Kartik Puja 2022: History and Significance | 2022 কার্তিক পূজার ইতিহাস ও তাৎপর্য

0
(0)

কার্তিক পূজা (Kartik Puja): আমরা সাধারণত জানি যে দুর্গাপূজায় মা দুর্গার সাথে কার্তিক (Kartikeya) পূজিত হন। তবে কার্তিক ঠাকুরের আলাদা ঐতিহ্য এবং আলাদাভাবে পূজা অর্চনাও করা হয়। কোথাও তিনি বিখ্যাত স্কন্দ (Skanda) নামে, কোথাও বা মুরুগন (Murugan), আবার কেউ তাকে ডাকে সুব্রহ্মণ্য নামে।

প্রকৃতপক্ষে তিনি দেবসেনাপতি (Dev Senapati), যুদ্ধের দেবতা ও সকল হিন্দু দের ঘরে ঘরে পরম পূজনীয় কার্তিকেয় বা কার্তিক (Lord Kartik)। যিনি পুরুষ, শিব ও আদি পরাশক্তি পার্বতীর পুত্ররূপে প্রসিদ্ধিলাভ করেছেন। তাই দেবলোকে যেখানেই যুদ্ধ হয় সেখানেই কার্তিকের ডাক পড়ে।

দুর্গা পুজোর কিছু সময় পরেই অর্থাৎ কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে হয় কার্তিকের পুজো।

কার্তিকের বিভিন্ন নাম:

অন্যান্য হিন্দু দেব দেবীর মতো কার্তিক ও একাধিক নামের অধিকারী- আম্বিকেয়, কৃত্তিকাসুত, নমুচি, অগ্নিজ, বাহুলেয়, শক্তিপানী, বিশাখ, ষড়ানন, গুহ, কুমার, দেবসেনাপতি গৌরী সুত ইত্যাদি।

কার্তিক ঠাকুরের বর্ণনা:

পুরাণ অনুসারে কার্তিকের গায়ের রং হলুদ বর্ণের। তিনি চীরকুমার। তবে পুরান মতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তার বিবাহের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। কার্তিকের বাহন ময়ূর।

Kartik Puja History and Significance
Kartik Puja History and Significance

সৌন্দর্য এবং সৌর্য এই দুটি বৈশিষ্ট্য এর মধ্যে বিদ্যমান। কার্তিকের ছয় মাথা, তাই তিনি ষড়ানন (Shadanana)। পাঁচটি ইন্দ্রিয় অর্থাৎ চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বক ছাড়াও একাগ্র মন দিয়ে তিনি যুদ্ধ করেন। তার হাতে থাকে বর্ষা, তীর, ধনুক।

কার্তিক পূজার ইতিহাস অথবা কার্তিক পূজা কেন করা হয়:

পুরাণে কথিত আছে যে, ব্রহ্মার বরে মহা তেজস্বী তারকাসুর কে নিধনের জন্যই নাকি পরাক্রমশালী যোদ্ধা কার্তিকের জন্ম হয়েছিল। তারকাসুর বধ করা কোন দেবতার পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠছিল না, এবং তার অত্যাচারে দেবলোক একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।

ঠিক সেইসময় দৈববলে প্রাপ্ত অজেয় শক্তির অধিকারী এই দেব শিশু কার্তিক, তারকাসুর নিধন করেছিলেন। এবং এই তারকাসুর নিধন করে দেবকুলে কার্তিক হলেন দেব সেনাপতি, তাই কার্তিক পূজা হয় মহা আড়ম্বর সহকারে।

ভারতীয় পুরাণ গুলির মধ্যে স্কন্দপুরাণে কার্তিকের বিষয়ে সবিস্তারে উল্লেখ করা আছে। মহাভারতে এবং তামিল সাহিত্যে ও কার্তিকের নানান মাহাত্ম্যের কথা উল্লেখিত আছে।

কার্তিক পূর্ণিমার তাৎপর্য:

মনে করা হয় যে, কার্তিক পূর্ণিমা উৎসব টি শুরু হয় প্রবোধিনী একাদশীর দিন থেকে। যেটি শুক্লপক্ষের একাদশী এবং পূর্ণিমা কার্তিক মাসের পঞ্চদশ দিন। এই কারণে পাঁচদিন কার্তিক পূর্ণিমা (Kartik Purnima) উৎসব চলে।

এই দিনটি তুলসী বিবাহ এর উদযাপনের দিনটিকেও চিহ্নিত করা হয়। কথিত আছে যে, এই বিশেষ দিনটিতে অর্থাৎ তুলসী গাছ, ভগবান বিষ্ণুর বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল।

কিছু ভক্তরা এই দিনে প্রদীপ দান করেন যেটিকে খুবই লাভজনক বলে মনে করা হয়। বৈদিক মন্ত্র পাঠ করা ও ভজন পরিবেশন করা এই দিনটিতে শুভ বলে মনে করা হয়।

কিছু কিছু ভক্ত শিবিরের জন্য একটি বিশেষ আয়োজন করেন। অনেকে বিশ্বাস করেন যে ভগবান বিষ্ণু এই দিনে শিবের উপাসনা করেছিলেন এবং তাকে ১০০০ পদ্মফুল দান করেছিলেন।

কার্তিক পূজার তাৎপর্য:

জানা যায় যে ব্রহ্মার বরে মহাবলী তারকাসুরের নিধনের জন্যই যোদ্ধা কার্তিকের জন্ম হয়েছিল। কেউ বধ করতে পারছিলোনা তারকাসুর কে।

অত্যাচারে অতিষ্ঠ আর দৈববলে বিপুল শক্তিসম্পন্ন এই দেব শিশু কার্তিকের জন্ম হয় এবং তারকাসুর কে নিধন করেন। সেই কারণে কার্তিক ঠাকুর কে দেব সেনাপতি হিসেবে অনেকেই জানেন।

#১) পুত্র সন্তান কামনা:

কার্তিক হিন্দুদের উর্বরতার দেবতা। কার্তিক পূজার মাধ্যমে দম্পতিরা সন্তান প্রার্থনা করে থাকেন। পুরান মতে কার্তিকের ব্রত করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে লাভ করেছিলেন।

সেই কারণে কথায় বলে কার্তিকের মত চেহারা অর্থাৎ কার্তিকের দেহ আকৃতি অত্যন্ত সুন্দর ও বলিষ্ঠ এই কারণে কার্তিক পূজার মাধ্যমে দম্পতিরা সুন্দর ও বলিষ্ঠ চেহারার সন্তান প্রার্থনা করে থাকেন।

কার্তিকের পূজারীর সন্তান পূজারী পুরাণকথা স্বপক্ষে তৈরি স্থানীয় লোকাচার মাত্র কথিত আছে কার্তিক বঙ্গ বিষ্ণুর কন্যা দের বিবাহ করেন।

ব্রহ্মা ও সাবিত্রীর মেয়ে দেবী ষষ্ঠী পুরান মতে কার্তিকের স্ত্রী। জন্ম ও জন্মসূত্রে সেই কারণেই হয়তো বঙ্গদেশে সন্তান লাভের আশায় কার্তিক পূজা করা হয়। দেবতাদের সেনাপতি তিনি অসীম শক্তিধর দেবতা।

এজন্য তাকে রক্ষাকর্তা হিসেবে অনেকেই পূজা করেন। তাছাড়া কার্তিক নম্র ও বিনয় স্বভাবের দেবতা কিন্তু সমাজের  অন্যায় অবিচার নির্মূলে তিনি অবিচল যোদ্ধা।

সমাজ থেকে অন্যায় অবিচার যাতে মুছে যায় সেই কারণে অনেকেই কার্তিকের পূজা (Kartik Puja) করে থাকেন।

আবার,

#২) কার্তিকের মত স্বামী কামনা:

যেহেতু কার্তিক সুদর্শন ও বলিষ্ঠ চেহারার দেবতা সেই কারণে হিন্দু ধর্মের মেয়েরা কার্তিকের মত নম্র বিনয়ী এবং সুদর্শন পুরুষকে নিজেদের স্বামী হিসেবে পেতে চান। সেই কারণেই অনেকে কার্তিকের পূজা করে থাকেন।

বাংলায় কার্তিক পূজা (Kartik Puja) হয় কার্তিক সংক্রান্তিতে অর্থাৎ কার্তিক মাসের শেষ দিনে। কুমারী মেয়েরা পুজো করে কার্তিকের, তার মত স্বামী লাভ করতে।

বাঙালি মেয়েরা প্রার্থনা করে শিবের মতো স্বামী, উড়িয়া কন্যাদের পছন্দ কার্তিক। হিমাচল প্রদেশের চাম্বাতেও পূজিত হন কুমার কার্তিক।

কার্তিক পূজার সাথে জড়িত কিছু লোকাচার:

সুঠাম গড়নের বস্ত্রহীন কাটোয়ার কার্তিক লড়াই পশ্চিমবঙ্গ জেলার মধ্যে খুবই বিখ্যাত। এই কার্তিক পুজো এত বিখ্যাত তাই এখানে এক পুজোর সঙ্গে অন্য পুজোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কার্তিক লড়াই (Kartik Lorai) বলে অনেকে অভিহিত করেছেন।

পুজোর এই বিশেষ দিনটিতে কাটোয়ার পথে এক বড়োসড়ো মিছিল নামে। পুজো মণ্ডপের দলবল তাদের ঠাকুর সমেত বের করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

লড়াই চলে কার ঠাকুর আগে যাবে। এ বিষয় নিয়ে এই অভিনব লড়াই যুদ্ধ রীতিমতো লাঠিসোটা, এমনকি তরোয়াল নিয়েও চলতে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গের কার্তিক পূজা:

আগের তুলনায় কার্তিক পূজার জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলায় অতি সমারোহে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

আশ্বিন মাসের দুর্গা পূজার সময় ও কার্তিক ঠাকুরের পূজা করা হয় আবার কলকাতাতে তার মন্দিরও আছে বর্তমানে।

বিদেশে কার্তিক পূজা:

লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে যেখানেই তামিলদের সংখ্যা বেশি, যেমন, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, সেখানে মুরুগ (Murugan) সুপরিচিত এবং সাড়ম্বরে পূজিত হয়ে থাকেন কুমার কার্তিক।

পালবাড়ির ঐতিহ্যবাহী তিন কার্তিক:

পশ্চিম বর্ধমান জেলায় গৌরবাজার বা পাণ্ডবেশ্বর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম, সেখানে বিগত ১৬৬ বছর ধরে কার্তিক পুজো হয়ে আসছে বলে অনুমান করা হয়।

এই পুজোতে তিনটি কার্তিক যথাক্রমে বড় কার্তিক, মেজ কার্তিক, ছোট কার্তিক, এর মূর্তি উপস্থিত থাকে। ঐতিহাসিক এই তিন কার্তিকের পিছনে লুকিয়ে আছে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে অদ্ভুত কৌতুহল।

কথিত আছে যে, আনুমানিক ১৮৫৩ সাল নাগাদ জমিদার জয় নারায়ন পাল, শ্যাম পাল ও লক্ষী নারায়ন পাল সন্তানহীন হওয়ার কারণে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন।

আর তখনই এক রাত্রে স্বপ্নাদেশে জয় নারায়ন পাল জানতে পারেন যে, তাদের তিন ভাইকে কার্তিক পুজো (Kartik Puja) করতে হবে। আর তবেই তাদের শুন্য কোল আলোকিত হবে।

গৃহস্থের বাড়িতে লুকিয়ে কার্তিক ঠাকুর রাখা:

লোকাচার হিসেবে পাড়ার যুবকরা যারা পুত্র সন্তান কামনা করেন অথবা যাদের কার্তিক পূজা করার মত সামর্থ্য রয়েছে, তাদের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে কার্তিক ঠাকুরের মূর্তি লুকিয়ে রেখে দিয়ে আসে।

পরদিন ভোরে গৃহকর্তা অথবা গৃহকর্তী সেই ঠাকুর দেখে কার্তিক পূজার আয়োজন শুরু করেন, এতে তাদের মনস্কামনা পূরণ হওয়ার সাথে সাথে পাড়ার যুবকদের ও নিমন্ত্রণ করা হয় সেই বাড়িতে। এমন ঘটনা আজও গ্রামাঞ্চলে বেশ প্রচলিত। তার সাথে সাথে জড়িয়ে থাকে অনেক আনন্দ উৎসব।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment