Gold Monetization Scheme 2021: Registration Process & Benefits

গোল্ড মনিটাইজেশন (Gold Monetization Scheme), এমন একটি প্রকল্প যা দ্বারা ভারতীয় নাগরিকদের বাড়িতে সংরক্ষিত সোনা এবং সোনার জিনিসের নিরাপত্তা বিধান করা হয় এবং একইসাথে সোনাগুলোকে উৎপাদনশীল কাজে লাগানো হয়।

এর কারণ হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ সোনা বাড়িতে থাকলে তার নিরাপত্তা বিধান করা একটি কঠিন কাজ, নাগরিকরা সোনা বাড়িতে রেখে নিরাপত্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ভোগেন।

Gold Monetization Scheme in Bangla
Gold Monetization Scheme in Bangla

সেই সাথে সোনা এবং সোনার গহনাগুলো বাড়িতে পড়ে থাকে, কিন্তু এই মূল্যবান জিনিসগুলো কোন ভাল কাজে আসেনা।

এই বিষয়টি মাথায় রেখে ভারত সরকার গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম বা সোনা নগদীকরণ প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সোনার গহনা এবং সোনার জিনিসের উৎপাদনশীল ব্যবহার সম্ভব হবে।

যাতে তারা সেগিলো মেটাল একাউন্টে জমা রেখে নির্দিষ্ট সময় পর পর সুদ হিসেবে টাকা পান এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বীমাকারী তার সোনা বা সোনা পরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন।

বিপুল পরিমাণ সোনা বাইরের দেশ থেকে আমদানি করাকে নিরুৎসাহিত করতে এবং সোনাদানা বাড়িতে জমিয়ে রাখার প্রবণতা দূর করতে মূলত এই প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছে।

এতে করে নাগরিকদের গচ্ছিত সম্পদ দিয়েই দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সুপ্রিয় পাঠক, আজ আমাদের আয়োজন সাজানো হয়েছে গোল্ড মনিটাইজেশন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা দিয়ে। চলুন দেরী না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম: Gold Monetization Scheme

সোনার নগদীকরণ প্রকল্পটি ২০১৫-২০১৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রবর্তিত হয়েছিল। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় পরিবারগুলিতে রাখা স্বর্ণকে রক্ষা করা এবং এর উৎপাদনশীল ব্যবহার করা।

চাহিদা হ্রাস করে স্বর্ণের আমদানি হ্রাস করাও এই প্রকল্পের একটি অন্যতম লক্ষ্য ছিল। আমানতকারীরা তাদের মেটাল অ্যাকাউন্টগুলিতে সুদ উপার্জন করে।

একবার সোনা মেটাল অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে গেলে, এটি সংরক্ষিত সোনার উপর সুদ অর্জন শুরু করবে।

এটা বস্তুত সম্পদকে ফেলে রাখায় নিরুৎসাহিত করে এবং নিজের গচ্ছিত সম্পদ ব্যবহার করে দেশের এবং নিজের আয় বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে।

এটা দেশের আয় বৃদ্ধি ও জনগণের সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

সরকারী বিভিন্ন প্রজেক্ট অথবা উৎপাদনে যে বিপুল পরিমাণ মূলধন প্রয়োজন হয়, তার মধ্যে কিছুটা এভাবে দেশের মানুষের জমানো সম্পদ দিয়ে চাহিদা মেটানোও সম্ভব।

 

গোল্ড মনিটাইজেশন প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি

স্বর্ণের সহজ সঞ্চয় করা সম্ভব হয় এই প্রকল্পের আওতায়।সোনার নগদীকরণ প্রকল্পটি কেবল সঞ্চিত করে সংরক্ষণ করে না সোনার নগদীকরণ পরিকল্পনাটি মেয়াদ শেষ হলে মালিক অর্থ বা স্বর্ণের আকারে রিটার্ন পাবেন।

এর অর্থ আপনার জমাকৃত সোনা থেকে আপনি শুধুমাত্র ইন্টারেস্টই নয়, মেয়াদ শেষে পুরো অর্থ বা সোনা ফেরত পাবেন। যেকোন অবস্থায় সোনা এই প্রকল্প আওতায় জমা রাখা সম্ভব।

অলস সোনার জন্য উপযোগিতা: সোনার নগদীকরণ প্রকল্পটি সুদের অর্থ উপার্জনই করবে না মেয়াদ শেষে সময়ে স্বর্ণকে নগদকরণ করতে সাহায্য করবে। এতে সোনা থেকে প্রতি মাস বা বছরে ইন্টারেস্টও পাবেন, সেই সাথে এককালীন সোনা ফেরত ও পাবেন।

 

আমানত নমনীয়তা:

সোনার নগদীকরণ প্রকল্পের অধীনে অলঙ্কার, গহনা কয়েন বা স্বর্ণের বারগুলিতে যে কোনও রূপ সোনার জমা করা যেতে পারে।

এক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা নেই যে কোন ধরনের সোনা আপনি জমা করবেন।

যেহেতু বাধ্যবাধকতা নেই তাই সোনার কোন বাসন, অলঙ্কার, কয়েন, নিজের ব্যবহৃত জিনিস, সোনার বার বা অন্য যেকোন সোনার জিনিস এখানে জমা রাখতে পারবেন। রত্নপাথর দিয়ে সজ্জিত স্বর্ণের আমানত অনুমোদিত নয়।

পরিমাণে নমনীয়তা: সোনার নগদীকরণ প্রকল্পে নূন্যতম আমানত যে কোনও বিশুদ্ধতার ৩০ গ্রাম সোনা থেকে শুরু করে সোনা জমা রাখার কোন সর্বাধিক সীমা নেই।

সুবিধাজনক মেয়াদ পাওয়া যায় সোনা ডিপোজিট করায়। স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্পের অধীনে ৩ টি মেয়াদী আমানত পরিকল্পনা উপলব্ধ রয়েছে, যার মধ্য ১ থেকে ৩ বছরের স্বল্পমেয়াদী মেয়াদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে,যেটা সবচেয়ে ভাল সোনা ডিপোজিট রাখার ক্ষেত্রে।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আমানত প্রত্যাহার করা হলে কেবলমাত্র নামমাত্র জরিমানা আরোপ করা হয়।

আকর্ষণীয় সুদের হার রয়েছে এই স্কিমের। আমানতের সময়কালের উপর নির্ভর করে ০.৫ থেকে ২.৫ শতাংশ সুদ আয় করা যেতে পারে।

স্বল্পমেয়াদি আমানতের হারগুলি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলি দ্বারা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যখন মাঝারি এবং দীর্ঘ আমানতের সুদের হারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেয়। সুদের গণনায় বিভিন্নতা রয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় স্বল্পমেয়াদী ব্যাংক আমানতের জন্য সুদের পরিমাণ সোনা আকারে দেওয়া হয় না। এই সুদ অর্থের অঙ্কে পরিশোধ করা হয়।

ট্যাক্সের সুবিধাগুলি:

গোল্ড মনিটাইটেজশন স্কিমের সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে যত অর্থের সোনাই আপনি ডিপোজিট করে থাকুন না কেন, এরজন্য আপনাকে বাড়তি কোন টাকা কর বা শুল্ক প্রদান করতে হবেনা সরকারকে।

স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত লাভের জন্য একজনকে মূলধন লাভের শুল্ক দিতে হবে না। স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্প থেকে মূলধন লাভগুলি সম্পদ কর এবং আয়কর থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত।

সোনার বিনিময় হ’ল আরও পেশাদার এবং স্বচ্ছভাবে স্বর্ণ পরিচালনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি। এটি অবশ্যই স্বর্ণের বাণিজ্যের মধ্যস্থতাকারীদের অপসারণ বাদ দিয়ে শিল্পটিকে আরও পরিপক্ক এবং ডিজিটালি উন্নত হতে সহায়তা করবে।

বিশেষ কথা

গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম দেশের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির একটি চমৎকার ধারণা।

এটা দেশের জনগণের সম্পদের নিরাপত্তা বিধান করে সেই সাথে তাদের গচ্ছিত সম্পদ থেকে অর্থ আয়ের ব্যবস্থা করে দেয়।

এর বিভিন্ন মেয়াদ রয়েছে তাই তারা নিজেদের ইচ্ছামত পরিমাণে এবং মেয়াদের সোনা জমা রাখতে পারে,নির্দিষ্ট সময় শেষে তারা তাদের ডিপোজিট তথ্য অনুযায়ী সুদ এবং আসল ফেরত পাবে।

সুদাসলের পরিমান যতই হোকনা কেন এরজন্য কোন কর বা,শুল্ক দিতে হবেনা, এটা একটি শুল্কমুক্ত আয়।

আপনার গচ্ছিত সম্পদ ব্যাংকের ভল্টে রাখলে আপনাকেই টাকা দিতে হত, কিন্তু এই প্রকল্পের আওতায় আপনি নিজের সম্পদ সোনার আকারে গচ্ছিত রাখতে পারবেন কোন খরচ ছাড়াই, বরং আপনাকে নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করা হবে এবং মেয়াদ শেষে নিজের গচ্ছিত সম্পদ আপনি ফেরত পাবেন।

আশা করি গোল্ড মনিটাইজেশন সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ক্ষুদ্র প্র‍য়াস সফল হয়েছে।

 

সুপ্রিয় পাঠক, আমাদের লেখার উদ্দেশ্য থাকে ভারত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এবং তার অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদের জানানো, যাতে সেগুলো সম্পর্কে আপনারা অবগত হতে পারেন এবং সুবিধাসমূহ উপভোগ করতে পারেন।

কেন্দ্র সরকারের সমস্ত যোজনা Click Here
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত প্রকল্প Click Here
বাংলাভুমি হোম Click Here

Leave a Comment