Jagaddhatri Puja 2022: History and Significance | 2022 জগদ্ধাত্রী পূজার ইতিহাস ও তাৎপর্য

0
(0)

জগদ্ধাত্রী পূজা (Jagaddhatri Puja): প্রায় আড়াইশো বছর আগে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পূজা দেখে মুগ্ধ হয়ে ইন্দ্রনারায়ন চন্দননগরের লক্ষীগঞ্জ চাউল পট্টি নিচুপাটি জগদ্ধাত্রী পূজার প্রচলন করেন।

লক্ষীগঞ্জ প্রতিষ্ঠান কিছুকাল পরেই এই পূজার সূচনা। এই পূজার চন্দননগরে আদি পুজা নামেও পরিচিত।

জগদ্ধাত্রী পূজার ইতিহাস:

দুর্গা ঠাকুরের বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার আকাশে-বাতাসে নেমে আসে বিষাদের সুর।

তার কিছুদিন পরে লক্ষ্মী পুজোতে কিছুটা হলেও মন খারাপ কেটে যায়, আবার সামনে আসে কালীপূজা, একের পর এক পূজা কেটে যাওয়ার পর মানুষের মন থেকে বিষাদ যেন কাটতেই চায় না।

Jagaddhatri Puja History and Significance
Jagaddhatri Puja History and Significance

এক মা নিজের শ্বশুরবাড়িতে চলে যাওয়ার পর আরেক মাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য পৃথিবীবাসী অপেক্ষা করে থাকে।

জগদ্ধাত্রী পুজা 2021 তারিখ:

কার্তিক মাসের ২৬ তারিখ শনিবার অর্থাৎ নভেম্বর এর ১৩ তারিখ।

বাংলার জগদ্ধাত্রী পূজার ইতিহাসে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের ভূমিকা:

জগদ্ধাত্রী শব্দের অর্থ হলো জগত + ধাত্রী। জগতের ধাত্রী অর্থাৎ ত্রিভুবনের পালিকা। তবে শাস্ত্রে নির্দিষ্ট জগদ্ধাত্রী রূপের নামকরণের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় দর্শন। উপনিষদে যার নাম উমা হৈমবতী (Uma Haimbati)। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়।

জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশে প্রচলিত। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর হুগলি জেলার চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী উৎসব জগদ্বিখ্যাত (Chandannagar Jagaddhatri Puja)।

জগদ্ধাত্রী পূজা বাঙালি হিন্দু সমাজের একটি বিশিষ্ট উৎসব হলেও দুর্গা, কালী পূজার তুলনায় এই পূজার প্রচলন অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে ঘটেছে। অষ্টাদশ শতকে নদীয়ার কৃষ্ণ চন্দ্র রায় তার রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করার পর এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। যদিও জগদ্ধাত্রী যে বাঙালি সমাজে একান্ত পরিচয় পরিচিত ছিলেন না তার প্রমাণও কিন্তু পাওয়া যায়।

আবার কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্ব কালের আগে নির্মিত নদীয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিব মন্দিরকোতোয়ালি থানার রাঘবেশ্বর শিব মন্দিরের ভাস্কর্য জগদ্ধাত্রীর মূর্তি লক্ষ্য করা যায়। এইগুলি থাকলেও মনে করা হয় বাংলার জনসমাজে কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বেও জগদ্ধাত্রী পূজা (Jagaddhatri Puja) বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। কেবলমাত্র কিছু ব্রাহ্মণের ঘরে দূর্গা পূজার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পূজা হত।

নদীয়া জেলার সদর কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। কিংবদন্তী অনুসারে নবাব আলীবর্দীর রাজত্বকালে রাজার নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকার নজরানা দাবি করেন।

নজরানা দিতে অপারগ হলে তিনি রাজাকে বন্দী করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যান। মুক্তির পর নদীপথে কৃষ্ণনগরে প্রত্যাবর্তনের সময় ঘাটে বিজয়া দশমীর বিসর্জনের বাজনা শুনে তিনি বুঝতে পারেন সেই বছর দুর্গাপূজায় সময় পার হয়ে গিয়েছে।

দূর্গা পূজার আয়োজন করতে না পেরে রাজা অত্যন্ত দুঃখিত হন। সেই রাতে দুর্গা-জগদ্ধাত্রী-রূপে রাজাকে পরবর্তী শুক্লা নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী দুর্গার পূজা করার আদেশ দেন। কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা ১৭৬৬ সালে।

কেউ কেউ আবার কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্র কে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি জগদ্ধাত্রী পূজার প্রবর্তক মনে করেন। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দরজা জগদ্ধাত্রী পূজার সময় আজও খোলা থাকে।

পূজা পুরনো প্রথা মেনে পূজা হয় শুধুমাত্র নবমী তিথিতে। ১৭৭২ সালে রাজবাড়ীর দেখাদেখি কৃষ্ণনগরের চাষাপাড়ায় কৃষ্ণচন্দ্রের প্রজারা জগদ্ধাত্রী পূজা (Jagaddhatri Puja) শুরু করেন।

বুড়িমার পূজা (Burima Puja) নামে পরিচিত এই পূজা শুরু হয়েছিল ঘটে ও পটে। প্রথম দিকে স্থানীয় গোয়ালারা দুধ বিক্রি করে এই পূজার আয়োজন করতেন। ১৭৯০ সাল নাগাদ গোবিন্দ ঘোষ ঘট পট এর পরিবর্তে প্রতিমায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন।

এখানকার প্রতিমার বৈশিষ্ট্য হলো প্রায় সাড়ে ৭০০ ভরি সোনার গয়নায় দেবী প্রতিমার অলংকার সজ্জা হয়। কৃষ্ণনগরের বাসিন্দাদের মতে এই দেবী অত্যন্ত জাগ্রতা। তার নিকট সকল মনস্কামনা পূর্ণ হয়।

এছাড়াও বর্তমানে কৃষ্ণনগরে বারোয়ারি জগদ্ধাত্রী পূজা (Barowari Jagadhatri Puja) হয় দু’শরও বেশি। যার জন্য জগদ্ধাত্রী পূজার জন্য বিখ্যাত চন্দননগর মহানগরের চেয়েও বেশি। এখনো পর্যন্ত পুরুষানুক্রমে দেওয়ান চৌধুরীদের উত্তরপুরুষের নামে পূজার সংকল্প হয়।

এখানকার প্রতিমার বৈশিষ্ট্য হল সনাতন রীতির প্রতিমায় সাদা সিংহ এবং বিপরীতমুখী অবস্থানে হাতি। শোনা যায় বিসর্জনের সময় আদি প্রতিমা জলে পড়লেই শুশুক বা সাপের দেখা পাওয়া যায়। তবে এখনও ঘটা করে জগদ্ধাত্রী পূজা হয়ে থাকে।

চন্দননগরের গর্বের আলোকসজ্জা যেমন এই পুজো ঘিরে প্রতিবছর আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। তেমনি এই এলাকার বেশ কিছু পুজোতেও ভক্ত সমাগম দেখার মত।

এলাকার পুজো ঘিরে রয়েছে কিছু প্রচলিত কাহিনী, টুকরো ঘটনা, যা নিয়ে রয়েছে কিছু ইতিহাস ও ইতিহাসের সঙ্গে পরম্পরা মাফিক চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর আরম্ভর কে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো ও দাতারাম শূর:

কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো (Krishnagar Jagadhatri Puja) আর চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর (Chandannagar Jagaddhatri Puja) মধ্যে কোনটি আগে শুরু হয়েছে তা নিয়ে রয়েছে বহু বিতর্ক। এই অনুযায়ী রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দেওয়ান দাতারাম সুরের বাড়ি ছিল ভদ্রেশ্বর গৌরহাটি এলাকায়।

সেই জায়গাতেই দাতারামের বিধবা কন্যা শুরু করেন জগদ্ধাত্রী পুজো। পরে পুজোটি আর্থিক কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তা স্থানান্তরিত হয়ে ভদ্রেশ্বর এর গৌরহাটি অঞ্চলে আসে। সেই পুজোই বর্তমানে তেঁতুল তলার পুজো (Tetultala Jagadhatri Puja) বলে বিখ্যাত।

ভদ্রেশ্বর তেঁতুল তলার জগদ্ধাত্রী পুজো:

হুগলির ভদ্রেশ্বর এর তেতুল তলার পুজো অত্যন্ত বিখ্যাত শুধুই নয়। এই পুজো জাগ্রত বলে প্রসিদ্ধিলাভ করেছে। প্রতিবছর এখানে মায়ের পুজো দেখতে বিরাট সংখ্যক ভক্তের সমাগম চোখে পড়ার মতো।

তেতুল তলার পুজোর বিশেষ রীতি:

তেতুলতলার পুজোতে প্রতিদিন মা জগদ্ধাত্রী কে বেনারসির শাড়ি তে পরিহিত করা হয়। মুল পূজাটি হয় নবমীর দিনে। সেইদিন আবার পাঁঠা বলিও এখানকার প্রচলিত নিয়ম।

জগদ্ধাত্রী পূজার রীতি পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র সহ অনেক নিয়ম-কানুন দুর্গাপূজার অনুরূপ।

জগদ্ধাত্রী পূজার তাৎপর্য:

নদীয়া জেলার সদর কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। কিংবদন্তী অনুসারে নবাব আলীবর্দী রাজত্বকালে কৃষ্ণচন্দ্র রাজার কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা নজরানা দাবি করেন।

তিনি রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কে মুর্শিদাবাদ এ নিয়ে যান। তারপর মুক্তির পর নদীপথে যখন কৃষ্ণনগরে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় নিজের রাজ্যে প্রত্যাবর্তন করেন সেই সময় ঘাটে বিজয়া দশমীর বিসর্জনের বাজনা শুনে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি দুর্গাপূজার সময় অতিক্রম করে এসেছেন।

এবছর তিনি দুর্গাপুজো দেখতে পেলেন না, দূর্গা পূজার আয়োজন করতে না পেরে অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলেন। সেই রাতে দুর্গা জগদ্ধাত্রী রূপে রাজা কে পরবর্তী শুক্লা নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী দুর্গার পূজা করার আদেশ দিয়েছিলেন। সেই মত কৃষ্ণনগরে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন। বলা যায় জগদ্ধাত্রী, দুর্গার আরেক রূপ।

বারো মাসে তেরো পার্বণ, বাঙ্গালীদের এই কথাটা বেশ প্রচলিত। সেই কারণে একের পর এক অনুষ্ঠান বাঙ্গালীদের লেগেই রয়েছে। সেই কারণে সারা বছরজড়ে আনন্দ উৎসবের শেষ নেই।

উৎসব প্রিয় বাঙালি জাতির এই ধর্মীয় সাংস্কৃতিক পার্বণকে আরো বহু যুগ ধরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হোক এই আশা করি। বর্তমান যুগের অতি দ্রুত গতির বস্তুবাদী জীবনযাত্রার মাঝে সুপরিচিত সামাজিক অনুষ্ঠান গুলি একটি জনগোষ্ঠীকে নিজেদের সভ্যতা অতীত এবং দার্শনিক অনুভূতির স্বাদ দিতে পারে।

সৃষ্টির আদি শক্তির প্রতিমূর্তি জগতের রক্ষাকর্ত্রী দেবী জগদ্ধাত্রী, তার আরাধনার শুভলগ্নে ভক্তকুলের উপর তার কৃপা ও আশীর্বাদ বর্ষণ হোক। মায়ের আশীর্বাদে সবাই ভালো থাকুক, সবার মনস্কামনা পূর্ণ হোক।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment