2022 জ্যাম ও জেলি বানানোর ব্যবসা শুরু করবেন কিভাবে | 2022 Jam Jelly Making Business Idea in Bengali

Jam Jelly Making Business Idea 2022 (জ্যাম ও জেলি বানানোর ব্যবসা 2022): How to Start Jam Jelly Making Business in India? | Jam Jelly Making Business Idea in Bengali | Jam Jelly Making Business Plan in Bengali. জানুন জ্যাম আর জেলির ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি এবং লাভ ও ইনভেস্টমেন্ট

আমাদের ব্রেকফাস্টে জ্যাম আর জেলির ব্যবহার প্রচুর মাত্রায় করা হয়ে থাকে। সমস্ত বয়সের মানুষ এগুলো খেতে ভীষণ পছন্দ করেন। বিভিন্ন ফলের জ্যাম আর জেলির চাহিদা প্রচুর মাত্রায়। আর এই ব্যবসাটি যে কোন ব্যাক্তি অনায়াসে শুরু করতে পারেন।

এই ব্যবসাটি করতে গেলে কোন রকম অভিজ্ঞতা অথবা ঝামেলারও দরকার নেই। এই ব্যবসাটি আপনি ছোট স্তরে খুবই সহজে শুরু করতে পারেন এবং ধীরে ধীরে বড় স্তরে নিয়ে যেতে কোন অসুবিধা হবে না। তাছাড়া এই ব্যবসাটি ঘরে থেকেও করতে পারবেন খুব ভালোভাবে।

জ্যাম ও জেলি বানানোর ব্যবসা - Jam Jelly Making Business Idea
জ্যাম ও জেলি বানানোর ব্যবসা – Jam Jelly Making Business Idea

জ্যাম এবং জেলি বাড়ানোর প্রক্রিয়া সাধারণত একই রকম হয়ে থাকে। এগুলো বাড়ানোর জন্য কিছু সামগ্রী এবং মেশিন এর প্রয়োজনীয়তা হবে। কিন্তু এই সব জিনিসপত্রের সম্পর্কে ভালোমতো তথ্য আপনাকে জোগাড় করতে হবে।

এ বিষয়ে আপনাদের একটা বিষয় সম্পর্কে জানানো জরুরী যে এই দেশে যেকোনো ব্যবসাতে মার্কেটে চাহিদা কত খানি আর এই ব্যবসাটি ঘর  ছাড়া আরও কিছু জায়গায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জ্যাম আর জেলি ব্যবসা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

Contents

জ্যাম আর জেলির ব্যবসার গ্রোথ:

আমাদের দেশে জ্যাম আর জেলি ব্যবসা শুরু করে অনেকেই সফল হয়েছেন। তাছাড়া যেসব কোম্পানি জ্যাম আর জেলি ব্যবসা করছে তারা প্রথম থেকেই এই ব্যবসাতে লাভবান হয়েছে বলে জানা যায়।

তাছাড়া আগামী দিনে এই ব্যবসাটি আরো বেশি উন্নতি লাভ করবে, কেননা এই সুস্বাদু খাবার টি কখনোই কারো অপছন্দের হবে না, আর সেই কারণে আপনি অনায়াসেই চোখ বন্ধ করে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

কোন কোন জায়গাতে জ্যাম আর জেলি ব্যবহার করা হয়:

জ্যাম আর জেলির ব্যবহার কেবলমাত্র ঘরেই হয়ে থাকে না, এর ব্যবহার কিন্তু হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং বড় বড় অনুষ্ঠানেও  করা হয়। এর ব্যবহার বিভিন্ন রকমের রেসিপি বানানোর কাজে হয়ে থাকে। যেমন কেক, আইসক্রিম, শেক ইত্যাদিতে।

ভারতের জ্যাম আর জেলি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কোম্পানি গুলি:

এই ব্যবসার সাথে জড়িত অনেক রকমের কোম্পানি আছে। মার্কেটে চাহিদা এতটাই যে, এই জ্যাম আর জেলি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কিন্তু কিষান (Kissan) আর টপস (Tops) কোম্পানি জ্যাম, জেলি বানানোর ক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির তুলনায় বেশ জনপ্রিয়। এই দুটি কোম্পানি থেকে বিভিন্ন রকম জ্যাম মার্কেটে ছাড়া হয় এছাড়াও এই দুটি কোম্পানির জেলিও বানিয়ে থাকে।

এই দুটি কোম্পানি থেকে বানানো জ্যাম আর জেলি মার্কেটে ব্যাপক মাত্রায় বিক্রি হয়ে থাকে। আর যদি আপনি এই কোম্পানির তৈরি করা জ্যাম আর জেলি খেয়ে থাকেন তাহলে তো আপনার নিশ্চয়ই জানা থাকবে যে সেগুলি কতটা টেস্টি। বাচ্চাদের সাথে সাথে বড়রাও কতটা পছন্দ করেন।

এই ব্যবসাটি শুরু করার আগে আপনাকে ভাল করে জানতে হবে যে জ্যাম আর জেলি আসলে কি? আর এই দুটি জিনিসের মধ্যে পার্থক্য বা কি! এছাড়াও এই দুটি জিনিসের ফ্লেভার সম্পর্কে সবকিছু জানতে হবে।

জ্যাম আর জেলির মধ্যে পার্থক্য:

জ্যাম আর জেলি প্রায় একই রকম ভাবে তৈরি করা হয়, আর এই দুটি স্বাদও এক রকম হয়ে থাকে। কিন্তু জ্যাম জেলির তুলনায় সামান্য পরিমান পাতলা হয়ে থাকে আর জেলি কিছুটা মোটা হয়ে থাকে। একদিকে যেমন জেলি টফির মত ব্যবহার করা হয় আর জ্যাম রুটি অথবা ব্রেড এর সাথে খাওয়া হয়ে থাকে।

জ্যাম আর জেলির ফ্লেভার:

জ্যাম আর জেলি বিভিন্ন রকমের ফ্লেভারে তৈরি করা হয়, যদি আপনি এই ব্যবসাটি শুরু করতে চান এবং এই ব্যবসা থেকে ভালোভাবে সফলতা পেতে চান তাহলে এই জ্যাম আর জেলির সমস্ত রকমের ফ্লেভার সম্পর্কে জানতে হবে এবং সমস্ত রকমের ফ্লেভারের জ্যাম আর জেলি বানাতে হবে।

মার্কেটে প্রায় দশের বেশি জ্যাম আর জেলির ফ্লেভার পাওয়া যায়। এজন্য আপনি যদি ভেবে থাকেন যে কেবলমাত্র একটি ফ্লেভারের জ্যাম আর জেলি বানিয়ে ব্যবসা করে সফল হবেন তাহলে কিন্তু আপনি ভুল ভাবছেন।

প্রত্যেক মানুষের এক রকম খাবার পছন্দ নাও হতে পারে, সেই কারণে সমস্ত রকমের মানুষের জন্য এবং সমস্ত রকমের গ্রাহকদের আকর্ষণ করার জন্য বিভিন্ন রকমের ফ্লেবার এর জ্যাম আর জেলি বানাতে হবে আপনাকে।

জ্যাম আর জেলি বানানোর জন্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র:

জ্যাম আর জেলি যে কোন মানুষ খুব সহজেই ঘরে থেকেই বানাতে পারবেন। যদি আপনার বাজেট বেশি হয়ে থাকে তাহলে এই ব্যবসাটি বড় স্তরে শুরু করতে পারেন। আর এ গুলি বানানোর জন্য কিছু মেশিনের এবং কিছু সামগ্রীর প্রয়োজন পড়বে।

জ্যাম আর জেলি বানানো ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের সামগ্রি:

এই জ্যাম আর জেলি বানানোর জন্য আপনার বিভিন্ন রকমের সামগ্রির প্রয়োজন পড়বে। আর এই সমস্ত সামগ্রী আপনি খুব সহজেই যে কোন জায়গা থেকেই সংগ্রহ করতে পারেন। তাছাড়া নিচে জ্যাম আর জেলি বানানোর জন্য যে সমস্ত জিনিসপত্র প্রয়োজন পড়বে তার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

১) ফল: যে কোনো রকমের জেলি অথবা জ্যাম বানানোর জন্য সবার প্রথমে যে জিনিসটি প্রয়োজন সেটি হল হল ফল, ফলের মাধ্যমে জ্যাম আর জেলি বিভিন্ন রকমের স্বাদের তৈরি করা হয়।

আপনি যে স্বাদের অথবা ফ্লেভারের জেলি অথবা জ্যাম বানাতে চাইছেন আপনার সেই স্বাদ যুক্ত ফল প্রয়োজন পড়বে। এছাড়াও চেষ্টা করবেন যে সবসময়ের জন্য সতেজ এবং ভালো রকমের ফল ব্যবহার করার। এই জ্যাম আর জেলি তৈরি করার জন্য।

বাজারে আম, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি ইত্যাদি রকমের ফল দিয়ে জ্যাম বিক্রি হয়ে থাকে। আর আপনার এ সমস্ত ফলের প্রয়োজন পড়বে। আবার যদি আপনি মিক্স ফ্রুট জ্যাম অথবা জেলি বানাতে চান সেক্ষেত্রেও সমস্ত রকমের ফলের প্রয়োজন পড়বে। এই সমস্ত ফল ছাড়াও আরো অন্যান্য ফলের প্রয়োজন পড়বে জ্যাম ও জেলি বানানোর জন্য।

কোথায় থেকে ফল কিনবেন এবং তার দাম:

এসমস্ত ফল আপনি যেখানে পাইকারি দামে ফল বিক্রি হয় সেখান থেকে কিনতে পারেন, এছাড়াও আজকাল অনলাইনে ও এসমস্ত ফল বিক্রি হয়ে থাকে তাছাড়া এসমস্ত ফলের দাম কখনোই একরকম থাকেনা, সময় সময় তাদের দাম ওঠানামা করতে থাকে। আর সেই কারণে এদের সঠিক দাম বলাটা খুবই মুশকিল হয়ে পড়ে।

২) পেকটিন (Pectin): পেকটিন পাউডার এর সাহায্যে ফলে থেকে যে রস বের করা হয় সেটি কে জেল আকারে পরিবর্তন করা যায় অর্থাৎ কিছুটা মোটা করা যায়। তাছাড়া এমন কিছু ফল আছে তাতে উচ্চ গুণমান পেকটিন প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া যায়, যে সমস্ত ফলে পেকটিন প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া যায় সেগুলির নাম হলো নাশপাতি, আপেল, পিয়ারা, কমলালেবুর এবং অন্যান্য টক জাতীয় ফল।

তাছাড়া যে সমস্ত ফলে পেকটিন কম মাত্রায় পাওয়া যায়, প্রাকৃতিক রূপে সেগুলির নাম হলো চেরি, আঙ্গুর, আর স্ট্রবেরি, এইজন্য যখন আপনি কম পেকটিন যুক্ত ফলের জ্যাম অথবা জেলি বানাবেন সেক্ষেত্রে পেকটিন পাউডার এর পরিমাণ বেশি ব্যবহার করতে হবে।

পেকটিন পাউডার কোথায় থেকে কিনবেন:

আপনি আপনার শহরে অথবা গ্রামের আশেপাশে কোন বড় মার্কেটে মুদিখানার দোকান থেকে পেকটিন পাউডার পেয়ে যাবেন। আর যদি মুদিখানার দোকানের না পেয়ে থাকেন, তাহলে অনলাইনেও আপনি কিনতে পারেন, নিচে দেওয়া এই ওয়েবসাইটের মধ্যে দিয়েও এ পাউডারটি সংগ্রহ করতে পারবেন আপনি। indiamart.com

পেকটিন পাউডারের দাম:

১ কিলোগ্রাম পেকটিন পাউডার এর দাম ১৫০০ টাকা। আবার যদি আপনি বেশি মাত্রায় এটি কিনে থাকেন তাহলে আরও কিছুটা পরিমাণ দাম কমতে পারে। তাছাড়া অনলাইনেও এই পাউডারের দাম এতটাই পড়ে।

৩) সাইট্রিক অ্যাসিড: ফল গুলিকে জেলের আকার দেওয়ার জন্য সাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এর সাহায্যে জ্যাম, জেলির মধ্যে স্বাদ দেওয়া হয়। এটাও আপনি অনলাইনের মাধ্যমেই পেতে পারেন।

৪) চিনি: জ্যাম আর জেলি বানানোর জন্য চিনি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেটা আপনি মার্কেটে অনায়াসেই পেয়ে যাবেন, পঁচিশ টাকা প্রতি কিলো থেকে শুরু হয়। আর যদি আপনি বেশি মাত্রায় নিয়ে থাকেন তাহলে দামটা অনেকাংশেই কম হবে।

জ্যাম আর জেলি বানানোর জন্য মেশিন:

জ্যাম আর জেলি বানানোর জন্য আপনার বিভিন্ন রকমের মেশিনের প্রয়োজন হবে। যেমন ধরুন পাল্পর, মিক্সার, জুস এক্সট্রাকটর, স্লাইসার, ক্যাপ সিলিং মেশিন, থালা-বাসন ধোয়ার মেশিন।

Indiamart.com থেকেও আপনি এগুলি অনলাইনে কিনতে পারেন, তাছাড়া এই লিংকের মাধ্যমে ও কিনতে পারেন।

জ্যাম আর জেলি মেকিং মেশিন এর দাম:

জ্যাম আর জেলি মেকিং এর সমস্ত রকমের মেশিনের দাম ১০০০০০ টাকার মধ্যে আপনার এসে যাবে। তাছাড়া মেশিন গুলি ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়।

যদি আপনি বড় আকারে ব্যবসাটি শুরু করতে চান সে ক্ষেত্রে কম সময়ের মধ্যে আপনি বেশি পরিমাণে জ্যাম আর জেলি উৎপাদন করতে পারবেন এবং সেটি সম্পূর্ণরূপে অটোমেটিক হয়ে থাকে। আর এই অটোমেটিক মেশিন আপনার কিনতে গেলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

এই মেশিন https://indiamart.com/ এই লিঙ্কের মধ্যে গিয়েও কিনতে পারেন।

জ্যাম আর জেলি বানানোর প্রক্রিয়া:

জ্যাম বানানোর প্রক্রিয়া:

১) সবার প্রথমে ফলগুলো কে আপনি পরিষ্কার জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর তার খোসা গুলি ছাড়িয়ে নিন, এরপর স্লাইস আকারে ভালো করে ছোট ছোট টুকরো তে কেটে নিন।

২) পল্পার এর সাহায্যে ফলের রস বের করে নিন এরপর সেই রস বড় পাত্রে ঢেলে দিয়ে সেই পাত্রে জল মেশাতে হবে। জল মেশানোর পর আগুনে এটিকে ফোটাতে হবে।

৩) যখন এই ফলের রস জলের সাথে ভালোভাবে মিশে যাবে সেক্ষেত্রে পরিমাণমতো চিনি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড তার সাথে পেকটিন পাউডার দিয়ে দিতে হবে। তারপরে আবার কিছুক্ষণ ফোটাতে হবে। ফোটানোর পর সেটিকে রেফ্রিজারেটরে রেখে দিতে হবে। যখন এটি ভালোমতো ঠান্ডা হয়ে যাবে রেফ্রিজারেটর থেকে বের করে মেশিনের সাহায্যে বোতলে ভরতে হবে এবং তার সাথে সাথে প্যাক করতে হবে।

জেলি বানানোর প্রক্রিয়া:

জেলি বানানোর প্রক্রিয়া জ্যাম বানানোর মতই হয়ে থাকে। যখন আপনি জেলি বানাবেন, বানানোর সময় পেকটিন পাউডার একটু বেশিমাত্রায় দিতে হবে, যার ফলে জ্যামের তুলনায় জেলি কিছুটা মোটা এবং ঘন আকারের হয়ে থাকে। একই রকম পদ্ধতিতে আপনি ঘরেও এই জ্যাম আর জেলি বানাতে পারবেন।

আপনার বানানো জ্যাম আর জেলির কতটা দাম রাখবেন:

কিশান কোম্পানী মিক্স ফ্রুট জ্যাম ২০০ গ্রামের বোতল ৬০ টাকায় বিক্রি করে থাকে। এবং জেলির এক টাকা পাউচ বিক্রি হয়। আবার এর প্যাকেট ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আপনি যদি এই কোম্পানির মতোই জ্যাম আর জেলি বানিয়ে থাকেন তাহলে ওই কোম্পানির দামের তুলনায় কম দামে আপনাকে বিক্রি করতে হবে।

এমন করার ফলে আপনার বানানো জ্যাম আর জেলি মানুষ বেশি পরিমাণে কিনতে থাকবেন। শুধু তাই নয়, খুব কম সময়ের মধ্যে আপনার এই ব্যবসাটি মার্কেটে জনপ্রিয়তা লাভ করবে।

কর্মচারী নির্বাচন:

যদি আপনি ছোট আকারে ব্যবসাটি শুরু করেন তাহলে দুটি লোক যথেষ্ট। আর যদি বড় আকারে এবং মাঝারি আকারে শুরু করেন সেক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ জন কর্মচারী আপনার প্রয়োজন পড়বে। সে ক্ষেত্রে কর্মচারীদের ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে রাখতে হবে।

জায়গা নির্বাচন:

আপনি যদি এই ব্যবসাটি মাঝারি আকারে শুরু করে থাকেন, অথবা বড় আকারে শুরু করে থাকেন সেক্ষেত্রে ভালো মত একটা জায়গা নির্বাচন করতে হবে। ব্যবসা সম্পর্কিত বিভিন্ন রকমের সামগ্রী এবং মেশিন যেখানে খুব সহজেই আপনি রাখতে পারবেন এবং তৈরি হয়ে যাওয়া জ্যাম আর জেলি স্টোর করে রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান জায়গা আপনার ফাঁকা থাকতে হবে, সে ক্ষেত্রে ভালোমতো একটা বড় ঘরের প্রয়োজন পড়বে।

এই ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন:

জ্যাম আর জেলির কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রথমে আপনার নিজস্ব কোম্পানির নাম ভালো করে রাখতে হবে এবং সেই নামে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পর FSSAI এই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। তাছাড়া আমাদের দেশে খাওয়ার জিনিস এর উপরে লাইসেন্স এর গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। সে ক্ষেত্রে আপনার এই লাইসেন্স অবশ্যই নিয়ে রাখতে হবে।

FSSAI লাইসেন্স ছাড়াও আপনাকে বেট রেজিস্ট্রেশনও করতে হবে। সেটি আপনি লোকাল অথরিটি দপ্তর এ গিয়ে করতে পারেন, এই সমস্ত রেজিস্ট্রেশন করতে আপনার কিছুটা পরিমান খরচ হতে পারে। আর সেই কারণে এর জন্য আলাদা করে টাকা আপনাকে জোগাড় করে রাখতে হবে।

প্যাকেজিং এর প্রয়োজনীয়তা:

আপনি যদি জ্যাম আর জেলির ব্যবসাতে সফলতা অর্জন করতে চান, সেক্ষেত্রে সেগুলির ভালোমতো প্যাকেজিং করতে হবে। কেননা যত সুন্দর প্যাকেজিং হবে ততই মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং সেগুলি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করবে।

জেলি আর জ্যাম বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চারা বেশি পছন্দ করে থাকে সেই জন্য এর প্যাকেট অথবা কাচের জার এর গায় কার্টুন অথবা কোন বাচ্চাদের পছন্দের জিনিস এর ছবি ছাপিয়ে রাখলে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বাচ্চাদের কাছে।

আপনার ব্যবসার প্রমোশন:

যে কোন ব্যবসার জন্য কোম্পানির প্রমোশন করাটা অবশ্যই জরুরি, কেননা প্রচারের মাধ্যমে কোম্পানি অনেকদূর পর্যন্ত তার জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে। আপনি আপনার কোম্পানির প্রমোশন খুব সহজেই করতে পারবেন।

প্যাম্পলেট বানিয়ে খবরের কাগজের সাহায্যে মানুষের কাছে আপনার ব্যবসার কথা পৌঁছে দিতে পারেন, তাছাড়া যদি কোনো বড় ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে চান, যদি আপনার বাজেট থেকে থাকে সেটাও করতে পারেন।

সাবধানতা অবলম্বন:

জ্যাম আর জেলি এটি যেহেতু খাদ্যবস্তু, তাই সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি এগুলি যেন শরীরের কোনরকম ক্ষতি না করে সেদিকেও ভালমতো খেয়াল রাখতে হবে।

জ্যাম আর জেলি ব্যবসার জন্য বাজেট:

যদি আপনি ব্যবসাটি ঘর থেকেই শুরু করতে চান তাহলে ৫০০০০ টাকা থেকে ৭০০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। আর যদি ছোট স্তরে এই ব্যবসাটি শুরু করতে চান সে ক্ষেত্রে দুই লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, আবার যদি বড় স্তরে ব্যবসাটি শুরু করতে চান সেক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

লোনের সুবিধা:

জ্যাম আর জেলি ব্যবসা শুরু করতে গেলে বেশি পরিমাণে আপনার ইনভেস্ট করতে হবে সেই কারণে আপনি ব্যাংক থেকে অনায়াসেই লোন নিতে পারেন যদি আপনার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুঁজি না থাকে। তাছাড়া সরকার বিভিন্ন রকমের ব্যবসা চালানোর জন্য বিভিন্ন রকমের যোজনা চালু করেছে। তার সাহায্যেও আপনি এই ব্যবসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা নিতে পারেন।

ব্যবসাটি শুরু করার আগে ট্রেনিং:

জ্যাম আর জেলি ব্যবসা শুরু করার আগে কিভাবে সেগুলি তৈরি করা হয় সে সম্পর্কে সাধারণত একটি ধারণা থাকা প্রয়োজন। তবেই তো আপনি সেগুলিকে সুস্বাদু এবং সুন্দরভাবে তৈরি করতে পারবেন, তাই না।

জ্যাম আর জেলির ব্যবসা থেকে লাভ:

যদি আপনি এই ব্যবসাটি খুবই ছোট আকারে ঘর থেকে শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনি প্রতিমাসে কম করে ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা উপার্জন করতে পারেন। আবার যদি মাঝারি আকারে শুরু করেন সে ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। আর যদি এই ব্যবসাটি বড় আকারে শুরু করে থাকেন সে ক্ষেত্রে ৬০,০০০ থেকে ৭০,০০০ হাজার টাকা উপার্জন করা অসম্ভব কিছু নয়।

তো এই সুন্দর ব্যবসাটি সম্পর্কে যে তথ্যগুলি দেওয়া হল আশা করি আপনাদের খুবই ভালো লেগেছে। আর যদি এমন ব্যবসার কথা চিন্তা করে থাকেন তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে আশা করা যায়।

Leave a Comment