Govardhan Puja 2022: History and Significance | 2022 গোবর্ধন পূজার ইতিহাস ও তাৎপর্য

0
(0)

Govardhan Puja: গোবর্ধন পাহাড় শ্রীকৃষ্ণের সাথে সম্পর্কিত হিন্দু ধর্ম মতে একটি অনন্য অবস্থান।

বৃজ নামক  যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন গোবর্ধন দাস নামে পরিচিত এবং পবিত্র কেন্দ্র হওয়ায় এটি কৃষ্ণের প্রাকৃতিক রূপ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তাদের সৌর তাৎপর্য আছে এবং পূজায় তাদের ব্যবহার ভারতের হিন্দু আমলের পূর্বাভাস দেয়।

গোবর্ধন পূজার ইতিহাস:

মথুরা-বৃন্দাবন সহ দেশের বিভিন্ন অংশে দীপাবলীর উৎসবের অঙ্গ হিসেবে পালিত হয় গোবর্ধন পূজা। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী দীপাবলীর পরের দিন গিরি গোবর্ধন কে আঙুলের ডগায় তুলেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ।

এই ঘটনা ভক্তের বিপদে ভগবান কিভাবে এগিয়ে আসেন তার উদাহরণ বলে মনে করা হয়। কাহিনী অনুযায়ী ভালো বৃষ্টি হয়, যাতে ভালো ফলন হয় তার জন্য দেবরাজ ইন্দ্রের পুজো করতেন বৃন্দাবন বাসী। বৃন্দাবন বাসীকে এত খরচ করা পছন্দ করেননি শ্রীকৃষ্ণ।

Govardhan Puja History and Significance
Govardhan Puja History and Significance

তিনি সেই খাবার ইন্দ্রকে না দিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের খাওয়াতে বলেন। বৃন্দাবনবাসী ইন্দ্রের পুজো বন্ধ করে দিলে তিনি রেগে গিয়ে বৃন্দাবনে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু করেন। বৃষ্টিতে বৃন্দাবন ভেসে যেতে বসলে শ্রীকৃষ্ণ এই বিপদ থেকে তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।

বিন্দাবনের গোবর্ধন পাহাড় নিজের হাতের কড়ে আঙুলের ডগায় অনায়াসে তুলে ফেলেন শ্রীকৃষ্ণ। তার নীচে আশ্রয় নেন বৃন্দাবনের সকল মানুষ ও গবাদি পশু। সেই থেকে দীপাবলীর পরের দিন গোবর্ধন পূজা হয়ে থাকে। গো-মাতার পূজাও করে থাকেন অনেকে।

দ্বাপর যুগে মানব অবতার ধরন করেন বিষ্ণুর কৃষ্ণ অবতার। এর নানান লীলাখেলায় প্রবাসীর মন জয় করে নেন তিনি। উৎসবের দিনে মা যশোদা নন্দরাজ কে উৎসবের কারণ জিজ্ঞেস করেন তিনি। উত্তরে কৃষ্ণ জানতে পারেন ইন্দ্রকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য এই উৎসবের আয়োজন। কারণ ইন্দ্রর বর্ষার কারণে জল পেয়ে থাকেন তারা। যার ফলে ফসল উৎপন্ন হয়।

এই শুনে কৃষ্ণ বলেন এসব ইন্দ্রের কর্তব্য তাই গোবর্ধন পর্বত এর পুজো করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন কৃষ্ণ। কারণ গোবর্ধন পর্বতেই  তাদের গরু চরতে যায় সেই পর্বত থেকেই ফল, ফুল ও সবজি পাওয়া যায়। কৃষ্ণের কথা অনুযায়ী ব্রজবাসী গোবর্ধন পর্বত এর পুজো করেন। এই ঘটনাকে ইন্দ্র নিজের অপমান মনে করেন এবং মুষলধারে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

প্রবাসীদের বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সাতদিন পর্যন্ত গোবর্ধন পর্বত কে নিজের কড়ে আঙুল তুলে নেন তিনি। এরপর সমস্ত পর্বতের তলায় আশ্রয় নেন বৃন্দাবন বাসী। তখন নিজের কৃতকর্মে লজ্জিত ইন্দ্র কৃষ্ণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই কারণে গোবর্ধন (Govardhan) অথবা অন্নকূট (Annakut) উৎসব পালিত হয়।

দীপাবলীর পরেরদিন কার্তিক মাসের প্রতিপদ তিথিতে গোবর্ধন পূজা (Govardhan Puja) করা হয়। এদিন গরু ও গোবর্ধন পর্বত এর পুজোর রীতি প্রচলিত রয়েছে। এটি অন্নকূট উৎসব (Annakut Festival) নামেও পরিচিত। গোবর দিয়ে গোবর্ধন পর্বত এর আকৃতি তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি গোয়ালাদের আকৃতি বানানো হয়। সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ কে প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা হয়।

গোবর্ধন পূজার তাৎপর্য:

কৃষ্ণ যখন জানতে পারে যে ইন্দ্র কে খুশি করার জন্য উৎসব করা হচ্ছে। তখন কৃষ্ণ প্রশ্ন করতে থাকেন এটি কী বেদে আছে, নাকি এটি কেবল এক ঐতিহ্য যা তোমরা পালন করো। তখন নন্দ মহারাজ সাধারণ ভাষায় বলেন যে, আমরা ভালো বৃষ্টিপাতের উপর খুব নির্ভরশীল। কেননা বৃষ্টিপাত হিসেবে তারা শস্য উৎপাদন ও রক্ষার সেবায় যুক্ত ছিল।

তাই তিনি বললেন আমাদেরকে এই বৃষ্টি দানের জন্য আমরা ইন্দ্রের নিকট অনেক কৃতজ্ঞ। কিন্তু তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ইন্দ্রকে রাগান্বিত করতে চাইলেন। তাই তিনি কর্ম মীমাংসা দর্শন সম্পর্কে বলতে শুরু করলেন এবং ভাল কর্মের জন্য দেবতারা আশীর্বাদ প্রদান করে বলে জানালেন।

সুতরাং যে ব্যাপারটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো নিজের বর্ণাশ্রম অনুসারে নিজের কর্ম করা এবং দেবতারা তাদেরকে তখন আশীর্বাদ প্রদান করতে হয়, এমন নয় যে তারা কোন স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ। এটি দেবরাজ ইন্দ্র কে খুবই রাগিয়ে তোলে। কিন্তু কৃষ্ণ এতটাই উৎসাহী ছিলেন যে, তিনি বললেন যে এই সকল শস্য, ফসল, ব্যঞ্জন রান্না ও নিবেদন করে আমাদের উচিত গোবর্ধনের পুজো করা।

তারা সকল শস্য ঘি নিল এবং হালুয়া, সবজি, রান্না করলো এবং গোবর্ধন এর জন্য বিশাল ভোজের আয়োজন করল। কৃষ্ণ বললেন যে গোবর্ধন তার থেকে অভিন্ন এবং তার সাথে সাথে এক বিরাট আকার ধারণ করলেন।

তারপর তিনি বললেন দেখো তোমাদের নৈবেদ্য গ্রহণের জন্য গোবরধন এই রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন ভক্তরা তাকে ভিন্ন ভিন্ন নৈবেদ্য নিবেদন করছিল এবং প্রকৃতই তিনি খাচ্ছিলেন।

এছাড়া বাস্তবে গোবর্ধন এ আনোওর নামে একটি গ্রাম আছে। যার অর্থ আরো আনো, আরো আনো এবং গোবর্ধন খাওয়া শুরু করতেন আর বলতেন আরো আনো। এভাবে তারা ডাল, হালুয়া, চাপাটি, পকোড়া, সমন্বিত অন্নের পাহাড়, ও দুধের তৈরি মিষ্টি, সন্দেশ এবং অন্যান্য সকল ব্যঞ্জন নিবেদন করছিল। এই দিনে তারা গোবর্ধনের বিশেষ পূজার আয়োজন করে।

এরপর ব্রাহ্মণ গণ, স্ত্রীরা, ষাঁড়, এবং পুরুষেরা গোবর্ধন পর্বত কে পরিক্রমা করেন। স্ত্রীগণ ষাঁড় এর গাড়িতে চড়ে, পুরুষেরা পায়ে হেঁটে ও ব্রাহ্মণেরা মন্ত্র জপ করতে করতে পরিক্রমা করেন গোবর্ধন পর্বত কে। এভাবে ৫০০০ বছর পূর্বে গোবর্ধন পূজা (Govardhan Puja) শুরু হয়েছিল।

পৃথিবী কে শস্য-শ্যামলা করে তুলতে দীপাবলিতে গোবর্ধন পূজা করা হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টিপাত এর মধ্যে দিয়ে সমস্ত রকমের শস্য ও ফসল যেন ভরে ভরে ওঠে, সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গোবর্ধন পূজা হয়ে আসছে অনেকদিন আগে থেকে।

আপনাদের এই তথ্য কেমন লেগেছে?

এই পোস্টে মতামত দিতে একটি স্টারে ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

যেহেতু আপনি এই পোস্টটি দরকারী বলে মনে করেছেন ...

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনুসরণ করুন!

আমরা দুঃখিত যে এই পোস্টটি আপনার জন্য দরকারী ছিল না!

চলুন আমাদের এই পোস্ট উন্নত করা যাক!

আমাদের বলুন কিভাবে আমরা এই পোস্ট উন্নত করতে পারি?

Leave a Comment