Atal Bhujal Yojana 2022: Vision of Scheme & Benefits

অটল ভূজল যোজনা (Atal Bhujal Yojana – ABY) চালু করা হয় জল জীবন মিশনের অধীনে, এই যোজনার উদ্দেশ্য হচ্ছে ভূগর্ভস্থ জল হ্রাসের ক্রমবর্ধমান সমস্যার কারণ এবং প্রতিকার অনুসন্ধান করা।

ভারত সরকার বিশ্বব্যাংকের আর্থিক অনুমোদনের পর ডিসেম্বর ২০১৯ সালে অটল ভূজল যোজনা (ABY) চালু করে। এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে জল জীবন মিশনের অধীনে।

ভূ-গর্ভস্থ জলের স্তর হ্রাস পাওয়া অর্থ হচ্ছে দেশে জলের সংকট দেখা দেওয়া, এবং পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়া। ব্যবহার্য জল সাগর বা নদী থেকে প্রসেস করা সম্ভব হলেও পানীয় জল সবসময় এভাবে প্রসেস করা সম্ভব নয়, এবং তা যথেষ্ট ব্যয়বহুল ও বটে।

Atal Bhujal Yojana in Bangla
Atal Bhujal Yojana in Bangla

ভূ-গর্ভস্থ জলের যথেষ্ট প্রাপ্তি এবং তা যথাযথ ব্যবহারের উপর এই প্রকল্প জোর দেবে, কারণ ব্যবহারের মাত্রার উপর এবং অপচয় হ্রাসের উপর নির্ভর করবে ভূ-গর্ভস্থ জলের হ্রাসের মাত্রা।

এটা ভারতের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। সুপ্রিয় পাঠক, সরকার সুখী,সমৃদ্ধ এবং ডিজিটাল ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

আপনাদের এইসব প্রকল্প সম্পর্কে জানানোর জন্যই আমাদের এই আয়োজন। দেশ আমাদের সবার, শুধুমাত্র প্রকল্প হাতে নিলেই তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবেনা, এরজন্য দরকার আমাদের সহযোগিতা।

আর তা সম্ভব হবে, যখন আমরা প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। চলুন দেরী না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

অটল ভূজল যোজনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

অটল ভূজল যোজনা চালু করা হয় ২০১৯ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির ৯৫ তম জন্মদিনে।

এটি ভারতের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি। এই প্রকল্পটি জলশক্তি মিশনের অন্তভূর্ক্ত। এই প্রকল্পটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যে কেউ নিচের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন- http://mowr.gov.in/schemes/atal-bhujal-yojana

দেশের তীব্র পানীয় ও ব্যবহার্য জলের সমস্যা নিরসনে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকল্পটি সম্পর্কে তাই আমাদের সকলেরই জেনে রাখা প্রয়োজন। তাতে করে দেশের এবং নিজেদের সমস্যা সমাধানে আমরা ভূমিকা রাখতে পারব।

অটল ভূজাল যোজনা – বিস্তারিত

এটি একটি কেন্দ্রীয় সেক্টর স্কিম (প্রকল্প) বা সেন্ট্রাল স্পনসরড স্কিম। অটল ভূজাল যোজনা প্রকল্পের মূল উপাদান দুইটি- প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ ও সক্ষমতা সৃষ্টি।

এই প্রকল্পের ব্যয়ের খাতগুলো হচ্ছে-

বিল্ডিং (ব্যয় – ১৪০০ কোটি টাকা)
উদ্দীপনা (ব্যয় – ১৬০০ কোটি টাকা)

অটল ভূজাল যোজনা এর ব্যয় ৬০০০ কোটি টাকা। অটল ভূজাল যোজনা ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত সময়কাল ধরে বিভিন্ন রাজ্যের ভূ-গর্ভস্থ জলের সমস্যা ও সংরক্ষণ বিষয়ে কাজ করবে, যাতে ভূ-গর্ভস্থ জলের স্তরের ক্রমহ্রাসমান অবস্থার উন্নতি হয় এবং ভূ-গর্ভস্থ জলের সঠিক ব্যবহার হয়।

যেসব রাজ্যে অটল ভূজল যোজনা তাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে, সেই রাজ্যগুলো হল- গুজরাট, হরিয়ানা, কর্ণাটক, মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশ।

এই প্রকল্প পরিচালনায় সহায়তা করছে বিশ্ব ব্যাংক, তারা অটল ভূজল যোজনা বাস্তবায়ন সফল করতে মোট ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে। যেহেতু ভূ-গর্ভস্থ জলের সমস্যা ভারতের জন্য অনেক বড় একটি সমস্যা, আর প্রকল্পের কাজটিও অনেক বড়, তাই এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা প্রয়োজন হয়েছে।

অটল ভূজাল মিশন পুরো উত্তর প্রদেশ রাজ্যে প্রসারিত করা হবে। এর আগে, এটি রাজ্যের দশটি জেলা – মহোবা, ঝাঁসি, বান্দা, হামিরপুর, চিত্রকুট, ললিতপুর, মুজাফফরনগর, শমলী, বাগপত এবং মীরুতের একটি পাইলট প্রকল্প হিসাবে পরিচালিত হয়েছিল।

হরিয়ানা (কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিভাগ) ২০২০ সালের মার্চ মাসে, জলাশয় সংরক্ষণে সহায়তার জন্য ৭২৩ কোটি টাকা এবং ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অবধি ৫০ ভাগ বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হবে।

অটল ভূজাল যোজনা (ABY) কী?

এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করে ভূ-গর্ভস্থ জলের স্তর বৃদ্ধি এবং সঠিক সংরক্ষণ করা। কারণ জনগণ যদি সচেতন না হয়, তবে কোন প্রকল্পই পুরোপুরি সফলতা পাবেনা। তাই রাজ্যেগুলির জনগণের অংশগ্রহন এক্ষত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রকল্পটি জলসম্পদ, নদী উন্নয়ন ও গঙ্গা পুনর্জীবন মন্ত্রনালয় দ্বারা বাস্তবায়ন ও তদারকি করা হবে যা এখন জলশক্তি মন্ত্রণালয় হিসাবে পরিচিত।
প্রকল্পের ব্যয়ের অর্ধেক অংশ সরকার বহন করবে, এবং বাকি অর্ধেক ঋন আকারে বিশ্বব্যাংক দ্বারা অর্থায়ন করা হবে।

এটি মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, কর্ণাটক, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, ও গুজরাটের ৭৮ টি জেলা, ১৯৩ টি ব্লক এবং ৮৩৩৩ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে চালু করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের ভূগর্ভস্থ জলের সমস্যার কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, প্রায় ৮০% গার্হস্থ্য জল [গ্রাম এবং শহর উভয় জায়গাতেই) সরবরাহই ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভর করে।

বিশ্বব্যাংকের আরেকটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতে ডার্ক জোনের বিস্তার বৃদ্ধির কারণে এবং যেসব অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে ভূগর্ভস্থ জলের ক্রমহ্রাসমান হার ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে যা দেশের জল সরবরাহ ক্ষেত্রে হুমকির কারণ হতে পারে।

ভূগর্ভস্থ অন্ধকার অঞ্চল অর্থ

যে অঞ্চলগুলিতে ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার অত্যধিক সেসব অঞ্চলকে ডার্ক জোন বলা হয়। এখানে বার্ষিক জল ব্যবহারের হার ভূগর্ভস্থ জলের মজুদের বার্ষিক হারের চেয়ে বেশি।

সরকার রাজ্য ও সারাদেশে এ জাতীয় ডার্ক জোনের বা অন্ধকার অঞ্চলগুলির একটি রেকর্ড রাখে। যাতে করে এই অঞ্চলগুলির জলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সাশ্রয় নিয়ে কাজ করা যায়।

কারণ সচেতনতা, জলের অপচয় ও লিকেজ রোধের উপরেই ডার্ক জোনের বিলুপ্তি নির্ভর করে। আর কাজ সঠিকভাবে করতে গেলে ডার্ক জোন সম্পর্কে অবশ্যই জানতে হবে।

শেষ কথা

দেশের জনসংখ্যা,নগরায়ণ সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনসচেতনতার অভাব, অপচয়, জল পরিশোধনের সমস্যা, লিকেজ, ইত্যাদি কারণে ডার্ক জোনের সৃষ্টি হয় এবং জলের ক্রাইসিস সৃষ্টি হয়।

ভূ-গর্ভস্থ জল থেকেই দেশের সামগ্রিক জলের চাহিদার ৮০% মেটানো হয়, সেখানে যদি জলের লেয়ার নিচে নেমে যায়, সেখানে জল উত্তোলন সম্ভব হয়না। জলের অপর নাম জীবন, আর জলের যখন সংকট হয় তখন জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।

এত বিপুল জনসংখ্যার পানীয় জল ও ব্যবহারের জলের বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়না, ফলে দেশে তীব্র জলের সংকট দেখা দেয়। যেজন্য অনেক রাজ্যে পানীয় জল কিনে খেতে হয়, সেসব রাজ্যে পানীয় ও ব্যবহার্য জলের তীব্র সংকট রয়েছে।

এসব সংকটের কারণ চিহ্নিত ও সমস্যা নিরসনের উদ্দেশ্য নিয়েই জলশক্তি মিশনের অধীনে অটল ভূজল যোজনার কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এই সমস্যা সমাধানে।

এবং সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশ্ব ব্যাংক এই প্রকল্পের ৫০% অর্থ সহায়তা প্রদান করছে। আশা করা যায় ২০২৫ সাল নাগাদ এই সমস্যার সমাধান অনেকটাই আশানুরূপ হবে।

সুপ্রিয় পাঠক, আমাদের লেখার উদ্দেশ্য থাকে ভারত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এবং তার অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদের জানানো, যাতে সেগুলো সম্পর্কে আপনারা অবগত হতে পারেন এবং সুবিধাসমূহ উপভোগ করতে পারেন।

কেন্দ্র সরকারের সমস্ত যোজনা Click Here
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত প্রকল্প Click Here
বাংলাভুমি হোম Click Here

Leave a Comment