What is Setu Bharatam Scheme 2021? Working Processes & Benefits

ডিজিটাল ভারত গড়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও একটি চমৎকার প্রকল্প চালু করেছেন, এই প্রকল্পটির নাম সেতু ভারতম প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেতু ভারতম প্রকল্পটি ৪ মার্চ ২০১৬ এ চালু করেছেন। এই প্রকল্পটি ২০১২ সালের মধ্যে সমস্ত জাতীয় মহাসড়ককে রেলপথ ক্রস মুক্ত করার উদ্যোগ হিসাবে শুরু করা হয়েছিল।

Setu Bharatam Scheme in Bangla
Setu Bharatam Scheme in Bangla

কেন্দ্রীয় সরকারের অনুসারে, এই প্রকল্পের মোট বাজেট ছিল ১০২ বিলিয়ন টাকা। প্রায় ২০৮ ​​টি রেলওয়ে ও এর অধীনে সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ১০২ বিলিয়ন টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়।

মূলত হাইওয়ে সড়কে রেল চলাচলে যে যাটজট এবং দূর্ঘটনাগুলো ঘটে তা এড়াতেই এই প্রকল্প গ্রহনের সূচনা হয়েছে।

এই নিবন্ধটি সংক্ষিপ্তভাবে সেতু ভারতম প্রকল্প, তার উদ্দেশ্যগুলি এবং সারা দেশে বিভিন্ন রাজ্যে প্রকল্প / ওভার ব্রিজের সংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। চলুন দেরী না করে সেতু ভারতম প্রকল্প সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

সেতু ভারতম প্রকল্প:-

৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চালু করেছেন সেতু ভারতম প্রকল্পটি।

সরকারী মন্ত্রণালয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় এর অধীনে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেতু ভারতম প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালে।

সেতু ভরতম কী?

ভারত সরকার সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনা করে সেতু ভারতম প্রকল্প চালু করে। সেতু ভারতমের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা যা এই প্রকল্পটির যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের সমাপ্তির জন্য ১০২ বিলিয়ন টাকা মঞ্জুর করেছেন। সেতু ভারতম পুরানোগুলির সংস্কারের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণের কাজও আরম্ভ করবে।

নোডায় হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ার ফর ইন্ডিয়ান একাডেমিতে সড়ক পরিবহন ও জনপথ মন্ত্রক দ্বারা একটি ইন্ডিয়ান ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইবিএমএস) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্যটি ভ্রাম্যমাণ পরিদর্শন ইউনিটের মাধ্যমে জাতীয় মহাসড়কের সকল সেতুর জরিপ এবং উদ্ভাবন পরিচালনা করা। এই উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ টি সংস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই প্রকল্পটি এখনও অবধি ৫০,০০০ সেতু নির্মাণে সফল হয়েছে এবং এই প্রকল্পের প্রথম কাজটি ২০১৬ সালের জুনে সম্পন্ন হয়েছিল।

সেতু ভারতম প্রকল্প – উদ্দেশ্যসমূহ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বারা চালু করা সেতু ভারতাম প্রকল্পটি ২০১২ সালের মধ্যে সমস্ত জাতীয় মহাসড়ককে রেলপথ ক্রস থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে করা হয়েছিল।

সেতু ভারতম প্রকল্পের কয়েকটি প্রধান লক্ষ্য ছিল: সারাদেশে জাতীয় মহাসড়কগুলিতে সেতু নির্মাণ;

সরকার প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রেলওয়ে ট্র্যাক ব্রিজ ও তার অধীনে প্রায় ২৮০ টি রেলওয়ে আন্ডার এবং ওভার ব্রিজ নির্মাণ করছে। ২০১৬ সালের শেষে প্রায় ৬৪ টি সেতু নির্মাণের জন্য সবুজ সংকেত পাবে।

সেতু নির্মাণের সময় বৈজ্ঞানিক কৌশল যেমন দূরত্ব পরিমাপ, দ্রাঘিমাংশ, অক্ষাংশ, উপাদান, নকশা ইত্যাদি পর্যালোচনা ও ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, যাতে সেতু নির্মাণ কোন অবকাঠামোর জন্য ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

 

ভারতের প্রধান বিচারপতি এস এ ববদে বলেছিলেন যে অক্সিজেন সরবরাহ করতে এবং মাটি বেঁধে রাখতে এমনকি পরিকাঠামোগত প্রকল্পের স্থায়ীত্বের জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির গাছ সনাক্ত ও গ্রেড করা যেতে পারে।

সিজেআই একটি নতুন প্রোটোকল গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল যার মাধ্যমে সড়ক ও মহাসড়ক প্রকল্পগুলি পরিবহণের অন্যান্য পদ্ধতিগুলির সম্ভাব্যতা যাচাই করার পরেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়।

প্রকল্পের কাজ শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, প্রকল্পগুলো যেন স্থায়িত্ব পায়। পাঁচটি রেল ওভারব্রিজের জন্য অনুমোদিত ৫০০ কোটি ডলারের চেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ৩০০ গাছের ক্ষতি অনেক বেশি হবে।

প্রস্তাবিত পাঁচটি সেতু একটি মেগা প্রকল্পের অংশ সেতু ভারতম, কেন্দ্রটি অর্থায়নে দেশের ১৯ টি রাজ্যে ২০৮ টি রেলওয়ে ও আন্ডার ব্রিজ নির্মাণ করবে।

সেতু ভারতমের উদ্দেশ্য

সেতু ভারতম প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে সড়ক ভ্রমণ নিরাপদ ও উন্নত করা। মহাসড়ক বা হাইওয়েতে রেল ক্রসিং থাকলে তা প্রায়ই দূর্ঘটনার কারণ হয়ে দাড়ায়। পথচারী এবং যাত্রীরা এইসব দূর্ঘটনার স্বীকার হন, এটা কমাতেই সেতু ভারতম প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।

সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে গুনগত মান এবং স্থায়ীত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সফলতাও ঈর্ষণীয়। গত বছরে এই প্রকল্পের জন্য সড়ক দূর্ঘটনা ৫০% হ্রাস পেয়েছে।

সড়ক এবং মহাসড়কে যাত্রীরা নিরাপদবোধ করছেন আগের চেয়ে অনেক বেশী। মহাসড়কের উপর সেতু নির্মাণ করায় তা যানজটের পরিমাণও অনেক কমিয়ে এনেছে।

এতে জনগণের ভোগান্তি কমেছে, সময়ের অপচয় কমানো সম্ভব হয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবন-মানের উপর অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া শহরাঞ্চলের অবকাঠামোগত সৌন্দর্যও সেতুর মাধ্যমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জরুরী কথা

ডিজিটাল ভারত নির্মাণের একটি অংশ হচ্ছে সেতু ভারতম প্রকল্প। দেশের যেসব মহাসড়কের সেতু মেরামত প্রয়োজন এবং যেসব স্থানে সেতু নির্মাণ প্রয়োজন সেসব স্থানে সেতু নির্মাণের জন্যই মূলত এই প্রকল্প।

শুধু সেতু নির্মাণ নয়, নির্মাণে গ্রেড, অক্ষাংশ, স্থায়ীত্ব, গুনগতমাণ, জনগণের সুবিধা ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথায় রেখেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।দেশের জনগণের নিরাপত্তা, নিরাপদে সড়ক ভ্রমণ, যানজট কমানো এবং বন্যা বা অনান্য দুর্যোগে সুবিধা পেতেই এই প্রকল্পের সূচনা।

দূর্ঘটনা এবং যানজট কমানো গেলে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার উপর তা অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রকল্পটি অনেকটাই সফল হয়েছে। এই প্রকল্পের সাফল্য হিসেবে গত বছর পর্যন্ত ৫০% সড়ক দূর্ঘটনা হ্রাস পেয়েছে।

এছাড়া মহাসড়কে চলাচলের ভোগান্তিও হ্রাস পেয়েছে। আশা করা যায় এই প্রকল্প আরও সুফল দেশের জনগণের জন্য বয়ে আনবে। সুপ্রিয় পাঠক, আশা করি সেতু ভারতম প্রকল্প সম্পর্কে আপনাদের ধারণা দেওয়ার আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।

সুপ্রিয় পাঠক, আমাদের লেখার উদ্দেশ্য থাকে ভারত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এবং তার অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদের জানানো, যাতে সেগুলো সম্পর্কে আপনারা অবগত হতে পারেন এবং সুবিধাসমূহ উপভোগ করতে পারেন।

কেন্দ্র সরকারের সমস্ত যোজনা Click Here
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত প্রকল্প Click Here
বাংলাভুমি হোম Click Here

Leave a Comment