Swadesh Darshan Scheme 2022: কেন্দ্র সরকারের স্বদেশ দর্শন যোজনা কি? সুবিধা ও লাভ

Swadesh Darshan Scheme 2022 – SDS (স্বদেশ দর্শন স্কিম 2022), স্বদেশ দর্শন স্কিম কি? এই যোজনার লাভ কি? স্বদেশ দর্শন স্কিম তে কিভাবে আবেদন করবেন? এবং এই যোজনার আরও তথ্য এখানে দেখুন।

স্বদেশ দর্শন স্কিম (Swadesh Darshan Scheme) থিম-ভিত্তিক পর্যটন সার্কিটগুলির সমন্বিত উন্নয়নের জন্য ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয় দ্বারা চালুকৃত একটি কেন্দ্রীয় সেক্টর স্কিম। এই স্কিমটির লক্ষ্য ভারতে পর্যটন সম্ভাবনার প্রচার, বিকাশ এবং আরও বিস্তৃত করা যাতে করে আরও বেশী পর্যটক এখানে আসতে আগ্রহী হয়। স্বদেশ দর্শন একটি কেন্দ্রীয় সেক্টর প্রকল্প

এটি ভারত সরকারের পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দ্বারা ২০১৪-১৫ সালে চালু হয়েছে। এটি দেশে থিম ভিত্তিক পর্যটন সার্কিটের উন্নয়ন ঘটাতে সাহায্য করবে। যেমন ওয়াটার থিম, হরর থিম, অ্যাডভেঞ্চার থিম, এই পর্যটন সার্কিটগুলি একটি প্রতিযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়ন নীতিতে বিকাশ করা হবে।

উন্নয়নের জন্য স্বদেশ দর্শনের অধীনে ১৫ টি থিম্যাটিক সার্কিট চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বদেশ দর্শন স্কিমের আওতায় পর্যটন মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় রাজ্য সরকারগুলিকে সিএফএ, সার্কিটের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

Swadesh Darshan Scheme - কেন্দ্র সরকারের স্বদেশ দর্শন যোজনা
Swadesh Darshan Scheme – কেন্দ্র সরকারের স্বদেশ দর্শন যোজনা

সুপ্রিয় পাঠক আমাদের আজকের আয়োজনে থাকছে স্বদেশ দর্শন স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা যা আপনাদের স্বদেশ দর্শন স্কিম এবং দেশের পর্যটনশিল্প সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। চলুন দেরী না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। স্বদেশ দর্শন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন:-

স্বদেশ দর্শন প্রকল্প

এই প্রকল্পটি অন্যান্য প্রকল্পের মতো স্বচ্ছ ভারত অভিযান, দক্ষ ভারত, মেক ইন ইন্ডিয়া ইত্যাদির সাথে সমন্বয় সাধনের জন্য গ্রহন করা হয়েছে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আরও কাজ করা সম্ভব হয়। অর্থনৈতিক বিকাশের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়ন।

এসব সেক্টরে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। বিভিন্ন খাতের সাথে সমন্বয় সাধন করে পর্যটন শিল্পকে আরও উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে নেওয়াই স্বদেশ দর্শন স্কিমের মূল উদ্দেশ্য। দেশের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলসমূহকে আরও আকর্ষণীয় ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে পারলে সেখানে প্রচুর পর্যটক আসবে। আর তাদেরকে কেন্দ্র করে অনেক শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।

ট্যুরিস্ট সার্কিট কী?

ট্যুরিস্ট সার্কিট বলতে এমন কিছু স্থানের সমষ্টি বোঝায়, যে স্থানগুলি একই শহর বা অঞ্চলে অবস্থিত না হলেও খুব একটা দূরে অবস্থিত নয়। একজন পর্যটক যাতে একটা স্থানে ভ্রমণ করতে এসে আসে পাশের পর্যটন স্থানগুলিও কম সময়ে কষ্ট ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, এই বিষয়টি নিশ্চিত করতেই ট্যুরিস্ট সার্কিট তৈরি করা হয়েছে।

পাশাপাশি অবস্থিত বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান থাকলে অনেক বিস্তৃত জায়গাজুড়ে পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলা যায়। এখানে একসাথে অনেক প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে বিধায় পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়।

স্বদেশ দর্শন প্রকল্প – উদ্দেশ্য

পরিকল্পিত এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পদ্ধতিতে পর্যটক আসার মত সম্ভাবনাযুক্ত সার্কিটগুলির উন্নয়ন ও বিস্তার করা। নতুন পদ্ধতিতে চিহ্নিত থিম-ভিত্তিক সার্কিটের বিকাশ স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের জন্য প্রচার-প্রচারণা করা।

স্বদেশ দর্শন যোজনা - Swadesh Darshan Scheme
স্বদেশ দর্শন যোজনা – Swadesh Darshan Scheme

সম্প্রদায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং দরিদ্রদের উন্নয়ন হবে এমন পর্যটন পদ্ধতির অনুসরণ করা, কারণ পর্যটকদের জন্য অবকাঠামো, সেবা, এবং অন্যান্য বিষয়াদি যদি ব্যয়বহুল হয় তাহলে সেটাতে পর্যটকরা আকৃষ্ট হবেনা। আর তারা আকৃষ্ট না হলে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের সেবা বা পণ্য বিক্রয় করতে পারবে না, সব মিলিয়ে পর্যটনখাতে কোন রাজস্ব আয় হবেনা সরকারের।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর জন্য বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার করা যাতে এই পর্যটন স্পট সম্পর্কে পর্যটকরা জানতে পারে এবং এখানে আসতে আগ্রহী হয়। দেশের পর্যটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, ট্যুরিস্ট গাইড এবং অন্যান্য শিল্পগুলোও যেন ট্যুরিস্ট সার্কিটগুলোতেই গড়ে ওঠে।

সার্কিট বা গন্তব্যে বিশ্বমানের অবকাঠামোগত বিকাশ করে টেকসই পদ্ধতিতে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানো এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

স্বদেশ দর্শন প্রকল্পের সুবিধা

স্বদেশ দর্শন স্কিমের মাধ্যমে আয়ের উৎস বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার উন্নত মান ও এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য উক্ত শহরের নাগরিকদের তাদের জন্য পর্যটনখাতের গুরুত্ব সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হয়। চিহ্নিত অঞ্চলগুলিতে জীবিকা নির্বাহের জন্য স্থানীয় শিল্প, হস্তশিল্প, সংস্কৃতি, রান্না ইত্যাদির কাজে নাগরিকদের আগ্রহী করার জন্য প্রচার-প্রচারণা করা হয়, যাতে বিভিন্ন সেবাখাত গড়ে ওঠে।

এই স্কিমের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনীতির বিকাশে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার জন্য এবং দেশের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা খুবই প্রয়োজন। দেশের সংস্কৃতি ঐতিহ্য এবং সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করার জন্য পর্যটন খাতের উন্নয়ন করা আবশ্যক।

জনগণের মূলধন এবং দক্ষতা বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রিক সেবাশিল্পে কাজে লাগিয়ে পর্যটনশিল্পকে আরও আকর্ষণীয় ও লাভজনক করে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে স্বদেশ দর্শন প্রকল্প কাজ করে চলেছে।

শেষ কথা

দেশের যেসব অবকাঠামো অনেক পুরোনো যা মেরামত করে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হবে এবং এখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, এই বিষয়গুলো নিয়ে স্বদেশ দর্শন প্রকল্প কাজ করে চলেছে।

আমরা জানি একটি নির্দিষ্ট শহর বা অঞ্চলের নাগরিক বা কাজের ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে সমস্ত ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তাই যদি দেশের দর্শনীয় ও ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো এবং শহর গড়ে ওঠে তাহলে সেখানে যেমন পর্যটকরা আসবে তেমনি বিভিন্ন শিল্পে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এ থেকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটন খাত অনেক বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। যা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং এই রাজস্ব দেশের অন্যান্য কল্যাণমূলকখাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে। আশা করি স্বদেশ দর্শন প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।

সুপ্রিয় পাঠক, আমাদের লেখার উদ্দেশ্য থাকে ভারত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এবং তার অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদের জানানো, যাতে সেগুলো সম্পর্কে আপনারা অবগত হতে পারেন এবং সুবিধাসমূহ উপভোগ করতে পারেন। আশা করি পোস্টটি ভাল লাগলে এ বিষয়ে মন্তব্য করে আমাদেরকে উৎসাহ প্রদান করবেন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে।

HomeClick here
Official WebsiteClick here

Leave a Comment