আম আদমি বিমা যোজনা 2024: লাভ কি? আবেদন পদ্ধতি ও কাগজপত্র

আম আদমি বিমা যোজনা কি? এই যোজনায় কারা কারা সুবিধা পাবে? কিভাবে আবেদন ও রেজিস্ট্রেশান করতে হয়? জানুন সবকিছু। LIC Aam Admi Bima Yojana 2024 in Bangla

আম আদমি বিমা যোজনা 2024: এটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প যা ভারতের নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলির জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর কভার-সহ আজীবন বীমা পাওয়া যাবে।

এলআইসি দ্বারা সাধারণ জনগণদের উদ্দেশ্যে আম আদমি বিমা যোজনা চালু করা হয়েছে। এটি একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প যা ভারতের নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলির জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে।

এই পলিসির আওতায় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর কভার-সহ আজীবন বিমার সুযোগ পাওয়া যাবে। আম আদমি বিমা যোজনা (AABY) সেই সব মানুষের এই জাতীয় দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তাদের আর্থিক সহায়তা সরবরাহ করবে।

Aam Aadmi Bima Yojana Online Application
আম আদমি বিমা যোজনা 2024: লাভ কি? আবেদন পদ্ধতি ও কাগজপত্র

অন্যদিকে কোভিডের মত মহামারী দেশের মানুষের জন্য এই প্রকল্পের চাহিদা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দেশের সকল মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন বিমার সুরক্ষা পৌঁছে দিতে তৎপর সরকার।

তাই এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও নতুন ভাবে এই প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা কে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছেন।

অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিদের সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার অঙ্গ হিসেবে ভারতীয় জীবন বিমা নিগম এই নিদারুণ বিমার উল্লেখ করেছেন।

বাংলা আবাস যোজনা: আবেদন পক্রিয়া

১. এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য:

  • গ্রামীণ ও ভূমিহীন গার্হস্থ্য মানুষদের জন্য এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে।
  • দুটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প অর্থাৎ আম আদমি বিমা যোজনা ও জনশ্রী বিমা যোজনার মিলিত রূপ এই প্রকল্পটি।
  • এটি জীবন বিমার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের প্রধান সদস্যের স্থায়ী বা আংশিক ক্ষতি হলে পরিবারের একজন সদস্যকে সাহায্য করে থাকে।
  • এই প্রকল্পটি বর্তমান সময়ের উপযোগী একটি প্রকল্প।এই প্রকল্পের আওতায় ব্যক্তি সরকার থেকে সাহায্য পেতে পারেন।

২. এই প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে জানুন:

  • প্রাকৃতিক মৃত্যু, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, দুর্ঘটনার কারণে স্থায়ীভাবে আংশিক অক্ষমতা এবং দুর্ঘটনার কারণে স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ অক্ষমতায় আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় সাহায্য পাবেন।
  • টাকার পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির উপর নির্ভর করে।
  • এই প্রকল্পের আওতায় বিমাকারী ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকার জীবন বিমার কভার থাকে।
  • বিমার মেয়াদ থাকাকালীন দুর্ঘটনায় পড়ে শারীরিক ভাবে পঙ্গু হলে বা মারা গেলে বিমার টাকা পাওয়া যায়।
  • এই বিমার সুবিধা অনুসারে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তি যদি পঙ্গু হয়ে যায় তবে বিমার টাকার পরিমাণ ৩৭ হাজার ৫০০টাকা।
  • দুর্ঘটনায় এই পলিসির গ্রাহকের মৃত্যু হলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি পাবেন বিমার ৭৫ হাজার টাকা।
  • এই পলিসির আওতায় উপভোক্তার সর্বোচ্চ দুটি সন্তান থাকলে তারা নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সময় প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে স্কলারশিপ পেতে পারেন।
  • আম আদমি বিমা যোজনার প্রিমিয়াম খুব কম। এই পরিকল্পনার প্রিমিয়াম প্রদানের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করার বিষয়ে কাউকে ভাবতে হবে না।
  • প্রিমিয়াম পরিমাণের অর্ধেক অর্থ সরকার বহন করে।
  • প্রযুক্তি সরকারকে সাধারণ জনগণের আরও উন্নততর পরিষেবা প্রদান করতে সহায়তা করেছে।যার ফলে অতি দ্রুত বিনিময়ের কাজ সম্ভব হয়।
ক্র.ন.কারণটাকা দেওয়া হবে
প্রাকৃতিক কারণে মৃত্যু।৩০,০০০ টাকা
দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ স্থায়ী অক্ষমতা। উভয় চোখ বা দুটি আঙুলের অক্ষমতা। দুর্ঘটনায় একটি চোখ এবং একটি আঙুলের অক্ষমতা।৭৫,০০০ টাকা
দুর্ঘটনায় একটি চোখ বা একটি আঙুলের অক্ষমতা।৩৭,০০০ টাকা
দুর্ঘটনায় মৃত্যু।৭৫,০০০ টাকা

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা – নতুন এই বছরের সবকিছু

৩. এই প্রকল্পের আওতায় আসতে যোগ্যতার মানদন্ড:

  • আম আদমি বিমা যোজনার আওতায় আসার জন্য বয়স 18 বছর থেকে 59 বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • আবেদনকারীকে একটি দারিদ্র্য রেখার (বিপিএল) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
  • গ্রামীণ ভূমিহীন পরিবারের একজন সদস্য হতে হবে।
  • পরিবারের একজন সদস্য কভারেজ পাওয়ার যোগ্য হবে। তাকে পরিবারের আয় রোজগারের প্রধান হতে হবে।

৪. এই প্রকল্পে আবেদন করতে কী কী তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন:

  • আবেদনপত্র
  • পরিচয়ের প্রমাণপত্র
  • ঠিকানার প্রমাণ
  • মনোনয়নের আবেদনপত্র
  • আয়ের শংসাপত্র
  • ভোটার কার্ড
  • আধার কার্ড

৫. এই প্রকল্পের আওতায় কী কী আসতে পারবেন না:

  • হাসপাতালে ভর্তির ব্যয়
  • মানসিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু বা অক্ষমতা
  • আত্মহত্যা
  • দেশে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির কারণে মৃত্যু বা অক্ষমতা।
  • গর্ভাবস্থা
  • বিপজ্জনক এবং দু: সাহসিক ক্রীড়াতে অংশগ্রহণ করে ক্ষতি হল এই প্রকল্পের থেকে সহায়তা নিতে পারবেন না।

৬. এই প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করবেন:

  • আম আদমি বিমা যোজনার আওতায় তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়মিত বীমা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ার থেকে আলাদা।
  • যেহেতু এটি একটি জাতীয় স্কিম, তাই আবেদনকারীকে নোডাল এজেন্সিতে যেতে হবে যা নিবন্ধকরণ প্রক্রিয়া চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।
  • একটি নোডাল এজেন্সি কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার দ্বারা নিযুক্ত যে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হতে পারে যেখানে নিয়োগ পদ্ধতি রয়েছে।
  • এই প্রকল্পের অধীনে নাম লেখানোর সময় মনোনীত ব্যক্তির নাম অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন। দাবি দায়ের করার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
  • পলিসির মনোনীত প্রার্থীর নাম স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলে পরিবারের সদস্যরা পরিকল্পনার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।
lic aam admi bima yojana আম আদমি বিমা যোজনা
আম আদমি বিমা যোজনা 2024

৭. কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে দাবি আবেদন করবেন:

প্রাকৃতিক মৃত্যু অথবা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে কীভাবে আবেদন করবেন:

ক. পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর কারণের জন্য এই পলিসিতে মনোনীত ব্যক্তিকে আবেদন অর্থের জন্য ফর্ম পূরণ করতে হবে

খ. এরপর নোডাল এজেন্সির মনোনীত কর্মীদের কাছে বীমাকারীর ডেথ শংসাপত্র সহ ফর্ম জমা দিতে হবে।

গ. এজেন্সির মনোনীত কর্মকর্তা তারপরে দাবি করা ফর্মটির যাচাই বাছাই করবেন।

ঘ. প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে, তিনি যাচাই করবেন যে মৃত ব্যক্তি একজন উপার্জনপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন।

ঙ. প্রাকৃতিক মৃত্যুর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো হলো: আবেদন ফর্ম ও আসল ডেথ সার্টিফিকেট।

চ. দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো হলো:

স্থানীয় পুলিশে দায়ের করা এফআইআর-এর অনুলিপি,ময়না তদন্তের রিপোর্ট,পুলিশি তদন্তের রিপোর্ট,পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পত্র।

৮.অক্ষমতায় আক্রান্ত ব্যক্তির আবেদন দাবির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য কী কী দরকার:

ক .দুর্ঘটনার প্রামাণ্য প্রমাণ।

খ. সার্জন বা যোগ্য সরকারি ডাক্তার দ্বারা প্রদত্ত মেডিকেল শংসাপত্র।

গ. এই শংসাপত্রটি অবশ্যই প্রয়োজনীয় যেখানে লেখা থাকবে যে বীমাকৃত ব্যক্তি স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ বা আংশিক অক্ষমতায় আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন।

৯.স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে কী কী দরকার:

বীমাকৃত ব্যক্তির যার সন্তানের স্কলারশিপ বেনিফিটের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে তাদের সুবিধার জন্য একটি আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।

ক.স্কলারশিপের ফর্মটি পূরণ করতে হবে এবং তারপরে এটি নোডাল এজেন্সিতে জমা দিতে হবে।

খ.নোডাল এজেন্সি তখন স্কলারশিপ বেনিফিট পাওয়ার যোগ্য শিক্ষার্থীকে যাচাই করবে।

গ.শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করার পরে নোডাল এজেন্সি চিহ্নিত শিক্ষার্থীদের তালিকা এলআইসির পেনশন ও গ্রুপ স্কিম ইউনিটে জমা দেবে।

ঘ.তালিকায় চিহ্নিত শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত তথ্য থাকা উচিত:

  • নাম
  • শিক্ষার্থী যে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে নেয় তার নাম
  • ক্লাস
  • বীমাকৃত সদস্যের নাম
  • মাস্টার পলিসির নীতি নম্বর
  • সরাসরি সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই সুবিধাটি প্রদানের জন্য এনইএফটির সমস্ত বিবরণ দিতে হবে।

১০. আবেদন ফর্ম PDF ডাউনলোড

এখান থেকে আম আদমি বীমা যোজনার আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করতে পারেন যা অফলাইন আবেদন করতে কাজে লাগবে।

Aam Aadmi Bima Yojana Application Form Download –

DOWNLOAD PDF

এলআইসি সম্পূর্ণ বিবরণ সহ ছাত্রদের তালিকা পেয়ে গেলে, বৃত্তির পরিমাণ এনইএফটি-এর মাধ্যমে বীমাকৃত সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে। অর্থের প্রদানগুলি প্রতিবছর ১লা জানুয়ারী এবং ১লা জুলাই অর্ধ-বার্ষিক ভিত্তিতে করা হয়।

কেন্দ্র সরকারের সমস্ত যোজনাClick Here
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত প্রকল্পClick Here
বাংলাভুমি হোমClick Here

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *