জীবনে যেসব বিষয়গুলোকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়!

জীবন আমাদের সবার কাছেই অনেক সুন্দর ও উপভোগ্য। আমরা সবাই জানি পৃথিবীতে আমরা অতিথি হয়ে এসেছি। একদিন সবাইকেই চলে যেতে হবে প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে। কিন্তু যতক্ষণ আমরা পৃথিবীতে আছি, আমরা বেশিরভাগ সময়ই নানান বিষয় নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আর হতাশায় ভুগে থাকি।

বিভিন্ন কারণে নিজেদের এই স্বল্প সময়টাকে আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে নষ্ট করে থাকি। যা আমাদের জন্য কোন সুফল তো বয়ে আনেই না, বরং আমরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি, নিজেদের ছোট মনে করি, এবং কাজে কর্মে উৎসাহ হারিয়ে ফেলি।

আমাদের একটি জিনিস বুঝতে হবে, আমরা যত কিছুই পেতে চাই না কেন, কিছু বিষয় কখনোই আমাদের হাতে নয়, আর তাই সবকিছুকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের সুন্দর সময় নষ্ট করার কোন মানেই হয়না। আমাদেরকে জানতে হবে জীবনে কোন বিষয়গুলোকে মোটেই গুরুত্ব দেওয়া যাবেনা।

সুপ্রিয় পাঠক,  এতক্ষনে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন আমাদের আজকের আয়োজন সাজানো হয়েছে জীবনে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া যাবে এই বিষয়ে আলোচনা নিয়ে। চলুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

জীবনে যেসব বিষয়গুলোকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়:

১. অন্যায় সমালোচনা

অনেক সময় আমরা যে কাজই করিনা কেন অন্যরা তার সমালোচনা করে থাকে। তারা এমনভাবে আপনার কাজের সমালোচনা করবে যেন, জীবনটা তাদেরই। আপনাকে নিয়ে তাদের চিন্তা, আপনার থেকেও তাদের বেশী। আপনি কি ভেবে কাজ করছেন, আপনার উদ্দেশ্য কি, এগুলো তারা বুঝবে না, এরা যে কাজটি করবে তা হচ্ছে আপনার সব বিষয়েই মন্তব্য করবে।

এটাকে একেবারেই পাত্তা দেবেন না। কারণ জীবনটা আপনার,  কোন কাজ কিভাবে করলে, কেন করলে আপনি সুবিধা পাবেন, তা একমাত্র আপনিই জানেন। তাই এসব আত্নীয়-স্বজন  ও বন্ধুবান্ধব থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন। তারা যেসব অন্যায়

২. গায়ে পড়া মানুষ

কিছু কিছু মানুষ আছে যারা আপনার ব্যাপারে অকারণেই নিজের মন্তব্য প্রকাশ।করবে। যাদেরকে আপনি মোটেও পছন্দ করেন না। মিশতেও চান না তাদের সাথে।

কিন্তু এরা আপনার পিছে ছায়ার মত পড়ে থাকবে, আর আপনাকে নিরুৎসাহিত করবে সবকাজে। এ জাতীয় গায়ে পড়া মানুষদের একদমই গুরুত্ব দেবেন না।

৩. ব্যর্থতার ভয়

কোন কাজ করার আগে সে কাজে সফল হবেন কিনা, এটা নিয়ে মোটেও চিন্তিত হবেন না। কাজের ফলাফল পাওয়ার আগেই তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করলে শুধু নিজের কর্মশক্তি নষ্ট হবে। যে সময়টুকু আপনি কাজ করে উন্নতি করতে পারতেন, সেই সময়টা আপনার ব্যর্থতার ভয় করেই নষ্ট হচ্ছে।

এ থেকে বের হয়ে আসুন। কেউ যতই ভয় দেখাক, কখনোই এতে হতাশ হবেন না। নিজের চেষ্টা জারি রাখুন। সফল আপনি হবেন ই। কিন্তু তারজন্য ব্যর্থ হওয়ার ভয় মন থেকে দূর করতে হবে।

৪. নিজের কমতি গুরুত্ব দেবেন না

আমরা কেউই পারফেক্ট নই। আমাদের প্রত্যকেরই খুঁত রয়েছে। কিন্তু এটা ভেবে কোন কাজের আগে হতাশ হওয়া যাবেনা। পৃথিবীতে কেউ পারেনি মানেই যে কেউ পারবে না, এমনটা নয়। আপনি চেষ্টা করছেন, এর মানেই হচ্ছে আপনি সেটা পাওয়ার দাবিদার।

আপনার যোগ্যতা এখানে মুখ্য নয়। অনেক বিশ্বসুন্দরী আছেন, যারা রংয়ের বিচারে কৃষ্ণবর্নের, অনেক নামকরা গায়ক আছেন যারা প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তারাই ক্যারিয়ার গড়েছেন।

তাই নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলেই সব সম্ভব। নিজের কমতি, আপনার কি নেই এগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। একেবারেই গুরুত্ব দেবেন না এসব বিষয়ে।

৫. পরিসংখ্যান

অনেকেরই একটি অভ্যাস থাকে, তা হল কোন কাজ শুরুর আগে পরিসংখ্যান যাচাই করা। এর অর্থ হচ্ছে এর আগে ঐ কাজে কতজন সফল হয়েছে, কিভাবে সফল হয়েছে। যদি দেখা যায় ঐ কাজে সফল হওয়ার হার কম, তাহলে অনেকেই সেই কাজে হাত দিতে চান না।

অথচ যে ব্যক্তিরা প্রথমে কাজটি করেছেন তারা কিন্তু পরিসংখ্যান দেখে কাজ করেন নি। তারা ইতিহাস গড়ে রেখেছেন, যাতে অন্যরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সফল হতে পারে। তাই নিজেকে তাদের একজন বলে ভাবুন।

কোন কাজে আপনিই ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন, তাই পরিসংখ্যানে নজর দিয়ে নিজের মূল্যবান সময় ও আত্নবিশ্বাস নষ্ট করবেন না।

৬. খারাপ সময়

প্রতিটি মানুষের জীবনেই খারাপ সময় আসে। কিন্তু এটা ধরে বসে থাকবেন না। রাত হলে যেমন দিনও হবে তেমনি দুখের পরই সুখ আসবে। দরকার শুধু ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম। এগুলো থাকলেই জয় আপনার নিশ্চিত।

তাই খারাপ সময় যাচ্ছে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে কাজে মনোযোগ দিন।

উপসংহার

জীবনে ভাল থাকতে হলে, এবং যেকোন কাজে সফলতা পেতে হলে সবকিছুকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। এমন অনেক বিষয় থাকে যেগুলোকে গুরুত্ব দিলে জীবনে লাভ কিছুই হয়না,শুধু ক্ষতি হয়। তাই সেগুলোকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া যাবেনা।

আশা করি আজকের পোস্টটি আপনাদের জীবনে কোন বিষয়গুলোকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয় তা জানতে সাহায্য করবে। এ বিষয়ে কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট করতে পারেন। আমরা অবশ্যই তথ্য জানিয়ে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment