টমেটো চাষের সঠিক ও সহজ পদ্ধতি – Tomato Cultivation Method in Bangla

টমেটো খুব পুষ্টিকর একটি সবজি। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি রয়েছে। টমেটো কাঁচা ও পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়।

টমেটো থেকে বিভিন্ন জ্যাম, জেলী, সস, কেচাপ, আচার তৈরি হয়। সালাদ হিসেবে টমেটো ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া রূপচর্চায় ও এর ভালো ব্যবহার আছে।

Tomato Cultivation Method in Bangla
Tomato Cultivation Method in Bangla

আমাদের বাংলাভূমি সাইটে নিয়মিত আমরা আপনাদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। এর ফলে আপনারা কৃষি জমি, শিক্ষা, অর্থনীতি এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে থাকেন।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনারা এ সকল তথ্য থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা আপনাদের সাথে টমেটো চাষের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

এতে করে আপনারা সহজেই টমেটো চাষের বিস্তারিত জানতে পারবেন। চলুন দেখে নিন টমেটো চাষের পদ্ধতি বিস্তারিতঃ

মাটিঃ

টমেটো চাষে আলো বাতাসপূর্ণ জমি বাছাই করতে হবে। সাধারনত উর্বর দোআঁশ মাটি টমেটো চাষে বিশেষ উপযোগী।

তবে ঠিক মত পরিচর্যা করতে পালে বেলে দো আঁশ মাটি বা এটেল দো আঁশ মাটিতে ও টমেটো চাষ করা যায়।

টমেটো চাষে মাটির অম্লতা ৬-৭ হতে হবে। প্রয়োজনে মাটিতে চুন প্রয়োগ করে অম্লতা ঠিক করতে হবে।

চাষের মৌসুমঃ

টমেটো চাষে একটু সময় লাগে। বীজ বপন করার পর থেকে ফল পাকার আগ পর্যন্ত ১০০ দিন সময় লাগে।

জাত অনুযায়ী ফল ধারন বিভিন্ন হতে পারে। বর্ষার সময়ে চাষ করতে হলে এপ্রিল মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত বীজ বপন করা যায়। আগাম জাতের জন্য বপন করতে হবে জুলাই মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত।

শীতকালীন চাষের জন্য বপন করতে হবে সেপ্টেম্বর মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত।

বীজতলা তৈরিঃ

বীজ বপন করার আগে বীজতলা তৈরি করে নিতে হবে। বীজতলা তৈরি করতে হবে চারা তৈরি করার প্রায় ২ মাস আগে।

বীজতলা তৈরির সময় এতে প্রয়োজনীয় জৈবসার প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে এতে অন্যান্য সার ও প্রয়োগ করতে হবে।

বীজ শোধনঃ

বীজ বপন করার আগে বীজ শোধন করে নিতে হবে। এতে বীজবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

বীজ শোধন করার জন্য ব্যাভিস্টিন প্রয়োগ করতে হবে।

বীজের পরিমানঃ

এক শতাংশ জমিতে সাধারনত ১ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হয়ে থাকে।

এক হেক্টর জমিতে প্রাম ২০০ গ্রাম বীজ বপন করা যায়।

বীজ বপনঃ

বীজবপন করার আগে সুস্থ বীজ বাছাই করতে হবে। এক হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করার জন্য প্রায় ২০-২২টি বীজতলা প্রয়োজন হয়ে থকে।

বীজতলার দৈর্ঘ্য হবে ১ মিটার ও প্রস্থ হবে ৩ মিটার। চারা গজানোর পর প্রতিটি বীজতলায় ৪ সেমি দূরে দূরে একটি করে চারা রোপন করতে হবে।

বীজতলা যেন অতিরিক্ত রোদ বা বৃষ্টির কবলে না পড়ে সে জন্য উপরে আচ্ছাদন এর ব্যবস্থা করতে হবে।

Tomato Cultivation Method
Tomato Cultivation Method

জমি তৈরিঃ

জমি ভালো ভাবে চাষ ও মই দিয়ে তৈরি করে নিতে হবে। মাটি ঝুরঝুরা করে দিতে হবে।

চারা রোপনঃ

চারার বয়স ২৫-৩০ দিন হলে মূল জমিতে রোপন করতে হবে। বীজতলা থেকে চারা খুব যত্ন নিয়ে তুলতে হবে।

কোন ভাবেই যেন চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে যেন মাটি নরম থাকে।

বেড তৈরি করে চারা রোপন করতে হবে। বেড এ সারি তৈরি করতে হবে। এক সারি থেকে আরেক সারির দূরত্ব হবে ৬০ সেমি এবং এক চারা থেকে আরেক চারার দূরত্ব হবে ৬০ সেমি।

চারা রোপন করার ক্ষেত্রে ত্রিভুজ আকৃতিতে রোপন করা যেতে পারে। চারা সাধারনত বিকেল বেলা রোপন করা উত্তম।

চারা রোপন করার পর জমিতে হালকা সেচ প্রদান করতে হবে।

সার প্রয়োগঃ

উন্নত ফলন পেতে হলে জমিতে পর্যাপ্ত সার প্রয়োগ করতে হবে। তাছাড়া টমেটো গাছ প্রচুর পরিমানে খাদ্য গ্রহন করে থাকে।

তাই জমিতে প্রচুর সার থাকা উচিত। সাধারনত এক হেক্টর জমিতে গোবর দিতে হবে ৮-১২ টন।

ইউরিয়া দিতে হবে ৫০০-৬০০ কেজি, টিএসপি দিতে হবে ৪০০-৫০০ কেজি, এমওপি দিতে হবে ২০০-৩০০ কেজি।

সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

অর্ধেক গোবর সার ও সবটুকু টিএসপি সার জমি শেষ বার চাষ দেওয়ার সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।

বাকি গোবর সার চারা লাগানোর সময় গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ও এমপি সার কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।

সাধারনত চারা লাগানোর ১৫ দিন পর ও ৩০ দিন পর সার উপরি প্র্রয়োগ করতে হবে। জমিতে সার প্রয়োগ করার পর প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে।

সেচ ব্যবস্থাপনাঃ

ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে হবে। জমিতে যেন প্রয়োজনীয় রস থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

জমিতে যেন জল জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে নালা তৈরি করে দিতে হবে যেন অতিরিক্ত জল বের হয়ে যায়।

Tomato Cultivation
Tomato Cultivation

আগাছা দমনঃ

জমিতে যেন আগাছা না জন্মে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আগাছা গাছের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় ও মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান শোষন করে থাকে।

টমেটো গাছ যেহেতু অধিক পুষ্টি গ্রহন করে থাকে তাই জমিতে আগাছা থাকলে তার পুষ্টি হ্রাস পাবে। তাই জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।

রোগ ও পোকা দমন ব্যবস্থাপনাঃ

জমিতে রোগ ও পোকা আক্রমন করে থাকলে প্রয়োজনীয় বালাইনাশক ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে

ফসল তোলাঃ

ফসল পরিপক্ক হলে তা সংগ্রহ করতে হবে। ফলের নিচ থেকে ফুল ঝরে যাবার পর একটা দাগ থাকে, সেখানে যখন লালচে ভাব দেখা যায় তখন ফসল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।

ফলনঃ

সঠিক উপায়ে চাষ করতে পারলে জাত ভেদে এক একর জমি থেকে প্রায় ১৫-৩০ টন টমেটো পাওয়া যায়।

Leave a Comment