মুখে ছোটবড় ছিদ্রের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়!

0
(0)

আমাদের শরীরের মধ্যে মুখই হচ্ছে আমাদের প্রতিচ্ছবি। মুখের ত্বকেই চেহারার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। আর চেহারায় যদি কোন খুঁত থাকে, তাহলে তা সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়। এরকমই একটি সমস্যা হচ্ছে, ওপেন পোরসের (অর্থাৎ মুখে ছোটবড় ছিদ্র) সমস্যা।  মুখের লোমকূপের গোড়াকে পোরস বলে, যেটা দিয়ে মুখের ত্বকের শ্বাসকার্য চলে। স্বাভাবিকভাবে এটা চোখে না পড়লেও বিভিন্ন কারণে এটা দৃষ্টিগোচর হতে পারে।

যাদের মুখের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, অতিরিক্ত সেবাম বের হয় অথবা বয়সের কারণে ওপেন পোরসের সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা দূর করতে অনেকেই লেজার ট্রিটমেন্ট অথবা পার্লারে ব্যয়বহুল  ফেসিয়াল করিয়ে থাকেন। কিন্তু এগুলো কোন স্থায়ী সমাধান নয়। আপনি যদি স্থায়ী সমাধান পেতে চান তবে ঘরোয়া উপায়েই এই সৌন্দর্যহানিকর সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

আজকের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে ওপেন পোরস কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে দূর করবেন সেই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করব। চলুন প্রিয় পাঠক,  দেরী না করে জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ওপেন পোরস দূর করার উপায়

১. নিয়মিত স্ক্রাবিং

যাদের ত্বক প্রচুর অয়েলি তাদের ত্বকে বেশী অয়েল এবং সেবামের কারণে ওপেন পোরস দেখা দেয়। আর পোরস বড় হলে এতে তেল ও ধুলাবালি জমে ত্বকের নানান সমস্যা যেমন ব্রণ, এলার্জি, ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস দেখা দেয়। এগুলো দূর করতে নিয়মিত ত্বক স্ক্রাবিং করুন।

স্ক্রাবিং করতে একটি পাত্রে এক চা চামচ চালের গুড়া, সাথে দুই চা চামচ লেবুর রস, এবং এক চামচ টকদই মিশিয়ে মিশ্রন তৈরি করে মুখে ৩-৪ মিনিট ম্যাসাজ করুন। তারপর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে গোলাপজল টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন।

স্ক্রাবিং এর ফলে ত্বকের তেল ও ময়লা দূর হওয়ায় পোরসের আকার ছোট হয়ে আসবে। এছাড়া গোলাপজল ত্বক টাইট করবে। ফলে পোরস বোঝা যাবেনা। তবে সপ্তাহে ২-৩ বারের বেশী স্ক্রাবিং করবেন না।

২. ডিমের সাদা অংশের প্যাক

ওপেন পোরস দূর করতে ডিমের সাদা অংশের প্যাক অত্যন্ত কার্যকর। প্রথমে মুখ ভালভাবে পরিষ্কার করে নিয়ে প্যাকটি লাগালে উপকার পাবেন। এরজন্য ডিমের সাদা অংশ, লেবুর রস ও কফি একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর পরিষ্কার মুখে লাগান। এরপর মুখে একটি ট্যিসু চেপে বসিয়ে নিন।

৫-১০ মিনিট এভাবে রাখুন। তারপর ট্যিসুটি তুলে ফেলুন। দেখবেন ত্বকের ওপেন পোরস একেবারেই বোঝা যাবেনা। এভাবে সপ্তাহে একদিন করলে ত্বক আস্তে আস্তে মসৃণ ও টানটান হয়ে যাবে।  ওপেন পোরসের সমস্যা থাকবে না।

৩. আইস কিউব

আইস কিউব ব্যবহার ওপেন পোরসের সমস্যা কমাতে অনেকটাই সাহায্য করবে। আপনার ত্বকের ধরন বুঝে শসার রস, গোলাপজল, চাল অথবা ডাল ধোয়া পানি দিয়ে আইস কিউব তৈরি করুন। প্রতিদিন রাতে ফোম ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে আইস কিউব মুখে লাগান।

সারা মুখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ২-৩ মিনিট ধরে রাব করুন। এতে মুখের ত্বক নরম, মোলায়েম হবে এবং পোরসের সাইজ মিনিমাইজ হবে।

৪. বাদামের প্যাক

কাঠ বাদাম বা আমন্ড ত্বকের অয়েল নিঃসরণ অনেকটাই কমিয়ে দিতে সক্ষম। আমন্ড ব্লেন্ড করে তাতে অল্প টকদই মিশিয়ে ত্বকে লাগান।

এরপর ১৫ মিনিট পর স্বাভাবিক জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এরপর টোনার হিসবে গোলাপজল ব্যবহার করুন। তারপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটা ব্যবহারে ত্বকের ওপেন পোরস অনেক ছোট হয়ে আসবে।

৫. ফেসমাস্ক

ফেসমাস্ক ত্বকের আলগাভাব দূর করে ত্বক টানটান ও মসৃণ করে তোলে। ত্বকের ধরণ বুঝে ত্বক ডিপ ক্লিন করার পর ফেসমাস্ক ব্যবহার করুন।

এক্ষেত্রে চারকোল ফেসমাস্ক অথবা ক্লে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো বিশেষ ভাবে ত্বকের ময়লা দূর করে এবং ত্বক টানটান করে। নিয়মিত ফেসমাস্ক ব্যবহারে ত্বকের পোরসের সমস্যার সমাধান হবে সহজেই।

৬. নিয়মিত ত্বকচর্চা

বর্তমানে আমরা সবাই অনেক ব্যস্ত। অনেক সময় ত্বকের ঠিকমত যত্ন নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনা। এরজন্য দিন দিন ত্বক আলগা হয়ে যায়, পোরসের সমস্যা দেখা দেয়।

এরজন্য ত্বকের ধরণ বুঝে নিয়মিত ত্বক ফেসওয়াস দিয়ে পরিস্কার করুন। সপ্তাহে দুদিন স্ক্রাবিং করুন। ফেসওয়াশ ব্যবহারের পর ত্বকে আইস কিউব রাব করুন। তারপর টোনার ব্যবহার করুন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে দুদিন ফেসমাস্ক ব্যবহার করুন।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে ওপেন পোরসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।  এরজন্য পার্লার বা লেজার ট্রিটমেন্ট এর প্রয়োজন পড়বেনা।

উপসংহার

ওপেন পোরস বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেখা দিতে পারব, অথবা ত্বক অয়েলি হলে বা সঠিক ত্বক চর্চার অভাবে দেখা দিতে পারে। তবে কারণ যাই হোক নিয়মিত চর্চা করলে ওপেন পোরসের সমস্যা দূর করা সম্ভব। পুরোটা দূর না হলেও বোঝা যাবেনা, বা কম দৃশ্যমান হবে এটা অবশ্যই করা সম্ভব।

এরজন্য উপরিউক্ত নিয়মগুলো মেনে চললে অবশ্যই ভাল ফল পাবেন। এ বিষয়ে কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট করতে পারেন।  আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment