কাজরি তীজ 2024: ইতিহাস ও তাৎপর্য | Kajari Teej 2024: History and Significance

কাজরি তীজ 2024 (Kajari Teej 2024 Date Time and Significance) 2024 কাজরি তীজ ইতিহাস এবং জানুন কাজরি তীজ কেন পালন করা হয়? কাজরি তীজ তাৎপর্য কি? ভারতীয়দের জন্য কাজরি তীজ গুরুত্ব কতটা? জানুন সবকিছু এখানে।

কাজরি তীজ হল এমন একটি উৎসব যা কিনা উত্তর ভারতীয় ক্যালেন্ডার অনুসারে এটি ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষ এর সময় পালন করা হয় এবং দক্ষিণ ভারতীয় ক্যালেন্ডার অনুসারে এটি শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণ পক্ষের সময় অনুষ্ঠিত হয়।

কাজরি তীজ ইতিহাস ও তাৎপর্য - Kajari Teej History and Significance
2024 কাজরি তীজ ইতিহাস ও তাৎপর্য – 2024 Kajari Teej History and Significance

তাছাড়া কাজরি তীজ এই উৎসবটি আসে রাখি বন্ধনের তিনদিন পর এবং কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পাঁচ দিন আগে। তাছাড়া এই দিনে বিভিন্ন পূজা, অর্চনা, আচার অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যের মাঝে নিম গাছের পবিত্র পূজাও করা হয়ে থাকে।

হরতালিকা তীজ ইতিহাস ও তাৎপর্য

কাজরি তীজ ব্রত 2024:

তো চলুন জেনে নেওয়া যাক এই কাজরি তীজ ব্রত কথা সম্পর্কে:

কাজরি তীজ এমন একটি ব্রতকথা তার ইতিহাস রয়েছে অর্থাৎ পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। একজন দরিদ্র ব্রাহ্মণ একটি গ্রামে বাস করতেন, সেই ব্রাহ্মণ টির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তিনি ভালো করে দুবেলা খেতে পেতেন না। এমন অবস্থায় সংসারে একটু আয় উন্নতির জন্য এবং স্বামীর মঙ্গল কামনায় একদিন ব্রাহ্মণের স্ত্রী কাজরি তীজ এর ব্রত পালন করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার স্বামীকে তার উপবাসের জন্য ছোলা, ছাতু আনতে বলেন।

এই কথা শুনে ব্রাহ্মণ গেলেন ক্ষেপে, কেননা ঠিকমতো খাবার জোগাড় করার যার কোনো ক্ষমতা নেই, সে কিভাবে ছোলার ছাতু আনতে পারবে। কারণ ছাতু কেনার জন্য অনেকটা পরিমাণ টাকা খরচ করতে হতো। তবুও রাগ দমন করে সেই ব্রাহ্মণ দোকানে গেলেন ছাতু আনার জন্য। সেখানে তিনি দেখলেন মহাজন ঘুমাচ্ছেন।

এমন অবস্থায় ব্রাহ্মণ গোপনে দোকানে গিয়ে সেই ছাতু নেওয়া শুরু করলেন। তার মধ্যে মহাজন ঘুম থেকে উঠে ব্রাহ্মণকে দেখলেন। তিনি ব্রাহ্মণকে ধরলেন এবং চিৎকার করতে লাগলেন চোর চোর বলে। ব্রাহ্মণ তখন বললেন যে সে চোর নয় এবং মাত্র দেড় কেজি ছাতু সে নিচ্ছে।

এমন অবস্থায় ব্রাহ্মণ জানালেন যে, তার স্ত্রী উপবাসে রয়েছেন। কাজরি তীজের ব্রত পালন করছেন, তার জন্য পূজার সামগ্রী প্রয়োজন। তাই সে শুধুমাত্র ছাতু নিয়েছে। এই কথা শুনে মহাজন ব্রাহ্মণের খোঁজ নেন এবং তার কাছ থেকে আলাদা কোন জিনিসপত্র পাননি। সেই কারণে মহাজনের মন নরম হয়ে গেল। তিনি ব্রাহ্মণকে বললেন যে এখন থেকে সে তার স্ত্রীকে তার বোন বলে মনে করবে।

এরপর সেই মহাজন ব্রাহ্মণকে টাকা এবং যা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দরকার সেগুলি দিয়ে বিদায় দিলেন। আর সেই কারণে বলা হয়ে থাকে যে, এই দিনে উপবাস করলে স্বামীর সব ইচ্ছা পূরণ হয় এবং দীর্ঘায়ু পূর্ণ হয়।

হরিয়ালি তীজ ইতিহাস ও তাৎপর্য

কাজরি তীজ পূজার বিধি 2024:

এই ব্রত পালন করার জন্য আপনাকে যে সমস্ত নিয়মাবলী গুলি পালন করতে হবে সেগুলি হল:-

  • প্রথমত খুবই ভোর থাকতে থাকতে ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং না খেয়ে বা জল পান না করে সারাদিন ব্রত পালন করার প্রতিজ্ঞা নিতে হবে অর্থাৎ নির্জলা উপবাস রাখতে হবে।
  • এরপর পূজার স্থানে একটি নতুন লাল কাপড়ে ভগবান শিব ও মাতা পার্বতীর মূর্তি স্থাপন করুন। ভগবান শিব এবং মাতা পার্বতীর মূর্তি গুলি গরুর ডঙ্ক থেকে তৈরি করুন অথবা এর পরিবর্তে আপনি বাজার থেকে এই মূর্তি কিনেও আনতে পারেন।
  • ভগবান শিব ও মাতা পার্বতীর পূজা করুন এবং ১৬ টি অলংকার অথবা সাজসজ্জা নিবেদন করুন যেমন:-কানের দুলের, ফুল, আঙুলের আংটি, চুড়ি, কোমর বন্ধ, বাজুবন্ধ,  পায়ের আংটি, কাজল, মেহেন্দি, চন্দন কাঠের পেস্ট, সুগন্ধি ইত্যাদি।
  • কাজরি তীজের ব্রত কথা পাঠ করুন। এবং তার সাথে সাথে আরতী করে পূজা সমাপ্ত করুন।

বিভিন্ন রকমের ফুল, ফল, নৈবেদ্য, মিষ্টি ইত্যাদি দিয়ে পূজা করা হয় শিব ও দেবী পার্বতীকে। তার পাশাপাশি যতক্ষণ না পর্যন্ত পূজা সম্পন্ন হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত জলস্পর্শ করা যাবে না, অর্থাৎ একেবারে নির্জলা উপবাসে থাকতে হবে। তবেই এই ব্রতর সুফল পাওয়া যাবে, এমন করা হয় অনেক দিন আগে থেকে।

আর তাইতো বিবাহিত মহিলাদের পাশাপাশি কুমারী মেয়েরাও এই ব্রত পালন করে থাকেন খুবই কষ্ট এবং নিষ্ঠার সাথে। এই দিন নিম গাছের পবিত্র পূজাও করা হয়, কাজরি তীজের ব্রত পালনের ঐতিহ্য অনুসারে।

গুরু পূর্ণিমা ইতিহাস ও তাৎপর্য

কাজরি তীজ এর তাৎপর্য 2024:

কাজরি তীজ হলো খুবই পুরানো একটি উৎসব। এই পূজা করার জন্য বিবাহিত মহিলারা তাদের পিতা-মাতার বাড়িতে যান, ব্রত করেন তাদের স্বামীদের দীর্ঘায়ু এবং মঙ্গল কামনা করে। এই ব্রত অবিবাহিত মেয়েদের জন্যও শুভ বলে মনে করা হয়।

এটা বিশ্বাস করা হয় যে, অবিবাহিত মেয়েরা যারা এই ব্রত পালন করবেন তারা একটি উপযুক্ত জীবনসঙ্গী অথবা স্বামী পাবেন। কেননা এই ব্রতের মধ্যে দিয়ে সংসারের সুখ সমৃদ্ধি এবং স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

আমরা সকলেই চাই যে, আমাদের সংসারের সুখ, শান্তি বজায় থাকুক, সমৃদ্ধি, ধন সম্পদ বৃদ্ধি হোক, পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য বজায় থাক, আর তাই জন্য সবাই কোন না কোন ব্রত পালন করার মধ্যে দিয়ে মনের শান্তি ও তুষ্টি অনুভব করি। তেমনি একটি ব্রত হল এই কাজরি তীজ  এর ব্রত। যা কিনা ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের সময় পালন করা হয়।

এছাড়া এই ব্রত দক্ষিণ ভারতীয়দের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি ব্রত বলে পরিচিত। বিবাহিত মহিলারা সুন্দর উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, চুড়ি তে সেজে ওঠেন এবং পূজার থালি সাজিয়ে এই ব্রত পালন করেন। পূজা সম্পন্ন হওয়ার পরেই তবেই জল পান করেন।

এই সবকিছুর মধ্যে দিয়ে এই উৎসব বাড়িতে আনন্দের ধারা বয়ে নিয়ে আসে। সমস্ত ঘরবাড়ি আম পাতা ও বিভিন্ন রকমের ফুল দিয়ে সাজানো হয়, যাতে পরিবারে আসে উৎসব উৎসব আমেজ। এই ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে সংসদে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য এবং ধনবৃদ্ধি হতে থাকে দেব দেবীর আশীর্বাদে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *