2022 বেকিং পাউডার তৈরির ব্যবসা শুরু করবেন কিভাবে | 2022 Baking Powder Making Business Idea in Bengali

Baking Powder Making Business Idea 2022 (বেকিং পাউডার তৈরির ব্যবসা 2022): How to Start Baking Powder Making Business in India? | Baking Powder Making Business Idea in Bengali | Baking Powder Making Business Plan in Bengali. জানুন বেকিং পাউডার তৈরির ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি এবং লাভ ও ইনভেস্টমেন্ট

বেকিং পাউডার সকলেই কমবেশি চেনেন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই বেকিং পাউডার প্রথমবার ১৮৬১ তে উৎপন্ন হয়েছিল। এটি একটি শুকনো রাসায়নিক বিঘঠনকারি এজেন্ট বলতে পারেন।

বেকিং পাউডার তৈরির ব্যবসা - Baking Powder Making Business Idea
বেকিং পাউডার তৈরির ব্যবসা – Baking Powder Making Business Idea

আর এই বেকিং পাউডার উৎপাদন করা খুবই সহজ, আর যদি এই বেকিং পাউডার তৈরি করে ব্যবসা করা যায় খুব সহজেই লাভবান হওয়া যায়। সামান্য মেশিন এবং অল্প কিছু টাকা ইনভেস্ট করে বেকিং পাউডার তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারবেন অনায়াসেই।

বেকিং পাউডার তৈরি করার ব্যবসা তে মেশিন এবং প্লান্ট এর প্রয়োজনীয়তা:

১) এই ব্যবসাটি শুরু করার জন্য অথবা প্লান্ট চালু করার জন্য সবার প্রথমে যে জায়গায় আপনি ব্যবসাটি করতে চাইছেন সে জায়গাটি নির্বাচন করতে হবে, যখন আপনি একটি ছোট স্তরে ইউনিট চালু করবেন কম করে আপনার কাঁচামাল এর ভাণ্ডার, উৎপাদন, তার প্যাকেজিং এবং তৈরি হওয়া বেকিং পাউডার স্টোর করে রাখার জন্য যে জায়গা প্রয়োজন হবে সেটি ১০০০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।

২) এছাড়াও বিদ্যুৎ, জল ইত্যাদি যেন ভালো পরিমাণে থাকে, এই ব্যবসাটি শুরু করার ক্ষেত্রে।

৩) তার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় কিছু মেশিন আপনার লাগাতে হতে পারে যেমন ধরুন মাইক্রো পুলবেরিসার, সিফটার প্যাকেজিং মেশিন এবং ওজন করার মেশিন। এবং বৈদ্যুতিক ওভেন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় বেকিং পাউডার তৈরি করার ক্ষেত্রে।

বেকিং পাউডার তৈরি করার জন্য কাঁচামাল সামগ্রী:

বেকিং পাউডার তৈরি করার জন্য যে সমস্ত কাঁচামাল আপনার প্রয়োজন পড়বে সেগুলি হল:

সোডিয়াম বাই কার্বনেট (Sodium bicarbonate), স্টার্চ (Starch,), সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট (Sodium aluminum sulphate), অ্যাসিড ক্যালসিয়াম ফসফেট (Acid Calcium Phosphate), পটাশিয়াম বাই টারটরেট (Potassium by Tartrate) (ঘরে তৈরি করার জন্য)

বেকিং পাউডার তৈরি করার জন্য কাঁচামাল কোথায় থেকে কিনবেন:

এই কাঁচামাল আপনি যেকোনো জায়গায় এমন দোকান আপনি অনায়াসেই পেয়ে যাবেন যেহেতু বেকিং পাউডার বানানোর জন্য যে সমস্ত কাঁচামাল আপনার প্রয়োজন পড়বে সেগুলি বেশিরভাগই রাসায়নিক আর তাই এগুলি কোন কেমিক্যাল দোকানে সহজেই পাওয়া যায়। তাছাড়া অনলাইনের মাধ্যমেও আপনি অর্ডার করে নিতে পারবেন এই সমস্ত জিনিসপত্র গুলি।

ঘরে থেকে বেকিং পাউডার তৈরি করার প্রক্রিয়া:

আপনি যদি খুব ছোট আকারের ব্যবসাটি শুরু করেন একেবারে ঘর থেকেই তাহলে খুব কম টাকা ইনভেস্ট করে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। তার সাথে সাথে বেকিং পাউডার ঘর থেকে খুব সহজেই বানানো যায়। এর জন্য যে সমস্ত সামগ্রী আপনার প্রয়োজন পড়বে সেগুলো খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। তো চলুন জানা যাক কিভাবে ঘর থেকে বেকিং পাউডার বানিয়ে এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

১) সামগ্রী:

দু’চামচ টারটার ক্রিম যাকে পটাশিয়াম বাইটাট্রেট   নামেও অনেকেই চেনেন।

এক চামচ বেকিং সোডা যাকে সোডিয়াম বাই কার্বনেট ও বলা হয়।

২) তৈরি করার প্রক্রিয়া:

ঘরেতেই বেকিং পাউডার তৈরি করার জন্য পটাশিয়াম বাইটাট্রেট, বাই কার্বনেট, সল্ট নিয়ে ভালোভাবে একসাথে মেশাতে হবে, এর থেকে তিন থেকে চার চামচ পর্যন্ত বেকিং পাউডার তৈরি হবে এবং সেটিকে এয়ারটাইট কন্টেইনার ভরে শুকনো জায়গাতে রেখে দিতে হবে।

বেকিং পাউডার তৈরি করার জন্য মেশিনের প্রয়োজনীয়তা:

বেকিং পাউডার তৈরি করার জন্য যে সমস্ত মেশিন আপনার প্রয়োজন পড়বে সেগুলি হল:-

১) রিবন ব্লেন্ডার

২) ইলেকট্রনিক মোটর

৩) ইলেকট্রিসিটি ইন্সটলেশন চার্জেজ

৪) মেশিন গুলিকে ঢাকা দিয়ে রাখার জন্য তার কভার সেট

এই ব্যবসায় প্রয়োজনীয় মেশিন গুলির দাম:

আপনি যদি এই ব্যবসাটি শুরু থেকেই মেশিন লাগিয়ে ব্যবসা চালাতে চান, তবে সেক্ষেত্রে ১০০০ কিলোগ্রাম প্রতিদিন আপনি বেকিং পাউডার উৎপাদন করতে পারবেন, সম্পূর্ণ প্লান্ট বসানোর জন্য কম করে ২৫-৩০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে আপনার (মনে রাখবেন এই খরচ কিন্তু খুব বড় আকারের ব্যাবসার জন্য)।

তবে এই টাকার মধ্যে যে জায়গায় আমি ব্যবসাটি করছেন সেই জায়গার খরচ এবং যদি কোন ঘর নিয়ে থাকেন সেই ঘরের খরচ, কর্মচারী নিলে সেই কর্মচারীদের বেতন বাবদ যে খরচ টা হয় সেটাও এর মধ্যে পড়বে।

বেকিং পাউডার তৈরি করার ব্যবসাটি শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম:

যদি আপনি খুব বড় আকারে এই ব্যবসাটি শুরু করেন তাহলে বিভিন্ন রকমের লাইসেন্স এবং অনুমতি আপনাকে নিয়ে রাখতে হবে। তাছাড়া আলাদা আলাদা রাজ্যের আলাদা আলাদা নিয়ম হতে পারে। যে রাজ্য থেকে আপনি ব্যবসাটি শুরু করুন না কেন, তার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় কাজকর্ম আপনাকে মিটিয়ে রাখতে হবে আগে থেকেই। যেমন ধরুন:-

১) যখনই আপনি আপনার ব্যবসাটি শুরু করতে যাবেন তো সবার প্রথমে ছোট আকারের ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিন।

২) তারপর স্থানীয় আধিকারিকের থেকে ব্যবসার লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করুন।

৩) তারপর এম এস এম ই, উদ্যোগ আধার রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিন।

৪) বর্তমান একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আপনার প্রয়োজন পড়বে।

৫) এরপর এফ এস এস এ আই (FSSAI) লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন।

৬) সবার শেষে আপনাকে বি আই এস এর দ্বারা নির্ধারিত আপনার তৈরি করা বেকিং পাউডারের গুণমান পরীক্ষার একটি প্রমাণপত্র আপনাকে নিয়ে রাখতে হবে। বি আই এস বেকিং পাউডারের জন্য ১১৫৯ : ১৯৫৭ গুণমান নির্দিষ্ট করেছে।

৭) আপনাকে, ব্যবসার যে ট্যাক্স লাগবে সে সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বেকিং পাউডার তৈরি করা:

১) প্রথমে সোডিয়াম বাই কার্বনেট তৈরি করতে হবে, সোডিয়াম বাই কার্বনেট বেকিং পাউডার তৈরি করতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস সোডিয়াম বাই কার্বনেট, এর নির্মাণ করতে গেলে সোলবে এমোনিয়া রাসায়নিক প্রক্রিয়া দ্বারা তৈরি করা হয়।

অ্যামোনিয়া এবং কার্বন ডাই অক্সাইড সল্ট ওয়াটার এর উপস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া করে সর্বপ্রথম এমোনিয়া আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রতিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়াম বাই কার্বনেট তৈরি করে। এই অ্যামোনিয়াম বাইকার্বনেট Salt-water এর সাথে মিলে সোডিয়াম বাই কার্বনেট তৈরি করে।

২) সোডিয়াম বাই কার্বনেট বানানোর পর এটিকে ব্যাকউম ফিল্টারের সাহায্যে পরিশুদ্ধ করা হয়। এই সময় একে পরিষ্কার জল দিয়ে ধোয়া হয়। যাতে এ থেকে অতিরিক্ত ক্লোরাইড বের হতে পারে। এরপরে এর রাসায়নিক প্রক্রিয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর সাথে করানো হয়, এই প্রক্রিয়াতে আমাদের সোডিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয়ে যায়।

৩) প্রতিক্রিয়া থেকে প্রাপ্ত সোডিয়াম কার্বনেট ক্রিস্টালকে বাই কার্বনেট এর সাথে মিশানো হয়। এখানে একটি কেকের মতো পদার্থ উৎপন্ন হয়, এই কেককে পরিষ্কার করে ফ্ল্যাশ ডায়ারের সাহায্যে শুকানো হয়। এই প্রক্রিয়া থেকে প্রায় ৯৯ % শুদ্ধ বেকিং পাউডার পাওয়া যায়।

তৈরি হওয়া বেকিং পাউডারের প্যাকিং:

বেকিং পাউডার আলাদা আলাদা প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য সেই হিসেবে প্যাক করা হয়ে থাকে, সাধারণত দুই রকমের প্যাকেজিং করা হয় বেকিং পাউডারের একটি হলো পাউচ এর আকারে আর দ্বিতীয়টি হলো কন্টেইনারে প্যাকিং করা হয়। সাধারণত এর প্যাকিং ২৬৪ গ্রাম এবং ১১৩ গ্রাম এর প্যাকেট করা হয়।

হোটেল অথবা রেস্টুরেন্টের জন্য দুই থেকে চার কিলোগ্রাম এর প্যাকেট যে কোন ধাতু দিয়ে তৈরি কন্টেইনারে প্যাক করা হয়। তাছাড়া যারা বেকারি করে থাকেন তাদের জন্য ২৫ থেকে ৪৫ কিলো পর্যন্ত ফাইবারের যে কন্টেনার পাওয়া যায় তাতে প্যাকিং করা হয়। এর প্যাকিং অটোমেটিক মেশিন এর মাধ্যমেও করা যেতে পারে।

বেকিং পাউডার তৈরি করার ব্যবসা থেকে লাভ:

যদি ছোট আকারে ধরা যায় তাহলে প্রতিমাসে কম করে দশ থেকে বারো হাজার টাকা ইনকাম করা যায় ঘর থেকে। আর যদি বড় আকারে ধরা যায় তাহলে এর ইনভেস্টমেন্ট টা কতটা সেটা নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারছেন, কেননা আগেই বলা হয়েছে বড় আকারে এই ব্যবসাটি শুরু করতে গেলে কত টাকা ইনভেস্ট করতে হতে পারে। আপনার সে ক্ষেত্রে এই ব্যবসা থেকে আপনি প্রতিমাসে কম করে ৮০ থেকে ৯০ হাজার পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন।

বেকিং পাউডার নিত্য প্রয়োজনীয় একটি জিনিসের মধ্যে পড়ে, সে ক্ষেত্রে এই ব্যবসাটি শুরু করে আপনি অনায়াসেই ভালোমতো উপার্জন করতে পারবেন। যদি পুঁজি কম থাকে তাহলে ছোট আকারে ঘর থেকে শুরু করুন, আর যদি বড় আকারে ব্যবসাটা শুরু করার কথা ভেবে থাকেন তাহলে এর থেকে আপনি কতটা পরিমাণ লাভ অর্জন করতে পারবেন সেটা হয়তো আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।

Leave a Comment