এই উৎসব প্রথম সময় হতে উদযাপন করা হয়।

এই দিনটি যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই ভালোবাসা দিবসের জন্য। কার্ড, ফুল, চকলেট এবং আরো অন্যান্য উপহার সামগ্রী ও শুভেচ্ছা বার্তার জন্য কার্ড কেনা এবং আনুমানিক প্রায় ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান প্রদান করা হয়।

Valentine day যে সমস্ত দেশে নিষিদ্ধ: 

এই দিনটি যেহেতু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর মৃত্যু দিন হিসাবে ইতিহাসে বর্ণিত রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে এই দিবসটি পালন করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সবার শেষে পাকিস্তান জনসম্মুখে ভালোবাসা দিবস পালন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

ইসলাম পরিপন্থী বিধায় এর আগে ইন্দোনেশিয়া ভালোবাসা দিবস পালন নিষিদ্ধ করেছিল। ২০০৯ সাল থেকে ইরানে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন ধরুন ফুল এবং কার্ড আদান প্রদান করা এগুলি নিষিদ্ধ করেছিল।

আমরা কেন ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করি?

Valentines day শুধুমাত্র একটা দিন নয়, আগের ছটা দিন ও এর মধ্যে পড়ে। পঞ্চদশ শতাব্দীতে প্রেম নিবেদনের জন্য “ভালোবাসা” শব্দটি প্রেমের কবিতা এবং গল্পগুলিতে ব্যবহার করা হতো।

ভ্যালেন্টাইন নাম সহ বেশ কয়েকটি বই, গল্প এবং কবিতা আকারে ১৮০০ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং যুব সমাজের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং সেটি ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে লেখা গুলি গ্রিটিংস কার্ড এর মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে।

এই দিনটির প্রধান উদ্দেশ্য হল নিজের সমস্ত প্রিয়জনকে কয়েকটা দিন উৎসর্গ করা, যারা আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। সেই সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতি নিজের যে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা রয়েছে সেটা প্রকাশ করার জন্য মানুষ সাধারণত এই দিনগুলি উদযাপন করে থাকেন।

বিশেষ করে ভ্যালেন্টাইনস ডে, এই উদযাপন চলে টানা সাত দিন ধরে। পুরো সপ্তাহটাকে valentine’s সপ্তাহ হিসেবে সবাই ধরে নেন। তার পাশাপাশি একে অপরকে উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন।

তবে যাই হোক না কেন, valentines day উপলক্ষে চারিদিক আলোক শয্যায় সেজে ওঠে। প্রিয় মানুষটির জন্য সুন্দর উপহার দেওয়ার ধুম পড়ে যায় সকলের মধ্যে। অনেকে কেক কাটেন, আবার অনেকেই নিজের ভালোবাসা জানানোর জন্য এই দিনটিকেই বেছে নেন। প্রপোজ ডে তেও অনেকেই তার ভালোবাসার মানুষটিকে প্রপোজ করে থাকেন।

তবে ভ্যালেন্টাইন্স ডের সাথে লাল গোলাপ, লাভ কুশান, কেক, উপহার, গ্রিটিংস কার্ড, চকলেট এগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বহুদিন আগে থেকে আজও এই দিনটি অর্থাৎ ১৪ ই ফেব্রুয়ারি মানেই ভালোবাসার দিন।

Leave a Comment