গীতা জয়ন্তী 2023: ইতিহাস ও তাৎপর্য | Gita Jayanti 2023: History and Significance

গীতা জয়ন্তী 2022 (Gita Jayanti 2022 Date Time and Significance) 2022 গীতা জয়ন্তী ইতিহাস এবং জানুন গীতা জয়ন্তী কেন পালন করা হয়? গীতা জয়ন্তী তাৎপর্য কি? ভারতীয়দের জন্য গীতা জয়ন্তী গুরুত্ব কতটা? জানুন সবকিছু এখানে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে গীতা হলো একটি বিশেষ পৌরাণিক ধর্ম গ্রন্থ, যা কিনা মানুষের জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে, এমনটাই শক্তি রয়েছে গীতার মধ্যে। যেটি অনেকেই শ্রীমদ্ভগবত গীতা হিসাবেই চেনেন। ডিসেম্বর মাসের শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথিতে গীতা জয়ন্তী উৎসব পালন করা হয়।

গীতা জয়ন্তী ইতিহাস ও তাৎপর্য - Gita Jayanti History and Significance
গীতা জয়ন্তী ইতিহাস ও তাৎপর্য – Gita Jayanti History and Significance

আজ থেকে পাঁচ হাজার (৫০০০) বছরেরও আগে এই তিথিতেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ক্ষেত্রে কৃষ্ণ ভগবত গীতা আকারে ভক্তিমূলক সেবার গোপনীয় জ্ঞান তার সবচেয়ে প্রিয় ভক্ত অর্জুনকে প্রদান করেছিলেন।

অর্থাৎ বলা যেতে পারে, প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথিতে গীতা জয়ন্তী উৎসব পালন করা হয়। এই তিথি অনুসারে ভক্তরা সারাদিন ব্যাপী শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করে থাকেন।

তার সঙ্গে পাঠ করা হয় হিন্দুদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ শ্রীমৎ ভাগবত গীতা। প্রচলিত ধারণা অনুসারে এই বিশেষ তিথিতে ভগবত গীতা পাঠ করলে অথবা ভগবত গীতা পাঠ শুনলে অনেক পূণ্য অর্জন করা সম্ভব।

গীতা জয়ন্তী এর ইতিহাস:

মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত হয় গীতা জয়ন্তী উৎসব। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে জানা যায় যে, আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে খ্রিষ্টপূর্ব ৩১৩৮ অব্দে কুরুক্ষেত্রে ১৮ দিন ধরে যুদ্ধ চলে ছিল, যার নাম কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। এই যুদ্ধ হয়েছিল পান্ডব ও কৌরব শিবিরের মধ্যে। ধর্মের জয় এবং অধর্মের বিনাশের লক্ষ্য নিয়ে হয়েছিল এই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধটি। সেই যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন অর্জুনের রথের সারথি।

কাহিনী অনুসারে জানা যায় যে, এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার প্রিয় ভক্ত অর্জুনকে জীবনের আসল বাণী প্রদান করেন। যা বর্ণিত আছে শ্রীমদ্ভগবত গীতায়। গীতার মোট (১৮) আঠারো টি অধ্যায় আছে। যার সারমর্ম একজন ব্যক্তির সমস্ত জীবনের ব্যাখ্যা করে। আর সেই দিনটি ছিল শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথি।

আর সেই থেকে প্রতিবছর শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথিতে গীতা জয়ন্তী পালন করা হয়। সমস্ত জায়গায় ধর্মগ্রন্থ গীতা পাঠ করা হয়, গীতা জয়ন্তী উপলক্ষে বৈষ্ণব ভক্তগণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। অনেক মন্দিরে এই দিন উপলক্ষে হোম, যজ্ঞ করা হয়।

এদিন গীতা পাঠ করা অথবা শোনা খুবই শুভ বলে মনে করেন সকলেই। কৃষ্ণের ভক্তরা এই দিন পূজা করে থাকেন, সকাল সকাল স্নান সেরে, নতুন পোশাক পরে, কৃষ্ণর আরাধনা তে মেতে ওঠেন ভক্তরা, তারপর গীতা পাঠ শুরু হয়।

সনাতন ধর্মে ভগবত গীতা কে খুবই ধার্মিক ও পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বইটির লেখক হলেন শ্রী বেদ ব্যাস। সনাতন ধর্মের প্রতিটি উপবাস ও উৎসবের একটি নির্দিষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।

আর মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথিতে গীতা জয়ন্তী পালিত হয়ে থাকে আমরা তো সকলেই জানলাম, সনাতন ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ এবং পূরণে বর্ণিত কাহিনী অনুসারে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার পরম বন্ধু এবং শিষ্য অর্জুন এর কাছে গীতায় উপস্থিত জ্ঞান প্রচার করেছিলেন।

গীতা জয়ন্তীর তাৎপর্য:

গীতা জয়ন্তীর পবিত্র দিনে গীতা পাঠ করা এবং শোনা খুবই শুভ, তাই এই দিনে মোক্ষদা একাদশীও পড়ে, আর সেই কারণে এই দিনের উপবাস রাখার গুরুত্ব অনেকখানি বেড়ে যায়। এই দিনে ভগবান কৃষ্ণের উপাসনা করলে তাকে সন্তুষ্ট করা এবং আপনার জন্য খুবই ফলদায়ক হতে পারে।

মন্দিরে মন্দিরে গীতা পাঠ করা হয়, তাই আপনি ইচ্ছা করলে আপনার কাছাকাছি মন্দিরে গিয়ে গীতার বাণী শুনতে পারেন। মোক্ষদা একাদশীর উপবাস এবং গীতা পাঠ করলে বা শুনলে আপনার সমস্ত মনের ইচ্ছা পূরণ হতে পারে।

এর পাশাপাশি গীতায় ১৮ টি অধ্যায় রয়েছে, যেখানে একজন ব্যক্তির জীবনের সমগ্র সারমর্ম বর্ণনা করা হয়েছে। এর সাথে সাথে গীতার পাতায় কর্ম, ধর্মীয়, সংস্কৃতিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানও পাওয়া যায়। এটি বিশ্বাস করা হয় যে, গীতার সাহায্যে একজন ব্যক্তি তার অবস্থা এবং দিক উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করতে পারেন।

গীতা জয়ন্তী পূজার বিধি নিয়ম:

  • গীতা জয়ন্তীর দিন খুবই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে। স্নান করার পরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়তে হবে এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে মনে রেখে ধ্যান করতে হবে।
  • এরপরে একটি পরিষ্কার জায়গা তে শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি অথবা ছবি স্থাপন করতে হবে। ছবি অথবা মূর্তি স্থাপন করার পর শ্রীমৎ ভাগবত গীতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পায়ের কাছে রাখুন।
  • এরপর গীতার উপরে পবিত্র গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন, তারপর রোলির সাহায্যে গীতা এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ছবি উভয়ের উপর তিলক এঁকে দিন।
  • তারপরে শ্রীকৃষ্ণ ও ভগবত গীতাকে ফুল অর্পণ করুন।
  • এরপরে প্রদীপ দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরতি করুন। তারপর তাকে কিছু মিষ্টি নিবেদন করুন।
  • ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা করার পরে আপনার কপালে স্পর্শ করে পবিত্র ভগবত গীতাকে শ্রদ্ধা করুন।
  • তারপর এটি পড়তে থাকুন অথবা যদি না পড়তে পারেন, শুনতে পারেন।
  • গীতা জয়ন্তী উপলক্ষে মন্দিরে ভগবত গীতা পাঠ করা হয়, তাই আপনি ইচ্ছা করলে মন্দিরে যেতে পারেন এবং সেখানে গীতা পাঠ করতে যদি না পারেন একান্তই, তাহলে শুনতেও ভুলবেন না। কেননা গীতা পাঠ শোনার ক্ষেত্রেও আপনি অনেকখানি পূন্য অর্জন করতে পারবেন।
  • শ্রীমৎ ভাগবত গীতা পাঠ করার পর পরম শ্রদ্ধার সাথে বইটি তার জায়গায় রাখুন এবং যদি সম্ভব হয়, তবে গীতা জয়ন্তী উপলক্ষে ব্রাহ্মণকে সেই ভগবত গীতা দান করতে পারেন।

যেহেতু কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর শ্রীকৃষ্ণ তার পরম বন্ধু ও শিষ্য অর্জুনকে এই শ্রীমৎ ভাগবত গীতা দান করেছিলেন, সে ক্ষেত্রে গীতা জয়ন্তী উপলক্ষে গীতার পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণকেও পূজা করা হয় নিষ্ঠা ভরে। এছাড়া এই দিনে ব্রাহ্মণ দের শ্রীমদ্ভগবত গীতা দান করলে অনেকখানি পূণ্য অর্জন করা যায়। জীবনের সারমর্ম এবং সুন্দর ভাবে সুষ্ঠু ভাবে জীবন যাপন করার জন্য শ্রীমৎ ভাগবত গীতা মানুষের জীবনে একটি আশীর্বাদ স্বরূপ বলাই যায়।

Leave a Comment