Nai Roshni Scheme 2022: Eligibility, Processes & Benefits

আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে মহিলারা এখনো পশ্চাদপদতার স্বীকার। তারা পুরুষদের চেয়ে শিক্ষা-দীক্ষা ও অধিকারে- সংখ্যালঘু মহিলাদের নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে প্রকল্পটি ২০১২-১৩ সালে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

এটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় আসে। সংখ্যালঘু মহিলাদের উন্নয়নের জন্য এটি একটি কল্যাণমূলক পরিকল্পনা, যাতে জ্ঞান ও কৌশল সরবরাহ করে তাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে এবং তাদের ক্ষমতায়ন করা যায়।

Nai Roshni Scheme in Bangla
Nai Roshni Scheme in Bangla

নতুন রোশনি প্রকল্পের উদ্দেশ্য নতুন রোশনি স্কিম সংখ্যালঘু মহিলাদের জ্ঞান, মৌলিক কৌশল এবং সরঞ্জামাদি দিয়ে ক্ষমতায়নের জন্য চালু করা একটি সরকারী কল্যাণ প্রকল্প যা তাদেরকে সকল স্তরের সরকারী ব্যাংক এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে সহায়তা করবে।

প্রকল্পটি এনজিও, নাগরিক সমিতি এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হবে। এর ফলে মহিলারা নিজেদের বেকারত্ব এবং অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি পাবেন এবং নিজেদের উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন।

সুপ্রিয় পাঠক আমাদের আজকের আয়োজনে থাকছে নতুন রোশনি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। আশা করি প্রকল্পটি সম্পর্কে ধারণা পাবেন। চলুন দেরী না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

ভারতের নতুন রোশনি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত :-

নতুন রোশনি প্রকল্প

প্রকল্পটি এনজিও, নাগরিক সমিতি এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়েছে। সংখ্যালঘু মহিলারা অনলাইনেও এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

দারিদ্র্যের মতো বিভিন্ন সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এই প্রকল্পটি সহায়তা করে, কারণ নারী ও শিশুরা দারিদ্র্যের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকেন। কারণ তারা ঘরে অবস্থান করেন, এবং বেশিরভাগেরই কোন অর্থনৈতিক অবদান নেই।

এটি সংখ্যালঘু মহিলাদেরকে তাদের অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে এবং আর্থিকভাবে এইভাবে নাগরিক সমাজকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করার ক্ষমতা দেয়।

নতুন রোশনির অধীনে প্রশিক্ষণ মডিউল সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে, যাতে নারীরা নিজেদের অসহায় ভাবা বন্ধ করে নিজেদের উন্নয়নে কাজ করতে পারেন।

ডিজিটাল-সাক্ষরতার জন্য এই প্রকল্প কাজ করে চলেছে, সাক্ষরতা ও কর্মের প্রতি আগ্রহ অনগ্রসর মহিলাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।

সেই সাথে তাদের কর্মকান্ডের ফলে দেশের অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে।

নেতৃত্ব সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়ন

মহিলাদের নেতৃত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মহিলাদের জীবনে দক্ষতার প্র‍য়োজন ও আইনী অধিকার কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, দেশের আইনে মহিলাদের সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতায়ন ইত্যাদি সম্পর্কে এই প্রকল্পে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয় যাতে পরবর্তীকালে নিজের জীবনে এই জ্ঞানগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হয়।

নতুন রোশনি স্কিম টার্গেট গ্রুপ মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জোরোস্ট্রিয়ান (পার্সি) এবং জৈন মহিলারা জাতীয় সংখ্যালঘু আইন, ১৯৯২ এর ধারা ২ (গ) এর অধীনে বিজ্ঞপ্তিপ্রাপ্ত এবং এদেরকে এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হবে।

যাতে তারা পশ্চাদপদতা ও অজ্ঞতার বেড়াজাল ভেদ করে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হলে নিজেদের অসহায় ভাবা এবং অন্যের বোঝা হয়ে জীবন পার করার প্রবণতা কমে আসে।

নারীদের ভিতর আত্নকর্মসংস্থানের সুফল এটাই যে, তা তার পরিবার এবং নিজের সেই সাথে দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটি প্রস্তাবের ২৫% অতিক্রম না করে অ-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলাদেরও এই প্রকল্লে মিশ্রণের অনুমতি দেয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে চেষ্টা করা উচিত যাতে এসসি / এসটি / ওবিসি থেকে মহিলাদের মধ্যে একটি প্রতিনিধি উপস্থিত হয়। এছাড়াও, প্রতিবন্ধী মহিলা এবং অন্যান্য সম্প্রদায়গুলিকেও এই ২৫% এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন রোশনি প্রকল্পের কার্যকারিতা

নতুন রোশনি প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে এবং সংখ্যালঘুদের উপর এই স্কিমের প্রভাব মূল্যায়ন করতে এবং স্কিমটি বাস্তবায়নে যে সমস্যাগুলি দেখা দিয়েছে তা চিহ্নিত করার জন্য এনআইটিআই আয়োগ কর্তৃক একটি গবেষণা করা হয়েছিল।

সমীক্ষাটিতে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশের আটটি রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা ১৫ টি জেলা, ৩০ টি ব্লক, ৮ টি গ্রাম, ২৭ টি এনজিও রয়েছে।

নিতি আয়োগের মতে, সমীক্ষার সিংহভাগ অনুসন্ধানে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে জনসংখ্যার বেশিরভাগ অংশই এই কর্মসূচির প্রশংসা করেছে এবং এটি সংখ্যালঘু মহিলাদের মধ্যে নিজেদের কাজের প্রতি আস্থা তৈরি করতে এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলারা তাদের জ্ঞানকে তাদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় চাহিদা ও সরকারী কোন সুবিধা যা তাদের প্রাপ্য সেরকম কোন দাবি উত্থাপনে সহায়তা করতে ব্যবহার করছেন। যা তাদের জীবনমানকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করছে।

শেষ কথা

একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন সে দেশের নারীরা উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহন করে। কারণ দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী, তারা যদি পশ্চাদপদ হয়ে থাকে তাহলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তাছাড়া দেশের সংখ্যালঘু এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যখন নিজেরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষিত হয়ে কাজ শুরু করে তখন তাদের মধ্যে যে হতাশা আগে কাজ করত সেটা আর করবে না।

তারা তাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে পারবে, তাদের অধিকার এবং আয়ের উপায় সম্পর্কে জানতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবে।

এই পিছিয়ে পড়া নারীদের মধ্য থেকেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে, কোন কোন নারী নিজেদের জ্ঞান অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নিজেরাই অন্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারেন।

চারপাশের অন্য নারীদের নিজেদের অর্জিত জ্ঞান দ্বারা সাহায্য করতে পারেন, আয়ের জন্য নতুন নতুন উপায় উদ্ভাবন এবং সেসব কাজের মূলধনের জন্য এনজিও বা সরকারী লোন নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।

এভাবেই নিজেদের খারাপ দিনগুলো থেকে দেশের সংখ্যালঘু বা অনগ্রসর নারীরা যাতে বের হয়ে আসতে পারে তারজন্য করে চলেছে নতুন রোশনি প্রকল্প। আশা করা যায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নারীদের মধ্যে থেকে নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে, তাদের আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের সম্পর্কে আরও জানতে হলে সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে পারেন – nairoshni-moma.gov.in

সুপ্রিয় পাঠক, আমাদের লেখার উদ্দেশ্য থাকে ভারত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এবং তার অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদের জানানো, যাতে সেগুলো সম্পর্কে আপনারা অবগত হতে পারেন এবং সুবিধাসমূহ উপভোগ করতে পারেন।

কেন্দ্র সরকারের সমস্ত যোজনাClick Here
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত প্রকল্পClick Here
বাংলাভুমি হোমClick Here

Leave a Comment