চৈত্র নবরাত্রি 2022: ইতিহাস ও তাৎপর্য | Chaitra Navratri 2022: History and Significance

চৈত্র নবরাত্রি 2022 (Chaitra Navratri 2022 Date Time and Significance) 2022 চৈত্র নবরাত্রির ইতিহাস এবং জানুন চৈত্র নবরাত্রি কেন পালন করা হয়? চৈত্র নবরাত্রির তাৎপর্য কি? ভারতীয়দের জন্য চৈত্র নবরাত্রির গুরুত্ব কতটা? জানুন সবকিছু এখানে।

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ সেটা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে চৈত্র মাস শুরু হলে বিভিন্ন ধরনের উপবাস ও উৎসব লেগেই রয়েছে। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ হলো এই নবরাত্রি যাকে এক কথায় চৈত্র নবরাত্রি হিসেবে সবাই জানেন। হিন্দু ধর্মে নবরাত্রি বছরে চারবার পালন করা হয় এবং শারদীয়া নবরাত্রি ছাড়াও দুটি গুপ্ত নবরাত্রিও রয়েছে।

তবে আর সমস্ত নবরাত্রি থেকে চৈত্র নবরাত্রির তাৎপর্য অনেকখানি আলাদা। চৈত্র নবরাত্রিতে মা দুর্গার নয়টি  রূপের পূজা করা হয়। মা দুর্গাকে সুখ, সমৃদ্ধি, সম্পদের দেবী বলে মনে করা হয়।

চৈত্র নবরাত্রি ইতিহাস ও তাৎপর্য - Chaitra Navratri History and Significance
চৈত্র নবরাত্রি ইতিহাস ও তাৎপর্য – Chaitra Navratri History and Significance

হিন্দু ধর্ম অনুসারে নবরাত্রীর সময় দেবী দুর্গার আরাধনা করলে তিনি তার ভক্তদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের আশীর্বাদের মধ্যে দিয়ে সুখ-সমৃদ্ধি প্রদান করে থাকেন। এর সাথে সাথে ভক্তদের মনের ইচ্ছা ও পূরণ হয় বলে মনে করা হয়।

চৈত্র নবরাত্রির পৌরাণিক ইতিহাস:

প্রতিটি উৎসবের পৌরাণিক কাহিনী, ইতিহাস থাকে। তেমনি এই চৈত্র মাসের চৈত্র নবরাত্রি উৎসবের একটি ইতিহাস আছে। বাসন্তী দুর্গাপূজা বা চৈত্র দুর্গাপূজা নামেও পরিচিত। প্রতিবছর চৈত্র মাসের শুক্ল প্রতিপদ থেকে শুরু হয় এই চৈত্র নবরাত্রি উৎসব অর্থাৎ বলা যেতে পারে একটানা নয় দিন ধরে মা দুর্গার নয়টি রূপের পূজা করা হয়।

তার পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের প্রথা নিয়ম মেনে অষ্টমী বা নবমীর দিন রামনবমীও পালন করা হয়ে থাকে। এই চৈত্র নবরাত্রি উৎসবে দুর্গার ভক্তরা ব্রত পালন করেন এবং পূজা শেষে রাত্রে ভজন ও আরতি করে থাকেন।

সাধারণত বলা যেতে পারে নবরাত্রি উৎসবটি প্রতিবছর দুবার হয়। একটা হল শারদীয়া নবরাত্রি এবং আর একটি হল চৈত্র নবরাত্রি। শারদ নবরাত্রি পালন করা হয় ইংরেজি মাসের সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে আর চৈত্র নবরাত্রি পালন করা হয় মার্চ বা এপ্রিল মাসে।

এই উৎসব তামিলনাড়ু, কেরল, ওড়িশা, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে খুবই জাকজমকপূর্ণ পূর্ণ ভাবে পালন করা হয়। চৈত্রের নবরাত্রি পূজা অনুষ্ঠিত হয় একাদশী তিথিতে। ঘট অথবা কলস স্থাপন করার মধ্য দিয়ে। এরপর ভক্তরা দেবী দুর্গার উপাসনা করেন।

তাছাড়া জেনে রাখা ভালো যে, দেবী দুর্গার আরাধনা কেবলমাত্র শরৎকালেই হয় না। বছরের মোট চারবার দুর্গাপূজা হয়ে থাকে। শরৎকালের যে সময় বাঙালিরা শারদীয়ার দুর্গাপূজা করে থাকেন, সেই সময় অবাঙালি সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ মেতে ওঠে শারদীয়ার নবরাত্রি পালনে।

নবরাত্রিতে টানা নয় দিন ধরে চলে দেবী দুর্গার আরাধনা। বছরে মোট চারটি নবরাত্রি আসে আর বিভিন্ন নবরাত্রীর ধর্মীয় তাৎপর্য কিন্তু আলাদা আলাদা। প্রথম নবরাত্রি আষাঢ় মাসে পড়ে, দ্বিতীয় নবরাত্রি আশ্বিন মাসে, তৃতীয়টি মাঘ মাসে এবং চতুর্থ অর্থাৎ শেষ নবরাত্রি পরে চৈত্র মাসে। তাই এই নবরাত্রির নাম চৈত্র নবরাত্রি।

চৈত্র নবরাত্রীর তাৎপর্য:

হিন্দু ধর্মাবলম্বী দের বিশ্বাস অনুসারে চৈত্র নবরাত্রি তে যে ব্যক্তি পূর্ণ ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবী দুর্গার আরাধনা করবেন, তার প্রতিটি মনের ইচ্ছা সম্পূর্ন হবে। নবরাত্রিতে মা দুর্গার নয়টি রূপের পূজা করা হয়। সেই জন্যই তো এই উৎসবের নাম নবরাত্রি।

প্রথম দিনে দেবী শৈলপুত্রী, দ্বিতীয় দিনের ব্রহ্মচারীনি, তৃতীয় দিনের চন্দ্র ঘন্টা, চতুর্থ দিনের মা কুষ্মান্ডা, পঞ্চম দিনে স্কন্দমাতা, ষষ্ঠ দিনে কাত্যায়নী, সপ্তম দিনে মা কালরাত্রি, অষ্টম দিনে মহাগৌরী এবং নবমী তিথিতে মা সিদ্ধিদাত্রী। নবরাত্রীর প্রতিটি দিন দেবী দুর্গার এই নয়টি রূপের পূজা করা হয়। আর এই নয়টি রূপের প্রতিটি রূপের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

এছাড়াও সনাতন ধর্ম অনুযায়ী এই উৎসবের একটি তাৎপর্য আছে, যেটা হল সংসারের সম্পদ, অর্থ এবং ভাগ্য অর্জনের জন্য মা দুর্গার এই নয়টি রূপ চৈত্র নবরাত্রিতে পূজা করা হয়, এই সকল ধর্ম এর দিক ছাড়াও নবরাত্রি অনেকে নারী শক্তির প্রতিক হিসেবেও পালন করে থাকেন।

পূজার বিধি অনুসারে সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পড়ার নিয়ম রয়েছে। দেবী দুর্গার প্রতিমা নিয়ে আসতে হবে ঘরে, যেটা পরিষ্কার জায়গায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে সেই প্রতিমা টি স্থাপন করতে হবে।

তারপর পূজার উপকরণ গুলি পরিষ্কার করে রাখতে হবে, যেমন ধরুন সুপারি, বাদাম, এলাচ, মধু, দই, চন্দন, দুর্বা ঘাস, ফুল, নারকেল ইত্যাদি। একটি কলসি বা ঘটে জল রেখে তার উপরে আম পাতা দিতে হবে।

নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট মন্ত্র সঠিক ভাবে জপ করতে হবে। কেননা নবরাত্রিতে প্রত্যেকটি রাতের তাৎপর্য এবং পূজা আলাদা আলাদা হয়ে থাকে এবং মন্ত্র ও আলাদা হয়ে থাকে। কেননা দেবী দুর্গার নয়টি রূপের পূজা করা হয় এই নবরাত্রিতে।

সব জায়গায় এই নবরাত্রি জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন না হলেও বনেদি বাড়ি থেকে শুরু করে যেখানে অনেক দিন আগে থেকে এই চৈত্র নবরাত্রি পালন হয়ে আসছে সে সমস্ত জায়গাতে চৈত্র নবরাত্রি খুবই ধুমধাম ভাবে পালন করা হয়।

আর এর বিশেষ একটি বিষয় হলো নয় দিন ধরে অনুষ্ঠান ও চলে অনেক জায়গায়। এই পূজা, নয় দিন ধরে চলে। তাই বাচ্চা থেকে বড় সকলেই নয় দিন যাবত বিশেষভাবে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।

দেবী দুর্গাকে নারী শক্তির উৎস হিসেবে মনে করা হয়। তাই নারী শক্তির ৯ টি রূপের পূজার সাথে সাথে এই নয়টি রূপে তাৎপর্য কিন্তু আলাদা আলাদা, তাই সংসারের সুখ সমৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য নারী শক্তির অবদান কতখানি সেটা আমাদের ধারণা করিয়ে দেয় এই চৈত্র নবরাত্রি উৎসব।

ফল, ফুল, মিষ্টি, ইত্যাদি নিবেদন করা হয় দেবী দুর্গাকে। অনেকেই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে থাকেন। কদিন পরেই নতুন বছর, তার আগে এই চৈত্র নবরাত্রি সকলের মনে আনন্দের জোয়ার বয়ে নিয়ে আসে। তার সাথে সাথে প্রকৃতিও সেজে ওঠে মায়ের মত নব রূপে।

Leave a Comment