Shramev Jayate Yojana 2022: শ্রমেভ জয়তে যোজনা কি? জানুন সুবিধা ও লাভ

Shramev Jayate Yojana 2022 – SJY (শ্রমেভ জয়তে যোজনা 2022), শ্রমেভ জয়তে যোজনা কি? এই যোজনার লাভ কি? শ্রমেভ জয়তে যোজনা তে কিভাবে আবেদন করবেন? এবং এই যোজনার আরও তথ্য এখানে দেখুন।

শ্রমেব জয়তে যোজনা (Shramev Jayate Yojana) পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় শ্রমেভ জয়তে কার্যক্রম নামে পরিচিত শ্রমেব জয়তে যোজনা ভারত সরকারের অধীনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালের অক্টোবরে চালু করেছিলেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের উদ্যোগ হিসাবে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল।

শ্রমিকদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানোও এই যোজনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ভারত সরকারের অধীনে সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের শ্রমের মর্যাদা যেন প্রদান করা হয়ে তা এই যোজনা নিশ্চিত করে।

আমাদের দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশী হওয়া সত্ত্বেও আমরা সব ধরনের কাজকে সমান চোখে দেখিনা। শ্রমনির্ভর কাজগুলোকে আমাদের কাছে অসম্মানের মনে হয়। আর এই ধারণা থেকে বের হয়ে শ্রমিকদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং শ্রমকে মর্যাদা দেওয়ার জন্যই শ্রমভে যোজনা চালু করা হয়েছে।

labour.gov.in Shramev Jayate Yojana Benefits
labour.gov.in Shramev Jayate Yojana Benefits

সুপ্রিয় পাঠক আমাদের আজকের আলোচনায় থাকছে শ্রমভে জয়তে যোজনা এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। চলুন দেরী না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। শ্রমেভ জয়তে যোজনা সম্পর্কে জেনে নিন:-

শ্রমেভ জয়তে যোজনা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অক্টোবর ২০১৪ সালে শ্রমেভ জয়তে যোজনা চালু করেছে। সরকার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কতৃক শ্রমেব জয়তে যোজনা – ভারত সরকার কতৃক গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ যা,দেশে শ্রমের মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করবে।

শ্রমভে জয়তে যোজনা উৎপাদন খাতকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রচারকে সমর্থন করার জন্য চালু করা হয়েছিল। শ্রমেভ জয়তে যোজনার আওতায় ভারত সরকার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। এই যোজনার আওতায় যে পাঁচটি বড় উদ্যোগ চালু করা হয়েছে তা সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে।

শ্রম সুবিধা পোর্টাল

শ্রম পরিদর্শন প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি শ্রমিকের ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর বরাদ্দ করা হয়। ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন) সমস্ত শ্রমিককে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের পরিচিতি আলাদাভাবে শণাক্ত করার জন্য।

ইউএনইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন) তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আধার কার্ড এবং অন্যান্য কেওয়াইসি বিবরণের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এগুলো দ্বারা প্রতিটি শ্রমিককে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। এবং তাদেরকে তাদের অধিকার ও সুবিধা প্রদান করা সহজ হয়। ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন) এর মাধ্যমে প্রায় ৪.১ কোটি শ্রমিকের সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

শিক্ষানবিস প্রথমসাহান যোজনায় শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রথম দুই বছরে শিক্ষানবিশদের উপবৃত্তির ৫০% প্রদান করা হয়। উপবৃত্তির ৫০% প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন ইউনিটগুলিকে সহায়তা করার উদ্যোগ হিসাবে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে।

শ্রম সুবিধা পোর্টাল এর বিস্তারিত

শ্রম সুবিধা পোর্টাল চালু করা হয় ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে। এই পোর্টালের উদ্দেশ্য ছিল ৬ লাখ ইউনিটে শ্রমিক সণাক্তকরণ নাম্বার (এলআইএন) বিতরণ করা। ৪৪ টি শ্রমিক আইনের ভিতর এটা ১৬ টি শ্রমিক আইন মেনে তৈরি করা হয়েছে।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের সুবিধার্থে স্বতন্ত্র শ্রম সনাক্তকরণ নম্বর (এলআইএন) বরাদ্দ করা হয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের দ্বারা একক অনলাইন রিটার্ন হিসাব প্রদান করার সুবিধার্থে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে শ্রম পরিদর্শকগণ দ্বারা জমা দেওয়া প্রতিবেদনগুলি বাধ্যতামূলকভাবে আপলোড করার অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন বিষয়ে সময়মত কোন অভিযোগ জানানো হলে দ্রুত তা তা নিষ্পত্তি করা হয়। পরিদর্শন এবং পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

ফাইলিং সহজ এবং প্রতিবেদন সহজ করার জন্য একক সুরেলা ফর্মের মধ্যে কমপ্লায়েন্সগুলির প্রতিবেদন করা। কর্মক্ষমতা নিরীক্ষণ এবং মূল্যায়নের জন্য মূল সূচকগুলির ব্যবহার।

সমস্ত বাস্তবায়নকারী সংস্থার শ্রম পরিচয় নম্বর (লিন) ব্যবহার প্রচার করা। যাতে করে শ্রমিকদের আলাদাভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হয়। এবং প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদাভাবে উপবৃত্তি প্রদানের কাজ সহজ হয়।

শ্রম পরিদর্শন প্রকল্প

শ্রম পরিদর্শনে স্বচ্ছতা আনতে ভারত সরকার একটি শ্রম পরিদর্শন প্রকল্প তৈরি করেছে। শ্রম পরিদর্শন প্রকল্পের কয়েকটি মূল বৈশিষ্ট্য নীচে উল্লেখ করা হয়েছে

পরিদর্শন প্রকল্পটি বাধ্যতামূলক পরিদর্শন তালিকার অধীনে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে থাকে।

এটি পরিদর্শনশেষে বিভিন্ন প্রতিবেদনসমূহের একটি কম্পিউটারাইজড তালিকা তৈরি করে যা পূর্ব নির্ধারিত উদ্দেশ্য মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। প্রশিক্ষণের পরীক্ষার পরে ডেটা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ ভিত্তিক প্রতিবেদনগুলি কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়।

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গুরুতর বিষয়গুলো পরিদর্শন করার জন্য জরুরী তালিকা করার নীতিমালা রয়েছে। এবং গুরুতর অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয় এই তালিকার মাধ্যমে।

শ্রমেভ জয়তের প্রয়োজনীয়তা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান যে দেশে শুধুমাত্র পরিকল্পনা করার উপর কোন উন্নয়ন হবেনা। উন্নয়ন করতে হলে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমাদের দেশে শ্রমিকদের নিচু করে দেখা এবং তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা লক্ষণীয়। এখানে কাজকে ছোট করে দেখা হয়।

কিন্তু শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও দক্ষ এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্যই শ্রমেভ জয়তে যোজনা চালু করা হয়েছে৷ শ্রমেভ জয়তে ২০১৪ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। প্রশিক্ষণের সময় উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা এই অর্থ তাদের নিজস্ব কোন ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারে।

এছাড়া শ্রমিকদের স্বতন্ত্র সনাক্তকরণ নাম্বারের মাধ্যমে তাদেরকে বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের সময় তাদের পরিদর্শন, শিক্ষার মান, জবাবদিহিতা, উন্নয়ন সবদিকেই নজর দেওয়া হয়।

আর এই পরিদর্শনে যেন স্বচ্ছতা বজায় থাকে, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য যেকোন অভিযোগ গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে তার সুষ্ঠু সমাধান ও নিষ্পত্তি করা হয় তাও শ্রমেভ জয়তে যোজনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোন প্রশিক্ষণ বা প্রকল্পই সঠিক ফল দিতে পারেনা, যদিনা সেখানে জবাবদিহিতা বা স্বচ্ছতার মত বিষয় না থাকে।

এছাড়া অনলাইনে তাদের প্রতিদিনের কাজের অগ্রগতি, বিভিন্ন অর্জন এবং অভিযোগের ফাইল সংরক্ষণ করা হয় যাতে এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা এবং প্রয়োজনের সময় খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

শেষ কথা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডিজিটাল ভারত গঠনে যেসব প্রকল্প বা যোজনার কাজ শুরু করেছেন তার মধ্যে মেক ইন্ডিয়া অন্যতম। আর শ্রমেভ জয়তে মেক ইন্ডিয়াকে সমর্থন করে তার কাজ পরিচালনা করে চলেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে দেশের উৎপাদনকার্যে গতিশীলতা আনয়নের জোর প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।

যেকোন উৎপাদননের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে শ্রমিক। তারা যদি অভিজ্ঞ এবং প্রশিক্ষিত না হয় তবে তাদের দ্বারা বেশী উৎপাদন সম্ভব নয়। এজন্য তাদেরকে যোগ্য ও প্রশিক্ষিত করতে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে,সেই সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে।

শ্রমিকদের কাজের মান বাড়লে তাদের মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। দেশে শিল্প ও শ্রমিকদেএ উন্নয়নে শ্রমেভ জয়তে সাফল্য লাভ করবে বলে সবাই আশাবাদী। আশা করি শ্রমেভ জয়তে যোজনা সম্পর্কে জানানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস সফল হয়েছে।

সুপ্রিয় পাঠক, আমাদের লেখার উদ্দেশ্য থাকে ভারত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এবং তার অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদের জানানো, যাতে সেগুলো সম্পর্কে আপনারা অবগত হতে পারেন এবং সুবিধাসমূহ উপভোগ করতে পারেন। আশা করি পোস্টটি ভাল লাগলে এ বিষয়ে মন্তব্য করে আমাদেরকে উৎসাহ প্রদান করবেন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে।

HomeClick here
Official WebsiteClick here

Leave a Comment